বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

সম্পাদকীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী জনপদগুলো আজ চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ও মানবিক সংকটটি রূপ নিয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাব হিসেবে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুপেয় পানির বর্তমান চিত্র ও এর ভয়াবহতা যেভাবে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভৌগোলিক কারণে এই অঞ্চলে মিষ্টি পানির উৎস এমনিতেই সীমিত, তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততার আগ্রাসন ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির সমস্ত উৎসকে গ্রাস করছে।

উপকূলের এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির সঙ্গে। কিন্তু লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে নদী, খাল ও সাধারণ জলাশয়ের পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু মানুষই নয়, গবাদিপশুও সুপেয় পানির অভাবে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে। নিরাপদ পানির জন্য স্থানীয় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে, তা কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়—এটি একটি জাতীয় সংকট। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক ও সামাজিক সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐতিহ্যগত বা ক্ষণস্থায়ী কোনো সমাধান আর যথেষ্ট নয়। প্রথমত, সরকারি ও প্রাকৃতিক বড় বড় জলাধারগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনঃখনন করতে হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের মিষ্টি পানি দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা যায়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত বহুমুখী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই অঞ্চলের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের সবচেয়ে টেকসই পদ্ধতিটি খুঁজে বের করতে ব্যাপক গবেষণা চালানো।

শ্যামনগরের এই সংকট নিরসনে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সমন্বিত উদ্যোগ এবং অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কালক্ষেপণের আর কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় বিশেষ উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্যামনগরসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

Ads small one

গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধির সম্ভাবনা

একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হলো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদের সড়কগুলোর আধুনিকায়ন কেবল মানুষের যাতায়াতকেই সহজ করে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। সম্প্রতি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়নে যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক খবর।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মতো নানাবিধ প্রতিকূলতা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৮৯ দশমিক ৩৭ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে গত অর্থবছরে কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতি ছিল মাত্র ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ, সেখানে এক বছরের ব্যবধানে এই বিপুল অগ্রগতি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মতৎপরতা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকিরই প্রমাণ দেয়। জেলার প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার শতাধিক সড়ক, যেমন—আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা-প্রতাপনগর, তালার দলুয়া-বুধহাটা, কিংবা শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার-হরিনগর বাজার সড়কগুলোর কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে স্থানীয় লাখ লাখ মানুষ।
পূর্বে যেখানে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুঁড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখার সংস্কৃতি ছিল, সেখানে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুততম সময়ে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করা একটি প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত। এর ফলে শুধু যে জনগণের ভোগান্তি লাঘব হয়েছে তা-ই নয়, বরং কৃষিপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এই উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দরবনাঞ্চলের পর্যটন, মৎস্য শিল্প এবং গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।
তবে এই দৃশ্যমান সফলতার পাশাপাশি কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি। এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে তীব্র জনবল সংকট এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের সরকারি যানবাহনের অভাব নিয়মিত তদারকিকে বিঘিœত করছে। দেশের গ্রামীণ সড়কগুলোর স্থায়িত্ব ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ের এই দাপ্তরিক সীমাবদ্ধতাগুলো দূর করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। একই সঙ্গে, যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কাজে অবহেলা করেছে বা অগ্রগতি দেখাতে পারেনি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
আরেকটি দুঃখজনক বিষয় হলো, অনেক সময় যথাযথ কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই সদ্য সমাপ্ত সড়কের গুণগত মান নিয়ে অহেতুক নেতিবাচক প্রচার চালানো হয়। কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাঁধার নির্দিষ্ট সময় দেওয়ার আগেই অতি-উৎসাহী আচরণ অনেক সময় মাঠপর্যায়ের কাজের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করে। এই ক্ষেত্রে স্থানীয় জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব একান্ত কাম্য।
উন্নয়নের এই ধারাকে টেকসই করতে হলে শুধু রাস্তা নির্মাণ করলেই চলবে না, বরং এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সাতক্ষীরা এলজিইডি সব সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে জেলার গ্রামীণ জনপদের এই উন্নয়নের গতি ধরে রাখবে এবং একটি সমৃদ্ধ, টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি বিনির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

শ্যামনগরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা

সংবাদদাতা: ব্যারাক ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর আয়োজনে ও সিডিও এর ব্যবস্থাপনায় শ্যামনগর উপজেলা বুড়িগোয়ালি ইউনিয়নে ব্যারাক, পানখালী গুচ্ছগ্রাম ও চুনা গুচ্ছগ্রামে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে অংশিজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ জুন দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষেদ এর হল রুমে এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন সিডিও নির্বাহী পরিচালক গাজী আল ইমরান। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রোকৌশলী আব্দুস সামাদ, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লবের সভাপতি সামিউল আজম মনির প্রমুখ। এলাকার সরকার কর্তৃক প্রাপ্ত ঘর ও জমির মালিক গণ ঘর ও জমির দলিল পাইবার দাবিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: ২৪ জুন দুপুর ১টায় শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সরকারি ও বেসরকারি সমমনা সংস্থার সাথে সিসিআরসি ও আরবিএ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশারার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন সিসিডিবি এর উপজেলা কোয়াডিনেটর স্টিভ রায় রুপন। পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন সিসিডিবি এর ম্যানেজার রেজিটিয়েন্স বিল্ডিং সামিউল আলিম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা শামসুজ্জাহান কনক, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি রাশেদ হোসাইন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারিদ বিন শাফিক, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রোকৌশলী আব্দুস সামাদ উপজেলা প্রেসব্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির, রিপোটার্স ইউনিটের সভাপতি ও এনজিও সমন্বয় কারী গাজী আল ইমরান প্রমুখ।