শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩

কেপ ভার্দের রূপকথা থামিয়ে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কেপ ভার্দের রূপকথা থামিয়ে শিরোপার স্বপ্ন বাঁচালো আর্জেন্টিনা

মেসিদের ভাবনাতেও হয়তো এমন দৃশ্য ছিল না। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সামনে কেপ ভার্দের মতো ছোট্ট একটি দেশ এতটা অদম্য হয়ে দাঁড়াবে, সেটি কল্পনাও করেননি অনেকেই। অথচ বিশ্বকাপের নতুন রূপকথার নায়করা নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে একসময় মেসিদের বিদায়ের দুয়ারে পৌঁছে দিয়েছিল।

কিন্তু চ্যাম্পিয়নদের পরিচয়ই যে আলাদা। প্রতিপক্ষ যতই বাধা হয়ে দাঁড়াক, সংকটের মুহূর্তে তারা খুঁজে নেয় জয়ের পথ। দীর্ঘ সময় কেপ ভার্দের সাহসী লড়াইয়ে চাপে থাকলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতা, ধৈর্য আর তারকাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেছে আর্জেন্টিনা। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয় তুলে নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লিওনেল স্ক্যালোনির দল। আর তাতে কেপ ভার্দের রূপকথা থামিয়ে আরও একবার বেঁচে গেলো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন।

গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচে ড্র, একটিতেও হার নয়। এরপর শেষ ৩২-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত লড়াই করে বিদায়। ফলাফল যাই বলুক, মাথা উঁচু করেই বিশ্বকাপ শেষ করেছে কেপ ভার্দে।

শুধু লড়াই নয়, তাদের ফুটবলও ছিল চোখ জুড়ানো। গোছানো রক্ষণ, আত্মবিশ্বাসী ফুটবল আর সুযোগ না থাকলেও সেখান থেকে আক্রমণ গড়ে তোলার অসাধারণ দক্ষতা। সব মিলিয়ে আর্জেন্টিনাকে একাধিকবার কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছিল আফ্রিকার দলটি। বিশেষ করে অতিরিক্ত সময়ে সিডনি লোপেস কাবরালের দুর্দান্ত বাঁকানো শট থেকে করা গোলটি বিশ্বকাপের সেরা গোলগুলোর আলোচনায় জায়গা করে নিতেই পারে।

এমনই এক ম্যাচ উপহার দিয়েছে তারা যে আর্জেন্টিনার জিততে রীতিমতো ঘাম ঝরাতে হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতার পর অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে সেখানেই শেষ হাসি হেসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় ১১১ মিনিটে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন কেপ ভার্দের দিনেই বোর্হেস। আত্মঘাতী সেই গোলেই জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

এর আগে ২৯ মিনিটে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের লং পাস বক্সে বাঁ পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষক ভোজিনহাকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। সেই গোলের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা আট ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলারও হন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

তবে ৫৯ মিনিটে ডেরয় দুয়ার্তের নিচু শটে সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে। এরপর একাধিকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েও ভোজিনহার দুর্দান্ত গোলকিপিংয়ে সফল হতে পারেনি আর্জেন্টিনা। পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাবে খেলা ৪০ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক মেসির ডান পায়ের শট, ফ্রি-কিক এবং অতিরিক্ত সময়ের আরেকটি সুযোগও রুখে দেন।

ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেখানে শুরুতেই মেসির কর্নার থেকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু ১০৩ মিনিটে সিডনি লোপেস কাবরালের দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে আবারও সমতায় ফেরে কেপ ভার্দে।

টাইব্রেকারের সম্ভাবনা যখন উঁকি দিচ্ছিল, তখনই ১১১ মিনিটে বোর্হেসের আত্মঘাতী গোলে স্বস্তির জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্তে কেপ ভার্দে আরেকটি গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছালেও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করে।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনা এবং ৬৭তম স্থানে থাকা কেপ ভার্দের এই লড়াই পরিসংখ্যানের বিচারে বিশ্বকাপ নকআউট ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হতে পারতো। শেষ পর্যন্ত সেটি এড়িয়েই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে টিকে রইলো লিওনেল স্ক্যালোনির দল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ মিসর।

Ads small one

সাতক্ষীরায় মাদক ও ভারতীয় পণ্য আটক, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাদক ও ভারতীয় পণ্য আটক, গ্রেপ্তার ১

