সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩

কদম ফুল গাছেই থাকুক: ক্ষণিকের শখ বনাম প্রকৃতির হাহাকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৪:৪৫ অপরাহ্ণ
কদম ফুল গাছেই থাকুক: ক্ষণিকের শখ বনাম প্রকৃতির হাহাকার

‎তারিক ইসলাম

‎টুপটাপ বৃষ্টি আর কদম ফুলের সুবাস-বাঙালির বর্ষা উদযাপনের সমার্থক। আষাঢ়ের আগমনে গাছের ডালে ডালে যখন কদম ফুল ডানা মেলে, তখন মানুষের মন নেচে ওঠে ঠিকই, কিন্তু একই সাথে শুরু হয় এক নির্মম উৎসব। ফুলটি দেখার সাথে সাথেই তা ছিঁড়ে নেওয়ার এক অদ্ভুত ও অন্ধ প্রতিযোগিতা দেখা যায় আমাদের মধ্যে। মানুষের এই কয়েক ঘণ্টার সৌখিনতা যে প্রকৃতির পাখপাখালি আর জীববৈচিত্র্যকে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, সেই হিসাব আমরা ক’জনই বা রাখি?

‎উদ্ভিদ ও প্রাণিবিজ্ঞানীদের গবেষণায় উঠে এসেছে এক চমকপ্রদ তথ্য। কদম গাছ কেবল প্রকৃতির শোভা বর্ধন করে না, এটি আসলে বনের পশুপাখিদের একটি বড় প্রাকৃতিক খাদ্যভান্ডার। বর্ষার এই মরসুমে কদম ফুল ও ফলকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় একটি বিশাল খাদ্যচক্র। কদম ফুলের ভেতরের সুমিষ্ট মধু পানের জন্য ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি, প্রজাপতি আর হরেক রকমের ছোট পাখি। ফুল ফুটন্ত পর্ব পার হলে এটি পরিণত হয় রসালো ও মাংসল ফলে। বর্ষার স্যাঁতসেঁতে, বৈরী আবহাওয়ায় যখন পাখিদের জন্য অন্য খাবার সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে, তখন এই ফলই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান ভরসা। টিয়া, শালিক, বুলবুলি, ঘুঘু থেকে শুরু করে চঞ্চল কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীদের ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টির সবচেয়ে বড় জোগানদার এই কদম ফল।

‎“আমরা অবহেলায় যে ফুলটি ছিঁড়ে ফেলছি, তা আসলে একটি পাখির পুরো মৌসুমের বেঁচে থাকার রসদ।”
‎আজকাল পথে-ঘাটে, রিকশায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ছবির ফ্রেমে কদম ফুল ধরে রাখা একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। আমাদের এই খামখেয়ালিপনা বন্যপ্রাণীদের জন্য তৈরি করছে অস্তিত্বের সংকট। আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, যে ফুলটি মানুষের হাতে আসার পর মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুকিয়ে আবর্জনার স্তূপে জমা হয়, সেটি গাছে থাকলে কত পাখির ক্ষুধা মেটাত?

‎পরিবেশবিদদের মতে, নির্বিচারে ফুল পেড়ে ফেলার কারণে ফুলগুলো আর ফলে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে বনের পাখিরা পড়ছে চরম খাদ্য সংকটে। আর এই তীব্র খাদ্যভাবের কারণেই আজ আমাদের চেনা লোকালয় থেকে চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে অসংখ্য প্রজাতির পাখি।

‎প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এখনই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। শুধু আইনি নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রকৃতির এই ক্ষতি রোখা সম্ভব নয়, এর জন্য প্রয়োজন তীব্র সামাজিক জাগরণ।
‎ফুল না ছেঁড়ার অঙ্গীকার: ‘কদম ফুল গাছেই সুন্দর, তা পাখিদের খাবার’-এই বার্তাটি প্রতিটি মানুষের কাছে, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

‎সামাজিক প্রতিরোধ: পার্ক বা রাস্তার ধারের কদম গাছ থেকে ফুল ছেঁড়া বন্ধে স্থানীয়ভাবে সচেতনতা ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

