সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

৪৮ বছরে বিএনপি : জনতার প্রত্যাশার রাজপথে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২৮ অপরাহ্ণ
৪৮ বছরে বিএনপি : জনতার প্রত্যাশার রাজপথে

এম. এম হায়দার আলী

ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের আস্থার জন্য রাজনীতি, ৪৮ বছরের পথচলায় বিএনপির সামনে এখন নতুন পরীক্ষার সময়

রাজনীতির ইতিহাসে ৪৮ বছর কোনো ছোট সময় নয়। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে একটি রাজনৈতিক দল টিকে থাকা শুধু সাংগঠনিক শক্তির পরিচয় নয়, এটি সেই দলের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, কর্মীদের ত্যাগ এবং সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতারও প্রতিচ্ছবি। নানা প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক সংঘাত, আন্দোলন-সংগ্রাম, নেতৃত্বের সংকট ও কঠিন সময় পেরিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি আজ ৪৮ বছরে পা দিচ্ছে।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে প্রতিষ্ঠিত বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা তৈরি করে। সেই পথ কখনো মসৃণ ছিল না। রাজনীতির মাঠে যেমন এসেছে সাফল্য, তেমনি এসেছে পরাজয়, এসেছে কঠিন পরীক্ষা।

 

কিন্তু প্রতিটি সংকটের মধ্য দিয়ে দলটির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন প্রজন্ম এবং অসংখ্য মানুষের রাজনৈতিক প্রত্যাশা। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় সবচেয়ে কঠিন সময়েও দলের নেতৃত্ব ধরে রাখার ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা দলটির নেতাকর্মীদের কাছে গভীরভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবরণ, প্রতিকূলতা এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখার কারণে তিনি বিএনপির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের নাম হয়ে আছেন। তারই রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমান বর্তমানে বিএনপির নেতৃত্বে রয়েছেন। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে বিএনপির সামনে এখন নতুন বাস্তবতা। শুধু অতীতের গৌরবের কথা বললেই হবে না—আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে, সেই প্রশ্নেরও সুস্পষ্ট উত্তর দিতে হবে। কারণ জনগণ শুধু রাজনৈতিক স্লোগান শুনতে চায় না; তারা দেখতে চায় বাস্তব পরিবর্তন। আর এখানেই বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। একটি রাজনৈতিক দলের প্রকৃত শক্তি তার কেন্দ্রীয় কার্যালয় কিংবা শীর্ষ নেতৃত্বে নয়—তার আসল শক্তি ছড়িয়ে থাকে গ্রামের মেঠোপথে, ইউনিয়নের চায়ের দোকানে, ওয়ার্ডের অলিগলিতে, উপজেলা-জেলা পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে। দিনের পর দিন যারা মামলা-মোকদ্দমা, নির্যাতন, হয়রানি, আর্থিক সংকট কিংবা রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও সংগঠনের পাশে থেকেছেন, বিএনপির ৪৮ বছরের ইতিহাসে তাদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ত্যাগের ইতিহাস যেমন স্মরণ করতে হয়, তেমনি আত্মসমালোচনার সাহসও থাকতে হয়।
কারণ একটি দল যত বড় হয়, তার দায়িত্বও তত বড় হয়। বিএনপির সামনে তাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—দলটি কি শুধু একটি নির্বাচনী শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে, নাকি একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমুখী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেদের আরও শক্তিশালী করবে?

জনগণের কাছে রাজনীতির সবচেয়ে বড় মাপকাঠি ক্ষমতা নয়, বিশ্বাস। আজ দেশের মানুষ দ্রব্য মূল্যের চাপ থেকে মুক্তি চায়। তরুণরা চায় কর্মসংস্থান। কৃষক চায় তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য। ব্যবসায়ী চায় নিরাপদ পরিবেশ। সাধারণ নাগরিক চায় আইনের শাসন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা।

 

মানুষ চায় দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা। এই প্রত্যাশাগুলোর উত্তর দিতে না পারলে শুধু রাজনৈতিক ইতিহাস কিংবা জনপ্রিয় স্লোগান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব নয়। তাই বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী হোক শুধু উৎসবের দিন নয়,হোক আত্ম বিশ্লেষণের দিন। শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটির উত্তরাধিকার বহন করতে হলে নেতৃত্বকে যেমন দায়িত্বশীল হতে হবে, তেমনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদেরও হতে হবে আরও সংযত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও জনবান্ধব।

 

দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে না পারে, ত্যাগী নেতাকর্মীরা যেন অবহেলিত না হন এবং সংগঠনের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা ও জবাবদিহিতা যেন শক্তিশালী হয়,এ প্রত্যাশা বিএনপির সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও। কারণ রাজনীতি ব্যক্তির জন্য নয়,রাজনীতি মানুষের জন্য। একটি দলের দীর্ঘায়ু নির্ভর করে জনগণের সঙ্গে তার সম্পর্কের ওপর। জনগণ যদি মনে করে কোনো রাজনৈতিক দল তাদের কথা বলছে, তাদের অধিকার রক্ষায় পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম,তবেই সেই দল ইতিহাসের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।

