শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ১:০১ অপরাহ্ণ
সালমান শাহর লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার লাশ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানবে। ৩০ বছর পর লাশ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না। শুধু শুধু শাহজালাল (রহ:) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই লাশ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন।”

আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ শাহজালাল (রহ:)-এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে। ভিকটিমের লাশ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বারবার লাশ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টিসহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাদী মো.আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ (লাশ) উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ লাশ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।

গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন— সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান, সালমান ঘুমাচ্ছেন। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সেই সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।

Ads small one

শ্যামনগর পৌর এলাকায় পরিবেশের ছাত্রপত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে ইট ভাটা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর পৌর এলাকায় পরিবেশের ছাত্রপত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে ইট ভাটা

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বিধি বহির্ভুতভাবে পৌরসভার মধ্যেই ইট ভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেসার্স হক ব্রিকস এবং মেসার্স এমবি ব্রিকস নামে ঐ দু’টি ইটভাটা নির্মিত হচ্ছে পৌরসদরের সোনারমোড় এলাকায়। পরিবেশ অধিদপ্তরের খাতায় উভয় প্রতিষ্ঠান ‘অবৈধ’ বলে উল্লেখ করা সত্ত্বেও তারা প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে জিগজ্যাগ প্রকৃতির উক্ত ইটভাটা দু’টি নির্মাণ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ ইটভাটা দু’টি স্থাপনে পরিবেশ সংরক্ষণ ও কৃষি জমি রক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আমলে নেয়া হচ্ছে না। উল্টো ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩’কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উভয় ইটভাটার নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলেছে। দৃষ্টি আকর্ষণ করেও পরিবেশ অধিপ্তর বা প্রশাসনের টনক নড়ানো যাচ্ছে না।

সরেজিমন যেয়ে দেখা যায়, শ্যামনগর-বংশীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সোনারমোড় বাজারের পশ্চিম পাশে নির্মিত হচ্ছে মেসার্স হক ব্রিকস নামীয় ইট ভাটা। সড়কের একইপাশে দক্ষিণ অংশে ইতিমধ্যে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেছে মেসার্স এবি ব্রিকস নামীয় ইট ভাটা নামীয প্রতিষ্ঠানটি। উভয় ভাটার চারপাশ ঘিরে আছে জনবসতিসহ বাজার, মাদ্রাসা এবং একটি কলেজ।

মেসার্স হক ব্রিকস এর নির্মাণ কাজ তদারকিতে থাকা মতিউর রহমান নিজেকে ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দেন। তার ভাষ্য আগেও উক্ত স্থানে ইটভাটা ছিল। বৃহৎ পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নুতনভাবে তারা মটর বা ক্লিন নির্মাণ করছেন।

তার দাবি পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে তারা ইটভাটা নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। নির্মাণ কাজ শেষে পরিবেশ অধিপ্তরের থেকে ছাড়পত্র সংগ্রহ করবেন। জেলা প্রশাসকের অনুমতি ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া ইট ভাটা নির্মান করা যায় কিনা-জানতে চাইলে তিনি বলেন, পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে আগেও তারা ব্যবসা করেছেন। তাদের সমুদয় কাগজপত্র রয়েছে বলেও দাবি তার।

তবে পৌরসভার মধ্যে ইটভাটা নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলেছে স্থানীয়রা। পার্শ্ববর্তী বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল আর স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ জনবসতির মধ্যে ইটভাটার বিরোধীতা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ইট ভাটা পরিচালনা নীতিমালা লংঘন করে শুধুমাত্র অর্থের জোরে সেখানে অবৈধভাবে ইটভাটা গড়ে তোলা হচ্ছে।

নির্মাণাধীন হক ব্রিকস এর পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত মাহমুদ গ্রামের আবু তাহেরের ভাষ্য উক্ত ইটভাটা পুনরায় চালু হলে পাশে থাকা তাদের ফসলী জমি আবাদের অযোগ্য হয়ে পড়বে। ইটভাটার ছাই-ভস্মে পাশের বাড়িঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনকি ভাটার মাত্র পা ফেলা দুরতে অবস্থিত হাফেজী মাদ্রাসার ১৮০ জন শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ ফজলুল হক এমসি কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীরা চরম বেকায়দায় পড়বে।

