মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ হলো বাল্যবিবাহ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা পৌরসভার ইটাগাছা এলাকায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহের আয়োজন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বন্ধ করা হয়েছে। বিয়েতে রাজি না হওয়ায় ওই কিশোরী পারিবারিক সহিংসতা ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের শিশু সুরক্ষাকর্মী ও মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ের কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সুপারভাইজার ঘটনাস্থলে গিয়ে বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাল্যবিবাহ কিশোরীর শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত করার পাশাপাশি পারিবারিক সহিংসতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই এটি প্রতিরোধে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের সচেতন থাকা জরুরি।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধকর্মী মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান জানান, কিশোরীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। সেই সঙ্গে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সবাইকে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। কিশোরীর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিশ্চিতের কার্যক্রমে সার্বিক সহায়তা করেন আইনজীবী এস এম বিপ্লব হোসেন।

Ads small one

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রবেশ উন্মুক্ত হলো সুন্দরবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রবেশ উন্মুক্ত হলো সুন্দরবন

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): দীর্ঘ তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে উন্মুক্ত হচ্ছে সুন্দরবন। প্রজনন মৌসুমে মাছ ও বন্যপ্রাণীর নির্বিঘ্ন বিচরণ নিশ্চিত করতে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ ধরার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল বন বিভাগ।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর বংশবৃদ্ধি, বিচরণ ও প্রজনন কার্যক্রমের সুরক্ষায় সুন্দরবনে টানা তিন মাসের জন্য দর্শনার্থী ও বনজীবীদের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করে বন বিভাগ। এ সময়েই সুন্দরবন হয়ে ওঠে সতেজ। প্রাণ প্রকৃতিতে ফিরেছে সুন্দরবন।

নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার খবরে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার জেলেরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নতুন করে জীবিকার আশায় বুক বাঁধছেন সুন্দরবননির্ভর হাজারো বনজীবী। তবে দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফেরার আনন্দের সঙ্গে তাঁদের মনে রয়েছে অনিশ্চয়তাও। কারণ বনে মাছ-কাঁকড়া আহরণের ঝুঁকির পাশাপাশি রয়েছে বনদস্যু ও জলদস্যুর আতঙ্ক।

এদিকে সুন্দরবন খোলার প্রস্তুতি শুরু করেছে বন বিভাগ। বৈধভাবে জেলে-বাওয়ালিদের পাস-পারমিট দেয়া, নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং বনজীবীদের প্রবেশ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও বনজ সম্পদ রক্ষায় নজরদারি জোরদারের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের জন্যও খুলে দেয়া হবে সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলো।

কয়রার মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, উপকূলের বনজীবীদের এই যাত্রাকে কেবল সাধারণ কর্মসংস্থান বলা চলে না; এটি একপ্রকার জীবনের বাজি ধরা। একদিকে বনে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি। সুন্দরবনের নদী-খালে পা ফেলতেই ওত পেতে থাকে হিংস্র বাঘ। একটু অসাবধান হলেই কিংবা ম্যানগ্রোভের গভীরে কাঠ ও গোলপাতা কাটতে গেলে কার কপালে বাঘের থাবা জোটে, সেই আতঙ্কে প্রতিটি মুহূর্ত কাটান বাওয়ালিরা। প্রকৃতির এই হিংস্রতার চেয়েও এখন বেশি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে সুন্দরবনে পুনরায় বনদস্যু বা জলদস্যুদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার আশঙ্কা।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। ইতোমধ্যে জেলেদের পারমিট দেওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে পারেন, তার জন্য সর্বাত্মক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

সাতক্ষীরার জলবায়ু সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার জলবায়ু সংকট ও বেঁচে থাকার লড়াই

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরা বাংলাদেশের সেই জেলাগুলোর একটি, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন আর দূরের কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব নয়, বরং প্রতিদিনের বাস্তবতা। উপকূলবর্তী এই জেলার মানুষ প্রতিনিয়ত লড়ছেন লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড় আর ভাঙনের সঙ্গে, আর এই লড়াইয়ের ক্ষতচিহ্ন এখনো দগদগে।

