মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

১৯ শয্যায় বন্দি ৫০ শয্যার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুর্ভোগে রোগীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০২ অপরাহ্ণ
১৯ শয্যায় বন্দি ৫০ শয্যার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, দুর্ভোগে রোগীরা

জি এম রিয়াজুল আকবর, কয়রা (খুলনা}: খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যাসংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যার অবকাঠামোয় চলছে কার্যক্রম। ছয় বছর আগে পুরোনো ৩১ শয্যার ভবনটি ভেঙে ফেলা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।

কয়রা উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষও এ হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সরকারি হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের।

জায়গীরমহল গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রউফ বলেন, হাসপাতালে নিয়মিত চিকিৎসক পাওয়া নিয়ে রোগীদের অভিযোগ রয়েছে। রাতের বেলায় চিকিৎসাসেবা পেতেও সমস্যা হয়। অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে সব সময় সেটি ব্যবহার করা যায় না।

উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা হওয়ায় কয়রায় ডায়রিয়া, পানিবাহিত রোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি দুর্ঘটনা ও প্রসূতি জটিলতায় আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে গুরুতর রোগীদের অন্য হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি বলে মনে করেন বাসিন্দারা।

মসজিদকুড় গ্রামের আবু তৈয়ব বলেন, নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পরও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালু করা প্রয়োজন।

আমাদী খান সাহেব কোমর উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় এলাকার স্বাস্থ্য অবকাঠামো আরও সক্ষম হওয়া প্রয়োজন। দুর্যোগের সময় একসঙ্গে অনেক মানুষের চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। দীর্ঘদিনেও নতুন ভবন নির্মাণ ও ৫০ শয্যার সেবা চালু না হওয়া দুঃখজনক। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, ভবন ও জনবলসংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নতুন ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরুরি চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, হাসপাতালের পুরোনো ৩১ শয্যার ভবন পুনর্নির্মাণের দরপত্রপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও কাজ শুরু হয়নি। ঠিকাদার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল আনার আশ্বাস দিয়েছেন। অন্যদিকে, ৫০ শয্যার ভবন নির্মাণের কাজ মাটি পরীক্ষার পর আর এগোয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Ads small one

এ বছর শীতের তীব্রতা কেমন হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
এ বছর শীতের তীব্রতা কেমন হবে

প্রশান্ত মহাসাগরে শক্তিশালী হচ্ছে এল নিনো। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে এটি শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে এবার শীতের তীব্রতা কেমন হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এল নিনোর কারণে শীতের অনুভূতি কম হতে পারে কিনা, সে বিষয়ে অবশ্য নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু প্রক্রিয়া। এতে প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্ব অংশের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বায়ুমণ্ডলীয় প্রবাহ ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। কোথাও তাপমাত্রা বাড়তে পারে, কোথাও বৃষ্টিপাতের ধরন বদলে যেতে পারে। তবে এর প্রভাব সব দেশ ও অঞ্চলে এক রকম হয় না।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত মনে করেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হলেও এল নিনোর কারণে বাংলাদেশে ঠিক কতটা গরম পড়বে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। অন্যদিকে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিকের মতে, এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রার তীব্রতা ও গরমের অনুভূতি বাড়তে পারে। তবে এর প্রভাব অঞ্চলভেদে আলাদা হবে।

শীতের ধরন কি বদলাবে?

এল নিনোর প্রভাবে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কোনও কোনও অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় উষ্ণ আবহাওয়া দেখা দিতে পারে। তবে এ পরিস্থিতি বাংলাদেশের শীতকালকে কতটা প্রভাবিত করবে, তা শুধু এল নিনোর উপস্থিতি দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো সক্রিয় থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এর প্রভাবে তাপমাত্রার তীব্রতা ও গরমের অনুভূতি বেশি থাকতে পারে। তবে এল নিনোর প্রভাব সব শহর বা দেশে একই রকম হবে না।

তিনি বলেন, এল নিনোর প্রভাবে গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালের বাইরেও বছরের বিভিন্ন সময়ে তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। শীতকালের মেয়াদ কমে আসার পাশাপাশি স্বল্প সময়ে বেশি বৃষ্টিপাতের প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। তবে এসব প্রভাবের কোনটি কোন দেশে দেখা দেবে, কিংবা কোনও দেশে একাধিক প্রভাব একসঙ্গে পড়বে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবও বিবেচ্য

