কালিগঞ্জে পুলিশের পৃথক অভিযানে দু’টি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ২
বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে দেশে তৈরী পিস্তলসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান ও অন্যান্য অফিসার সম্মিলিতভাবে পৃথক অভিযান চালিয়ে উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে ওই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শংকরপুর গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে আনিছুর রহমান (৩৪) এবং কৃষ্ণনগর গ্রামের মোসলেম কাগুচির ছেলে মহাসিন কাগুচি (২৮)।
থানা সূত্রে জানা গেছে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মৃত গহর আলী সরদারের ছেলে আজিবর রহমান (৫৫) এর সাথে পার্শ্ববর্তী শংকরপুর গ্রামের মৃত আবুল বাশারের ছেলে আনিছুর গংদের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছে। বিরোধের সূত্রে গত ২১ জুন বিকেল পৌনে ৬টার দিকে কৃষ্ণনগরের বন্ধন হাসপাতালের সম্মুখে আনিছুর রহমান এবং তার সহযোগীরা পিস্তল ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আজিবর রহমানের উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে চাঁদা দাবি করে।
চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আজিবুর রহমানকে তারা বেধড়ক মারপিট করতে থাকে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এলে আনিছুর রহমান ও তার সহযোগী সন্ত্রাসীরা খুন জখমের হুমকি দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিবর রহমান গত ২২ জুন কালিগঞ্জ থানায় আনিছুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৪ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৬)।
এর পরপরই সহকারী উপ-পরিদর্শক আতিকুর রহমান ও থানার কয়েকজন অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আসামিদের অবস্থান নির্ণয়পূর্বক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে সোমবার দিবাগত রাতে বেনাদোনা এলাকা থেকে একটি দেশীয় পিস্তলসহ মামলার প্রধান আসামি আনিছুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেন। পরবর্তীতে মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে কৃষ্ণনগর শ্মশানঘাট এলাকা থেকে মামলার ৩ নং আসামি মহাসিন কাগুচিকে আরও একটি দেশীয় পিস্তলসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া আনিছুর রহমান ও মহাসিন কাগুচি কালিগঞ্জের কৃষ্ণনগরসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার ত্রাস দুর্র্ধষ ডাকাত ইয়ার ও বাহার আলীর অন্যতম সহযোগী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম দ্রুত বিচার আইন (২০০২) এর ৪/৫ ধারায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই আসামিকে পিস্তলসহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।












