হুথি-সরকারি বাহিনী সংঘাত, নৌকায় করে দেশত্যাগ করছেন ইয়েমেনিরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের লড়াই থেকে বাঁচতে নৌকায় করে পালাচ্ছেন ইয়েমেনিরা। লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে অনেকে আফ্রিকায় পৌঁছাচ্ছেন। কেউ কেউ আশ্রয় নিচ্ছেন দূরের কোনও নিরাপদ জায়গায়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই দেশের ভেতরেই আশ্রয় নিয়েছেন।
৭০ বছর বয়সী আহমাদ হাসান একটি নৌকায় করে আফ্রিকায় পৌঁছেছেন। আইওএমকে তিনি বলেন, সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। হুথি যোদ্ধারা তার গ্রামে আসার পর সেখানে বিমান হামলা শুরু হলে তিনি গ্রাম ছাড়েন। তার ভাষায়, পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছিল, দোকানপাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবারও পাওয়া যাচ্ছিল না।
হুথি-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সৌদি বিমানবাহিনী লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী হাজ্জাহ প্রদেশ এবং আরও দক্ষিণে তাইজের আশপাশে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে। হুথিদের দাবি, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি বাহিনী শত শত হামলা চালিয়েছে। জবাবে সীমান্তের ওপারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে হুথিরাও।
ইয়েমেন ও সৌদি আরবে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় উপসাগরীয় তেলের বিকল্প প্রধান রুটও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। গত সপ্তাহে হামলার পর সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনও বন্ধ রয়েছে।
এদিকে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদি আরবের সামরিক সহায়তার আহ্বানে এখনও সাড়া দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, আশা করছেন যুদ্ধ শেষের দিকে রয়েছে।









