সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক যেন দুর্ভোগের ফাঁদ, কাজের ঢিমেতালে চরম অসন্তোষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক যেন দুর্ভোগের ফাঁদ, কাজের ঢিমেতালে চরম অসন্তোষ

এসএম শহীদুল ইসলাম: ​উন্নয়নকাজের নামে দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়া, কোথাও খুঁড়ে রাখা রাস্তা, আবার কোথাও কাঁদাপানিতে একাকার বড় বড় খানাখন্দ। সাতক্ষীরা–ভেটখালী মহাসড়কের শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ অংশের বর্তমান চিত্র এটি। সড়কটির কাজের ধীরগতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী এবং যানবাহন চালক ও মালিকেরা।

​সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কটির শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলা অংশে উন্নয়নকাজের গতি থমকে আছে। খানাখন্দে ভরা রাস্তায় পিচ্ছিল কাদা জমে চলাচলের একপর্যায়ে মাঝারি ও হালকা যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। সম্প্রতি রাস্তায় গর্তে আটকে একটি ইজিবাইক উল্টে যেতে দেখা যায়। এভাবে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

​স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণেই সংস্কারকাজ নির্দিষ্ট সময়ে ও যথাযথভাবে এগোচ্ছে না। সড়কটির দীর্ঘদিনের এই বেহাল দশা জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রার্থী, শিক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

​এ বিষয়ে স্থানীয় বাসচালক আব্দুর রউফ  আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো মানেই জীবন বাজি রাখা। প্রতিদিন কোনো না কোনো গাড়ি কাদায় আটকে যাচ্ছে বা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়ি মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে লাভ তো দূরের কথা, পকেটের টাকা গচ্চা যাচ্ছে। দ্রুত এ রাস্তা ঠিক করা না হলে গাড়ি চালানো বন্ধ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।”

​জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা সদরে চিকিৎসাধীন স্বজনকে নিয়ে যাচ্ছিলেন শ্যামনগরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম। ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “রাস্তার যে অবস্থা, সুস্থ মানুষও এতে যাতায়াত করলে অসুস্থ হয়ে পড়বে। আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে এভাবে হাসপাতালে নেওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক সংস্কারের নামে আমাদের এভাবে জিম্মি করে রাখার কোনো মানে হয় না।”

​দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

​জনভোগান্তি নিরসনে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করে কালিগঞ্জের এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাইফুল ইসলাম বলেন, “সড়কটি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগ মাধ্যম, অথচ এটি এখন চরম অবহেলিত। সংশ্লিষ্ট সড়ক বিভাগ ও প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করা উচিত। ঠিকাদারকে জবাবদিহিতার আওতায় এনে দ্রুত সড়কটি চলাচলের উপযোগী না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।”

​স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, অনতিবিলম্বে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তদারকির আওতায় এনে সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করা হোক এবং সড়কটিকে নিরাপদ চলাচলের উপযোগি করা হোক।

এদিকে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, সাতক্ষীরা-ভেটখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের দৈর্ঘ্য ৬২ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন ধরে এ মহাসড়কের সংস্কার হয়নি। ফলে সড়কটি আগে থেকেই ছিল খানাখন্দে ভরা। এই পরিস্থিতিতে দেড় বছর আগে নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়। এই কাজ চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এই সময়ে কাজ হয়েছিল মাত্র ৩১ শতাংশ। সংস্কার করতে গিয়ে কোথাও কোথাও কেটে রাখা হয় রাস্তা। ফলে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়। এরপর বৃষ্টির পানিতে সড়কটি কাদাপানির খালে পরিণত হয়।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের সাতক্ষীরা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ভেটখালী পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কটি নির্মাণে বরাদ্দ রয়েছে ৮২২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মহাসড়কটি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চলতি বছরের জুন মাসে তা শেষ করার কথা ছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

৬২ কিলোমিটারের এই সড়কের কাজ দেওয়া হয়েছে ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমডি মাঈনুদ্দীন লিমিটেডের প্রকল্প পরিচালক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা যখন কোনো সামগ্রী আনি, তখন সেটার উৎস অনুমোদন থাকে। এ ছাড়া নির্মাণ সামগ্রীগুলো টেস্ট করে আনা হয়। অনিয়ম করার কোন সুযোগ নেই।

