জাহাজমারী খালপাড়ে ইউএনও আরিফুল ইসলামের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
পত্রদূত রিপোর্ট: পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং খালপাড়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার জাহাজমারী খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ৫০টি কদবেল ও ৫০টি জামের চারা রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া গাছের সুরক্ষা ও পরিচর্যার জন্য ২০০টি বাঁশের চটা, ১৬০ কেজি জৈব সার এবং ব্লু নেট বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলার যুগীখালী ইউনিয়নের জাহাজমারী খালপাড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রাজকীয় নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থায়নে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া এবং এর সহযোগী সংস্থা উত্তরণ জাহাজমারী খালের পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। খালটির দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে স্থানীয়দের নিয়ে গঠন করা হয়েছে জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি। সেই ধারাবাহিকতায় কলারোয়া উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের হাতে কদবেল ও জামের চারা আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। পরে তিনি নিজ হাতে খালপাড়ে একটি কদবেল গাছের চারা রোপণ করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, একটি খালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে শুধু খননই নয়, এর চারপাশের পরিবেশ সংরক্ষণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় ফলদ বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির ক্ষয়রোধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণে খাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং স্থানীয় জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগীখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মনোয়ারা খাতুন ও মো. বিল্লাল হোসেন, জাহাজমারী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, সহ-সভাপতি, সম্পাদক, ক্যাশিয়ার, সাধারণ সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার গোলাম মশিউর রহমান, উত্তরণের ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার মো. মাজহারুল ইসলাম, ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আয়োজকরা জানান, জাহাজমারী খাল পুনরুদ্ধারের পর এর পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখা, খালপাড়ে সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে খাল সংরক্ষণের লক্ষ্যেই এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাদের আশা, রোপণ করা কদবেল ও জামের গাছ ভবিষ্যতে খালপাড়কে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে এবং জলবায়ু সহনশীল একটি টেকসই জনপদ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





