শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ
হজযাত্রীরা আজ মক্কা থেকে মিনায় যাত্রা করবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পবিত্র হজ পালনের জন্য প্রস্তুত বিশ্বের হজযাত্রীরা। গোটা মক্কা নগরী এখন হজযাত্রীমুখর। আজ রোববার থেকেই শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিকতা। এদিন পবিত্র মক্কা থেকে হজের নিয়তে এহরাম বেঁধে তাঁবুর নগরী মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন লাখ লাখ হজযাত্রী। আগামীকাল সোমবার (৮ জিলহজ) সেখানে নির্ধারিত তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করবেন সবাই। পর্যায়ক্রমে ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতাসহ ১২ জিলহজ পর্যন্ত হজের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন তারা।

সূত্রমতে, সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে এবারের হজ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সৌদি সরকার। অভ্যন্তরীণ ছাড়াও বাংলাদেশসহ বিশ্ব থেকে ১৫ লক্ষাধিক হজযাত্রী ইতোমধ্যে দেশটিতে পৌঁছেছেন।

এদিকে এবার পবিত্র হজ পালনের জন্য ৭৯ হাজার ১৬৪ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজ পালন করবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বুলেটিন সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়ে এ পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন পুরুষ ও সাতজন মহিলা। মক্কায় ১৫ জন ও মদিনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার হজযাত্রী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মক্কায় অবস্থানরত ‘কাজী হজ কাফেলার’ পরিচালক কাজী রফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার আমার দেশকে বলেন, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করার জন্য আমরা সবাই প্রস্তুত হয়ে আছি। রোববার সন্ধ্যার পর থেকে বাসযোগে হজ যাত্রীরা মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে মিনার উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে সোমবার অবস্থান করবেন সবাই। ওইদিন রাত থেকেই আবার পবিত্র আরাফাত ময়দানের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবেন হজযাত্রীরা। মঙ্গলবার ৯ জিলহজ সেখানে অবস্থান ও হজের খুতবা শোনার মধ্য দিয়ে মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তবে পরবর্তী সময়ে ১২ জিলহজ পর্যন্ত মুজদালিফায় রাতযাপন, মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ, কোরবানি, তাওয়াফে জিয়ারতসহ অন্যান্য কার্যক্রম আদায় করবেন সবাই।

তিনি আরো জানান, প্রচণ্ড গরম আবহাওয়ার কারণে সবাইকে খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হচ্ছে। তাছাড়া এখন পর্যন্ত হজযাত্রীদের তেমন কোনো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না। সৌদি গেজেট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার প্রেস ব্রিফিংয়ে সৌদি আরবের জননিরাপত্তা পরিচালক এবং হজ নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আল-বাসামি জানিয়েছেন, হজের ধর্মীয় উদ্দেশের পরিপন্থী কোনো কার্যকলাপের জন্য তারা হজ মৌসুমকে অপব্যবহার করতে দেবে না। ভুয়া হজ যাত্রীদের কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ঘোষণার পাশাপাশি হজ মৌসুমে দায়িত্ব পালনে হজ নিরাপত্তা ব্যবস্থার পূর্ণ প্রস্তুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেন তিনি।

আল-বাসামি প্রকাশ করেন যে, কর্তৃপক্ষ দেশব্যাপী ২১৭টিরও বেশি ভুয়া হজ অভিযান নস্যাৎ করেছে এবং বাসস্থান, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনকারী সাত হাজার ৭৩৩ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে, যারা অবৈধভাবে মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। কর্তৃপক্ষ মক্কার প্রবেশপথগুলোতে তিন লাখ ৬৬ হাজার অননুমোদিত ব্যক্তিকে প্রবেশ করতে দেয়নি এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের পরিবহনে ব্যবহৃত হাজার হাজার অননুমোদিত যানবাহন আটক করেছে।

তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের সূচকগুলো গত বছরের তুলনায় নিয়ম পালনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখিয়েছে, যার মধ্যে লঙ্ঘনকারী ও নির্বাসিতের সংখ্যা ৪৪ শতাংশ, ভুয়া হজ প্রচারণা ১২ শতাংশ এবং বাসস্থান ও সীমান্ত বিধি সংক্রান্ত লঙ্ঘন ৩৩ শতাংশ হ্রাসের বিষয়টি উল্লেখযোগ্য। দেশটির পাসপোর্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ড. সালেহ আল-মুরব্বা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত বিদেশ থেকে ১৫ লাখ ১৮ হাজারেরও বেশি হজযাত্রী পৌঁছেছেন, যার মধ্যে ১৪ লাখ ৫৭ হাজারেরও বেশি বিমানবন্দর দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন।

এদিকে আরব নিউজ সূত্রে জানা গেছে, হজ মৌসুমে মক্কায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং মদিনায় ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত আর্দ্রতা এবং খোলা জায়গায় ধুলি উড়ানো বাতাসের সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় পানিশূন্যতা এড়াতে হজযাত্রী ও ভ্রমণকারীদের প্রচুর পরিমাণে তরল পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র হজের খুতবা বাংলায় অনুবাদ করবেন চার বাংলাদেশি

এদিকে পবিত্র হজের খুতবা চলতি বছরও বাংলাসহ বিশ্বের ৫০টি ভাষায় অনুবাদ ও সম্প্রচার করা হবে। এর মাধ্যমে টানা সপ্তমবারের মতো বাংলা ভাষায় হজের খুতবা শুনতে পারবেন বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানরা। সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর তত্ত্বাবধানকারী জেনারেল প্রেসিডেন্সির অধীনে পরিচালিত এ কার্যক্রমে এবার বাংলা অনুবাদ দলের দায়িত্ব পালন করবেন চার বাংলাদেশি। তারা হলেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান, ড. আ ফ ম ওয়াহিদুর রহমান, মুবিনুর রহমান ফারুক এবং নাজমুস সাকিব।

জানা গেছে, অনুবাদ কার্যক্রমে যুক্ত চারজনই মক্কার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। বাংলা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. মুহাম্মদ খলীলুর রহমান। তিনি জানান, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত হজের খুতবা বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হবে। অনুবাদ কার্যক্রমে পুরো দল অংশ নিলেও উপস্থাপনায় সাধারণত দুজন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি এর আগে একাধিকবার হজের খুতবার বাংলা অনুবাদ উপস্থাপনা করেছেন।

Ads small one

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০৫ অপরাহ্ণ
খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় তালা প্রেসক্লাবের নিন্দা

তালা প্রতিনিধি: খুলনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তালা প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

এক যৌথ বিবৃতিতে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী জাহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফারুক জোয়ার্দ্দার ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেনসহ সংগঠনের নির্বাহী ও সাধারণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, এই হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর একটি সরাসরি আঘাত।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে খুলনা মহানগরীর শান্তিধাম জাতিসংঘ পার্কসংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করে। এতে সেখানে অবস্থান করা কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নির্মাণকল্পে এডহক কমিটি গঠন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ মোড় কুলিয়া কাঁচা বাজারের উচ্ছেদকৃত মসজিদটি পুনরায় অন্যত্র নিদিষ্ট স্থানে নির্মাণ কল্পে এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) মাগরিবের নামাজের পর কুলিয়া কাঁচা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মোড় চত্বরে মসজিদ নির্মাণ কল্পে এক জরুরী আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কুলিয়া কাঁচা বাজারে ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা বহু মুসল্লি উক্ত মসজিদে নামাজ পড়ত। মসজিদটি ভেঙে দেওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ পড়তে দুভোর্গে পড়তে যাচ্ছে। সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে পাকা না হলেও এখনি একটি টিন সেটের মসজিদ নির্মাণ করার দরকার। মসজিদ নির্মাণের লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের নিয়ে এক আলোচনা সভা অনুঠিত হয়।

সভায় বক্তব্যে রাখেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য মহিউদ্দিন সিদ্দিকী, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কুলিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি এড. জাহাঙ্গীর কবির বাবু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন বাবলু, জামায়াত নেতা মাছুম খান চৌধুরী ও বিএনপি নেতা আমিনুর রহমান।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি ডাঃ অহিদুজ্জামান, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকন, মোসফিকুর রহমান, রুহুল আমিন, রফিকুল ইসলাম ও জামায়াতের ইউনিয়ন সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইয়াকুব আলী প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সকলের সর্বসম্মতিক্রমে মসজিদ নির্মাণ কল্পে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে আমিনুর রহমানকে আহবায়ক ও অন্যান্য সদস্যরা যথাক্রমে মাওলানা সাদিকুল ইসলাম, মেহেদী হাসান সবুজ, মাসুম খান চৌধুরী, মাওলানা রুহুল আমিন, দেলোয়ার হোসেন বাবলু, সাংবাদিক রুহুল আমিন, আব্দুস সামাদ গাজী, সিরাজুল ইসলাম মোড়ল,এ্যাডঃ আল আমিন, রওশন সরদার, আবুল কাশেম ও মাওলানা ইয়াকুব আলী।

 

 

 

বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রথম প্রতিষ্ঠান খুলনার ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): ভুবন মোহিনী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হলো বাংলাদেশের প্রথম এবং ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালি নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী গ্রামে অবস্থিত।

খুলনার পাইকগাছায় অবস্থিত ইতিহাস ঐতিহ্যের ধারক রাড়ুলী গ্রাম। ১৮৬১ সালের ২ আগস্ট রাড়ুলী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। তাঁরও জন্মের ১১ বছর আগে ১৮৫০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুধু তাইনা, এটি নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার জন্মের প্রায় ৩০ বছর আগের ঘটনা।

দেশের প্রথম ও ভারতীয় উপমহাদেশের দ্বিতীয় বাঙালী নারীশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়। তৎকালীন সময়ে একবার ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর রাড়ুলী গ্রামে বেড়াতে আসেন। তিনি তখন আচার্য পিসি রায়ের বাবা হরিশ চন্দ্রকে নারী শিক্ষার উন্নয়নে একটি আলাদা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য তাগিদ দেন।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অনুপ্রেরণায় হরিশ্চন্দ্র নিজ গ্রাম রাড়ুলীতেই তাঁর স্ত্রীর নামে ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি বিদ্যালয়ে প্রথম ছাত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রী ভুবন মোহিনীকেই ভর্তি করেন। এটিই বাংলাদেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণি মানুষ।

বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে দুই শ এর উপরে জন ছাত্রী, ১৫ জন শিক্ষক- শিক্ষিকা এবং ৪জন কর্মচারী রয়েছেন। ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠানটি ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এর উল্লেখযোগ্য কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন বা জাতীয়করণ হয়নি। এটি জাতীয়করণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন।

ভুবন মোহিনী বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার ঘোষ, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদ মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও জাতীয়করণ নিশ্চিত করা গেলে বিদ্যালয়টি তার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে দেশের নারী শিক্ষায় আরও বড় অবদান রাখতে পারবে।