বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় মৎস্যজীবী দলের মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মৎস্যজীবী দলের মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সাতক্ষীরায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। ২ সেপ্টেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের উদ্যোগে সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের পৌর দিঘিতে এসব মাছের পোনা ছাড়া হয়। জেলা মৎস্যজীবী দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মো. মাহমুদুল হকের ব্যবস্থাপনায় প্রধান অতিথি হিসেবে পোনা অবমুক্ত করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এইচ এম রহমাতুল্লাহ পলাশ এবং সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু।
এ সময় জেলা মৎস্যজীবী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বাবলু, মৎস্যজীবী দলনেতা আরাফাত হোসেন, জিকু, সেলিম, জেলা তাঁতিদলের নেতা বুলবুল, জেলা তারেক মঞ্চের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিএনপি নেতা রনজিত ঢালীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পোনা অবমুক্তকরণের পর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের ইতিহাস ও কর্মসূচি নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন নেতারা। এ সময় মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

Ads small one

শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৬ পূর্বাহ্ণ
শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী আজ। এদিন দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী পালন করবেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন।

হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। তাদের আরও বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে এভাবেই যুগে-যুগে ভগবান মানুষের মধ্যে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও ইসকনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।

শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ ও বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা।

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে আয়োজিত গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবেন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের শংকর মঠ ও মিশন। বিকেল ৩টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই ঐতিহাসিক মিছিল প্রতি বছরের মতোই জগন্নাথ হল, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, বঙ্গবাজার, গোলাপশাহ মাজার হয়ে পুরনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এ উপলক্ষে (৩ সেপ্টম্বর থেকে ৫ সেপ্টম্বর পর্যন্ত) তিন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভজন কীর্তন, ভোগ আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নাটক কীর্তন মেলা।

জন্মাষ্টমী ঘিরে র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সারাদেশে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

দেশব্যাপী জন্মাষ্টমী উদযাপনকে কেন্দ্র করে যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে পুলিশের বিশেষায়িত এই ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) র‌্যাব সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, জন্মাষ্টমী সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করা হচ্ছে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন এবং রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উৎসব উপলক্ষে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য হুমকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পাশাপাশি আগাম তথ্য সংগ্রহ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদারে এলাকাভিত্তিক সোর্স ও তথ্যদাতাদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে র‌্যাব জানায়, কোনও উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন কিংবা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কোনও কুচক্রী মহল যাতে উৎসবকে কেন্দ্র করে নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য তাদের গতিবিধির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা, পুরোহিত ও বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তায়ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন মন্দির, অনুষ্ঠানস্থল ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পর্যাপ্তসংখ্যক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সামনে, পেছনে ও দুই পাশে পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তায় টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি শনাক্তে র‌্যাবের সাইবার পেট্রোলিং বিশেষভাবে জোরদার করা হয়েছে।

দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে শুভ জন্মাষ্টমী উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে র‌্যাব কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি, বস্তু বা কার্যক্রম চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে।

নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ
নাম বদলে যাচ্ছে র‌্যাবের, সংসদে বিল

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে নতুন একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের চতুর্থ দিনে বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভাপতিত্ব করেন স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

র‌্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি আইনের বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষা-নীরিক্ষার জন্য পাঠানো হয়। কামিটিকে যাচাই-বাছাই শেষে আগামী দুই কর্মদিবসের মধ্যে সংসদে ফেরত পাঠাতে বলা হয়।

উত্থাপনের আগে বিলটি নিয়ে আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তারা সংসদীয় কমিটিতে দুই দিন বাদ দিয়ে কর্মদিবস বাড়ানোর দাবি জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চার কার্যদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে ফেরত পাঠানোর প্রস্তাব করেন। চার কর্মদিবস ঠিক করে সর্বসম্মতিতে বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

বিলে বলা হয়েছে, দেশের জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন এবং পুলিশ বাহিনীকে সহায়তার জন্য আধুনিক, পেশাদার, দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রয়োজন। একইসঙ্গে এ বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগে স্বচ্ছতা, তদারকি ও কার্যকর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিলের ১ ধারায় বলা হয়েছে, এই আইন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

পুলিশের আওতায় বিশেষায়িত ইউনিট

বিলের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, ‘পুলিশ বাহিনীর আওতাধীন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে।’

সরকার প্রয়োজনের নিরিখে পুলিশ বাহিনী, শৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্ধারিত সংখ্যক কর্মকর্তা, আর্মড পার্সোনেল বা কর্মচারী পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এই ইউনিট গঠন করবে। ইউনিটের সদর দফতর থাকবে ঢাকায়।

এসআরবি’র একজন মহাপরিচালক থাকবেন। তিনি বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত অন্যূন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হবেন। মহাপরিচালক ইউনিটের প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন।

