৩০ বছরের বসত হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছরের সাজানো সংসার এখন ধ্বংসস্তূপ। আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানের পর ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে দুটি ভূমিহীন পরিবার। সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবার দুটির কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে ওই এলাকার পরিবেশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া দুই গৃহকর্তা হলেন আলাউদ্দিন ও দলিত সম্প্রদায়ের রমাকান্ত মন্ডল।
উচ্ছেদ হওয়া আলাউদ্দিন জানান, ২৫ বছর আগে এই গ্রামে বিয়ে করার পর থেকে রাস্তার ধারের সরকারি খাস জমিতে ১৫-২০ ফুট গভীর গর্ত ভরাট করে থাকা শুরু করেছিলেন তিনি। এতিম আলাউদ্দিন তিল তিল করে মাটি সংগ্রহ করে সেখানে বসবাসের উপযোগী ঘর ও গাছগাছালি লাগিয়েছিলেন।
আক্ষেপ করে আলাউদ্দিন বলেন, “ভোটের আগে নোটিশ পেয়ে ডিসি অফিসে গিয়েছিলাম। ডিসি সাহেব বলেছিলেন সরকারি জমি হলে তদন্ত করে দেখা হবে, উচ্ছেদ করা হবে না। আমি ডিসিআর (জমির ভাড়া) নেওয়ার আবেদন করলেও অদৃশ্য কারণে তা দেওয়া হয়নি। আজ হঠাৎ পুলিশ নিয়ে এসে ঘর ভেঙে দিয়ে আমাদের বের করে দেওয়া হলো। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব?”
একই পরিস্থিতির শিকার দলিত সম্প্রদায়ের রমাকান্ত মন্ডল। তিনি ও তাঁর স্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে রাস্তার পাশের গর্ত ভরাট করে সেখানে থাকছেন তাঁরা। ভূমিহীন হওয়ায় এই ভিটেটুকুই ছিল তাঁদের শেষ সম্বল। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই তাঁদের উচ্ছেদ করায় এখন তাঁরা সম্পূর্ণ গৃহহীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো তাদের যৎসামান্য আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছে। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়।
সচেতন এলাকাবাসী মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিবার দুটির জন্য বিকল্প মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত আলাউদ্দিন তাঁর পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।









