বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

৩০ বছরের বসত হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ
৩০ বছরের বসত হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে দুই পরিবার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদরের ফিংড়ি ইউনিয়নের ফয়জুল্যাপুর গ্রামে দীর্ঘ ৩০ থেকে ৩৫ বছরের সাজানো সংসার এখন ধ্বংসস্তূপ। আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ অভিযানের পর ভিটেমাটি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে দুটি ভূমিহীন পরিবার। সহায়-সম্বল হারিয়ে পরিবার দুটির কান্নায় ভারি হয়ে উঠেছে ওই এলাকার পরিবেশ।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে উচ্ছেদ হওয়া দুই গৃহকর্তা হলেন আলাউদ্দিন ও দলিত সম্প্রদায়ের রমাকান্ত মন্ডল।
উচ্ছেদ হওয়া আলাউদ্দিন জানান, ২৫ বছর আগে এই গ্রামে বিয়ে করার পর থেকে রাস্তার ধারের সরকারি খাস জমিতে ১৫-২০ ফুট গভীর গর্ত ভরাট করে থাকা শুরু করেছিলেন তিনি। এতিম আলাউদ্দিন তিল তিল করে মাটি সংগ্রহ করে সেখানে বসবাসের উপযোগী ঘর ও গাছগাছালি লাগিয়েছিলেন।
আক্ষেপ করে আলাউদ্দিন বলেন, “ভোটের আগে নোটিশ পেয়ে ডিসি অফিসে গিয়েছিলাম। ডিসি সাহেব বলেছিলেন সরকারি জমি হলে তদন্ত করে দেখা হবে, উচ্ছেদ করা হবে না। আমি ডিসিআর (জমির ভাড়া) নেওয়ার আবেদন করলেও অদৃশ্য কারণে তা দেওয়া হয়নি। আজ হঠাৎ পুলিশ নিয়ে এসে ঘর ভেঙে দিয়ে আমাদের বের করে দেওয়া হলো। এখন স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আমি কোথায় যাব?”
একই পরিস্থিতির শিকার দলিত সম্প্রদায়ের রমাকান্ত মন্ডল। তিনি ও তাঁর স্ত্রী জানান, প্রায় ৪০ বছর ধরে রাস্তার পাশের গর্ত ভরাট করে সেখানে থাকছেন তাঁরা। ভূমিহীন হওয়ায় এই ভিটেটুকুই ছিল তাঁদের শেষ সম্বল। কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করেই তাঁদের উচ্ছেদ করায় এখন তাঁরা সম্পূর্ণ গৃহহীন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলো তাদের যৎসামান্য আসবাবপত্র নিয়ে রাস্তার ধারে বসে আছে। খোলা আকাশের নিচে প্রখর রোদ আর অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়।
সচেতন এলাকাবাসী মানবিক দিক বিবেচনা করে পরিবার দুটির জন্য বিকল্প মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত আলাউদ্দিন তাঁর পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশনা ও আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

Ads small one

মোবাইলে অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ ও বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
মোবাইলে অব্যবহৃত ডাটার মেয়াদ ও বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে সংসদে ক্ষোভ

মোবাইল ইন্টারনেটের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডাটা কেটে নেওয়া এবং সপ্তাহের শেষ দিকে বিমানের টিকিটের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৫তম দিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ পর্যায়ে সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

পয়েন্ট অব অর্ডারে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘গতকাল ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রীর দেওয়া তথ্যে আমরা জেনেছি, চারটি টেলিফোন কোম্পানির কাছে সরকারের ১৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। একটি উন্নয়নশীল দেশে এটি বিশাল অঙ্কের রাজস্ব। গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিটকের কাছে এই টাকা পাওনা।’

জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট আরও একটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘আমরা সাধারণ মানুষ এক মাসের জন্য হয়তো ১০০০ টাকার ইন্টারনেট কিনলাম। কিন্তু মাস শেষে দেখা গেল ৪০০ বা ৫০০ টাকার ইন্টারনেট অব্যবহৃত রয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী মেয়াদ শেষ হলে সেই টাকা বা ডাটা অটোমেটিক্যালি কোম্পানিগুলোর পকেটে চলে যায়। এটা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের অন্যায়। এই টাকা কেন তারা নিয়ে যাবে?’

বিমানের টিকিটের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফারুক বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার যারা যাতায়াত করেন, তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্য দিন যে টিকিটের দাম ২৮০০ বা ৩০০০ টাকা, বৃহস্পতিবার সেটি হয়ে যায় ১০ হাজার টাকা। এই বিষয়গুলো দেখা দরকার।’

জয়নুল আবদিন ফারুকের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিমানের টিকিটের ওপর যে জুলুম চলছে, সে বিষয়ে আমি আগেও নোটিশ দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও সমাধান হয়নি। এটি আলোচনার যোগ্য একটি বিষয়। মানুষের ওপর এই জুলুম বন্ধ হওয়া উচিত।’

মুজিবুর রহমান আরও বলেন, ‘শুধু টেলিফোন কোম্পানি নয়, সাবেক অনেক সংসদ সদস্যের কাছেও টেলিফোন বিল ও বাড়ি ভাড়া বাবদ অনেক টাকা পাওনা রয়েছে। এই জাতীয় সম্পদগুলো উদ্ধারে সংসদকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। কেউ মারা যাওয়ার আগে যেন এই ঋণের বোঝা নিয়ে না যান, সে ব্যবস্থা করা উচিত।’

সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আপনারা জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট যে বিষয়গুলো তুললেন, সেগুলোর জন্য যথাযথ বিধি মেনে নোটিশ দিন। নোটিশ দিলে আমরা অবশ্যই সংসদে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ দেবো।’

 

কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন সাহার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উদ্দীন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌকির আহম্মেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদাউস মোড়ল, কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব এটিএম শরিফুল আজাদ, হাজী তফিল উদ্দীন মহিলা মাদ্রাসার সুপার শেখ শফিউল্লা, সাংবাদিক সুকুমার দাশ বাচ্চু, শেখ সাইফুল বারী প্রমুখ।

 

এ সময় উপজেলা বিভিন্ন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিজিবি প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ, সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ, বাস টার্মিনাল এলাকায় জানযট নিরসনে ব্যবস্থা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

 

কালিগঞ্জে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩৮ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স কমিটির সভা

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে উপজেলা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন টাস্কফোর্স কমিটির সভা উপজেলা প নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বেলা সাড়ে ১১ টায় উপজেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মিলন সাহা।

এ সময় থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শেখ এবাদুল ইসলাম, সাবেক সদস্যসচিব শেখ শফিকুল ইসলাম বাবু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রউফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ওয়াসিম উদ্দীন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শংকর কুমার দে, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তৌকির আহম্মেদ, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা অর্ণা চক্রবর্তী, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাকিল আহম্মেদ, নলতা ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান, বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ধলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান গাজী শওকাত হোসেন, মৌতলা ইউপি চেয়ারম্যান ফেরদাউস মোড়ল, কৃষ্ণনগর ইউপি চেয়ারম্যান সাফিয়া পারভীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ, রোকেয়া মনসুর মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক নিয়াজ কওছার তুহিন, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক আব্দুস সোবহান, সরকারি কালিগঞ্জ পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব এটিএম শরিফুল আজাদ, হাজী তফিল উদ্দীন মহিলা মাদ্রাসার সুপার শেখ শফিউল্লা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

 

সভায় জনাকীর্ণ স্থানে ধুমপান বন্ধ, ধুমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচারণা চালানো, সিগারেটসহ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সন্নিকটে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আকর্ষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।