মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬, ৬:০১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় স্থানীয় পর্যায়ে সিএসও নেটওয়ার্ক, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের অংশগ্রহণে নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) ও অর্জন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ইউএনও ওমেনের সহযোগিতায় সোমবার সকাল ১০ টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে উক্ত কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অর্জন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মহুয়া মঞ্জুরী। পাওয়ার পয়েন্টে প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বিএনপিএসের উপ-পরিচালক নাসরিন বেগম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগাম অফিসার ফাতেমা জোহরা।

কর্মশালায় নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ক স্থানীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও বাস্তবায়নে কৌশল নির্ধারণ, প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা, সিডো সনদ, ইউএনএইচসিআর, স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। স্থানীয় কণ্ঠস্বর, বৈশ্বিক অধিকার, ইউএনএইচসিআর এবং সিএসও অ্যাকশন বিষয়ে জাতীয় এ্যাকশন প্লানের তিনটি প্রধান স্তম্ভ প্রতিরোধ, অংশগ্রহণ, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক আলোচনা করা হয়।

কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন, পৌর কাউন্সিলর শফিক দৌলা সাগর, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান, সাংবাদিক ও কোস্টাল পিপলস ফোরামের (সিপিএফ) ফারুক রহমান, বিএনপিএসের সহকারী প্রকল্প সমন্বয়কারী সেঁজুতি ধর, প্রাক্তন অধ্যাপক পবিত্র মোহন দাস, সদর থানার এসআই মমতাজ বেগম, নারী নেত্রী ও সাবেক কাউন্সিলার ফরিদা আক্তার বিউটি প্রমুখ।
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মায়া’র কিশোরী উদ্যোক্তাকর্মী তাজকিয়া তাবাচ্ছুম, রফিকুল ইসলাম, ওসিসির আবদুল হাই সিদ্দিকী, মানবাধিকারকর্মী সাকিবুর রহমান বাবলা, অধিকারকর্মী স ম তুহিন, কামরুন্নাহার রেখা প্রমুখ।

 

 

 

 

 

 

Ads small one

তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৫:০১ অপরাহ্ণ
তালা বাজার বণিক সমিতির সংবাদ সম্মেলন, সন্ত্রাসী হামলা ও হত্যার হুমকির অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: তালা বাজারকে অশান্ত করার ষড়যন্ত্র, সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা এবং কথিত আন্ডারগ্রাউন্ড মাফিয়া চক্রের তৎপরতার অভিযোগ তুলে তালা বাজার বণিক সমিতির উদ্যোগে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তালা ডাকবাংলো হলরুমে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তালা বাজার বণিক সমিতির কোষাধ্যক্ষ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন শাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সাগর তার সিডিআই মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য মেলা বাজার পাম্পসংলগ্ন ফাহিমের গ্যারেজে জমা দেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আনার আশ্বাস দেওয়ার পর ফাহিম দাবি করেন, মোটরসাইকেলটি চুরি হয়ে গেছে। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, ফাহিম নিজেই মোটরসাইকেলটি চুরি করে ভাঙারি ব্যবসায়ী আব্দুল মাজেদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বণিক সমিতি একাধিকবার সালিশের উদ্যোগ নিলেও ফাহিম উপস্থিত হননি বলে দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, গত ১৯ জুলাই বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুন ফাহিমের গ্যারেজে গিয়ে অভিযোগকারী সাগরের উপস্থিতিতে তার বক্তব্য গ্রহণ করেন। এ সময় ফাহিমের বাবা, খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আব্দুল জলিল উপস্থিত থেকে বিষয়টির সিদ্ধান্ত বণিক সমিতির ওপর ছেড়ে দেন বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ করা হয়, একপর্যায়ে সভাপতি ও কার্যনির্বাহী সদস্য সাময়িকভাবে ঘটনাস্থল থেকে সরে গেলে কয়েকজন বহিরাগত যুবক সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে একজন অস্ত্র প্রদর্শন করে নিজেকে “খুলনার গ্রেনেড বাবু” পরিচয় দিয়ে কোষাধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ আল মামুনকে হত্যার হুমকি দেয়। এ সময় ফাহিম একটি ভারী সাইলেন্সার রেঞ্চ দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পাশে থাকা মামুন হাওলাদার নামে একজন আহত হন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল ফেলে অন্য মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা গুলি করে হত্যার হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, পুলিশি তদন্ত ও স্থানীয় জনতার সহায়তায় ফাহিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে “গ্রেনেড বাবু” পরিচয়দানকারী ব্যক্তি খুলনা অঞ্চলের কথিত মাফিয়া “গ্রেনেড বাবু”র সহযোগী “কালা তুহিন” বলে জানতে পেরেছেন বলে দাবি করেন বক্তারা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৪০টিরও বেশি মামলা রয়েছে এবং তিনি ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে খলিলনগর ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল জলিলের আশ্রয়ে থেকে মাদক ও চোরাচালান কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বণিক সমিতির পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো: ফাহিমকে রিমান্ডে নিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন, ইউপি সদস্য আব্দুল জলিলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার এবং কালা তুহিন ও তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তালা বাজারের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বণিক সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি তালা বাজার ও আশপাশের এলাকায় বাইরের বিভিন্ন সন্ত্রাসী চক্রের সদস্যরা অবস্থান নিয়ে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব কর্মকান্ড রোধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তালা বাজার বণিক সমিতির সভাপতি এস এম নুরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক স, ম ইয়াছিন উল্লাহ,বণিক সমিতির নেতা ফারুক হোসেন, মেহেদী হাসান, আলমগীর হোসেন, হারুনসহ সমিতির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

