সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:৪৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠন করা হয়েছে। রবিবার (২১ জুন) পৃথক পৃথক সাধারণ সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সর্বসম্মতিক্রমে এসব কমিটি চূড়ান্ত করা হয়। বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার মানোন্নয়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত কমিটির নেতৃবৃন্দ।
পাটকেলঘাটা বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: পাটকেলঘাটা থানার বড়বিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১২ সদস্যবিশিষ্ট নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সর্বসম্মতিক্রমে মো. আব্দুল আহাদ সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দাশ সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন। রবিবার সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরা জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য শেখ আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: সহ-সভাপতি মো. রুস্তম আলী, দাতা সদস্য গোলাম নবী, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. খলিলুর রহমান ও লিমা খাতুন, শিক্ষক প্রতিনিধি মনোয়ারা খাতুন। অভিভাবক সদস্য হিসেবে আছেন শাহাবুদ্দীন, বিষ্ণু প্রিয়া দাশ, রাজিয়া খাতুন, মো. আব্দুর রশিদ ও আজিবর রহমান।


শহীদ কাজল স্মৃতি পশ্চিম জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের শহীদ কাজল স্মৃতি পশ্চিম জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরী কমিটি গঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় শরিফা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এসএম জুলফিকার আলী-কে সভাপতি এবং সাংবাদিক ও ইউপি সদস্য মো. আবু ছালেককে সহ-সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফা পারভীন কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: দাতা সদস্য নেসার আলী সরদার, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (নারী) লাকি খাতুন, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) এস কে আরিফুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি মিল্টন হোসেন এবং শিক্ষক প্রতিনিধি পম্পা রানী। অভিভাবক সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রিজিয়া খাতুন, রাবেয়া খাতুন, আলমগীর হোসেন ও শামীম হোসেন।

 


ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নতুন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন ডি.বি ইউনাইটেড হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক ও ‘মা’ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মমিনুর রহমান মুকুল। রবিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক মতবিনিময় ও নির্বাচন সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সদস্য সচিব শিরিন সুলতানা।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: সহ-সভাপতি ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হাকিম, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (মহিলা) তাপসী ভঞ্জু, বিদ্যোৎসাহী সদস্য (পুরুষ) সোমনাথ সাহা এবং সদস্য মো. মহাসীন উদ্দিন। এছাড়া শিক্ষক প্রতিনিধিদের মধ্যে রয়েছেন মো. আবুল খায়ের, রেখা খাতুন, হাওয়া খাতুন, বিমল চৌধুরী, প্রকাশ দেবনাথ ও মো. আব্দুর রহিম।

ইটাগাছা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সাতক্ষীরা শহরের ইটাগাছা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ বছর মেয়াদি নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদকে সভাপতি এবং সহ-সভাপতি পদে মো. মোফাজ্জেল হোসেনকে নির্বাচিত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ কামাল উদ্দীন এই কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির অন্যান্য সদস্য: সদস্য হিসেবে আছেন সৈয়দ আসাদুজ্জামান, শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন, আবু সাইদ বিশ্বাস, মো. মামুন রেজা, মোছা. টুমপা খাতুন, আশরাফিয়া খাতুন এবং শিরিনা সুলতানা। শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন হরেন ও রবীন্দ্র নাথ পাল।

 


শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়: সদরের ভোমরা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উক্ত কমিটি গঠন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খবিরন্নেছার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ভোমরা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রহমান, কলেজ শিক্ষক একে আজাদ কানন। কমিটিতে মনোনীতরা হলেন-বিদ্যেৎসাহী মহিলা অভিভাবক সদস্য আসমা খাতুন, বিদ্যেৎসাহী পুরুষ সদস্য একেএম আজাদ কানন, জমিদাতা উত্তরাধীকার সদস্য সাবেক ইউপি সদস্য বজলুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রতিনিধি রাকিবুল বাশার, পুরুষ অভিভাবক সদস্য আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও ইয়াহিয়া আলম, মহিলা অভিভাবক সদস্য লিমা খাতুন ও সুমা রানী সেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সাবেক সুপার মাওলানা নূরুল আমিন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পদোধীকার বলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফতেমা খাতুন সদস্য সচিব। ইউপি সদস্য নেছারুল্ল্যাহ আল মামুন সদস্য ও পল্লীশ্রী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলামসহ মোট ১২সদস্য বিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য মনোনীত হয়। পরে পুরুষ অভিভাবক সদস্য ইয়াহিয়া আলমকে সভাপতি ও পুরুষ বিদ্যেৎসাহী সদস্য একেএম আজাদ কাননকে সহ-সভাপতি মনোনীত করা হয়।

Ads small one

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাজীবন শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, বরং নিজেকে একজন আদর্শ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও সকল ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তারা নবীনদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার, একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, তথ্য ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল রাজিব, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন আফজাল, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, ব্যবসা শিক্ষা সম্পাদক শামীম হোসেন এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মো. আতিক মুজাহিদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এছাড়া সাংগঠনিক পরিচিতি, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অর্থায়নে নির্মিত শ্যামনগরের একমাত্র চিংড়ি পোনা (পিএল) ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার সকালে বংশীপুর বাস্ট্যান্ডে চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ এ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় দুই বছর আগে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে উক্ত স্থাপনা নির্মিত হয়।

