মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভাংছে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক, ঝুঁকিতে বিদ্যালয় ভবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ৩:৪১ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভাংছে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক, ঝুঁকিতে বিদ্যালয় ভবন

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপা অভিমুখে নির্মিত ইটের সলিং রাস্তার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমুরকাটা স্লুইস গেটসংলগ্ন খালে অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার স্্েরাতে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশেই অবস্থিত আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পাশঘেঁষা রাস্তার দীর্ঘ অংশে ইটের সলিং ভেঙে নিচে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়ছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ে ভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার তীব্রতা বাড়ায় খালের স্্েরাত সরাসরি রাস্তার নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধ্বসে পড়ছে।

এ সড়ক দিয়ে আমুরকাটা, বয়ারঝাপাসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সড়কের পাশের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাঙন এভাবেই চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ হুমকির মুখে পড়তে পারে।

 

বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কয়েক দফা বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ কুমার মন্ডল বলেন, শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না। খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং বা তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও খালে বিলীণ হয়ে যেতে পারে। আমুরকাটার আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, রাস্তা পূর্ব-পশ্চিমে কম বেশি ভালো হলেও বালিকা বিদ্যালের উভয় পাশে ভীষণ খারাপ অবস্থা।

 

গেটের খালের অব্যাহত অতি জোয়ার ভাটার কারণে রাস্তাটি প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। যেকোন সময় স্কুলের ক্লাস রুম ভেঙ্গে ধ্বসে যেতে পারে। অতিদ্রুত খালের পাশে পাইলিং না করলে রাস্তাটি বিলিন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল ( ভারপ্রাপ্ত) বলেন, রাস্তার অবস্থা আসলেই খারাপ। রাস্তার ভাঙ্গন রোধ ও সংস্কারের জন্য অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকৌশলীর নিকট আবেদন জমা দিব।

পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, রাস্তাটির খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমার জানানেই। আপনার কাছ থেকে শুনছি। রাস্তাটি ভাঙ্গন রোধ করতে ও সংস্কার করতে হলে এলাকাবাসী বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন আসলে গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Ads small one

কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম বাড়ায় বিপাকে ক্রেতারা

কলারোয়া প্রতিনিধি: মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার হাটবাজারগুলোতে পেঁয়াজ ও রসুনের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নি¤œ ও মধ্যবিত্ত আয়ের সাধারণ ক্রেতারা। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে দাম বাড়ায় স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া বাজার ও সরসকাটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন দিন আগেও ছিল ৩৫ টাকা। অন্যদিকে কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, যা আগে ছিল ৭০ টাকা।

নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভ্যানচালক রসুল আমিন ও ক্রেতা মনিরুজ্জামান জানান, আদা, আলুসহ সব পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানোর দাবি জানান তাঁরা।

মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে কলারোয়া বাজারের আড়তদার আলাউদ্দিন ও বিক্রেতা আবুল কাশেম জানান, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন আড়ত এবং বর্ষা মৌসুমের কারণে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকায় দেশি পেঁয়াজের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, মৌসুমের প্রভাব কেটে গেলে ও আমদানি স্বাভাবিক হলে বাজার দর পুনারায় কমে আসবে।

 

 

ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
ময়নাতদন্ত শেষে ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছাতেই হাজারো মানুষের ঢল, শোকে স্তব্ধ এলাকা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রাম যেন মঙ্গলবার শোকের জনপদে পরিণত হয়। তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারজানা খাতুনের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বিকালে বাড়িতে পৌঁছালে তাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর এলাকাবাসীর কান্নায় পুরো গ্রামে নেমে আসে হৃদয়বিদারক পরিবেশ।

ফারজানার মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাড়িতে ছুটে আসেন। ছোট্ট এই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় উপস্থিত সবাই গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

স্বজনরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমাদের ফারজানাকে আর ফিরে পাব না। কিন্তু যারা এই নির্মম ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফারজানার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তারা নিহতের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

ফারজানার মৃত্যুতে পুরো নলতা ইউনিয়নজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় তারা আগে কখনও এত মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি দেখেননি। ছোট্ট ফারজানার শেষ বিদায়ে মানুষের এই ঢল তার প্রতি সবার ভালোবাসা ও ঘটনার প্রতি গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ।

উল্লেখ্য, কালিগঞ্জের নলতা ইউনিয়নের কাশিবাটি গ্রামে কানের স্বর্ণের দুলের লোভে ফারজানা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে অভিযুক্ত সুমা বেগম নামের এক নারী নিহত হয়।

সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ফারজানা কাশিবাটি গ্রামের খান এনামুলের মেয়ে এবং স্থানীয় কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল।

সকালে ফারজানা স্কুলে গিয়ে স্কুলের সামনের এক ঝালমুড়ির দোকানে যায়। দোকানটি পরিচালনা করতেন স্থানীয় আমিরুলের স্ত্রী সুমা বেগম। ফারজানার কানের স্বর্ণের দুলের লোভে সুমা তাকে কৌশলে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির হাত-পা ও মুখ বেঁধে একটি ওয়ারড্রোবের ভেতর আটকে রেখে হত্যা করা হয় এবং মরদেহটি সেখানেই লুকিয়ে রাখা হয়।

 

কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই ক্লিনিকে জরিমানা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে দুই ক্লিনিক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা ইউনিয়ন এর মা জননী নার্সিং হোম এবং মাতৃকল্যাণ ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম।

 

এ সময় ক্লিনিকে সরকারি অনুমোদন না থাকায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত ডাক্তার না থাকায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ- ১৯৮২ অনুযায়ী পাঁচ হাজার করে সর্বমোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সেই সাথে ক্লিনিকের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

 

আদালত পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. বাপ্পি কুমার দাস, বেঞ্চ সহকারী এমএ মান্নানসহ থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম।