রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবীতে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দ্রুত বিচারক নিয়োগের দাবীতে মানববন্ধন

নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালসহ ১০টি আদালতে বিচারক নেই, সীমাহীন দুর্ভোগে বিচারপ্রার্থীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: বিগত প্রায় এক বছর যাবৎ সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নেই। নতুন কোন মামলা দায়ের করতে পারছে না বিচারপ্রার্থীরা। ৫ হাজারের অধিক বিচারাধীন মামলার কার্যক্রমও ঝুলে আছে। দুর-দুরন্ত থেকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক বিচারপ্রার্থী মানুষ আদালতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। সাতক্ষীরা ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্ক এর মানববন্ধনে এসব তথ্য তুলে ধরে অবিলম্বে শূন্যপদে বিচারক নিয়োগের দাবী জানানো হয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির ভবনের সামনে রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০ টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের জয়েন্ট কনভেনার মাধব চন্দ্র দত্ত। বক্তব্য রাখেন নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, জেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন বেলাল, দ্য ডেইলি স্টারের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি কল্যাণ ব্যানার্জি, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাড. মোস্তফা আসাদুজ্জামান দিলু, সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. সৌরভ হোসেন এবং নেটওয়ার্কের সদস্য অ্যাড. সাবিনা ইয়াসমিন লিমা প্রমুখ।

মানবন্ধনের বক্তারা আরো বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত ছাড়াও সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজের ২টি আদালত এবং সিভিল জজের ১টি আদালতে বিচারক নেই। সবমিলিয়ে জেলা জজশীপে ৪টি এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এর ৬টি আদালত দীর্ঘ দিন বিচারক শূন্য। বক্তারা বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম না থাকায় ৯৮, ১০০ ধারায় প্রতিকার চাইতে পারছেন না সংশ্লিষ্ঠরা। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় জেলা লিগ্যাল এইডেও দিনের পর দিন বিচারপ্রার্থীরা হয়রানীর শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরো বলেন, আদালতে বিচারক না থাকায় মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানান তারা।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট মনিরুদ্দিন। মানববন্ধনে ডিস্ট্রিক্ট হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার নেটওয়ার্কের সদস্য, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

Ads small one

সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন আশাশুনি উপজেলা

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: photo;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 8;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 43;

এস এম হাবিবুল হাসান: সাতক্ষীরায় জাঁকজমকপূর্ণ জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আশাশুনি উপজেলা দল। তারা কালিগঞ্জ উপজেলা ফুটবল দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর মেঘা ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা দলের মধ্যে খেলাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে নির্ধারিত সময় আশাশুনি উপজেলা দল ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোলের সমতায় শেষ হয়। নির্ধারিত সময়ে আশাশুনি উপজেলা ও কালিগঞ্জ উপজেলা দল বিজয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের প্রথম শর্ট নিতে আসে আশাশুনি উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় বেনজামা। টাইব্রেকারে বেনজামার গোলে এগিয়ে যায় আশাশুনি উপজেলা দল। পরে কালিগঞ্জের হয়ে টাইব্রেকারে শর্ট নিতে আসে আল আমিন। আল আমিনের শর্ট আশাশুনি উপজেলার গোলকিপার শান্ত দক্ষতার সাথে সেভ করলে আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে দর্শক পরিপূর্ণ সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামের পুরো গ্যালারী।পরে আশাশুনি উপজেলা দল টাইব্রেকারে বাকি ৪টা শর্ট সরাসরি গোল করে। অপর দিকে টাইব্রেকারে কালিগঞ্জ উপজেলা দল বাকি ৩টা শর্টে গোল করলে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে মাঠ ছাড়ে। ফলে আশাশুনি উপজেলা দল জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর ফাইনাল কালিগঞ্জ উপজেলা দলকে টাইব্রেকারে ৫-৩ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
এর আগে, জমকালো আয়োজনে জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রীড়ামোদী দর্শকদের উপচে পড়া ভীড় আর রৌদ্রোজ্জল বিকেলে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়াম পরিনত হয় জনসমুদ্রে। প্রথমার্ধের শুরুতেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ আর উভয় দলের সমর্থক ও দর্শকদের মহুর মহুর করতালিতে জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলাটি হয়ে ওঠে প্রানবন্ত ক্রীড়া উৎসব। প্রথমার্ধের ৯ মিনিটের মাথায়আশাশুনি উপজেলা দল ৯ নাম্বার জার্সিধারী সবিজের গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায়। ১-০ গেলের লিড নিয়ে আশাশুনি উপজেলা দল আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। উপর দিকে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে কালিগঞ্জ উপজেলা দল পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে।
গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে আক্রমণের ধার ও খেলার ধরন পরিবর্তন করে প্রতি মুহূর্তে কালিগঞ্জ উপজেলা দল। কালিগঞ্জ উপজেলা দল শুরুতে ৪-৪-২ পজিশন থেকে গোল খেয়ে ৪-৩-২-১ পজিশনে খেলতে থাকে। অপর দিকে আশাশুনি উপজেলা দল আক্রমণের সান বাড়িয়ে ৪-২-২-২ পজিশনে খেলতে থাকে। প্রথমার্ধের শেষে আর কোন অঘটন না ঘটায় আশাশুনি উপজেলা দলের সজীবের একমাত্র গোলে ১-০ তে লিড নিয়ে বিরতি যান উভয় দল।
ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে আশাশুনি উপজেলা দল ১-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতি থেকে ফিরে আরও আক্রমাত্মক খেলতে থাকে। অপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল গোল পরিশোধের মরিয়া হয়ে সর্বোচ্চ আক্রমাত্মক ভাবে খেলতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১১ নাম্বার জার্সিধারীর ডি-বক্সের মধ্যে একা পেয়ে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা করে আশাশুনি উপজেলা দলের গোলরক্ষক জি কে শান্ত।
গোলকিপার শান্তর একক প্রচেষ্টায় এ যাত্রায় রক্ষা পায় আশাশুনি উপজেলা। খেলায় আশাশুনি উপজেলা ১-০ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। উত্তেজনাপূর্ণ ফাইনালের দ্বিতীয়ার্ধের ৮৫ মিনিটের মাথায় কালিগঞ্জ উপজেলা দলের বিদেশি খেলোয়াড় ১০ নাম্বার জার্সিধারী আল আমিনের গোলে ১-১ সমতা নিয়ে ফেরে। ফলে আশাশুনি উপজেলা ১-১ কালিগঞ্জ উপজেলা দল। খেলার ৮৮ মিনিটের মাথায় আবারও আক্রমণে আশাশুনি উপজেলা দল। সজীবের শর্ট সেভ করেন কালিগঞ্জ উপজেলা দলের গোলকিপার নাঈম। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোন গোল না হওয়ায় ১-১ গোলের সমতা নিয়ে রেফারি বাঁশি বাজিয়ে শেষ করেন। নির্ধারিত সময়ে কোন দল জয়ী না হওয়ায় রেফারি টাইব্রেকারের সিদ্ধান্ত নেয়। টাইব্রেকারের ফলাফল
আশাশুনি উপজেলা দল -১+১+১+১+১=৫। উপর দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা দল -০+১+১+১+-=৩
এর আগে ডিসি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে মধ্যবিরতিতে দর্শকদের মনোরঞ্জনের জন্য মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আয়োজক কমিটি।
ডিসি কাপ ফুটবলের ফাইনালে রেফারি হিসেবে মাঠ পরিচালনা করেন তরুন প্রজন্মের অন্যতম আইকন আবু সুফিয়ান। সহকারী নাসির উদ্দীন  ও জাহাঙ্গীর কবির। চতুর্থ রেফারি হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান। ম্যাচ কমিশনার আতাউর রহমান। এছাড়া মাঠে ধারা বিবরণীতে ছিলেন ওলিউর রহমান, ইসমাইল হোসেন মিলন ও আশরাফ হোসেন।

সাতক্ষীরায় জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি যশোরে আটক, ট্রাক চালককে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৩৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি যশোরে আটক, ট্রাক চালককে জরিমানা

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাক থেকে জেলি পুশ করা ৩৬ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করেছে র‌্যাব-৬। এ ঘটনায় ট্রাকের চালক সাইফুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের বকচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। র‌্যাব-৬ সিপিসি-৩ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্সের তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়।

র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি ট্রাকে জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ পরিবহন করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বকচর এলাকায় ট্রাকটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্রাকে থাকা প্রায় ৩৬ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা চিংড়ি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষকে খবর দেওয়া হয়। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মাছগুলো পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিংড়ির ভেতরে জেলি পুশ করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনের ধারায় ট্রাকের চালক সাইফুল ইসলামকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ। একই সঙ্গে জব্দ করা চিংড়ি মাছ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা চিংড়ির ওজন ও আকার বাড়িয়ে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মাছের শরীরে জেলি বা অন্যান্য পদার্থ পুশ করে থাকেন। এতে চিংড়ির স্বাভাবিক গুণগত মান নষ্ট হয়। পাশাপাশি এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

র‌্যাব-৬ যশোরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চিংড়ি আটক ও জড়িতদের চিহ্নিত করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সুন্দরবন ঘিরে সাতক্ষীরার যুবকদের কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন ঘিরে সাতক্ষীরার যুবকদের কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা

মো. মামুন হাসান

সুন্দরবনকে আমরা কতভাবে দেখি। কেউ দেখেন প্রকৃতির বিস্ময় হিসেবে, কেউ দেখেন জীববৈচিত্র্যের অনন্য আধার হিসেবে, কেউ দেখেন জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের জীবিকার জায়গা হিসেবে। আবার পর্যটকের চোখে সুন্দরবন হলো নদী, বন, বন্যপ্রাণী আর অপার সৌন্দর্যের এক অসাধারণ পৃথিবী। কিন্তু সুন্দরবনকে আরেকটি দৃষ্টিকোণ থেকেও দেখা দরকার।

 

সেটি হলো কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দৃষ্টিকোণ। বিশেষ করে সাতক্ষীরার জন্য সুন্দরবন শুধু একটি বনভূমি নয়, এটি হতে পারে হাজারো তরুণের ভবিষ্যতের সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল অর্থনৈতিক ক্ষেত্র।

সাতক্ষীরার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবন বহু বছর ধরে প্রকৃতি ও জীবিকার নানা সংকটের সঙ্গে লড়াই করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, জলাবদ্ধতা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখানকার মানুষের জীবনকে ক্রমেই কঠিন করে তুলছে। কৃষি ও প্রচলিত জীবিকার ওপর চাপ বাড়ছে। ফলে নতুন প্রজন্মের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তারা কোথায় কাজ করবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের নিজেদের সম্পদের দিকে তাকাতে হবে। আর সেখানে সুন্দরবন একটি বড় সম্ভাবনার নাম।

সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা নতুন কোনো বিষয় নয়। প্রতি বছর অসংখ্য পর্যটক সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। কিন্তু পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্যটন থেকে স্থানীয় মানুষের আয় কতটা বাড়ছে। একজন পর্যটক যখন একটি এলাকায় আসেন, তখন শুধু একটি নৌযান বা একটি হোটেল আয় করে না। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন, খাবার, গাইড, নৌকার মাঝি, হোটেল কর্মী, রেস্টুরেন্ট, স্থানীয় দোকানদার, হস্তশিল্পী, কৃষক, মৎস্যজীবী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা। অর্থাৎ পর্যটকের ব্যয় যদি স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে একজন পর্যটক বহু মানুষের আয়ের উৎস হয়ে উঠতে পারেন। এখানেই সাতক্ষীরার জন্য বড় সুযোগ।

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু চাকরি পাওয়া নয়, কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইড, ওয়াইল্ডলাইফ গাইড, বার্ড ওয়াচিং গাইড, নৌপর্যটন কর্মী, হোটেল ম্যানেজার, ফ্রন্ট অফিস কর্মী, শেফ, রেস্টুরেন্ট কর্মী, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল কনসালট্যান্ট, ফটোগ্রাফার, ভিডিওগ্রাফার, ডিজিটাল মার্কেটার, দোভাষী, পর্যটন নিরাপত্তাকর্মী এবং পরিবেশ সংরক্ষণকর্মীর চাহিদা তৈরি হতে পারে। এর বাইরেও রয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার অসংখ্য সুযোগ। কেউ সুন্দরবনভিত্তিক ট্যুর প্যাকেজ তৈরি করতে পারেন। কেউ হোমস্টে চালু করতে পারেন। কেউ স্থানীয় খাবারের ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেন। কেউ নৌভ্রমণের ব্যবস্থা করতে পারেন। কেউ পর্যটকদের জন্য ছবি ও ভিডিও তৈরির সেবা দিতে পারেন। অর্থাৎ পর্যটনের ভবিষ্যৎ শুধু চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর বড় অংশ জুড়ে রয়েছে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ।

