সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে কাটাতারের বেড়া দিয়ে ধান চাষ, অধ্যক্ষের কাছে খোলা চিঠি
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে কাটাতারের বেড়া অপসারণ ও ক্যাম্পাসে ধান চাষ বন্ধ করে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সমৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ মহোদয় ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দের নিকট খোলা চিঠি
তারিখ: ১৬ এপ্রিল,২০২৬
প্রাপক, অধ্যক্ষ মহোদয়, সম্পাদক, শিক্ষক পর্ষদ, ও সকল বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।
বিষয়: ক্যাম্পাসে ভেষজ উদ্যান, গ্রুপ স্টাডি জোন এবং ওয়াকওয়ে নির্মাণের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে খোলা চিঠি।
শ্রদ্ধেয় মহোদয়গণ, সবিনয় নিবেদন এই যে, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম কেবল এই জেলাতেই নয়, বরং সারা দেশে বিস্তৃত। একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য যেমন গুণগত পাঠদান, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মনোরম ও সৃজনশীল পরিবেশ নিশ্চিত করাও তার অপরিহার্য অংশ।
বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক মানোন্নয়ন এবং মানসিক প্রশান্তির লক্ষ্যে আমরা নিম্নোক্ত তিনটি বিশেষ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি:
১. আধুনিক ভেষজ উদ্যান (Botanical/Medicinal Garden): আমাদের কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ক্যাম্পাসে একটি সুপরিকল্পিত ভেষজ উদ্যান থাকলে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে উদ্ভিদের পরিচয় ও গুণাগুণ শিখতে পারবে। এছাড়া এটি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
২. প্রাকৃতিক গ্রুপ স্টাডি জোন: শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে মুক্ত বাতাসে পড়াশোনা ও জ্ঞান চর্চার পরিবেশ শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। ক্যাম্পাসের নির্দিষ্ট কিছু গাছতলায় পরিবেশবান্ধব বসার ব্যবস্থা ও গোল টেবিল স্থাপন করলে শিক্ষার্থীরা পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে কঠিন বিষয়গুলো সহজে আয়ত্ত করতে পারবে।
৩. সুশৃঙ্খল হাঁটার পথ (Walkwa): শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শারীরিক সুস্থতা এবং ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে একটি স্থায়ী ওয়াকওয়ে অত্যন্ত প্রয়োজন। এটি ক্যাম্পাসের এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাতায়াত যেমন সহজ করবে, তেমনি একটি সুসংগঠিত আধুনিক ক্যাম্পাসের রূপ দান করবে।
শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ, সাতক্ষীরা জেলাটি এমনিতেই পরিবেশগতভাবে স্পর্শকাতর। আমাদের কলেজে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হলে তা সারা বাংলাদেশের অন্যান্য সরকারি কলেজের জন্য একটি ‘মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করতে এবং একটি ‘স্মার্ট ক্যাম্পাস’ গড়তে আপনাদের দিকনির্দেশনা ও সদিচ্ছাই যথেষ্ট।
পরিশেষে, আমাদের প্রাণের বিদ্যাপীঠকে আরও সবুজ, সুন্দর এবং জ্ঞানচর্চার উপযোগী করে তুলতে উপরোক্ত প্রস্তাবনাগুলো সদয় বিবেচনা ও বাস্তবায়নের জন্য আপনাদের নিকট বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।
নিবেদক,
সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দের পক্ষে,
তাকির ইসলাম
সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি ও
সাবেক শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ।