‎প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের একটি নির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে। কদম ফুল মানুষের ঘরের ফুলদানিতে শুকিয়ে মরার জন্য নয়, বরং গাছের ডালে থেকে বনের পাখিদের জীবন বাঁচানোর জন্য সৃষ্টি হয়েছে। আসুন, প্রকৃতির প্রতি একটু সংবেদনশীল হই; আমাদের খামখেয়ালিপনা বন্ধ করে কদম ফুলকে গাছেই থাকতে দেই, অক্ষুণ্ন রাখি আমাদের চারপাশের জীববৈচিত্র্য।

‎লেখক: সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

কলারোয়ায় স্কাউটস এর নির্বাহী কমিটির সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় স্কাউটস এর নির্বাহী কমিটির সভা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় স্কুল পর্যায়ে স্কাউটস কর্মকা-ে গতিশীলতা ফেরাতে নির্বাহী কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ স্কাউটস কলারোয়া উপজেলা শাখার আয়োজনে নির্বাহী কমিটির এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্কাউটস এর উপজেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার ও স্কাউটস এর কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস, স্কাউটস এর উপজেলা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হরিসাধন ঘোষ, প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, প্রধান শিক্ষক আব্দুল আলিম, প্রধান শিক্ষক হায়দার আলী, প্রধান শিক্ষক শেখ নুরুল্লাহ, প্রধান শিক্ষক আব্দুল মোতালেব, সহকারী শিক্ষক মাওলানা আলমগীর হোসেন, সহকারী শিক্ষক আনারুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান কাকন, সহকারী শিক্ষক স্বপন কুমার চৌধুরী, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক কামরুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আরশাদ আলী, সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক সহকারী শিক্ষক মর্জিনা খাতুন প্রমুখ।

 

সভায় কলারোয়ার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্কাউট দলকে সুসংগঠিত ও অধিকতর কার্যকরী করার লক্ষ্যে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

 

এছাড়া দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একাধিক প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্প পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ স্কাউটস কলারোয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মনিরুজ্জামান।

কেশবপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর অজ্ঞানবস্থায় ভ্যানচালকে উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর অজ্ঞানবস্থায় ভ্যানচালকে উদ্ধার

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর ভ্যানচালক দ্বীন নিখোঁজের ২৪ ঘন্টা পর অজ্ঞানবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার ১৫-০৬-২৬) সকালে যশোরের কেশবপুর-পাজিয়া সড়কের নতুনহাট বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশে অজ্ঞানবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।

বায়সা-নুরপুর গ্রামের ভ্যানচাল দ্বীন ইসলাম দ্বীনুর পরিবার জানান, রোববার সন্ধ্যার পর থেকে তাকে মোবাইলে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে বাড়ি না ফেরাতে তার পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজা খুঁজি শুরু করে। অবশেষে ২৪ ঘন্টা পর তাকে অজ্ঞানবস্থায় পাজিয়া সড়ক থেকে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় উদ্ধার করে তার পরিবার।

 

পরিবারের ধারণা, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা প্যাসেঞ্জার সেজে তার ভ্যানটি ভাড়া করে এবং তাকে অজ্ঞান করে ওই রাস্তার ফাঁকা জায়গায় ফেলে রেখে ভ্যানটি নিয়ে চলে যায় অজ্ঞান পার্টির সদস্য। সম্প্রতি উপজেলাব্যাপি অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে কেশবপুরবাসী।

সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬, ৫:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ জুন) বেলা ১২ টায় সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির আয়োজনে দেবহাটা উপজেলার ঈদগাহ বাজারের কবুতর সমিতির কার্যালয়ে রেসার কবুতর মালিকদের মাঝে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে মোনাজাত আলী গাজীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন, সখিপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মইনুদ্দিন ময়না।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সখিপুর ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির সভাপতি তৈবুর রহমান, সদস্য আলমগীর হোসেন, আব্দুল গফুর, শরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ১৭ জন রেসারের মালিকে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন, সাতক্ষীরা রেসার কবুতর সমিতির উপদেষ্টা ইয়াছিন আরাফাত লিপু।