পাইকগাছায় প্রতিনিয়ত ভাংছে আমুরকাটা-বয়ারঝাপা সড়ক, ঝুঁকিতে বিদ্যালয় ভবন
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের আমুরকাটা থেকে বয়ারঝাপা অভিমুখে নির্মিত ইটের সলিং রাস্তার ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমুরকাটা স্লুইস গেটসংলগ্ন খালে অতিরিক্ত জোয়ার-ভাটার স্্েরাতে সড়কের একাংশ ধসে পড়েছে। এতে ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশেই অবস্থিত আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবনও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পাশঘেঁষা রাস্তার দীর্ঘ অংশে ইটের সলিং ভেঙে নিচে নেমে গেছে। কোথাও কোথাও রাস্তার নিচের মাটি সরে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জোয়ারের পর ভাঙনের পরিমাণ আরও বাড়ছে। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালের পাড়ে ভাঙন চললেও তা প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে জোয়ার-ভাটার তীব্রতা বাড়ায় খালের স্্েরাত সরাসরি রাস্তার নিচের মাটি ধুয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে ধীরে ধীরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ধ্বসে পড়ছে।
এ সড়ক দিয়ে আমুরকাটা, বয়ারঝাপাসহ আশপাশের অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি গ্রামের মানুষ এ রাস্তায় প্রতিদিন চলাচল করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, রোগী হাসপাতালে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সড়কের পাশের আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ভাঙন এভাবেই চলতে থাকলে যেকোনো সময় বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ হুমকির মুখে পড়তে পারে।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, কয়েক দফা বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অস্থায়ী সংস্কারের পরিবর্তে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীরণ কুমার মন্ডল বলেন, শুধু রাস্তা সংস্কার করলেই হবে না। খালের পাশে শক্তিশালী পাইলিং বা তীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা নির্মাণ করতে হবে। অন্যথায় সড়কটির অবশিষ্ট অংশও খালে বিলীণ হয়ে যেতে পারে। আমুরকাটার আদর্শ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নরেন্দ্র নাথ রায় বলেন, রাস্তা পূর্ব-পশ্চিমে কম বেশি ভালো হলেও বালিকা বিদ্যালের উভয় পাশে ভীষণ খারাপ অবস্থা।
গেটের খালের অব্যাহত অতি জোয়ার ভাটার কারণে রাস্তাটি প্রায় বিলিন হয়ে গেছে। যেকোন সময় স্কুলের ক্লাস রুম ভেঙ্গে ধ্বসে যেতে পারে। অতিদ্রুত খালের পাশে পাইলিং না করলে রাস্তাটি বিলিন হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ইউপি চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল ( ভারপ্রাপ্ত) বলেন, রাস্তার অবস্থা আসলেই খারাপ। রাস্তার ভাঙ্গন রোধ ও সংস্কারের জন্য অতি দ্রুত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকৌশলীর নিকট আবেদন জমা দিব।
পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব জানান, রাস্তাটির খারাপ অবস্থা সম্পর্কে আমার জানানেই। আপনার কাছ থেকে শুনছি। রাস্তাটি ভাঙ্গন রোধ করতে ও সংস্কার করতে হলে এলাকাবাসী বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আবেদন আসলে গুরুত্ব বিবেচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।