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি কাভার্ড ভ্যানে অভিযান চালিয়ে মাদক, ভারতীয় ওষুধ ও বিড়ি জব্দ করেছে র‌্যাব-৬। এ সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. আব্দুল মজিদ শেখ (৩৬)। র‌্যাব জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় মাদক ও চোরাচালানি পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন।

র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার জায়েন উদ্দিন মোহাম্মদ জিয়াদ বলেন, এ ঘটনায় উদ্ধার করা আলামতসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শ্যামনগর থানায় মামলা করা হয়েছে। পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

সাতক্ষীরার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছায় মাদক কারবারিদের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরার গড়েরকান্দা ও ইটাগাছায় মাদক কারবারিদের ৩ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার আল্টিমেটাম

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় মাদকের নীল দংশন থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে এবার সশরীরে মাঠে নেমেছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মাদক চক্রের দুই হোতাকে তিন দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার চূড়ান্ত সময়সীমা (আল্টিমেটাম) বেঁধে দিয়েছেন তারা।

শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৫ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা সম্মিলিত জামে মসজিদের সামনে এই নজিরবিহীন মাদকবিরোধী বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন শত শত সাধারণ মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দা।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা দুই নারীর নাম উল্লেখ করে বলেন, ঐ দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে গড়েরকান্দা ও ইটাগাছা এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে আসছেন। এই মাদক সিন্ডিকেটের কারণে ধ্বংসের মুখে পড়ছে এলাকার যুবসমাজ, বাড়ছে চুরি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রশাসনের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানানো হলেও কোনো এক অদৃশ্য ইশারায় তারা বরাবরই পার পেয়ে গেছেন। কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সামাজিক প্রতিরোধের ডাক দিতে বাধ্য হয়েছেন এলাকাবাসী। সমাবেশ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, আগামী তিন দিনের মধ্যে সব ধরনের মাদক ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা না ছাড়লে আরও কঠোর সামাজিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিক্ষোভ সমাবেশে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, “”মাদকের বিষাক্ত ছোবল আমাদের সন্তানদের শেষ করে দিচ্ছে। প্রশাসন যখন নির্বিকার, তখন সমাজকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।”

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালেই এলাকায় মাদক কিনতে এসে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক তথাকথিত ‘ভদ্রলোক’। স্থানীয়দের দাবি, সাতক্ষীরা চালতেতলা বাজারের ‘ব্যস্ত ডাক্তার’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি ওই এলাকায় মাদক কিনতে এলে সাধারণ জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনির শিকার হন তিনি। পরে তাকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়।

সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বলেন, গড়েরকান্দা ও ইটাগাছাকে যেকোনো মূল্যে মাদক, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে তারা পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা ভেঙে অবিলম্বে এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানোর দাবি জানান।

অভিযুক্ত নারীদের বাড়িতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, স্থানীয়দের এই আল্টিমেটাম এবং মাদক কিনতে এসে মারধরের শিকার হওয়ার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

 

সোনালী ব্যাংকের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দিল জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সোনালী ব্যাংকের পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা দিল জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন

পত্রদূত ডেস্ক: জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (জেবিএবি) সাতক্ষীরা অঞ্চলের উদ্যোগে সোনালী ব্যাংক পিএলসি ২০২৬ সালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতক্ষীরা শহরের তুফান কনভেনশন হল লেক ভিউ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা প্রিন্সিপাল অফিসের ডিজিএম ইনচার্জ এ কে এম ফারুক ফয়সল। সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী ব্যাংকা’রস এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের সভাপতি ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি প্রিন্সিপাল অফিস সাতক্ষীরার এজিএম শেখ সালাউদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাতক্ষীরা অফিসের এজিএম মো. রবিউল ইসলাম, এসপিও মো. ফরহাদ হুসাইন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি আশুতোষ দাশ, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার আবু সিদ্দিক প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনালী ব্যাংক পিএলসি সাতক্ষীরা কামাননগর শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও জাতীয়তাবাদী ব্যাংকারস এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাধারণ সম্পাদক মো. নাজমুল হোসেন। এসময় জাতীয়তাবাদী ব্যাংকার’স এসোসিয়েশন সাতক্ষীরা অঞ্চলের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, পদোন্নতি শুধু মর্যাদা নয়, এটি দায়িত্বও বাড়িয়ে দেয়। গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের সুনাম আরও সমুন্নত রাখতে সবাইকে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে ২০২৬ সালে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথিবৃন্দ।