সাতক্ষীরায় জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জামায়াতের সংসদ সদস্যের ভিডিও নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

Oplus_131072

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের একটি ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছে। গত সোমবার রাতে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নানা আলোচনার সুত্রপাত হয়।

ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কখনো তিনি ফোনে কথা বলছেন, আবার কখনো তাকে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর সাতক্ষীরা জেলা থেকে পরিচালনাধীন ‘ক্রাইম বার্তা’ দাবি করে, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা একটি ভুয়া দৃশ্য। তবে ফ্যাক্ট-চেকিং বা তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল লেন্স’ অনুসন্ধানের পর জানায়, ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো নয়, এটি আসল। সিসিটিভি ফুটেজের সময় উল্লেখ (টাইমস্ট্যাম্প) অনুযায়ী ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হলেও এটি কোন স্থানের, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওর বিষয়ে কথা বলতে সংসদ সদস্যের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান জানান, এমপি তাকে অবহিত করেছেন যে ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। বিয়ে কবে হয়েছে-জানতে চাইলে জামায়াতের এই নেতা জানান, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও বিয়েটি বেশ কিছুদিন আগেই সম্পন্ন হয়েছে।

তবে ঘটনার মোড় অন্যদিকে ঘোরে যখন দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ভিডিওতে আলোচিত মরিয়ম খাতুনের একটি জীবনবৃত্তান্ত (বায়োডাটা) সামনে আসে। গত ২২ জুন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সেই জীবনবৃত্তান্তে জোর সুপারিশ করে নিজের স্বাক্ষর প্রদান করেন। জীবনবৃত্তান্তে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম খাতুন ২০০৮ সালের ২২ মে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০২৬ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নেন। পরিবারের ঠিকানা ও শিক্ষাগত যোগ্যতার বিস্তারিত বিবরণের পাশে তার বৈবাহিক অবস্থার ঘরে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, তিনি ‘অবিবাহিত’।

এদিকে বিতর্কের মুখেই ২১ জুলাই নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি দিয়ে ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

লিখিত বিবৃতিতে গাজী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ঘটনাটি গত ১৩ জুলাইয়ের এবং এর পেছনে তার নিজস্ব গাড়িচালকের সুপরিকল্পিত ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির নীল নকশা রয়েছে।

বিবৃতিতে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথমা স্ত্রী মোসাম্মৎ মাকছুদা বেগম, দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম বেগম এবং গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে মগবাজারে অবস্থিত দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা আনুমানিক সোয়া এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। অবস্থানকালে গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ সুকৌশলে ৬ থেকে ৭ জন অপরিচিত ব্যক্তিকে ওই কার্যালয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ওই অপরিচিত ব্যক্তিরা কক্ষে ঢুকে তার ও পরিবারের সদস্যদের পরিচয় জানতে চেয়ে চরম হেনস্তা করে। একপর্যায়ে তাদের কার্যালয়ের নিচে একটি চায়ের দোকানে নিয়ে গিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। সে সময় তাৎক্ষণিকভাবে কিছু টাকা প্রদান করার পরই তারা সেখান থেকে রেহাই পান।

ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতিতে গাজী নজরুল ইসলাম জানতে পারেন যে, এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন তার গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ, যিনি সম্পর্কে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা।

সংসদ সদস্য জানান, তার শ্বশুর মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে ওবায়দুল্লাহর দুলাভাইয়ের পারিবারিক পূর্বশত্রুতা ছিল। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওবায়দুল্লাহ তার কাছে ৫ লাখ টাকা এবং মাসুম বিল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হলে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং পরিবারের ক্ষতি করার সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে দাবিকৃত টাকা না পেয়ে চালক ওবায়দুল্লাহ অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ব্যবহার করে একটি বিভ্রান্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন বলে সংসদ সদস্য দাবি করেন। একে নিজের ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র এবং ‘চরিত্র হননের অপচেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

এই ধরনের হীন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে গাজী নজরুল ইসলাম বলেন, পুরো বিষয়টি একটি সাজানো ঘটনা। এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা চালক ওবায়দুল্লাহসহ জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

 

কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
কার্পেটিং শক্ত হতে প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন; তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক নির্মাণে ব্যবহৃত বিটুমিনের কাঁচা কার্পেটিং শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এই সময় দেওয়ার আগেই কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রোধ করতে হবে, অন্যথায় সড়কের স্থায়িত্ব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়।

সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি এবং নিম্নমানের সামগ্রীর ব্যবহার বন্ধ করার মাধ্যমেই হাত দিয়ে কার্পেটিংয়ের আস্তরণ তুলে ফেলার প্রবণতা স্থায়ীভাবে রুখতে হবে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক সংস্কারের পরপরই স্থানীয়দের হাত দিয়ে কার্পেটিং তুলে ফেলার ঘটনা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। এটি মূলত ঠিকাদারদের অনিয়ম এবং কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই হাত দিয়ে টেনে তোলা সম্পূর্ণ নিষেধ। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা টেনে তোলা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যেন তাৎক্ষণিকভাবে রাস্তা নষ্ট করার এই প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কার্পেটিং শক্ত হওয়ার প্রকৌশলগত ধাপগুলো হলো। বিটুমিন ও পাথরের মিশ্রণটি প্রায় ১৪০ ডিগ্রি থেকে ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস উচ্চ তাপমাত্রায় প্রয়োগ করা হয়। রোলার দিয়ে কমপ্যাকশন করার পর, রাস্তাটির ভেতরের আর্দ্রতা শুকিয়ে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে এবং পাথরগুলো নিখুঁতভাবে লক হতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। রাস্তাটি পুরোপুরি স্থায়ী রূপ নিতে ও ট্রাফিকের চাপ নেওয়ার উপযোগী হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। প্রকৌশলগত এই সময়ের আগে যদি রাস্তাটিতে যানবাহন চলাচল শুরু করে বা কেউ কাঁচা কার্পেটিং খুঁচিয়ে বা হাত দিয়ে টেনে তুলে ফেলার চেষ্টা করে, এতে রাস্তার স্থায়ীত্ব নষ্ট করে দেয়।

কার্পেটিং বা বিটুমিনাস সারফেসিং শক্ত হতে এবং টেকসই রূপ নিতে প্রকৌশলগত প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষের পরপরই ভারী যানবাহন চলাচলের আগে বিটুমিনকে পুরোপুরি সেট হওয়ার জন্য এবং নিচের স্তরের সাথে স্থায়ী বন্ডিং তৈরি করার সময় দিতে হয়।

সড়ক সংস্কারের পর হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলার প্রবণতা মূলত দুটি বড় কারণে ঘটে থাকে। ঠিকাদারি দুর্নীতি এবং প্রযুক্তিগত অজ্ঞতা। নিম্নমানের বিটুমিন ও ইটের খোয়া ব্যবহার এবং কার্পেটিংয়ের নির্ধারিত পুরুত্ব বজায় না রাখলে এই সমস্যা দেখা দেয়। কার্পেটিং করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাইম কোট ও ট্যাক কোট বা বিটুমিন ছিটানো যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে হয়।

