বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় নানা কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরায় নানা কর্মসূচি

পত্রদূত ডেস্ক: আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদ্যাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মসূচির বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১ আগস্ট শনিবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে রচনা প্রতিযোগিতা এবং সকাল সাড়ে ১১টায় একই স্থানে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া বিকেল সাড়ে তিনটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে আবৃত্তি প্রতিযোগিতার।
পরবর্তীতে ৫ আগস্ট বুধবার সকাল ১০টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মূল আলোচনা সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী প্রতিযোগীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে জেলার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সুবিধাজনক সময়ে আলোচনা সভার আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Ads small one

সাতক্ষীরা পৌরসভায় ঠিকাদারের অবহেলায় ঝুঁকিতে সড়ক ও বাসাবাড়ি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:৫২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা পৌরসভায় ঠিকাদারের অবহেলায় ঝুঁকিতে সড়ক ও বাসাবাড়ি

পত্রদুত ডেস্ক: সাতক্ষীরা পৌরসভার ড্রেন ও সড়ক সংস্কারকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম অবহেলায় পথচারীসহ স্থানীয় বাসাবাড়ি ঝুঁকিতে পড়েছে। ড্রেন খননের কারণে বেশ কয়েকটি বাড়ির প্রাচীর, রান্নাঘর ও সীমানা গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথায় বাধ্য হয়ে বাঁশ ও খুঁটি দিয়ে প্রাচীর ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে, আবার যাতায়াতের জন্য বাসিন্দাদের ব্যবহার করতে হচ্ছে বাঁশের সাঁকো।

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, কেএফডব্লিউ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পৌরসভার ৮টি সড়ক ও ৪টি ড্রেন নির্মাণের কাজ পায় ‘বনান্তর ট্রেডিং লিমিটেড (জেভি)’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ৫ মে কার্যাদেশ পাওয়ার পর ২ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাপুকুরপাড় থেকে মানিক ময়রা মোড় এবং কাটিয়া স্কুল থেকে ঝুটিতলা ঈদগাহ পর্যন্ত কাজ শুরু হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শুকনো মৌসুমে কাজ না করে বর্ষাকালে ড্রেন খনন করায় এই চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বৃষ্টিতে মাটি ধসে কাটিয়া সরকারপাড়ার মার্জিয়া বেগমসহ অনেকেরই সীমানা প্রাচীর ও দেয়াল ভেঙে গেছে। এছাড়া ড্রেনে পানি জমে থাকায় শিশুদের সুরক্ষাও হুমকির মুখে পড়েছে।

সাতক্ষীরা পৌরসভার উপপ্রকৌশলী (সিভিল-১) সাগর দেবনাথ  জানান, মাসিক সমন্বয় সভায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীকে তলব করা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে প্রজেক্ট ম্যানেজার আবিদ জমাদ্দার দাবি করেন, মাটির নিচে পানির পাইপ, বিদ্যুতের খুঁটি ও বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। তবে আগামী এক মাসের মধ্যে সব কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভোমরা বন্দর দিয়ে ৮৯০ কোটি টাকার আদা আমদানি, সুফল মিলছে না স্থানীয় বাজারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
ভোমরা বন্দর দিয়ে ৮৯০ কোটি টাকার আদা আমদানি, সুফল মিলছে না স্থানীয় বাজারে

 

এম শফিকুল ইসলাম: সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৮৯০ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৩ হাজার ৬৩৫ মেট্রিক টন আদা আমদানি করা হয়েছে। রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় এই মসলাপণ্যটির স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বাড়াতে এবং দর স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আদা আমাদানির অনুমোদন দেয়।
অনুমোদন পাওয়ার পর থেকেই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত আদা খালাস করে আসছে। তবে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ভোমরা বন্দর দিয়ে খালাস হওয়া আদার বেশিরভাগ চালানই সরাসরি দেশের অন্যান্য বড় জেলায় চলে যাচ্ছে। ফলে সাতক্ষীরার স্থানীয় হাটবাজারে সরবরাহ তেমন বাড়েনি। উল্টো সরবরাহ ঘাটতির অজুহাতে খুচরা বাজারে আদার দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। আর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজির দর ১১৫ থেকে ১২০ টাকা।
পচনশীল পণ্য হওয়ায় বেশি দিন মজুত রাখা সম্ভব হয় না বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। শুকিয়ে যাওয়া বা পচে যাওয়ার আগেই তা বিক্রি করে দিতে হয়। এ কারণে বাজার দর প্রায়ই ওঠানামা করে।
আগের ও বর্তমানের দামের পার্থক্যের কথা জানাতে গিয়ে কাঁচামাল ব্যবসায়ী সুশান্ত সরদার জানান, আগে পাইকারিতে আদা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খুচরা বাজারে ৬০ টাকায় বিক্রি করা যেত। কিন্তু বর্তমানে আমদানির পরও দাম চড়া থাকায় ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় কিনে ১৩০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় বাজারে এই পণ্যটির চড়া দাম নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যেও। ক্রেতা অরবিন্দ সরকার বলেন, বন্দর দিয়ে বিপুল পরিমাণ আদা আমদানি হলেও তার বড় অংশ অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে। এর ফলে স্থানীয় ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়ার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং বাড়তি দামে আদা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জীবনমান উন্নয়নে উত্তরণের সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জীবনমান উন্নয়নে উত্তরণের সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং সরকারি সেবা ও সম্পদ প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক অ্যাডভোকেসি ও তথ্য বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘উত্তরণ’ এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা শহরের বাকাল ১ নম্বর কলোনিতে ‘আরএপি’ বাস্তবায়নের ত্রৈমাসিক হালনাগাদ ও অ্যাডভোকেসি শীর্ষক সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। ‘জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন: সরকারি সম্পদ, সেবা ও নীতি নির্ধারণে অভিগম্যতা বৃদ্ধি’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী নেত্রী ফাতেমা খাতুন।
সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে খুলনা ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পুরো উপকূলীয় এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। দুর্যোগের মুখে পড়া এসব জলবায়ু অভিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি খাসজমি বণ্টন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণ এবং সরকারি নানা সেবা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। একইসঙ্গে নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে তাঁদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ বাড়ানো প্রয়োজন। সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা অফিসের প্রতিনিধি ফাতেমা তুজ জোহরা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সরদার ও মোস্তাফিজুর রহমান রিপন।
সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিরা দৈনন্দিন জীবনের নানা সংকট, বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব ও নাগরিক অধিকার সম্পর্কিত দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। এতে স্থানীয় সিএমআরজি সদস্য, উন্নয়নকর্মী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।