সাতক্ষীরার বাস্তবতায় পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত হিসেবে দেখলে ভুল হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেসব মানুষের প্রচলিত জীবিকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে, তাদের জন্য বিকল্প জীবিকা তৈরির প্রয়োজন রয়েছে।একজন জেলে পর্যটন নৌযানের দক্ষ কর্মী হতে পারেন। একজন স্থানীয় যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে সুন্দরবনের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য বিষয়ে গাইড হতে পারেন। একজন নারী পর্যটকদের জন্য স্থানীয় খাবার তৈরি করে আয় করতে পারেন। একটি পরিবার বাড়ির একটি অংশকে হোমস্টেতে রূপান্তর করতে পারে। এভাবে পর্যটন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বিকল্প আয়ের পথ তৈরি করতে পারে। এটি শুধু দারিদ্র্য কমানোর উদ্যোগ নয়। এটি জলবায়ু অভিযোজনেরও একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

দারিদ্র্য বিমোচনের সবচেয়ে কার্যকর পথ হলো মানুষের হাতে স্থায়ী আয়ের সুযোগ তুলে দেওয়া।সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন সেই সুযোগ তৈরি করতে পারে। কারণ পর্যটনের অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন পর্যটক সাতক্ষীরায় এসে যদি স্থানীয় খাবার খান, স্থানীয় গাইড নেন, স্থানীয় নৌযানে ভ্রমণ করেন, স্থানীয় হোমস্টেতে থাকেন এবং স্থানীয় পণ্য কেনেন, তাহলে তার ব্যয়ের বড় অংশ স্থানীয় মানুষের কাছে থেকে যায়। এখানে তৈরি হয় একটি স্থানীয় অর্থনৈতিক চক্র। পর্যটক আসবেন, স্থানীয় সেবা নেবেন, স্থানীয় মানুষ আয় করবেন, সেই আয় আবার স্থানীয় বাজারে ব্যয় হবে। এই চক্র যত বড় হবে, স্থানীয় অর্থনীতিও তত শক্তিশালী হবে।

এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দক্ষ জনবল। সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ এখানেই নতুন সম্ভাবনার জায়গা তৈরি করতে পারে। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা শিক্ষা একজন তরুণকে পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতে প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দিতে পারে। হোটেল পরিচালনা, ফ্রন্ট অফিস, খাদ্য ও পানীয় সেবা, অতিথি আপ্যায়ন, ট্যুর অপারেশন, পর্যটন বিপণনসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে কলমে দক্ষতা অর্জন করে একজন শিক্ষার্থী দেশ ও বিদেশের পর্যটন খাতে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন। কিন্তু সাতক্ষীরার ক্ষেত্রে এই শিক্ষার গুরুত্ব আরও বেশি। কারণ শিক্ষার্থীরা এমন একটি অঞ্চলে বাস করে, যেখানে তাদের চারপাশেই রয়েছে সুন্দরবন, নদী, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং অসংখ্য পর্যটন সম্ভাবনা। অর্থাৎ তাদের জন্য পর্যটন শুধু পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। এটি তাদের নিজেদের এলাকার বাস্তব অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

একজন পর্যটক কোথাও যাওয়ার আগে অনলাইনে ছবি দেখেন, ভিডিও দেখেন, রিভিউ পড়েন, থাকার জায়গা খোঁজেন এবং ভ্রমণ পরিকল্পনা করেন। এই পরিবর্তন সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য বিশাল সুযোগ। সুন্দরবনের গল্প, স্থানীয় খাবার, নৌযাত্রা, পাখি, বন্যপ্রাণী, গ্রামীণ জীবন ও সংস্কৃতি নিয়ে তরুণরা তথ্যভিত্তিক ভিডিও তৈরি করতে পারেন। স্থানীয় হোটেল, রিসোর্ট ও ট্যুর অপারেটরদের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং করতে পারেন। এমনকি সুন্দরবনকেন্দ্রিক অনলাইন বুকিং ও তথ্যসেবা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া যেতে পারে। একজন তরুণের হাতে একটি স্মার্টফোন ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা থাকলেই এখান থেকে নতুন কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যেতে পারে।

সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সুফল শুধু পুরুষদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। স্থানীয় নারীদের পর্যটন অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা গেলে পরিবারের আয় বাড়বে এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নও হবে। নারীরা স্থানীয় খাবার, পিঠা, হস্তশিল্প, নকশিকাঁথা, শুঁটকি, মধু ও অন্যান্য পণ্য পর্যটকদের কাছে তুলে ধরতে পারেন। হোমস্টে, ক্যাটারিং, স্থানীয় খাবারের ব্র্যান্ড, হস্তশিল্প এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। ফলে পর্যটন একটি পরিবারের অর্থনৈতিক কাঠামোও বদলে দিতে পারে।