জলবায়ু বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। কার্বন নিঃসরণের কারণে দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সীমিত রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো ও লা নিনা সম্পর্কে মানুষের ধারণা তৈরি হলেও এই দুই পরিস্থিতি কেন সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে আরও বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এল নিনো এলে গরম বাড়ে, লা নিনা এলে গরম কমে—এটা সবাই এখন জানে।’

আইনুন নিশাত বলেন, এল নিনো সক্রিয় থাকায় তাপমাত্রা বেশি হতে পারে। তবে এর কারণে বাংলাদেশে ঠিক কতটা গরম পড়বে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ডব্লিউএমও’র পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এল নিনো ২০২৬ সালের শেষ দিকে শক্তিশালী অবস্থায় পৌঁছাতে পারে এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলের তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন আসতে পারে।

এল নিনোর প্রভাব সম্পর্কে আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, জুনের পর থেকেই এল নিনোর শক্তিশালী অবস্থা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পুরো ভারতীয় অঞ্চলে পড়তে পারে। এর প্রভাবে গ্রীষ্মে অনিয়মিত বৃষ্টি ও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা দেখা দিতে পারে। শীতেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। অক্টোবর এবং অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সময়ের পূর্বাভাসেও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকার ইঙ্গিত রয়েছে। একই সময়ে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে।

শীতে কেমন থাকতে পারে তাপমাত্রা?

এবার শীত কেমন হবে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে। নভেম্বরের শেষ দিকে উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও শৈত্যপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে ডিসেম্বর থেকে। এ সময় রাজধানীর তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামতে পারে।

তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। এই বাতাসের প্রবাহ বাড়লে শীতের অনুভূতিও বাড়তে পারে। তবে এসবই সম্ভাব্য পূর্বাভাস, নিশ্চিত তাপমাত্রা নয়। প্রকৃত তাপমাত্রা বাতাসের দিক ও গতি, আকাশের অবস্থা এবং অন্যান্য আবহাওয়াগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।

এদিকে হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন একই সময়ে তা ছিল ১৭ ডিগ্রি।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, রাত ও ভোরে কুয়াশার প্রবণতা বাড়ছে। দিনের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকায় দিনে গরম এবং রাতে ও ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমলে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

শুধু পঞ্চগড় নয়, উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় তাপমাত্রা কমছে। এ ছাড়া গ্রামের দিকে ভোরে ও সন্ধ্যায় কুয়াশার দেখা পাওয়া যাচ্ছে। শহরেও সন্ধ্যার পর হিমহিম ভাব এসেছে। তবে দিনের গরম এখনও ভ্যাপসা। ফলে অক্টোবর শেষ হতে চললেও তাপমাত্রা শীতে কতটা কমবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
জামায়াত এমপির হোটেল-রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করলো প্রশাসন, কারণ কী?

কর্তৃপক্ষের যথাযথ অনুমোদন না থাকায় পর্যটনকেন্দ্র পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ সময় কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান, কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক উপস্থিত ছিলেন।

নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়ার পর কুয়াকাটা পৌরসভা ও কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার একটি ব্যানার হোটেল নির্মাণের জায়গায় টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেখানে লেখা রয়েছে, এই স্থাপনাটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত নির্মাণের কারণে নির্দেশক্রমে কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হলো। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী মৌজার এস এ ২৯২ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ২১ একর ৬৬ শতক জায়গাজুড়ে ইস্তানবুলের প্রকল্প কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রকল্প এলাকায় একটি মসজিদ এবং কনভেনশন হলের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এ বছর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কুয়াকাটা পৌর এলাকার মুসল্লীয়াবাদ গ্রামসংলগ্ন এলাকায় ইস্তানবুল হোটেল নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ প্রকল্প এলাকায় ইতিমধ্যে কমপক্ষে ছয় একর ভূমির উন্নয়নসহ সীমানাদেয়াল করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন পিরোজপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাসুদ সাঈদী। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে।

ইস্তানবুল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে বিনিয়োগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার–প্রচারণা রয়েছে। প্রচারণায় এ প্রকল্পকে বাংলাদেশের ‘হালাল ট্যুরিজম’ বলে দাবি করা হয়। মাত্র পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে এই প্রকল্পের শেয়ারের মালিক হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না থাকা এবং স্থাপনা নির্মাণ আইন অনুসারে অনুমোদন ব্যতীত ভবন নির্মাণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তা ছাড়া কুয়াকাটার মাস্টারপ্ল্যানে এই জমি রেলওয়ে স্থাপনার জন্য বরাদ্দ দেওয়া আছে। এ কারণে স্থাপনাটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জায়াগাটি বর্তমান বিএস জরিপে এ জায়গা কুয়াকাটা পৌরসভার আওতাধীন।’