২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় আইলা আঘাত হানে সাতক্ষীরার উপকূলীয় এলাকায়। প্রায় পনেরো ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় গোটা উপকূল। সতেরো বছর পার হলেও সেই ক্ষত এখনো শুকায়নি।

একসময় সবুজ বনানী ও কৃষি ফসলে ভরপুর ছিল গাবুরা, পদ্মপুকুরসহ উপকূলীয় অঞ্চল, ধান, পাট, শাকসবজিতে সমৃদ্ধ ছিল পুরো এলাকা। কিন্তু আইলার পর লবণাক্ততায় অনাবাদি হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ জমি, চারদিকে এখন শুধু মাছের ঘের, সবুজের উপস্থিতি প্রায় নেই বললেই চলে।

এই সংকট শুধু অতীতের নয়, বর্তমানেও প্রবহমান। সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী জেলায় মোট আটশ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে আড়াইশ কিলোমিটারই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব বাঁধে ব্যাপক ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি জুন মাসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, শুধু শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলাতেই চল্লিশটি পয়েন্টে প্রায় বিশ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে, যা বর্ষা মৌসুমে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করছে। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া, ইছামতি ও বেতনা নদীর তীরবর্তী এলাকার লক্ষাধিক মানুষ প্রতি বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভাঙার আশঙ্কায় দিন কাটান।

লবণাক্ততার প্রভাব শুধু কৃষিতেই সীমাবদ্ধ নয়, তা মানুষের সুপেয় পানির অধিকারকেও কেড়ে নিয়েছে। প্রথম আলোর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে সুপেয় পানির তীব্র সংকট চলছে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিষয়টি এতটাই গুরুতর যে সম্প্রতি উচ্চ আদালত পর্যন্ত এই সংকট নিরসনে নেওয়া পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন চেয়েছেন। উপকূলের বহু পরিবারকে এখন পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রায় নতুন সংকট তৈরি করছে। কৃষিকাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি না পাওয়া, যা জলবায়ু সংকটের সামাজিক মাত্রাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।

তবে হতাশার মধ্যেও কিছু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। রাইজিংবিডির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে সাতাশ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে, যার অগ্রগতি বর্তমানে বাষট্টি শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির অর্থায়নে শ্যামনগরে আরও আড়াই কিলোমিটার স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মিত হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে।

সাতক্ষীরার এই সংকট মোকাবিলায় কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

প্রথমত বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ কেবল প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।

দ্বিতীয়ত সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি ও দুর্নীতিমুক্ত পরিকল্পনা প্রয়োজন, কেননা এই খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে সংকট রয়েই যাবে।

তৃতীয়ত লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের বিকল্প জীবিকার প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা কেবল চিংড়ি ঘেরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে বহুমুখী আয়ের পথ খুঁজে পান।

চতুর্থত জলবায়ু অভিযোজনে নারীর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

সাতক্ষীরার মানুষ প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে থাকতে শিখেছেন, কিন্তু এই লড়াই একা তাদের চালিয়ে যাওয়ার কথা নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সরকার, স্থানীয় প্রশাসন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত ও আন্তরিক উদ্যোগ, যাতে উপকূলের এই জনপদ আবারও তার হারানো সবুজ ও জীবনের ছন্দ ফিরে পেতে পারে।

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা।

রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত ৬৮তম রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে রামোন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন (আরএমএএফ) এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
ম্যানিলার ফাউন্ডেশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে রুনা খানের নাম ঘোষণা করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডগার ও. চুয়া ও প্রেসিডেন্ট সুসানা বি. আফান। প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান, এই স্বীকৃতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, যাঁরা ফ্রেন্ডশিপকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। সংস্থার কর্মী ও গত ২৫ বছর ধরে পাশে থাকা সহযোগীদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রুনা খান বাংলাদেশ থেকে এই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্যার ফজলে হাসান আবেদসহ একাধিক বিশিষ্ট বাংলাদেশি এই সম্মাননা লাভ করেন। আগামী ১৫ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিল্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। ২০০২ সালে একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু খাতে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছে।