রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি আহতদের স্বজনদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি আহতদের স্বজনদের

সংবাদদাতা: গত ৩ জুন অবৈধ পথে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে জখম দুই বাংলাদেশির মধ্যে মহিউদ্দিনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রোববার সকালে ঢাকার জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আহত শাহীনুরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর কথা বলা হলেও অর্থাভাবে তাঁর পরিবার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।
এদিকে ঠিক কোন সীমান্তে বিএসএফ মহিউদ্দিন ও শাহীনুরের ওপর গুলি চালিয়েছিল, তা রোববার পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারেননি তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তবে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাঁদের সঙ্গে থাকা একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে শামীম গত বৃহস্পতিবার বাড়ি ফিরে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁকে এখনো জিজ্ঞাসাবাদ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। শামীমের বাড়ি সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার শীতলপুর গ্রামে।
শনিবার দুপুরে শীতলপুর গ্রামে গিয়ে জানা যায়, অভাবের তাড়নায় ৬-৭ বছর আগে থেকে মহিউদ্দিন (৪২) ভারতীয় টুরিস্ট ভিসায় তামিলনাড়ুতে গিয়ে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টুরিস্ট ভিসা বন্ধ হয়ে গেলে পাঁচ মাস আগে তিনি অবৈধ পথে আবার তামিলনাড়ুতে যান। ঈদে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর ৩ জুন সকালে স্বজনেরা খবর পান, মহিউদ্দিন ও প্রতিবেশী শাহীনুরকে কে বা কারা মাইক্রোবাসে করে নলতা হাসপাতালের পাশে ফেলে রেখে গেছে।
মহিউদ্দিনের ভাই ইশারত আলী জানান, ২ জুন তাঁর ভাই, প্রতিবেশী শাহীন ও শামীমসহ পাঁচজন একসঙ্গে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাবড়া স্টেশনে নামেন। সেখান থেকে টোটো ভাড়া করে রাতে বাংলাদেশ সীমান্তে আসেন। বাংলাদেশে আসার জন্য শামীমই দালাল ঠিক করেছিলেন। গভীর রাতে এক দালাল টাকা নিয়ে তাঁদের পাটক্ষেতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দিলে গুলি ছুড়তে শুরু করে বিএসএফ। এতে দু’জন গুলিবিদ্ধ হলেও শামীমসহ বাকি তিনজন অক্ষত অবস্থায় চলে আসেন। ইশারত আলীর দাবি, শামীমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই গুলির নেপথ্য কারণ ও নির্দিষ্ট সীমান্তের নাম জানা সম্ভব হতো।
একই গ্রামের শাহীনুরের (২৮) বাড়িতে গিয়ে জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী দুই সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি শ্যামনগরের ট্যাংরাখালিতে গেছেন। শাহীনুরের ভাই ফারুক হোসেন মুঠোফোনে জানান, শাহীনুরও এক বছর আগে অবৈধ পথে তামিলনাড়ু গিয়েছিলেন। শামীম অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরলেও পুলিশ কেন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। ফারুকের অভিযোগ, শামীমের শ্বশুর কামরুল ইসলাম ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালান।
শামীমের শাশুড়ি ঝর্ণা খাতুন জানান, বিএসএফ দেখে উল্টো দৌড় দেওয়ায় পাটক্ষেতে পড়ে শামীমের দুই হাঁটু জখম হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তিনি সাতক্ষীরায় ডাক্তারের কাছে গেছেন। তবে শামীমের শ্বশুর কামরুল ইসলাম দাবি করেন, বিজিবি সদস্যদের মোটরসাইকেলে বহনের সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে সদর উপজেলার কুশখালির নিকটবর্তী কালিয়ানি-ছয়ঘরিয়ার বিপরীতে কৈজুড়ি-বাঁকড়া সীমান্ত দিয়ে তাঁরা দেশে ফিরতে চেয়েছিলেন। সেখানেই বিএসএফ গুলি চালিয়ে থাকতে পারে।
এ বিষয়ে গত বুধবার সাতক্ষীরা নীলডুমুর-১৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাজীব শাহারিয়ার এবং সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান চৌধুরী বিএসএফের গুলিতে দু’জনের জখম হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছিলেন।

Ads small one

পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আলোচনা সভা

তালা প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা ও তীব্র তাপদাহের ফলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই ক্ষতি মোকাবিলা এবং অভিযোজনের জন্য উন্নত ও দায়ী দেশগুলোর কাছ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিবছর ৩১০ থেকে ৩৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ আদায় করে তা ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বন্টন করতে হবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে রোববার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার পাইকগাছায় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘প্রকৃতির জন্য অনুপ্রাণিত। জলবায়ুর জন্য। আমাদের ভবিষ্যতের জন্য’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘অ্যাওসেড’ ও ‘পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরাম’ যৌথভাবে এই সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করে।
পাইকগাছা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা ক্লাইমেট জাস্টিস ফোরামের সভাপতি অখিল চন্দ্র ম-ল। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাওসেড-এর হেড অব প্রোগ্রাম শংকর রঞ্জন সরকার এবং মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সংস্থার নলেজ ম্যানেজমেন্টের টিম লিডার মোসালাউদ্দিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যাওসেড-এর উপ-নির্বাহী পরিচালক হেলেনা খাতুন।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য, শ্যামাপদ ম-ল, নুরুন্নাহার পারভীন, শেখ জুলি, সুভাষ চন্দ্র ম-ল, নুর ইসলাম গাজী, মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. বাসুদেব রায় ও মানিক ভদ্র। আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় শহীদ এম. এ. গফুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চারটি ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়।

দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় চুরির সন্দেহে শিশুকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটায় চুরির অপবাদ দিয়ে এক শিশুকে আখ ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে আহত শিশুর বাবা হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুন বেলা তিনটার দিকে দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের ছেলে আব্দুল হাকিম (১৩) পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে সাইফুল ইসলামের (৪৫) দোকানে আখের রস খেতে যায়। হাকিম ২০টাকার রস খেয়ে সাইফুলকে ৫০টাকার একটি নোট দিলে দোকানদার তাকে ৩০টাকা ফেরত দেন। এরপর সাইফুল ক্যাশ টেবিল পাহারা দিতে বলে প্রস্রাব করতে যান। ফিরে এসে তিনি হাকিমের বিরুদ্ধে ক্যাশ টেবিল থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলেন।
শিশু হাকিম নিজের জামা-প্যান্ট তল্লাশি করতে বললে সাইফুল তল্লাশি চালিয়ে ফেরত দেওয়া ৩০ টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা পাননি। এরপরও সাইফুল চোর সন্দেহে হাকিমের বাঁ কানে সজোরে চড় মারেন এবং আখ দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট ও বেদনাদায়ক ফোলা জখম করেন। ঘটনাটি কাউকে বললে আরও মারধর করা হবে বলে হুমকিও দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
গত ৫ জুন সকালে শরীরে প্রচ- ব্যথা অনুভব হলে হাকিম তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানায়। ওই দিন সকাল ১০টার দিকে হাকিমের বাবা হাফিজুল ইসলাম, দাদা আলাউদ্দীন, দাদি রাফিজা খাতুন ও মা সোমা আক্তার সাইফুলের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাইফুল কাঠের বাটাম এবং তাঁর স্ত্রী বানু খাতুন বঁটি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হন। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তাঁরা রাফিজা খাতুনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন এবং পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, লিখিত অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
জেলা যুবদলের শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে সাতক্ষীরায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল। রোববার বিকেলে শহরের মাওয়া চাইনিজ রেস্টুরেন্ট প্রাঙ্গণ থেকে এই শুভেচ্ছা মিছিল বের হয়।
কমিটিতে আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণবঙ্গের আমিনুর রহমান আমিনকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং শাহাজান রনিকে মৎস্য ও পশুপালন বিষয়ক সম্পাদক মনোনীত করায় এই আনন্দ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুকুলের সভাপতিত্বে এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শফিকুল আলম বাবুর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক আলী শাহিন, সদস্যসচিব মাসুম রানা সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন রহমান, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী রাসিউল করিম রোমান ও জেলা যুবদলের সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এস আই আশা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আবু জাহিদ সোহাগ, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ, কালিগঞ্জ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল্লাহ বাহার, যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক এবং আশাশুনি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান আখতার প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সাতক্ষীরায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে জেলা যুবদলে যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বকে সামনে আনা প্রয়োজন। এ সময় জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।