সাতক্ষীরায় ‘সম্পাদক’ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ: কোণঠাসা সরকারি কর্মকর্তারা
পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় কথিত ‘সম্পাদক’ ও নিবন্ধনহীন ভূঁইফোড় অনলাইন পোর্টালের দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে সরকারি অফিসপাড়া। বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। টাকা না দিলে ‘সিরিজ নিউজ’ বা ধারাবাহিক প্রতিবেদনের হুমকি দিয়ে কর্মকর্তাদের ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই চক্রটির চাঁদাবাজির কৌশল বেশ সুসংগঠিত। শুরুতেই তারা টার্গেট করা কর্মকর্তাকে ফোন দিয়ে নিজেকে প্রভাবশালী কোনো পত্রিকার সম্পাদক পরিচয় দেন। এরপর ‘আপনার অফিসে দুর্নীতি চলছে’, ‘সাংবাদিকরা প্রতিবেদন তৈরি করেছে’Ñএমন সব কথা বলে ভীতি প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে ‘অফিস খরচ’ বা ‘বিজ্ঞাপন’ বাবদ বড় অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়।
টাকা দিতে অস্বীকার করলেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও নিবন্ধনহীন অনলাইন পেজে শুরু হয় অপপ্রচার। ‘অমুক কর্মকর্তার দুর্নীতির সংবাদ আসছে, চোখ রাখুন’Ñএমন পোস্ট দিয়ে প্রথমে মানসিক চাপ তৈরি করা হয়। যদি কর্মকর্তা ভয়ে নতিস্বীকার করেন, তবে মুহূর্তেই সেই পোস্ট গায়েব হয়ে যায়। আর দাবি পূরণ না হলে ভুল ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হয়। শুধু তা-ই নয়, হকার দিয়ে ওই সংবাদের কপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ডেস্কেও পৌঁছে দেওয়া হয়।
পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সাবেক এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “শুরুতে অফিস ভাড়ার কথা বলে টাকা চাওয়া হয়েছিল। একবার-দুবার দেওয়ার পর যখন বন্ধ করে দিলাম, তখনই শুরু হলো চরিত্রহনন। আমি নাকি ভারতে বাড়ি করেছি, ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেছিÑএমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ ছাপা হলো। পরে আবার সেই নিউজ মুছে ফেলার নামে টাকা চাওয়া হয়েছে।”
একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন সনাতন ধর্মাবলম্বী এক উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আমি হিন্দু হওয়ায় আমাকে টার্গেট করে বলা হলো কলকাতায় আমার আলিশান বাড়ি আছে। অথচ ভারতে আমার পরিবারের কেউ থাকে না। স্রেফ টাকা না পেয়ে এমন হয়রানি করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগী আরেক বিআরটিএ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “হলুদ সাংবাদিকদের শিকারে পরিণত হয়েছি আমি। দিনরাত ফোন দিয়ে বিরক্ত করা হতো। একবার অতিষ্ঠ হয়ে টাকা দিয়েছি, কিন্তু তাদের দাবি মেটে না। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা না দেওয়ায় দুই পর্বে মিথ্যা খবর ছাপানো হয়েছে।”
গুটিকয়েক ব্যক্তির এই অপেশাদার কর্মকা-ে সাতক্ষীরার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মী ও প্রকৃত সম্পাদকরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। তাদের দীর্ঘদিনের অর্জিত মান-সম্মান আজ প্রশ্নবিদ্ধ। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আড়ালে এই চাঁদাবাজি বন্ধ হওয়া জরুরি।
সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ ও পাঠকরা দাবি জানিয়েছেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় যেন দ্রুত এসকল কথিত সম্পাদক ও অবৈধ অনলাইনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। মহান এই পেশাকে কলঙ্কমুক্ত করতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর দাবি এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।









