অসহায়ের বন্দী দশা
সুদয় কুমার মন্ডল
প্রকৃতির অপত্য স্নেহে শৈশব কৈশোর যৌবন
স্রোতস্বীনির ন্যায় বিরামহীন গতিতে চলেছে
বর্ধিষ্ণু জীবনের সূচনায় মায়াবী পৃথিবীর
আঁচল ধরে দেখেছি কত স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের রাত্রি।
চন্দ্র খোচিত রাত্রি অপরূপ মনোহর
সূর্যের হাসি মুখ জানায় জাগতিক সম্ভাষণ
নীল আকাশের নিচে চলে জাগতিক উৎসব
ভালো-মন্দ সুখ-দুঃখ সবই বিরাজমান ।
তথাপি গরিয়সী ভুবনে মানুষ স্বার্থপর
স্বভাবজাত প্রাপ্ত মানুষের উত্তরাধিকার
এ তপবন নিছক মায়াবী আবাসন
প্রেম প্রীতি ভালবাসা সবই মরীচিকা।
বার্ধক্য জীবনের শেষ ঠিকানা
চুল দাড়ি সাদা হয় দন্ত পড়ে যায়
বধির কর্ণ চক্ষুদ্বয় দৃষ্টিহীন চরণ যুগল
দেহেরভার বইতে অক্ষম,কত অসহায়ত্ব বরণ
গতিময় সংগ্রামী জীবন ক্ষণিক স্থিতি
জীবন সায়াহ্নে পরাজিত বন্দী সৈনিক
স্রোতহীন নদীসহস্র শৈবালদাম বধে তারে
ক্ষণজীবনের লব্ধ অভিজ্ঞতার ফসল।
ভেঙেছে নদী, ভেঙেছে ঘর
ছিঁড়েছে চাকরির খাতা
তবুও দাঁড়িয়ে একলা মানুষ
জেগে ওঠা চরের মাথা।
নাম নেই তার ইতিহাসে
আছে শুধু আজীবনের ব্যথা
সেই মানুষটাই কিংবদন্তি
যে হার মানেনা কোথা-