 

মূল খোয়া বা পাথরের ওপর জমে থাকা কাদা ও ধুলার আস্তরণ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে তবেই পিচ ঢালাই করতে হবে। অন্যথায় নতুন আস্তরণ স্থায়ী হয় না। চুক্তি অনুযায়ী কার্পেটিংয়ের জন্য নির্ধারিত পুরুত্ব যেমন ২৫ বা ৪০ মিলিমিটার কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। পোড়া মাটির খোয়া, রাবিশ বা নিম্নমানের ইটের পরিবর্তে উচ্চমানের পাথর ও সঠিক গ্রেডের বিটুমিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রকৌশলীদের কাজের প্রতিটি ধাপে সশরীরে উপস্থিত থেকে তদারকি করতে হবে। কার্পেটিং যেন নির্ধারিত পুরুত্বের হয় এবং সেখানে সঠিক অনুপাতে বিটুমিন ও পাথর ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কার্পেটিং শুরুর আগে রাস্তার বেস বা ইটের খোয়ার ওপর জমে থাকা ময়লা এবং কাদার আস্তরণ অবশ্যই ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে।

কোনো স্থানে নিম্নমানের কাজের প্রমাণ মিললে সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং বিল আটকে দেওয়া উচিত। অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত বাজেয়াপ্ত, লাইসেন্স বাতিল এবং আইনগত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ল্যাব টেস্টে কাজের মান উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ঠিকাদারদের চূড়ান্ত বিল প্রদান বন্ধ রাখতে হবে।

সড়ক নির্মাণ একটি অতি-প্রয়োজনীয় প্রকৌশলগত প্রক্রিয়া। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পর তা শক্ত হতে এবং স্থায়ী বন্ধন তৈরি করতে নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন। সম্প্রতি কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে তা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ। কার্পেটিং শেষ হওয়ার পরপরই তা নরম থাকে। এই অবস্থায় হাত দিয়ে টেনে তোলা হলো একটি নবজাতক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা। কার্পেটিং তুলা মানে কাজের গুণগত মান নয়, বরং সময়ের আগেই তার ওপর যান্ত্রিক বল প্রয়োগের ফল। রাস্তায় কার্পেটিং করার পর রোলার দিয়ে করা হয়। রোলার দেওয়ার সাথে সাথেই রাস্তাটি তার পূর্ণ শক্তি অর্জন করে না। বিটুমিনাস লেয়ারটি যখন তার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে, তখনই তা টেকসই রূপ নেয়। কাজ চলাকালীন বা কাজ শেষ হওয়ার পরপরই রাস্তার কার্পেটিং খুঁচিয়ে তুলে ফেলা মানে হলো রাস্তার ইন্টারলকিং সিস্টেম ধ্বংস করা।

নতুন পাকা সড়কের কার্পেটিং স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে কাঁচা কার্পেটিং তুলে ফেলার প্রবণতা রুখতে হবে। রাস্তা শক্ত হওয়ার জন্য প্রকৌশলগত নির্দিষ্ট সময় বা কিউরিং পিরিয়ড প্রয়োজন হয়। পাকা করার পরপরই ভারী যানবাহন চললে বা কার্পেটিং তুলে ফেলা হলে রাস্তাটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। কাঁচা কার্পেটিং হাত বা অন্য কোনোভাবে টেনে তোলা মানে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করা এবং নষ্ট করা। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলার প্রবণতা সম্পূর্ণ কারিগরি জ্ঞানশূন্য কাজ ও নির্মাণ বিধির পরিপন্থী।

কার্পেটিং এর ইন্টারলকিং সিস্টেম হলো একটি স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা ব্যবস্থা। কার্পেটিং শক্ত হতে বা টেকসই রূপ নিতে একটি নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত সময়ের প্রয়োজন হয়। কাজ শেষ হওয়ার পরপরই তা হাত দিয়ে টেনে তোলা বা খুঁচে নষ্ট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিম্নমানের কাজ চোখে পড়লে তা হাত দিয়ে না তুলে সরাসরি ছবি বা ভিডিওসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট