বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে নারীসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ জুলাই, ২০২৬, ৫:১০ অপরাহ্ণ
কেশবপুর থানা পুলিশের অভিযানে নারীসহ ওয়ারেন্টভুক্ত ১১ আসামি গ্রেপ্তার

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত ২ নারীসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গত সোমবার (৬ জুলাই) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

থানা সূত্রে জানা গেছে, কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ উপ-পরিদর্শক মোকলেছুর রহমান এর নেতৃত্বে একদল চৌকস অফিসার নিয়ে ৬ জুলাই সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

 

অভিযানকালে আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত আসামি মজিদপুর গ্রামের মৃত আয়ন উদ্দিন শেখ এর ছেলে আদিল উদ্দিন (২৭), মুলগ্রামের মৃত কেরামত সানার ছেলে লিটন হোসেন (২৫), রামকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত আরশাদ আলীর ছেলে মজিবর রহমান (৩০), কন্দর্পপুর গ্রামের কওসার গাজীর ছেলে জাহিদুল ইসলাম মিন্টু (৩৫), মাদারডাঙ্গা গ্রামের আব্দুল কাদের মোড়লের ছেলে আমিনুর রহমান (৩১), সাগরদত্তকাঠি গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আজহারুল ইসলাম (২৫), একই গ্রামের জাহা মোড়লের ছেলে নুর ইসলাম (৩৫), জাহানপুর গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলী খার ছেলে আব্দুল হান্নান খা (৪৫), খোপদহি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মোড়লের ছেলে মিন্টু রহমান (৩০), বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের হযরত আলীর স্ত্রী প্রিয়া আক্তার তমা (২২), পরচক্রা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রী রুপা খাতুন (২৪) কে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোছা: রোকসানা খাতুন বলেন, বিজ্ঞ আদালতের ওয়ারেন্টভূক্ত ২ নারীসহ ১১ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যশোর বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সামান্য বৃষ্টিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জলাবদ্ধতা, বিপাকে শিশু শিক্ষার্থীরা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে বিভিন্নস্থানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। বিশেষ করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা এই জলাবদ্ধতায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মাঠে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের প্যান্ট গুটিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। অনেক সময় বই-খাতাসহ স্কুলব্যাগ পানিতে ভিজে যাচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

সাতক্ষীরার সদর উপজেলার দক্ষিণ দেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্রে জানাগেছে, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চারপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। চলতি বছরও একই পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের টয়লেটে যাওয়ার পথও পানির নিচে তলিয়ে থাকায় শিশুদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা এ প্রতিবেদককে বলেন কয়েক মাস হলো সাতক্ষীরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ ভরাট এবং স্কুলের প্রাচীন এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

বিদ্যালয়ের অভিভাবক আবু সাঈদ বলেন, বর্তমান সরকার শিশুদের শিক্ষা ও খেলাধুলার পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে এই বিদ্যালয়ের শিশুরা স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারছে না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে সন্তানদের বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঠটি ভরাট ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হলে শুধু শিক্ষার পরিবেশই উন্নত হবে না, শিশুদের খেলাধুলার সুযোগও নিশ্চিত হবে। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক জোছনা আরা বলেন, “শিশুদের কষ্ট দেখে আর চুপ করে থাকা সম্ভব হয়নি। তাই জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে আশু সুদৃষ্টি কামনা করেছি।

একই চিত্র দেখা গেছে, শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের ১৪৯ নং শ্রীফলকাটি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহিদুল ইসলাম গত ৮ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে তিনি বিদ্যালয়ের পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ ভরাটের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানান। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের।

 

শ্যামনগরে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপকূলীয় সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে নিজস্ব চত্তরে বুধবার (৮ জুলাই) সকালে বিনামূল্যে আমন ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রনোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ-২ মৌসুমে আমন ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ২ হাজার ৮০০ জন কৃষক ও কৃষাণীর মাঝে মাথাপিছু ৫ কেজি ধানের বীজ ও ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি পটাশ সার বিতরণ করা হয়। বিতরণকৃত আমন ধানের জাতের মধ্যে ছিল ব্রি-৮৭ ,ব্রি-১০৩, বিনা-১৭, বিনা-২৬।

বিনামূল্যে ধানের বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামসুজ্জাহান কনক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম।

 

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোঃ আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা জাময়োতের আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সোলায়মান কবীর, শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি সামিউল আযম মনির, কৃষকবৃন্দ, উপজেলা জামায়াত ও বিএনপি নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ প্রমুখ।

আইএইচআর মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
আইএইচআর মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা

আইএইচআর (২০০৫) মাল্টিসেক্টরাল স্টেকহোল্ডার শীর্ষক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভা আজ (বুধবার) বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুল্লাহ হারুন।

প্রধান অতিথি বলেন, আর্ন্তজাতিক স্বাস্থ্যবিধি ২০০৫ সালের একটি চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও আজ ২১ বছর পর ২০২৬ সালে এসে আমরা এখনো অবহিতকরণ পর্যায়ে আছি যা অত্যন্ত দু:খজনক। করোনা মহামারীর সময়ে এ ধরণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। আমরা অনেক পিছিয়ে আছি, যার অন্যতম কারণ জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে আমরা মনে করি শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিষয়। অথচ মহামারীর পর্যায়ে যেতে পারে এ ধরণের রোগগুলোকে প্রতিরোধ করতে সব পক্ষকেই সচেতন হয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আইনি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আছে কিন্তু বাস্তবায়ন পর্যায়ে অগ্রগতি কম। বিভিন্ন অংশীজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ না হলে আমরা এই আন্ত:সীমান্ত সংক্রামক রোগগুলো মোকাবেলা করতে পারবো না। আবার বিশ^ায়নের যুগে আমরা আইসোলেটেড হয়েও থাকতে পারবো না। তাই সকল ফোকাল পয়েন্ট গুলোকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ সরকার জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং সহযোগিতা করার অঙ্গীকার করেছে। তিনি বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ও তার দলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

সভায় জানানো হয়, যে কোন ধরণের মহামারী প্রতিরোধ করা আর্ন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধির একমাত্র উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যবিধি (আইএইচআর) এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী দেশ। আইএইচআর, ২০০৫ একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যার মাধ্যমে বাংলাদেশসহ ১৯৬টি সদস্য রাষ্ট্র জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং বজায় রাখার অঙ্গীকার করছে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশসহ প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্রের নৌ, স্থল ও বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, ডাক্তার ও সুনির্দিষ্ট হাসপাতাল থাকা বাধ্যতামূলক। যেকোন কেস সনাক্ত হওয়ার দুই ঘন্টার মধ্যে ফোকাল পয়েন্টে অবহিত করতে হবে। এক্ষেত্রে জনস্বাস্থ্য, সীমান্তরক্ষা, নিরাপত্তা ও খাদ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের তৎপরতা এবং ঝুঁকি মোকাবেলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

 

অ্যাডভোকেসি সভায় বিজিবি খুলনা সেক্টরের পরিচালক লে. কর্নেল অনুপ কুমার বিশ^াস, অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি শেখ জয়নুদ্দীন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডা. আশনাফুন্নাহার, খুলনা পরিবার পরিকল্পনা দপ্তরের পরিচালক মো: মোজাম্মেল হক, আনসার ও ভিডিপির উপপরিচালক এএসএম আজিম উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন খুলনা স্বাস্থ্য দপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. অপর্ণা বিশ^াস। সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার কারিগরি কর্মকর্তা ডা. ইনিন ইসিবোর।

অ্যাডভোকেসি সভায় বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও এনজিও প্রতিনিধিরা অংশ নেন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় ডিজিএইচএস অ্যাডভোকেসি সভার আয়োজন করে। তথ্যবিবরণী