সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি আহতদের স্বজনদের
সংবাদদাতা: গত ৩ জুন অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে জখম দুই বাংলাদেশির মধ্যে মহিউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত শাহীনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর কথা বলা হলেও অর্থাভাবে তাঁর পরিবার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
এদিকে ঠিক কোন সীমান্তে বিএসএফ মহিউদ্দিন ও শাহীনুরের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তা রোববার পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শামীম গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। শামীমের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামে।
শনিবার দুপুরে শীতলপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ৬-৭ বছর আগে থেকে মহিউদ্দিন (৪২) ভারতীয় টুরিস্ট ভিসায় তামিলনাড়ুতে গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে পাঁচ মাস আগে তিনি অবৈধ পথে আবার তামিলনাড়ুতে যান। ঈদে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর ৩ জুন সকালে স্বজনেরা খবর পান, মহিউদ্দিন ও প্রতিবেশী শাহীনুরকে কে বা কারা মাইক্রোবাসে করে নলতা হাসপাতালের পাশে ফেলে রেখে গেছে।
মহিউদ্দিনের ভাই ইশারত আলী জানান, ২ জুন তাঁর ভাই, প্রতিবেশী শাহীন ও শামীমসহ পাঁচজন একসঙ্গে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাবড়া স্টেশনে নামেন। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে রাতে বাংলাদেশ সীমান্তে আসেন। বাংলাদেশে আসার জন্য শামীমই দালাল ঠিক করেছিলেন। গভীর রাতে এক দালাল টাকা নিয়ে তাঁদের পাটক্ষেতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে গুলি ছুড়তে শুরু করে বিএসএফ। এতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হলেও শামীমসহ বাকি তিনজন অক্ষত অবস্থায় চলে আসেন। ইশারত আলীর দাবি, শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই গুলির নেপথ্য কারণ ও নির্দিষ্ট সীমান্তের নাম জানা সম্ভব হতো।
একই গ্রামের শাহীনুরের (২৮) বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি শ্যামনগরের ট্যাংরাখালিতে গেছেন। শাহীনুরের ভাই ফারুক হোসেন মুঠোফোনে জানান, শাহীনুরও এক বছর আগে অবৈধ পথে তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন। শামীম অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেও পুলিশ কেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফারুকের অভিযোগ, শামীমের শ্বশুর কামরুল ইসলাম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান।
শামীমের শাশুড়ি ঝর্ণা খাতুন জানান, বিএসএফ দেখে উল্টো দৌড় দেওয়ায় পাটক্ষেতে পড়ে শামীমের দুই হাঁটু জখম হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় ডাক্তারের কাছে গেছেন। তবে শামীমের শ্বশুর কামরুল ইসলাম দাবি করেন, বিজিবি সদস্যদের মোটরসাইকেলে বহনের সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে সদর উপজেলার কুশখালির নিকটবর্তী কালিয়ানি-ছয়ঘরিয়ার বিপরীতে কৈজুড়ি-বাঁকড়া সীমান্ত দিয়ে তাঁরা দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। সেখানেই বিএসএফ গুলি চালিয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে গত বুধবার সাতক্ষীরা নীলডুমুর-১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাজীব শাহারিয়ার এবং সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান চৌধুরী বিএসএফের গুলিতে দু’জনের জখম হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন।