 

৪৮ বছরের পথচলায় বিএনপি অনেক ঝড় দেখেছে। সামনে হয়তো আরও অনেক রাজনৈতিক ঝড় অপেক্ষা করছে। কিন্তু ঝড় যত বড়ই হোক, একটি রাজনৈতিক দলের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হওয়া উচিত জনগণের আস্থা। তাই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর এই দিনে বিএনপির প্রতি প্রত্যাশা একটাই,অতীতের ত্যাগকে সম্মান করে, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে আরও শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে এগিয়ে যাক দলটি। বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, তারেক রহমানের নেতৃত্ব এবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত লাখো নেতাকর্মীর ত্যাগ যেন একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার রাজনৈতিক অঙ্গীকারে পরিণত হয়।

 

৪৮ বছরের পথচলা শেষ নয়,এটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের আরেকটি নতুন অধ্যায়ের শুরু। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি এগিয়ে যাক,গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানুষের অধিকার ও দেশের কল্যাণের পথে। এটাই হোক ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রত্যাশা। একই সাথে বিএনপি’র এই মাহেন্দ্রক্ষণে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে রইল প্রাণঢালা অভিনন্দন, ভালোবাসা এবং শুভকামনা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

 

Ads small one

রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের রুনা খান

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘এশিয়ার নোবেল’ হিসেবে পরিচিত ৬৮তম রামোন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার ২০২৬ পেয়েছেন বাংলাদেশের সামাজিক সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা রুনা খান। ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টায় ফিলিপাইনের ম্যানিলা থেকে রামোন ম্যাগসাইসাই অ্যাওয়ার্ড ফাউন্ডেশন (আরএমএএফ) এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
ম্যানিলার ফাউন্ডেশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ী হিসেবে রুনা খানের নাম ঘোষণা করেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এডগার ও. চুয়া ও প্রেসিডেন্ট সুসানা বি. আফান। প্রান্তিক ও দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
পুরস্কার প্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় রুনা খান জানান, এই স্বীকৃতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, যাঁরা ফ্রেন্ডশিপকে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ দিয়েছেন। সংস্থার কর্মী ও গত ২৫ বছর ধরে পাশে থাকা সহযোগীদের প্রতি তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রুনা খান বাংলাদেশ থেকে এই পুরস্কার পাওয়া ১৪তম ব্যক্তি। এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্যার ফজলে হাসান আবেদসহ একাধিক বিশিষ্ট বাংলাদেশি এই সম্মাননা লাভ করেন। আগামী ১৫ নভেম্বর ফিলিপাইনের ম্যানিল্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে। ২০০২ সালে একটি ভাসমান হাসপাতাল দিয়ে যাত্রা শুরু করা ‘ফ্রেন্ডশিপ’ বর্তমানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জলবায়ু খাতে বছরে প্রায় ৭৫ লাখ মানুষকে সেবা দিচ্ছে।

যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘প্রতিবাদ, প্রত্যয়, বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
জেলা যুব অধিকার পরিষদের আয়োজনে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে শহরের নিউমার্কেট এলাকার দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ে এসে আলোচনা সভায় মিলিত হয়।
জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিবর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. তবিবুর রহমান, সহসভাপতি ঢালী হাফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল শাহাজী, মো. সেলিম রেজা, সাবেক উপজেলা সভাপতি আজমির হোসেন পলাশ, সাইফুল ইসলাম আঙ্গুর এবং ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ নয়ন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো. আল-আমিন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, যুব অধিকার পরিষদ গত ছয় বছর ধরে দেশে বিকাশমান গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। আগামীতেও যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন সংগঠনটির নেতারা। সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

কপিলমুনিতে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
কপিলমুনিতে জুয়েলার্স ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ওসির মতবিনিময়

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি (বিনোদগঞ্জ) স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের সঙ্গে পাইকগাছা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবির এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছেন। ৩১ আগস্ট সোমবার দুপুর ১২টায় সমিতির কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ী কাঞ্চন কুমার পালের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পাইকগাছা থানার ওসি শেখ আব্দুল আউয়াল কবির।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কপিলমুনি সিটি প্রেসক্লাবের সভাপতি এম আজাদ হোসেন, পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোঃ মনিরুল ইসলাম, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ সরকার, সিটি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পলাশ কর্মকার ও এসআই মঞ্জুরুল ইসলাম। সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ব্যবসায়ী বিপ্লব দত্ত, কার্তিক সাধু, প্রদীপ দত্ত ও জগদীশ দে উপস্থিত ছিলেন।