রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে ‘ডেউয়া’, হারাচ্ছি খাঁটি পুষ্টি/ ‎তারিক ইসলাম

তারিক ইসলাম

‎জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ়ের কড়া রোদে গ্রামীণ মেঠোপথ ধরে হাঁটলে একসময় যে চেনা সুবাস নাকে আসত, তা এখন অনেকটাই স্মৃতির পাতায়। আম-কাঁঠালের এই মৌসুমে গ্রামীণ জনপদে কচিকাঁচাদের আরও একটি ফলের জন্য উন্মুখ অপেক্ষা থাকত-তা হলো টক-মিষ্টি স্বাদের ‘ডেউয়া’। অঞ্চলভেদে এটি ডেউফল, ঢেউয়া বা বঁড়হর নামেও পরিচিত। রূপ-রঙে বিদেশি ফলের মতো অতটা আকর্ষণীয় না হলেও, এর পুষ্টিগুণ ও ওষুধি ক্ষমতা অনন্য। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, জলবায়ু পরিবর্তন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন আর বিদেশি ফলের আগ্রাসনে আমাদের চিরচেনা এই দেশি ফলটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

‎দেখতে কিছুটা এবড়োথেবড়ো ও অসমান হলেও ডেউয়ার ভেতরের প্রতিটি কোয়া পুষ্টির একেকটি আধার। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডেউয়া ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম এবং পটাশিয়াম। প্রতি ১০০ গ্রাম ডেউয়ায় প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়, যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ কার্যকরী।

‎কেন খাদ্যতালিকায় ডেউয়া রাখা জরুরি?
‎হজম ও লিভারের সুরক্ষায়: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ও যকৃতের (লিভার) কার্যকারিতা বাড়াতে ডেউয়া ঐতিহ্যগতভাবেই অত্যন্ত কার্যকরী।

‎ওজন ও মেদ নিয়ন্ত্রণে: শরীরের অতিরিক্ত মেদ বা চর্বি ঝরাতে (লিপোলাইসিস প্রক্রিয়ায়) ডেউয়ার রস দারুণ উপকারী।

‎রুচি ফেরাতে: দীর্ঘ রোগভোগের পর বা প্রচন্ড গরমে মুখের অরুচি কাটাতে ডেউয়া ভর্তা বা চাটনির জুড়ি নেই।
‎ত্বক ও চুলের যতœ: উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অকালে চুল পাকা রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
‎বিগত কয়েক দশকে দেশের ফল চাষের ধরনে এক বিশাল বাণিজ্যিক রূপান্তর এসেছে। নার্সারি ও চাষিদের বড় অংশই এখন বিদেশি ড্রাগন ফল, মাল্টা, কিংবা রামবুটান চাষে ঝুঁকছেন। অধিক ও দ্রুত মুনাফার আশায় গ্রামীণ ঝোপঝাড় কেটে সাবাড় করা হচ্ছে, যার প্রথম শিকার হচ্ছে ডেউয়া, গাব বা আতার মতো দেশি গাছগুলো।

‎বর্তমানে রাজধানীর কাঁচাবাজার কিংবা সুপারশপগুলোতে থরে থরে সাজানো বিদেশি ফলের ভিড়ে ডেউয়া খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। অথচ আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ (যেমন: জ্যাম, জেলি বা ক্যান্ডি তৈরি) নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও বিপণন হচ্ছে।

‎দেশি ফলের এই বিলুপ্তি কেবল আমাদের খাদ্যতালিকা থেকে একটি নাম মুছে যাওয়া নয়, বরং আমাদের জীববৈচিত্র্য ও লোকজ চিকিৎসার এক অপূরণীয় ক্ষতি। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
‎উন্নত জাতের উদ্ভাবন: বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইঅজও) বা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি ডেউয়ার কলম ও দ্রুত ফলনশীল জাত তৈরি করে কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়, তবে এর বাণিজ্যিক চাষ সম্ভব।

‎ছাদ কৃষিতে অন্তর্ভুক্তি: বর্তমানের জনপ্রিয় ‘ছাদ কৃষি’র তালিকায় ডেউয়াকে অন্তর্ভুক্ত করতে ছাদবাগানিদের সরকারি-বেসরকারিভাবে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

‎তরুণ প্রজন্মে সচেতনতা: নতুন প্রজন্মের কাছে দেশি ফলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘দেশি ফল উৎসব’-এর আয়োজন করা প্রয়োজন।

‎বিদেশি ফলের চাকচিক্যের মোহে পড়ে আমরা যেন আমাদের মাটির খাঁটি পুষ্টিকে ভুলে না যাই। আসুন, বাড়ির পরিত্যক্ত কোণে, ফসলের আইলে বা ছাদবাগানে অন্তত একটি হলেও ডেউয়া গাছের চারা রোপণ করি। আমাদের সুস্থতা আর প্রকৃতির ভারসাম্য-উভয় রক্ষার্থেই দেশি ফলকে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়।
‎‎লেখক: তারিক ইসলাম, ‎সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে দাঁত ভাঙার অভিযোগের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে দাঁত ভাঙার অভিযোগের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে এ হামলার ঘটনার পর রোববার (২৮ জুন) অভিযুক্ত বড় ছেলে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২) অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম তাকে মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যরা আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তিনি ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আফতাবুজ্জামান জানান, তার বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।

এবিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী দারুসসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি মাস্টার মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মেরে একটি দাঁত ভেঙেছে এবং পরবর্তীতে থানায় মামলা হয়। মনিরুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠিয়েছেন।

শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন

পত্রদূত রিপোর্ট: সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে স্বাস্থ্য বিভাগ, সাতক্ষীরার আয়োজনে শহরের লাবসা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ আবদুছ ছালাম।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল মনসুর, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমত জাহান সুমনা,
সদর উপজেলার স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফরহাদ জামিল সহ আরো অনেকে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং সুস্থ স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার মোট ১,৯৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

জেলায় মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭২৩ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৭ হাজার ৯২১ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ২৫,৮০২ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

দেবহাটা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটা বিএনপির নেতৃবৃন্দের হাবিবুল ইসলাম হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাবেক সংসদ সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ, মতবিনিময় এবং ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন।

রবিবার অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে নেতৃত্ব দেন দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক, বর্তমান সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক সভাপতি শেখ সিরাজুল ইসলাম এবং দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপি নেতা আব্দুল হাবিব মন্টু। এ সময় দেবহাটা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। নেতৃবৃন্দ আগামী দিনে দলকে আরও শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, হাবিবুল ইসলাম হাবিবের আন্তরিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জনকল্যাণে নিবেদিত মানসিকতা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও তিনি সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এবং জনসেবামূলক কর্মকান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করে যাবেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নেতৃবৃন্দ হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং দেবহাটা উপজেলা বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।