এদিকে এ জমির মালিকানা দাবি করে কলাপাড়া উপজেলার হাড়িপাড়া এলাকার বাসিন্দা রাখাইন উমাচ্যান দেওয়ানি আদালতে একটি মামলা করেছেন। তিনি দাবি করে বলেছেন, এ জমির মালিক তার দাদা।

প্রকল্পের স্থানীয় প্রতিনিধি মনির মুসুল্লী বলেন, ‘এটি একটি বড় প্রকল্প। এ প্রকল্পের জন্য আমরা ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর থেকে যাবতীয় কাগজপত্র নিয়েছি। তা ছাড়া আমরা ইতিমধ্যে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের দফতরেও ভবন নির্মাণের অনুমতি চেয়ে আবেদনপত্র জমা দিয়েছি। এমনকি কুয়াকাটা পৌরসভা থেকেও অনাপত্তিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও দোষ ধরলে অনেক কিছুই ধরা যায়। সবকিছু মিলিয়ে এখন আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, এখানে বড় রাজনৈতিক খেলা রয়েছে।’

নোনা জলে মানচিত্র হারাচ্ছে উপকূল: লোকসংস্কৃতির বিনাশ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
নোনা জলে মানচিত্র হারাচ্ছে উপকূল: লোকসংস্কৃতির বিনাশ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি

আসাদুজ্জামান সরদার: সাতক্ষীরার উপকূলীয় জনপদের জীবন থেকে স্বজন হারানোর বেদনা এবং গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী বাস্তুচ্যুতির হৃদয়বিদারক চিত্রের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই পর্ব। ভৌগোলিক নাজুকতা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার কারণে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে এখানকার মানচিত্র। জলবায়ু উদ্বাস্তু মানুষের এই স্রোত এবং অরক্ষিত ভূগোলের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে আজ উপকূলের মানুষ স্থায়ী টেকসই বাঁধ ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বাস্তুসংস্থানের বিনাশ
পরিবেশকর্মী ও গবেষক পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু উপকূলীয় সংকটের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলেন, “এই অঞ্চলে পরবর্তী সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হয়; বিশেষ করে সিডর থেকে শুরু করে আইলা, তারপরে আম্পান, ইয়াস, বুলবুল এবং মোট ১১-১২টা দুর্যোগ গত পাঁচ-সাত বছরের ভিতরে এই উপকূলে আঘাত হেনেছে। উপকূলে অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের করার কারণে এবং অপরিকল্পিত স্লুইসগেট নির্মাণের ফলে বাঁধগুলো এতটাই দুর্বল হয়ে গেছে যে, সামান্য আঘাতে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পুরো কৃষি জমি লবণপানিতে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এই অঞ্চলের মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।”


তিনি আরও জানান, উপকূলী এলাকার দুর্গাবাটি, হরিণনগর, সিংহড়তলী, গাবুরা ও জেলেখালী, প্রতাপনগরের হালদার বাড়ি, পদ্মপুকুরের বন্যতলার মতো অনেক এলাকা নদী ভাঙতে ভাঙতে বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে মানুষ বাধ্য হয়ে এমন পেশায় নামছে যা সে জানে নাÑযেমন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ভ্যান কেনা। কিন্তু সেই ঋণ শোধ করতে না পেরে ভিটেমাটি ছেড়ে অন্য অঞ্চলে চলে যেতে হচ্ছে।

 

 

হারিয়ে যাচ্ছে লোকসংস্কৃতি ও অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি ও হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘন
মানবাধিকারকর্মী ও স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক মাধব চন্দ্র দত্ত বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট যেসব ক্ষতি বা হারানো সম্পদ সহজে অর্থে পরিমাপ করা যায় না, সেগুলোকে আন্তর্জাতিক পরিভাষায় অ-অর্থনৈতিক ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি বলা হয়। এর ফলে মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, স্বকীয় পরিচয়, মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন, প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য এবং সামাজিক মেলবন্ধন চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। তবে বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন কিংবা সরকারি ক্ষতিপূরণ নীতিমালায় কেবল ভেঙে যাওয়া রাস্তাঘাট, বাঁধ বা নষ্ট হওয়া ফসলের মতো দৃশ্যমান আর্থিক ক্ষতির হিসাব করা হয়; কিন্তু মানুষের মনস্তাত্ত্বিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক এই অপূরণীয় ক্ষতিগুলো নীতিমালার কাঠামোর বাইরেই রয়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তনের দায় কম থাকা সত্ত্বেও আমরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাচ্ছি না ।

