বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রসঙ্গ: উপকূলের পানির সংকটে করণীয়

সম্পাদকীয়

জলবায়ু পরিবর্তনের নানাবিধ অভিঘাতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী জনপদগুলো আজ চরম বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এর মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ও মানবিক সংকটটি রূপ নিয়েছে নিরাপদ সুপেয় পানির অভাব হিসেবে। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এক গোলটেবিল বৈঠকে সুপেয় পানির বর্তমান চিত্র ও এর ভয়াবহতা যেভাবে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভৌগোলিক কারণে এই অঞ্চলে মিষ্টি পানির উৎস এমনিতেই সীমিত, তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে লবণাক্ততার আগ্রাসন ভূগর্ভস্থ ও ভূউপরিস্থ পানির সমস্ত উৎসকে গ্রাস করছে।

উপকূলের এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে প্রকৃতির সঙ্গে। কিন্তু লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে নদী, খাল ও সাধারণ জলাশয়ের পানি পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শুধু মানুষই নয়, গবাদিপশুও সুপেয় পানির অভাবে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে। নিরাপদ পানির জন্য স্থানীয় সব শ্রেণী-পেশার মানুষের মধ্যে যে তীব্র হতাশা বিরাজ করছে, তা কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়—এটি একটি জাতীয় সংকট। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নারীদের খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা তাঁদের শারীরিক ও সামাজিক সুরক্ষাকেও ঝুঁকিতে ফেলছে।

এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঐতিহ্যগত বা ক্ষণস্থায়ী কোনো সমাধান আর যথেষ্ট নয়। প্রথমত, সরকারি ও প্রাকৃতিক বড় বড় জলাধারগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করে পুনঃখনন করতে হবে, যাতে বর্ষা মৌসুমের মিষ্টি পানি দীর্ঘ মেয়াদে ধরে রাখা যায়। দ্বিতীয়ত, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের (রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং) পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রযুক্তিকে আরও সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিজ্ঞানসম্মত বহুমুখী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং এই অঞ্চলের জন্য সুপেয় পানি সরবরাহের সবচেয়ে টেকসই পদ্ধতিটি খুঁজে বের করতে ব্যাপক গবেষণা চালানো।

শ্যামনগরের এই সংকট নিরসনে সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর (এনজিও) সমন্বিত উদ্যোগ এবং অর্থায়ন অত্যন্ত জরুরি। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে কালক্ষেপণের আর কোনো সুযোগ নেই। রাষ্ট্রীয় বিশেষ উন্নয়ন মহাপরিকল্পনার আওতায় এনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শ্যামনগরসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা করা হবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।

 

 

Ads small one

আশাশুনিতে বাড়িতে ঢুকে হামলা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে বাড়িতে ঢুকে হামলা ও নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের বুড়িয়া গ্রামে পূর্বশত্রুতা ও পুকুরের মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে একটি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুড়িয়া গ্রামের মৃত করিম গাজীর মেয়ে শাহানারা খাতুন (৪৮) বাদী হয়ে স্থানীয় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আশাশুনি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে শাহানারা খাতুনের পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় প্রবীর কুমার, কল্যাণী রানী, কিনু ম-ল, আরতি ম-লসহ বিবাদীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে গত ২৩ জুন সকালে শাহানারার পরিবার নিজেদের বাড়ির পুকুর থেকে মাটি কাটার সময় বিবাদীরা বাধা দেয়। এর প্রতিবাদ করায় বিবাদীরা মারমুখী হয়ে উঠলে শাহানারা দৌড়ে ঘরের ভেতর আশ্রয় নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা বারান্দার লোহার গেট ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে শাহানারা খাতুন এবং তাঁর ৯৫ বছর বয়সী ফুফু জামেনা খাতুনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে জখম করে। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয় এবং শাহানারার শ্লীলতাহানি ঘটানো হয়। পরে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা জীবননাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ভুক্তভোগী পরিবারটি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার ও আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে চারা বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে চারা বিতরণ

তালা প্রতিনিধি: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়নের লক্ষ্যে সাতক্ষীরার তালা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। বন বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় গত ২৪ জুন দুপুরে প্রেসক্লাব চত্বরে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তালা প্রেসক্লাবের সদস্য এবং স্থানীয় সাধারণ পথচারীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ চারা বিতরণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও সবুজ পৃথিবী রেখে যেতে গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। এই পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সফল করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তাঁরা।
চারা বিতরণকালে তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, অর্থ সম্পাদক এস এম মোতাহিরুল হক শাহিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আজমল হোসেন জুয়েলসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দ্দার ফারুক, সিনিয়র সহসভাপতি গাজী জাহিদুর রহমানসহ কার্যনির্বাহী ও সাধারণ কমিটির সদস্যরা এই সবুজায়ন কর্মসূচির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।

নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
নিম্ন আয়ের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: নিম্ন আয়ের ও বস্তিবাসী মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাতক্ষীরা পৌরসভার কামালনগর মালেকপাড়ায় একটি ফ্রি স্বাস্থ্যসেবা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত ২৪ জুন বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এবং সাতক্ষীরা এসডি হসপিটালের যৌথ উদ্যোগে এই ক্যাম্প পরিচালিত হয়। কর্মসূচির মিডিয়া পার্টনার ছিল দৈনিক ‘খবরের কাগজ’। ক্যাম্পে নারী ও শিশুসহ শতাধিক রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হয়। রোগীদের চিকিৎসা দেন এসডি হাসপাতালের আরএমও ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. প্রদীপন কুমার।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে গ্রাম থেকে সবকিছু হারিয়ে অনেক মানুষ শহরের বস্তিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে এসব নি¤œ আয়ের মানুষ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, যা তাঁদের জীবন ও জীবিকাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে। চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্রতর হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সুবিধাপ্রাপ্ত বাসিন্দারা জানান, অর্থাভাব ও সচেতনতার অভাবে বিশেষ করে নারীরা রোগাক্রান্ত হলেও চিকিৎসকের কাছে যান না। ঘরের দোরগোড়ায় এমন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাওয়ায় তাঁদের বড় ধরনের উপকার হয়েছে। ক্যাম্পটি পরিচালনায় সহায়তা করেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মুজাহিদুল ইসলাম, যুব সংগঠক জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদ গাজী, রাফিদ রাহী ও মাসুদ হাসান।