সমিতির সভাপতি এম. কে কামরুজ্জামান কচির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাদের গাজী, ফারুক হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিক বাবু, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতির কারনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি খাতের জন্য বংশীপুর চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় হয়, যা স্থানীয় স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। অথচ সওজ কতৃপক্ষ অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মানের স্বার্থে উক্ত স্থাপনার মধ্যভাগ খুঁড়ে ফেলতে চাইছে। যা বাস্তবায়িত হলে শতাধিক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি হাজারও শ্রমিক জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

এমতাবস্থায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনস্বার্থ ও বাস্তবতা উপলব্ধির আহবান জানান বক্তারা। একইসাথে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণের দাবি করেন।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান এর ভাষ্য, উপকুলবর্তী চারটি উপজেলার মানুষ উক্ত স্থাপনা হতে পিএল ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত। প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা লেনদেনের কারনে অর্থনীতিতে তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে- দাবি করে তিনি বিকল্পভাবে সড়কের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্নের কথা জানান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাফিউজ্জামান জানান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হলে এমন সমস্যা তৈরি হতো না। তারপরও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলেখালীতে প্রায় ২৫ একর জমির মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বেসরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়েছে। খাল খনন শেষ না হতেই খাল পূর্বের দখলকারীরা পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

এলাকার কৃষকরা বলেন, মাটির নিচে লবনাক্ত হলেও এই এলাকায় আমন মৌসুমী ফসল উৎপাদন হয়। একটি ফসলের উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের কৃষক কষ্ট করে টিকে আছে। বছরের অন্যান্য সময় শহরের ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট থাকার কারণে কৃষকরা এখানে শুধুমাত্র আমন ধান চাষ করে। জেলেখালির খালে বোরো মৌসুমী খালের ২ থেকে ৩ ফিট পানির থাকে, সেই পানির উপর ভরসা করে দুইটি ফসল করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময়ে পানি সংকট দেখা যায়। ফলে বোরো ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রামের মধ্যে জেলেখালি খালটি প্রবাহিত হয়েছে, যার ২.২ কিঃমিঃ উন্মুক্ত আছে। সেই অংশটি খনন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমী কৃষি ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি উন্মুক্ত রাখারও প্রয়োজন। কিন্তু খালটি ভরাট থাকার কারণে প্রতিবছর জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল ও বীজতলায় বিগত কয়েক বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমী খালে পানি থাকে না, বেশিরভাগ জায়গা পতিত থাকে। এমতাবস্থায় খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলেখালি গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট পেশ করেন।

জনগণের দাবির পক্ষে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠন খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার দাগ নম্বর ২৩৯, ২৮১। জনগনের দাবি, আইনগত মতামতের ভিত্তিতে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা এর অর্থায়নে, সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খালটি খনন উদ্বোধন করেন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম।

খালটি খনন করার পর পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা স্থানীয় মানুষের হুমকি দিয়ে খালের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেন। সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিষয়টি স্থানীয় সুধীমহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরেন। এলাকাবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ বিভিন্ন মহলে খালটি মুক্ত রাখার আবেদন করেন।

এ বিষয়ে খাল দখলকারী ইসহাক আলী পাড়ের নিকট কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করি না, আমার সৃষ্টিকর্তা অনেক কিছু দিয়েছেন। খালমুক্ত থাকলে সবার জন্য ভালো কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানো রয়েছে। খালমুক্ত থাকলে আমিও সাধুবাদ জানাই। আইনের প্রক্রিয়ায় খালটি মুক্ত হলে আমি ১৫ দিন অথবা এক মাসের মধ্যে সব মাছ ধরে নিতে পারব। এই এলাকার হিন্দু মুসলিম আমার ভাই আত্মীয়। সবাই এই খালের সাথে যুক্ত উল্লেখ করে তাদের ক্ষয়ক্ষতি না করে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কোটের নিষেধাজ্ঞা আছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সাথে যাতে সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো বলে তিনি জানান।

খালপাড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয় গায়েন বলেন, এই খালটি আমাদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। খালটি খনন হওয়ায় এলাকার পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এই খালটি খনন করার জন্য খালের দু’পাড়ে কৃষকদের কাছে গণস্বাক্ষর করে নিয়েছে যাতে খালটি উন্মুক্ত থাকে এবং খালের পাড়ে আমাদের জমিতে মাটি রাখতে পারে। খালপাশে কৃষি জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জায়গাতে মাটি ফেলা হয়েছে যেটা আমাদের কৃষকের স্বার্থ ও খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা খননের জন্য একমত হয়েছি ।

কৃষাণী ফুলমতি মিস্ত্রি বলেন, এই খালটি ইজরা বা দখল থাকলে এই খালের একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না স্থানীয় কৃষকরা। আমরা শত শত কৃষক কৃষাণী এখন মাছ ধরছি কিন্তু মাছ ধরার সুযোগ তো দূরে থাক, একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।

জেলেখালির গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে এলাকার কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।