আগামী দিনের পর্যটন হবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন। সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে তাই শুধু প্রচলিত চাকরি নয়, গ্রিন জবের বাজারও তৈরি করতে হবে। পর্যটন এলাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্লাস্টিক নিয়ন্ত্রণ, পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব নৌযান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পর্যটকদের পরিবেশ সচেতন করার কাজে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হতে পারে। এখানে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি শিক্ষার্থীদের জন্যও নতুন দক্ষতার ক্ষেত্র তৈরি হবে।

সুন্দরবনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় পণ্য ও সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। মধু, গোলপাতার তৈরি পণ্য, শুঁটকি, স্থানীয় খাবার, হস্তশিল্পসহ নানা পণ্যকে সুন্দরবন ব্র্যান্ডিংয়ের আওতায় আনা যেতে পারে। একজন পর্যটক সুন্দরবন দেখতে এসে যদি সুন্দরবনের গল্প সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন একটি পণ্যের মাধ্যমে, তাহলে পর্যটন ও স্থানীয় উৎপাদনের মধ্যে একটি শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হবে।

সাতক্ষীরায় তরুণদের জন্য সুন্দরবনভিত্তিক একটি ট্যুরিজম ইনকিউবেটর গড়ে তোলা যেতে পারে। এখানে তরুণরা পর্যটন ব্যবসার ধারণা নিয়ে আসবে, প্রশিক্ষণ নেবে, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করবে এবং অভিজ্ঞ উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পরামর্শ পাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, পর্যটন ব্যবসায়ী, স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একসঙ্গে কাজ করলে এখান থেকেই তৈরি হতে পারে নতুন প্রজন্মের পর্যটন উদ্যোক্তা।

তবে উন্নয়নের নামে সুন্দরবনের ক্ষতি করা যাবে না। সুন্দরবনকে ব্যবহার করে পর্যটন নয়, সুন্দরবনকে রক্ষা করেই পর্যটন গড়ে তুলতে হবে। পর্যটকের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি ধারণক্ষমতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ সুন্দরবন নষ্ট হলে পর্যটনের সম্ভাবনাও নষ্ট হবে। আমাদের মূলনীতি হওয়া উচিত।

কখনো কখনো ভবিষ্যৎ আমাদের নিজের মাটিতেই অপেক্ষা করে। সুন্দরবনের সবুজের ভেতরে সেই ভবিষ্যতের একটি বড় অংশ লুকিয়ে আছে। আজ যে তরুণ চাকরির জন্য শহরের পথে পা বাড়াচ্ছেন, আগামীকাল তিনিই হতে পারেন সুন্দরবনের দক্ষ ট্যুর গাইড, পর্যটন উদ্যোক্তা, হোটেল ম্যানেজার, নৌপর্যটন ব্যবসায়ী, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা কিংবা পরিবেশবান্ধব পর্যটন উদ্যোগের সফল উদ্যোক্তা। তাই সুন্দরবনকে শুধু রক্ষা করার কথা বললেই হবে না। সুন্দরবনকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগও তৈরি করতে হবে।কারণ বন বাঁচবে তখনই, যখন বনসংলগ্ন মানুষের জীবনও নিরাপদ হবে। সাতক্ষীরার যুবকদের দক্ষ করে তুলতে পারলে সুন্দরবন হতে পারে তাদের কর্মসংস্থানের নতুন ঠিকানা। সুন্দরবন হতে পারে জলবায়ু ঝুঁকির বিরুদ্ধে একটি অর্থনৈতিক ঢাল। সুন্দরবন হতে পারে দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন পথ।

সুন্দরবন হতে পারে স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরির বিশাল ক্ষেত্র।আর সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ হতে পারে সেই পরিবর্তনের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখনই সময় সুন্দরবনের সম্ভাবনাকে দক্ষতা, প্রযুক্তি, উদ্যোক্তা শক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করার। কারণ সুন্দরবন শুধু সাতক্ষীরার প্রকৃতির অহংকার নয়, সুন্দরবন হতে পারে সাতক্ষীরার তরুণদের ভবিষ্যতের ঠিকানা।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।