যেসব দায়িত্ব পালন করবে এসআরবি

বিলের ১০ ধারায় এসআর-এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

“জননিরাপত্তা রক্ষা’, ‘সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন’, ‘বেআইনি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধার’ এবং ‘মাদক, সাইবার অপরাধ, গুম ও ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ।”

এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ, মানবপাচার, অপহরণসহ মানবতাবিরোধী কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করার দায়িত্বও থাকবে। আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশ অনুসারে এসব অপরাধের তদন্তও করতে পারবে ইউনিটটি।

তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা

বিলের ১২ ধারায় এসআরবি-কে কোনও স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে এসব ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ও বিদ্যমান অন্যান্য আইনের বিধান প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রয়োগ করতে হবে।

১৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘তল্লাশি, আটক, জব্দ ও গ্রেফতারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তার যে ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কার্যাবলি রয়েছে, পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদমর্যাদার নিচে নন—এমন ইউনিটের কর্মকর্তা তা প্রয়োগ করতে পারবেন।’

তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করার পর তা এসআরবি-এর কাছে আটকে রাখা যাবে না। বিলের ১৪ ধারায় বলা হয়েছে, “গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে বা জব্দকৃত আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করবেন।” একই সঙ্গে এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

ফৌজদারি মামলার তদন্ত করতে পারবে

আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক যেকোনও সময় এসআরবি মহাপরিচালককে কোনও ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের নির্দেশ দিতে পারবেন। মহাপরিচালক পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর বা তার ঊর্ধ্ব পদমর্যাদার কোনও সদস্যকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবেন।

তদন্তের সময় ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে এসআরবি-এর হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকার কথাও বিলে বলা হয়েছে।

সদস্যদের যেসব কাজ শৃঙ্খলা লঙ্ঘন

বিলের ১৭ ধারায় এসআরবি সদস্যদের বিভিন্ন শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে কর্তব্যরত অবস্থায় মাতাল বা নেশাগ্রস্ত থাকা, সহকর্মীকে আঘাত বা অসদাচরণ করা, অনুমতি ছাড়া গার্ড, চৌকি বা পেট্রোল ত্যাগ করা, আটক বা গ্রেফতার থেকে পালিয়ে যাওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আইনসংগত আদেশ অমান্য করা রয়েছে।

এ ছাড়া দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, অস্ত্র-গোলাবারুদ বা সরঞ্জাম ক্ষতি বা হারানো, অসুস্থতার ভান করা, বলপূর্বক অর্থ আদায়, বেআইনিভাবে জমি দখল, সম্পদ চুরি বা ধ্বংস, অপরাধীকে আটক করতে ব্যর্থ হওয়া এবং জুয়া বা অবৈধ মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকাকেও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি ৭ দিনে প্রতিবেদন

কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগ বা আশঙ্কার যৌক্তিক কারণ থাকলে তাকে আটক করার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। তবে আটকাদেশ প্রদানকারী কর্মকর্তাকে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং আটক সদস্যকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে।

কোনও সদস্য ১৫ দিনের বেশি আটক থাকলে প্রতি সাত দিন অন্তর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন দিতে হবে। আর “আটককৃত সদস্যের বিরুদ্ধে প্রাথমিক কোনও প্রমাণ না থাকিলে তাহাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হইবে।”

শাস্তি হিসেবে বরখাস্ত, অপসারণ, অবসর ও পদাবনতি

এসআরবি সদস্যদের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের জন্য গুরুদণ্ড ও লঘুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্ত, অপসারণ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অব্যাহতি, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পদাবনতি, পদোন্নতি বন্ধ, সর্বোচ্চ এক বছরের জ্যেষ্ঠতা বা বেতন-ভাতা বাজেয়াপ্ত এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার বিধান রয়েছে।

লঘুদণ্ড হিসেবে অনূর্ধ্ব এক মাসের বেতনের সমপরিমাণ জরিমানা, তিরস্কার, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য কোয়ার্টার গার্ডে আটক, অনূর্ধ্ব ৩০ দিনের জন্য ব্যাটালিয়নে আটক রেখে অতিরিক্ত ড্রিল, গার্ড বা অন্য দায়িত্ব এবং দৈনিক দুই ঘণ্টা করে সর্বোচ্চ ১৪ দিনের জন্য শাস্তিমূলক ড্রিলের বিধান রাখা হয়েছে।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কোনও সদস্যকে এসব শাস্তি দেওয়া যাবে না।

শাস্তির বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল

বিভাগীয় কার্যধারায় দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদানের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রাখা হয়েছে। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ সুপারের আদেশের বিরুদ্ধে মহাপরিচালক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত অতিরিক্ত মহাপরিচালকের কাছে এবং মহাপরিচালকের আদেশের বিরুদ্ধে পুলিশ মহাপরিদর্শকের কাছে আপিল করা যাবে। আপিলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।

