জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পাইকগাছার হুসাইন
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: পড়াশোনা শেষ করে এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যখন দরিদ্র পরিবারের হাল ধরার কথা, ঠিক তখনই নিয়তির এক নিষ্ঠুর পরিহাসে হাসপাতালের সাদা চাদরে ঢাকা পড়েছে এক সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণ। খুলনা জেলার পাইকগাছার গদাইপুর ইউনিয়নের এক প্রদীপ্ত কৃতিসন্তান হুসাইন আহমেদ। যার চোখের তারায় ছিল আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন, আর আজ সেখানে কেবলই বেঁচে থাকার আকুল আকুতি নিয়ে হাসপাতালের করিডোরে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
বর্তমানে হুসাইন ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোরে অবস্থিত ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হুসাইন যক্ষ্মা (টিবি) রোগের অত্যন্ত জটিল ও শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে। তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল উন্নত চিকিৎসা।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের এই মেধাবী শিক্ষার্থী এবং উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮ ব্যাচের প্রাক্তন ছাত্রের জীবন প্রদীপ আজ এক মরণব্যাধির থাবায় নিভু নিভু। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হুসাইন বর্তমানে টিবি রোগের শেষ পর্যায়ে ছটফট করছেন। দিন দিন তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটছে এবং তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজন জরুরি ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদী ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা।
হুসাইন শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীই নয়, সে তার পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি এবং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। নি¤œ মধ্যবিত্ত এই পরিবারের পক্ষে এত দিন চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হলেও, এখন তারা সম্পূর্ণ নিঃস্ব। চিকিৎসার পেছনে ইতোমধ্যেই পরিবারের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার যে বিপুল খরচ, তা বহন করার মতো সামর্থ্য এই অসহায় পরিবারের নেই। টাকার অভাবে চোখের সামনে একটি তরতাজা প্রাণ ঝরে যাবে, তা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তার সহপাঠী ও স্বজনরা।
হুসাইনের এই চরম বিপদে ঘরে বসে থাকতে পারেনি তার বন্ধুরা। তাকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয়ভাবে ফান্ড সংগ্রহের পাশাপাশি গণ-ফান্ডিংয়ের উদ্যোগ নিয়েছে তার সহপাঠীরা।
ভোলানাথ সুখদা সুন্দরী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০১৮ ব্যাচের পক্ষে সাকিবুল হাসান আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “হুসাইন আমাদের ভাই, আমাদের বন্ধু। ওর চোখের ভেতরের বাঁচার আকুতি আমরা সইতে পারছি না। আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করছি, কিন্তু চিকিৎসার মোটা খরচের সামনে তা খুবই সামান্য। সমাজের বিত্তবান ও সাধারণ মানুষের একটুখানি সহানুভূতিই পারে আমাদের ভাইকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিতে। দয়া করে সবাই ওর পাশে দাঁড়ান।”
একটি সম্ভাবনাময় তরুণ প্রাণকে অকালে ঝরে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে এবং একটি অসহায় পরিবারকে আলোর মুখ দেখাতে আপনার সামান্যতম ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিন। হুসাইনের জরুরি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতে পারেন সরাসরি তাঁর সহপাঠীদের দেওয়া এই বিকাশ বা নগদ ব্যক্তিগত নম্বরে-০১৯২৬৮১৮০৬১।
প্রকৃতির নিয়মে যেমন অজগ্র ছোট ছোট বালু কণা পরম মমতায় জমে একটি বিশাল দ্বীপের ভিত্তি গড়ে তোলে, তেমনি আপনার একান্ত ব্যক্তিগত এই ক্ষুদ্র সহায়তা বা সামান্য অনুদানও হতে পারে হুসাইনের জন্য এক নতুন জীবনের স্বপ্নবীজ।