 

 

তিনি আরো বলেন, প্রতাপনগর ও গাবুরার মতো এলাকাকে বাঁচাতে হলে জিও ব্যাগ নয়, সিসি ব্লকের তৈরি স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি। একই সাথে যারা জমিজমা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন, তাঁদের খাস জমিতে পুনর্বাসন এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। না হলে মানচিত্র থেকে এই উপকূলীয় ইউনিয়নগুলো একদিন চিরতরে হারিয়ে যাবে।

পরিবেশ সংগঠক পিযুষ বাউলিয়া পিন্টু ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ অঞ্চলের নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতিÑপৌষ-পার্বণ, নৌকা বাইচ, কবিগান এবং বনজীবী সংস্কৃতির ‘বনবিবি পূজা’ কিংবা মনসার ভেলা ভাসানোর মতো লোকজ ঐতিহ্যগুলো আজ আর খুঁজে পাওয়া যায় না। অতীতে বাওয়ালি, মৌয়াল ও জেলেরা সুন্দরবনে যাওয়ার আগে বিপদ-আপদ থেকে বাঁচতে অসাম্প্রদায়িক ‘বনবিবির পূজা’ ও বিশেষ গান গাইত। কিন্তু মানুষ পেশা ও এলাকা পরিবর্তন করায় নতুন প্রজন্মের কাছে এসব ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।

দাতিনাখালী এলাকার ভক্ত মুন্ডা বলেন, “মানুষ যখন পেটের তাগিদে সংক্ষুব্ধ হয়, তখন আর গান-বাজনা বা সংস্কৃতির চর্চা থাকে না। আম্পান আর ইয়াসের পর মানুষ বেঁচে থাকার চিন্তায় এত বেশি মগ্ন যে উৎসব-পার্বণের আনন্দ উবে গেছে। প্রতিবেশীদের মধ্যকার সেই সামাজিক বন্ধন বা অকৃত্রিম সহমর্মিতাও দিন দিন বিলুপ্ত হচ্ছে।

গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী তরুণরা ও অভিবাসনের চিত্র
আইলা ও আম্পানের মতো একের পর এক আঘাত এবং তীব্র লবণাক্ততাই এই অভ্যন্তরীণ স্থায়ী ও অস্থায়ী অভিবাসনের মূল অনুঘটক। আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী ‘রিসার্চগেট’ ও ‘গ্লোবাল এনভারমেন্টাল চেঞ্জ’-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর ও কয়রা অঞ্চল থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পরিবার স্থায়ীভাবে অন্যত্র স্থানান্তরিত হয়েছে। অন্যদিকে, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (ঝজউও) সমীক্ষা বলছে, উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৬২ শতাংশ জমি ক্ষতিকর লবণাক্ততায় আক্রান্ত হওয়ায় সনাতন কৃষি সম্পূর্ণ ব্যহত হয়েছে, যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন ও শহরমুখী অভিবাসনের পথ বেছে নিতে বাধ্য করছে।


স্থায়ী টেকসই বাঁধ ও দীর্ঘমেয়াদী পুনর্বাসনের দাবি
গাবুরা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ ও নদীভাঙনের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা থেকে মানুষের ক্রমাগত শহরমুখী হওয়ার কারণে গ্রামগুলোতে প্রবীণদের অনুপাত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। টেকসই নদীবাঁধ, বিকল্প জীবনজীবিকা এবং পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার অভাবে জলবায়ুঝুঁকিতে থাকা এই জনপদগুলো ধীরে ধীরে ‘প্রবীণদের নিঃসঙ্গ দ্বীপে’ পরিণত হচ্ছে।

গাবুরা ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন স্থানান্তরের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, “গাবুরা থেকে মানুষের ভিটেমাটি ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রধান অনুঘটক হলো জলবায়ু পরিবর্তনÑবিশেষ করে ধারাবাহিক নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র ঘূর্ণিঝড়। পাশাপাশি এলাকায় আয়ের উৎস অত্যন্ত সীমিত। আগে যেখানে ধান চাষের মৌসুমে ২০ জন শ্রমিকের কর্মসংস্থান হতো, সেখানে নোনা পানির মাছ বা চিংড়ি চাষে মাত্র ১ জন শ্রমিক দিয়েই কাজ চলে যায়। ফলে বাকি ১৯ জন মানুষ পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।”

