সুখ গুলো শীত হয়ে গেছে
ফিনিক্স সুজন
যাদের নেই শীতে একটা উষ্ণ কম্বল,তাদের দুঃখ আমার চোখে লাগুক!
তাদের দুঃখ লাগুক রাজ্যপাটে বসে থাকা সুলতানের রাজকোষে!
কত মোলায়েম পোশাকে আবৃত তোমাদের দেহ, কতো কিছুতে ঢাকা স্তন,
তব একটা গরম বুক পেলনা রাস্তার পাশে শুয়ে থাকা করিম বক্স!
ইটকে জড়িয়ে সে করিয়াছে তারে প্রিয়তমা, আর শীতে কে করেছে চাদর!
কুয়াশার অদৃশ্যমান পথের পাথর হয়েছে তাহার প্রাত্যহিক সঙ্গী!
পথিকের আধখাওয়া সিগারেটের আগুন তার দেহকে একটুখানি গরম করে!
সে কভু ছুঁয়ে দেখেনি সামান্য একটা সিগারেট, তবুও এই নিশি রাত্রে,
সিগারেট বুকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে,একটুখানি উষ্ণতার নিমিত্তে!
জগতের সমস্ত সুখ আজ শীতের বেশে এসে তার জানালায় উঁকি করে,
জানালা! যার নেই একটা মাথাগোঁজার ঠাঁই,নেই একটা ঘর অথবা কম্বল!
যার জন্য জোটে না একটা কাফনের কাপড় মরণের পরেও,
মরণের পরে যার দেহ হতে অঙ্গগুলো ঠুকরে খাবে ধবধবে সাদা চিল,
তার পানে পৃথিবীর সমস্ত সুখ, শীত হয়ে আলিঙ্গন করে গভীরভাবে!
তার জন্য আছে পথের ধারের সাড়ে তিন হাত জায়গা বরাদ্দ করা,
সেখানে সুয়ে সে নক্ষত্র গোনে, কতবছর এমনি কেটে গেলো কে জানে?
এই কবে ছোট্টকালে সে গুনেছিল তারা তার বাবার সাথে এখানে এসে,
তারপর কত বছর কেটে গেল, কতজন চলে গেল তার ফুটপাত থেকে,
তার বাবাও তাকে ছেড়ে, হয়ে গেল ওই দূর আকাশের একটা নক্ষত্র !
সেও চাই এ জীবন ত্যাগ করতে, তবুও পারছে না ছাড়তে জগৎ মায়া;
কি এক অদ্ভুত টানে বেঁধে আছে সে মহাবিশ্বের এই কেন্দ্রবিন্দুতে!
অদ্ভুত এক মায়ার টান, অদ্ভুত এক প্রেমের টান, খুবই অদ্ভুত টান।
তাই তো তার রুহু যেতে পারল না তার জীর্ণ দেহকে ছেড়ে যেতে,
পারেনি ছেড়ে চলে যেতে আকাশে, নক্ষত্র হতে পারেনি তার আত্মা;
যাদের সুখগুলো শীত হয়ে গেছে, লাগিছে তাদের বুকে চুরির মতন,
তাদের দুঃখগুলো আমার চোখে লাগে না কেন? কিংবা রাজাধিরাজের;