সোনারমোড় ফুলতলা গ্রামের গৃহবধু শাহানারা বেগম জানান, জনবসতির মধ্যে ইটভাটা থাকার দরুণ আগেও তারা শ্বাসকষ্টসহ নানান শাররীক জটিলতায় ভুগেছেন। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করেও ইটভাটার ছাই থেকে বাড়িঘর রক্ষা করা যায়নি। বসতভিটার উপর লাগানো গাছ-গাছালীড়গুলো মরে মুরভুমি হয়ে গেছিল। পুনরায় উক্ত স্থানে ইটভাটা চালু হলে নানামুখী সমস্যায় পড়তে হবে- উল্লেখ করে তিনি পৌরসভার মধ্যে নির্মাণাধীন ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান।

পৌরসভার মধ্যে ইটভাটা স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিপ্তরের সাতক্ষীরা অঞ্চলের পরিচালাক সৌমেন মিত্র জানান পৌরসভার মধ্যে থাকা দু’টি ইটভাটা আগে থেকেই কালো তালিকাভুক্ত। উক্ত দুই অবৈধ ইটভাটা বন্ধের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

পৌরসভার প্রশাসক ওমর ফাহাদ শরীফ জানান, ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন আইন অনুযায়ী ইটভাটা পরিচালিত হতে হবে। আইন বিরোধী কোন কাজ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পৌরসভার মধ্যে অবৈধভাবে কেউ ইটভাটা পরিচালনা করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা: আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১২ অপরাহ্ণ
কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণে মতবিনিময় সভা: আর্থিক সহযোগিতার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জমি ক্রয়ের উদ্দেশ্যে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের তুফান কনভেনশন সেন্টার লেক ভিউয়ের পদ্মা হলে কামালনগর কবরস্থান সম্প্রসারণ কমিটি এ সভার আয়োজন করে।

কমিটির আহ্বায়ক ও সমাজসেবক ডা. আবুল কালাম বাবলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. লিয়াকত পারভেজ, সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মশিউর রহমান বাবু, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবু, তুফান কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শেখ তানজিম কালাম তমাল, কামালনগর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ আব্দুস সোবহান, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির শেখ সাঈদ আহমেদ (রঞ্জু) ও মাওলানা মনিরুল ইসলাম ফারুকী প্রমুখ।

সভায় বক্তারা জানান, কামালনগর কবরস্থানটি চার স্তর মাটি ভরাট করার পরও স্থানসংকুলান হচ্ছে না। এ সমস্যার সমাধানে কবরস্থানসংলগ্ন জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হলেও জমির মালিকদের সমুদয় অর্থ এখনো পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কাজের জন্য আনুমানিক ৫০ লাখ টাকা প্রয়োজন।

বক্তারা আরও বলেন, কবরস্থান মুসলমানদের শেষ ঠিকানা। তাই সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতা থেকে বিত্তবানসহ সর্বস্তরের মানুষকে সামর্থ্য অনুযায়ী এই জমি ক্রয়ের তহবিলে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সুলতানপুর বড় বাজার জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আব্দুল খালেক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কামালনগর গোরস্থান মসজিদের ইমাম ইয়াছিন আলম খান। সভায় কবরস্থান সম্প্রসারণ কমিটির সদস্য, জমিদাতা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

 

সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা এলাকায় ঘেরে মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫৩) নামের এক মাছ চাষীকে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামী করে তালা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিন ভোর রাতে জিয়ালা গ্রামের উত্তর খোলা বিলে ক্ষিতিশ মন্ডলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১২ টার দিকে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার ।

নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদরের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। আটকের পর স্থানীয় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০-১৫ জন তাকে জেয়ালা শ্মশান ঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারীরা তার হাত-পা ভেঙে দেয়, মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। ভোর পর্যন্ত তার ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল বলেন, আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমির মাছের ঘের রয়েছে। চুরি সন্দেহে একটা মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার চাই।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে পিটিয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।