বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩

সাতক্ষীরা-যশোর সীমান্তে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমবাজার ‘বেলতলা’, দাম নিয়ে চাষিদের হতাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা-যশোর সীমান্তে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমবাজার ‘বেলতলা’, দাম নিয়ে চাষিদের হতাশা

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রবেশদ্বার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর এবং শার্শা উপজেলার বাগুড়ি (বেলতলা) এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আমের বাজার ‘বেলতলা আমবাজার’। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০০টি আড়ত নিয়ে ভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে এই বাজারটি পরিচালনা করে আসছেন। মধুমাসের এই মৌসুমে পাইকার ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এখন জমজমাট পুরো এলাকা। এছাড়া কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামেও আমের আরেকটি পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে।

শনিবার সরেজমিনে বেলতলা আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মানসম্মত আমের বিপুল সমাহার। বাজারে আসা আমের সিংহভাগই হিমসাগর। পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোপালভোগ, গোপালখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের পুষ্ট ও পরিপক্ব আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় আম চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।

কৃষি বিভাগের আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম গাছ থেকে নামানোর কথা থাকলেও, বাজারে এখনই অল্প পরিমাণে এই আম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ঈদুল আজহা থাকায় এবং ঈদের সময় কয়েকদিন বাজার বন্ধ থাকতে পারেÑএই আশঙ্কায় অনেক চাষি আগাম পরিপক্ব হওয়া ল্যাংড়া আম বাজারে নিয়ে আসছেন। ঈদের পর এই আম পুরোদমে বাজারে নামলে বেচাবিক্রি আরও জমজমাট হবে এবং সবশেষে আসবে আম্রপালি।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিন এই বাজার থেকে ৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি আম ট্রাকযোগে ঢাকা, কানসাট, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

বেলতলা পাইকারি আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাজারের বেচাকেনা শেষ হয়। আমের গুণগত মানকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, “এবার ফলন ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কম। হিমসাগর আম মানভেদে প্রতি মণ ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশি জাতের আম ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যাতে কোনো রাসায়নিকযুক্ত বা অপরিপক্ব আম না ওঠে, সে বিষয়ে আড়তদারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” কাজীরহাট ফল ভা-ার, মা এন্টারপ্রাইজ ও বিজয় এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কিছু আড়তে এখন আমের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে কেমিক্যালযুক্ত ও অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ রোধে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম নিয়মিত আড়তগুলো পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, “কৃষি অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে বলা হয়েছে। কেমিক্যাল মেশানো আম বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কলারোয়ায় ৬৫৮ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,২৩৮ মেট্রিক টন, যা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, আমের বাজারদর কম থাকায় মোট বেচাবিক্রির আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এখান থেকে বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হলে চাষিদের হতাশা কেটে যাবে এবং তারা ভালো দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Ads small one

শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকেরা দাম পাচ্ছেন ভাল। দেখছেন লাভের মুখ। বাড়ছে পাটের চাষ। খুশি চাষিরা।

কৃষি প্রধান উপজোলা শার্শা। চলতি মৌসুমে টার্গেট অতিরিক্ত হয়েছে পাটের আবাদ। ফলনও হয়েছে ভাল। প্রতি বিঘায় ফলছে ১০ থেকে ১২ মন পাট। কেউ কাটছেন পাট, আবার কোথাও চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ।

 

সোনালী আঁশ ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময পার করছেন এলাকার কৃষকেরা। প্রতিমন পাট বিাক্রি হচ্ছে ৩৫ শ থেকে ৩৬ শ টাকা। পাটখড়ির দামও পাচ্ছেন ভাল। ফলে পাটের দাম ভাল সহ বাম্পার ফলনে খুশি কৃষকেরা।

চলছে পাটের আশ ছাড়ানোর কাজ। এবার পাটের ফলন ও দাম ভাল থাকায় শ্রমিকদের বাড়ছে উপার্যন। পরিবার পরিজন নিয়ে ভাল দিন কাটছে তাদের।

যশোরের শার্শা উপজেলায় এবার চাহিদার অতিরিক্ত পাটের চাষ হয়েছে। ফলন ও দাম ভাল পাচ্ছে কৃষকেরা। ফলে বাড়ছে চাষ। আগামীতে আরো পাট চাষের আশা কৃষি অধিদপ্তরের।

অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো পরিচর্যায় এবার পাটের ফলন হয়েছে ভালো। উপজেলায় সাত হাজার ৫ শ৩০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে বলে জানান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা।

ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটিতে ভোমরা-বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানিসহ সকল কার্যক্রম বন্ধ

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল থেকে ভোমরা-ঘোজাডাঙ্গা ও বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ বন্দর ও কাস্টমসের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াত রয়েছর স্বাভাবিক।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আবারও আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম সচল থাকবে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস হোসেন খান জানান, বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বুধবার বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত স্বাভাবিক রয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবীর সরকারি ছুটিতে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম রয়েছে বন্ধ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুনরায় শুরু হবে আমদানি-রপ্তানি। তবে বন্দরে পণ্য খালাস করা খালি ট্রাক ফিরে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। যা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পায় সরকার।

গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
গরমের তাপদাহে ঘাসকাটতে গিয়ে স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যু

প্রতীকি ছবি

পত্রদূত ডেস্ক: গরমের তাপদাহে ঘাস কাটার সময় স্ট্রোকে গ্রাম পুলিশের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে সাতক্ষীরার লাবসা ইউনিয়নের গোপিনাথপুরে এই ঘটনা ঘটে।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, বিগত ত্রিশ বছর ধরে কর্মরত গ্রাম পুলিশ আব্দুল খালেক মঙ্গলবার দুপুরে (৫০) বাড়ির ছাগল গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে অতি তাপদাহে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

 

পরে তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান খালেক স্ট্রোক করেছেন। পরে চিকিৎসাধীন খালেক বুধবার সকালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বাদ জোহর তার পারিবারিক গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

লাবসা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম বলেন, খালেকের মৃত্যুতে তিনিসহ এলাকার সকলেই গভীরভাবে শোকাহত।