অভিযোগ প্রতিকার কমিটিতে মানবাধিকারকর্মী

এসআরবি সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত অভিযোগ এবং বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংক্ষোভ নিরসনে ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

কমিটিতে এসআরবি-এর একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, পুলিশ সদর দফতরের অন্যূন এআইজি পদমর্যাদার একজন প্রতিনিধি, আইন বা বিচার প্রশাসনে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, মানবাধিকার সংরক্ষণ ও বাস্তবায়নে কমপক্ষে ১০ বছরের অভিজ্ঞ একজন ব্যক্তি এবং ইউনিটের পরিচালক (লিগ্যাল ও মিডিয়া) থাকবেন।

কমিটি অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান করতে পারবে এবং অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করতে পারবে। পদোন্নতি, পদায়ন, বিভাগীয় শাস্তি, হয়রানি বা অন্যায্য আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সদস্যদের সংক্ষোভও কমিটি নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে পারবে।

এ ছাড়া অভিযোগ অনুসন্ধানের সময় সাক্ষী ও দলিল উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কমিটির দেওয়ানি আদালতের অনুরূপ এখতিয়ার থাকবে।

যোগদানের পর বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ

বিলে এসআরবি-এর সব সদস্যের জন্য ইউনিটে যোগদানের পর নির্ধারিত মেয়াদে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। সদর দফতরে একটি গবেষণা সেল থাকবে, যা অপারেশনাল ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে।

র‌্যাবের জনবল-সম্পদ এসআরবিতে স্থানান্তর

আইন কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব গঠনসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট বিধান রহিত হবে। তবে নতুন বিধিমালা না হওয়া পর্যন্ত র‌্যাবের কোর্ট পদ্ধতি ও বিভাগীয় কার্যধারা বিধিমালা, ২০০৫ প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ এসআরবি’র ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে।

একই সঙ্গে র‌্যাব-সংশ্লিষ্ট জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, বিদ্যমান সুবিধা, তহবিল, নগদ ও ব্যাংকে থাকা অর্থ, দায়, চুক্তি, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, হিসাববহি, রেজিস্টার, রেকর্ডপত্র ও সংশ্লিষ্ট দলিল এসআরবি’র অনুকূলে “তৎক্ষণাৎ স্থানান্তরিত এবং ন্যস্ত বা অর্পিত” হবে।

আইন প্রণয়নের কারণ

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অপরাধের ধরন ও প্রকৃতির পরিবর্তন এবং জাতীয় ও জননিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশেষায়িত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতার প্রয়োজন বাড়ছে।

এতে সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ, চরমপন্থা, মানবপাচার ও প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধসহ গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধে একটি আধুনিক বিশেষায়িত ইউনিটের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

বিলে আরও বলা হয়েছে, এই ইউনিটের ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে “আইনের শাসন, মানবাধিকার, স্বচ্ছতা, কার্যকর তদারকি ও জবাবদিহিতা” নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই র‌্যাব-এর পরিবর্তে এসআরবি প্রতিষ্ঠার জন্য এই বিল আনা হয়েছে।

শখের আসবাবই যেন পরে বোঝা না হয়, কেনার আগে যা দেখবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
শখের আসবাবই যেন পরে বোঝা না হয়, কেনার আগে যা দেখবেন

নতুন বাসায় উঠেছেন, ঘর সাজানোর পরিকল্পনা করছেন। পছন্দের একটি খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিল দেখেই কিনে ফেলতে ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই হবে না। ঘরের আকার, ব্যবহার, বাজেট, স্থায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। একটু পরিকল্পনা করে কিনলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ ও পরে ভোগান্তি দুটোই এড়ানো সম্ভব।

নতুন বাসায় ওঠার পর অনেকেই একসঙ্গে বেশ কিছু আসবাব কিনে ফেলেন। কয়েক বছর পর দেখা যায়, প্রয়োজনের তুলনায় আসবাবের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ঘরে চলাফেরার জায়গা কমে গেছে, অথচ দাম দিয়ে কেনা আসবাব সহজে বাদও দেওয়া যাচ্ছে না। তাই অন্দরসজ্জাবিদদের পরামর্শ, আসবাব কেনার আগে শুধু নকশা বা সৌন্দর্য নয়, ব্যবহারিক দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

১. দেখতে সুন্দর হলেই নয়, টেকসই কি না দেখুন

আসবাব কেনার সময় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর কাঠামো কতটা মজবুত, তা যাচাই করা জরুরি। সোফা কিনলে ফ্রেমের কাঠের মান, জোড়ার কাজ এবং বসার অংশের উপকরণ দেখে নিন। ভালো মানের কাঠের ফ্রেম ও পকেট স্প্রিং থাকলে সাধারণত সোফা বেশি টেকসই হয়।

খাট, ওয়ার্ডরোব বা ক্যাবিনেটের ক্ষেত্রেও কাঠ বা বোর্ডের মান, ফিটিংস ও জোড়ার কাজ ভালোভাবে দেখে নেওয়া উচিত।

২. ছোট বাসায় বহুমুখী আসবাব বেছে নিন

ঢাকার মতো শহরে অনেকের বাসার জায়গা সীমিত। তাই ছোট ঘরের জন্য এমন আসবাব বেছে নেওয়া ভালো, যা একাধিক কাজে ব্যবহার করা যায়।

যেমন— সোফা-কাম-বেড, যা প্রয়োজন হলে বিছানা হিসেবে ব্যবহার করা যায়। এক্সটেন্ডেবল ডাইনিং টেবিল, যা চারজনের জন্য ছোট রাখা যায় এবং প্রয়োজনে ছয়জনের উপযোগী করা যায়। হাইড্রোলিক স্টোরেজ বেড, যার নিচে অতিরিক্ত কাপড়, বিছানার চাদর বা অন্যান্য জিনিস রাখা যায়। এ ধরনের আসবাব ঘরের জায়গা বাঁচানোর পাশাপাশি গোছানো রাখতেও সাহায্য করে।

৩. মাপ না নিয়ে আসবাব কেনা বড় ভুল

আসবাব কেনার আগে ঘরের মাপ নেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। শুধু খাট বা সোফা ঘরে ঢুকবে কি না, তা দেখলেই হবে না। দরজা, সিঁড়ি, লিফট এবং করিডরের মাপও বিবেচনায় নিতে হবে।

অনেক সময় দোকানে দেখে মনে হয় আসবাবটি ঘরে সহজেই রাখা যাবে। কিন্তু বাসায় আনার পর দেখা যায় দরজা দিয়ে ঢোকানোই সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেনার আগে মাপজোক নিশ্চিত করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. বড় আসবাব বদলানোর বদলে সাজে পরিবর্তন আনুন

খাট, সোফা বা ডাইনিং টেবিলের নকশা খুব বেশি ট্রেন্ডনির্ভর না করে তুলনামূলক সাধারণ রাখা ভালো। এতে কয়েক বছর পরও আসবাবটি পুরোনো মনে হবে না।

ঘরের সাজে পরিবর্তন আনতে চাইলে বড় আসবাব বদলানোর প্রয়োজন নেই। ঈদ, পূজা, পয়লা বৈশাখ বা অন্য কোনো উৎসব কিংবা ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কুশন, সোফার কভার, পর্দা, কার্পেট ও অন্যান্য ছোটখাটো ডেকোরেশন বদলালেই ঘরের চেহারায় বেশ পরিবর্তন আনা যায়।

৫. উপকরণ বাছাই করুন প্রয়োজন ও বাজেট বুঝে

কাঠ, ধাতু, প্লাইউড, এমডিএফ, মার্বেলসহ বিভিন্ন উপকরণে আসবাব তৈরি হয়। কাঠের আসবাব দেখতে আকর্ষণীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হলেও এর দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

তাই শুধু কাঠের আসবাবকেই ভালো মনে না করে বাজেট, ব্যবহারের ধরন ও ঘরের অন্দরসজ্জার সঙ্গে মিলিয়ে উপকরণ নির্বাচন করুন। কোথায় কাঠ ব্যবহার করবেন, কোথায় ইঞ্জিনিয়ারড বোর্ড বা ধাতব কাঠামো ব্যবহার করা যেতে পারে সেটিও পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।

৬. অনলাইনে কিনলে বাড়তি সতর্কতা

অনলাইনে আসবাব কেনার ক্ষেত্রে ছবি দেখে পছন্দ হয়ে গেলেই অর্ডার করা ঠিক নয়। পণ্যের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা ভালোভাবে যাচাই করতে হবে। আপনার ঘরের জায়গার সঙ্গে মাপ মিলছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করুন।

পাশাপাশি ডেলিভারি, বাসায় তোলার ব্যবস্থা এবং ইনস্টলেশনের সুবিধা আছে কি না জেনে নিন। আসবাব বাসায় পৌঁছানোর পর সেটি কে, কখন এবং কীভাবে লাগিয়ে দেবে এ বিষয়গুলো আগে থেকেই পরিষ্কার থাকলে পরে ঝামেলা কম হবে।

সবশেষে, আসবাব কেনার সময় একটি বিষয় মনে রাখা ভালো ঘর ভরানোর জন্য নয়, প্রয়োজন মেটানোর জন্য আসবাব কিনুন। পছন্দের পাশাপাশি ব্যবহারিক দিক, মাপ, মান ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করলে অযথা খরচ যেমন কমবে, তেমনি ঘরও থাকবে আরামদায়ক ও গোছানো।