তিনি আরও যুক্ত করেন, “বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারগুলো জীবিকার সন্ধানে সবচেয়ে বেশি স্থানান্তরিত হচ্ছে। সাধারণত তরুণ ছেলে-বউ ও নাতি-নাতনিরা কাজের খোঁজে শহরমুখী হয়, আর বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা গ্রামে একাকী থেকে যান। প্রবীণদের নিজস্ব আয়-রোজগার না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে সন্তানরা তাঁদের বোঝা মনে করে রেখে যায়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাবুরার প্রতি ১০টি পরিবারের মধ্যে প্রায় ২টি পরিবারই এলাকা ছেড়ে স্থানান্তরিত হয়েছেÑযার মধ্যে নদী তীরবর্তী ও দুর্গম মধ্যবর্তী অঞ্চলের মানুষের হার সবচেয়ে বেশি।”

ত্রাণ ও দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের বিষয়ে তিনি বলেন, “দূর্যোগের পর সরকার ও সংস্থার পক্ষ থেকে যেসব ত্রাণ বরাদ্দ আসে, আমরা তা প্রকৃত দুস্থদের মাঝে বণ্টন করি। কিন্তু প্রতিটি দুর্যোগের পর কেবল কিছু ত্রাণ বা সাময়িক সহায়তা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান সম্ভব নয়।

সমাধানে করণীয়
সাতক্ষীরা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক আশেক-ই-এলাহী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল কোনো পরিবেশগত সংকট নয়; এটি স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘন। জলবায়ুজনিত লবণাক্ততা ও দুর্যোগের কারণে এলাকার কর্মক্ষম মানুষ কাজ না পেয়ে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। ফলে গ্রামগুলোতে চাষাবাদের জন্য তরুণ ও কর্মক্ষম মানুষ পাওয়া যাচ্ছে না; যাঁদের পাওয়া যাচ্ছে, তাঁরা মূলত প্রবীণ ও বৃদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, ৬০-৭০ বছরের এই প্রবীণ মানুষ ও নারীদের ওপর পরিবারের দায়িত্বের চাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যাওয়ায় তাঁরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই সংকট মোকাবেলায় আমাদের প্রস্তাব হলোÑকৃষি খাতে তরুণদের ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারিভাবে সহজ শর্তে ঋণ ও উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বড় কথা, আন্তর্জাতিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য যারা দায়ী, তাদের কাছ থেকে যে ক্ষতিপূরণ বা তহবিল আদায় করা হবে; তার প্রধান অংশ এই অঞ্চলের প্রবীণ ও কৃষিবান্ধব সমাজ গঠনে ব্যয় করাই হওয়া উচিত সরকারের প্রধান কাজ।

এ বিষয়ে মনের বন্ধু-র সাইকোসোশ্যাল কাউন্সেলর সোনিয়া আক্তার পুষ্প বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলে বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কর্মক্ষম যুবকরা শহরমুখী হওয়ায় বাড়িতে থাকা নারী ও প্রবীণদের ওপর মারাত্মক মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে। স্বামী বা পরিবারের প্রধান ব্যক্তি দূরে থাকায় নারীদের একাকীত্ব, অনিশ্চয়তা ও হতাশার পাশাপাশি বৃদ্ধ বাবা-মায়েরাও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন।


এই মানসিক সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছেন:
জীবন ও জীবিকার তাগিদে বারবার যেন দূরে চলে যেতে না হয়, সেজন্য স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। নিয়মিত যোগাযোগ ও মানসিক ভরসা দিতে হবে। পরিবারের যে সদস্যটি দূরে অবস্থান করছেন, তার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং মানসিকভাবে সবসময় পাশে থাকার ভরসা দিতে হবে।

দুর্যোগের ধাক্কা সামলে উঠতে কমিউনিটি পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিং ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। এছাড়া মানসিক সমস্যাকে কুসংস্কার বা অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।
সাতক্ষীরার আশাশুনি ও গাবুরার এই ক্ষয়িষ্ণু বাস্তবতা নিছক কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি। আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে প্রকৃত অ-অর্থনৈতিক ক্ষতির ক্ষতিপূরণ আদায় এবং জাতীয় পর্যায়ে স্থায়ী টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে প্রতাপনগরের হাওলাদার বাড়ির মতো শত শত ভিটেমাটি শুধু নোনা জলে তলিয়েই যাবে না, হারিয়ে যাবে একটি জনপদের শতবর্ষী ইতিহাস ও অস্তিত্ব। (দুই পর্বের শেষ পর্ব প্রতিবেদনটি ইন্টারনিউজের আর্থ জার্নালিজম নেটওয়ার্কের ফেলোশিপের অন্তর্ভুক্ত)।