মহাসড়কটির নির্মাণকাজের সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে বলে আগেই জানিয়েছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার পারভেজ। তিনি বলেন, বিভিন্ন জটিলতায় কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০২৫-এর অক্টোবরে। কাজের মেয়াদ ছিল ২ বছর ১১ মাস অথচ বিভিন্ন প্রক্রিযায় সময় নষ্ট হয়েছে ২ বছর। ১১ মাসে আমাদের কাজের অগ্রগতি শতকরা ৩২ ভাগ। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক পোলের জন্য ২ ও ৩ নং প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের জুনে শেষ করার কথা থাকলেও তা শেষ হয়নি। আশা করি ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে সমুদয় কাজ শেষ হবে। আর কাজ নিয়মিত মনিটরিং করা হয়।

Ads small one

কল্যাণ ব্যানার্জি: সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় আস্থার এক দীর্ঘ ঠিকানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কল্যাণ ব্যানার্জি: সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় আস্থার এক দীর্ঘ ঠিকানা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
একজন সাংবাদিক কেবল সংবাদ লেখেন না। তিনি সময়কে ধারণ করেন, মানুষের কথা তুলে ধরেন এবং একটি জনপদের সুখ-দুঃখ, সংকট, সম্ভাবনা ও স্বপ্নের সাক্ষী হয়ে থাকেন। কখনো তিনি নিপীড়িত মানুষের কণ্ঠস্বর, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন, আবার কখনো একটি প্রত্যন্ত গ্রামের অজানা গল্পকে জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নিয়ে আসেন। একজন সাংবাদিকের প্রকৃত সাফল্য তাই শুধু কতটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তার হিসাব দিয়ে মাপা যায় না; বরং মানুষের আস্থা কতটা অর্জন করতে পেরেছেন, সেটিই হয়ে ওঠে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়। সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় কল্যাণ ব্যানার্জি তেমনই একটি আস্থার নাম। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে সংবাদপেশায় যুক্ত থেকে তিনি শুধু সাংবাদিকতা করেননি, সাতক্ষীরার মানুষের জীবন ও বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে এমনভাবে যুক্ত করেছেন যে তাঁর সাংবাদিকতা হয়ে উঠেছে এই জনপদের ইতিহাসেরও একটি অংশ। ৬৪ বছর বয়সেও তাঁর কর্মস্পৃহা ও সংবাদ অনুসন্ধানের আগ্রহে যেন তারুণ্যের ছাপ। নতুন কোনো ঘটনা ঘটলে তার ভেতরের সাংবাদিক এখনো আগের মতোই সক্রিয় হয়ে ওঠেন। কোথায় কী ঘটেছে, মানুষের কী সমস্যা, কেন ঘটেছে, এর পেছনের কারণ কীÑএসব প্রশ্ন তাঁকে আজও তাড়িত করে। বয়স তাঁর কাছে কখনো সংবাদ অনুসন্ধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার শুরু ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমী পত্রিকার মাধ্যমে। সেই সময় থেকেই সংবাদ সংগ্রহ ও লেখালেখির জগতে তাঁর পথচলা শুরু। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক পূর্বাঞ্চলে। খুলনার দৈনিক তথ্যে ডেস্কে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সংবাদ সম্পাদনা, সংবাদ বিশ্লেষণ ও সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে অর্জন করেন গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা। যশোর থেকে প্রকাশিত স্ফুলিঙ্গ পত্রিকাতেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর তাঁর সাংবাদিকতার পরিধি ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকার সংবাদপত্র অঙ্গনে। ১৯৮৩ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক দিনকালে। পরে একে একে কাজ করেন সাপ্তাহিক একতা, দৈনিক বাংলা, দৈনিক বাংলার বাণী এবং দৈনিক আজকের কাগজের মতো ঐতিহ্যবাহী সংবাদপত্রে। প্রতিটি কর্মস্থল তাঁর সাংবাদিকতা জীবনে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করেছে। সংবাদ সম্পাদনা থেকে মাঠপর্যায়ের রিপোর্টিংÑসাংবাদিকতার বিভিন্ন শাখায় কাজ করার সুযোগ তাঁর পেশাগত দক্ষতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।তবে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দৈনিক ভোরের কাগজে কাজ করার সময়। মাঠপর্যায়ে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন তৈরি এবং সাধারণ মানুষের কাছাকাছি গিয়ে তাঁদের কথা তুলে ধরার কারণে তিনি দ্রুত আলাদা পরিচিতি লাভ করেন। খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কভার করার জন্য তাঁকে নিয়মিত পাঠানো হতো। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে দেশের গ-ি পেরিয়ে ভারতেও যেতে হয়েছে তাঁকে। একজন রিপোর্টার হিসেবে তাঁর কাজের স্বীকৃতিও এসেছে। একাধিকবার তিনি ভোরের কাগজের শ্রেষ্ঠ রিপোর্টার নির্বাচিত হন। এ স্বীকৃতি শুধু একটি পুরস্কার ছিল না; বরং তাঁর অনুসন্ধানী মন, সংবাদবোধ, পরিশ্রম এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার সক্ষমতার স্বীকৃতি।কল্যাণ ব্যানার্জির দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয় দেশের অন্যতম প্রধান দৈনিক প্রথম আলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৯৯৯ সালে তিনি প্রথম আলোর শ্রেষ্ঠ রিপোর্টার নির্বাচিত হন। একজন সাংবাদিকের দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এ ধরনের স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।প্রথম আলোতে কাজ করার সময় সংবাদকে তিনি শুধু একটি ঘটনা হিসেবে দেখেননি। ঘটনার পেছনের মানুষ, সমাজ ও জনস্বার্থের বিষয়টি তাঁর কাছে ছিল সমান গুরুত্বপূর্ণ। কোনো একটি ঘটনা ঘটলে তার তাৎক্ষণিক খবরের পাশাপাশি এর সামাজিক প্রভাব কী, সাধারণ মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিংবা কোথায় অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা রয়েছেÑসেসব বিষয়ও তিনি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলা। এই জেলার মানুষের জীবন অন্য অনেক জেলার মানুষের জীবন থেকে আলাদা। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত, লবণাক্ততা, নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সুন্দরবনের সংকট, কৃষি, মৎস্য, সীমান্ত পরিস্থিতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানÑপ্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে ভিন্ন বাস্তবতা।এই বাস্তবতাগুলোকে রাজধানীকেন্দ্রিক সংবাদমাধ্যমের পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন মাঠে যাওয়ার মানসিকতা, মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সক্ষমতা এবং সমস্যার গভীরে যাওয়ার আগ্রহ।সাতক্ষীরার এমন খুব কম জনপদই আছে, যেখানে সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে কিংবা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর পা পড়েনি। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম, সীমান্ত এলাকা থেকে সুন্দরবনসংলগ্ন জনপদÑমানুষের জীবনের নানা গল্প তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। কোনো কৃষকের ফসল নষ্ট হওয়ার গল্প, কোনো জেলে পরিবারের জীবিকার সংকট, নদীভাঙনে ঘর হারানো মানুষের কষ্ট, সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবনসংগ্রাম কিংবা প্রত্যন্ত গ্রামের কোনো শিক্ষার্থীর সাফল্যÑসবই তাঁর সাংবাদিকতার বিষয় হয়েছে।ফলে সাতক্ষীরার অনেক মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন সংবাদকর্মী নন; তিনি এমন একজন মানুষ, যার কাছে নিজের সমস্যার কথা বলা যায় এবং যিনি সেই কথাকে বৃহত্তর সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করবেনÑএমন একটি বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আস্থা। একজন সাংবাদিক যদি মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে তাঁর প্রতিবেদন কেবল সংবাদ থাকে নাÑতা হয়ে ওঠে পরিবর্তনের একটি মাধ্যম।কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার বড় বৈশিষ্ট্য এখানেই। তিনি সংবাদকে মানুষের জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখেননি। তাঁর কাছে একটি খবর মানে শুধু একটি ঘটনা নয়; বরং সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের জীবন, অধিকার ও ভবিষ্যৎ।সাতক্ষীরার বহু স্থানীয় সমস্যা তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। অনেক ঘটনা স্থানীয় পরিসর ছাড়িয়ে বৃহত্তর আলোচনায় এসেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর। একটি জেলার সংবাদকে জাতীয় পাঠকের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যেমন সাংবাদিকের দক্ষতার পরিচয়, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে সেই আস্থা ধরে রাখা একজন সাংবাদিকের বড় অর্জন। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা শুধু সংবাদপত্রে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের প্রথম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টেলিভিশনে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। কাজ করেছেন চ্যানেল আইতেও। রেডিও সাংবাদিকতারও অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। রেডিও বিবিসি এবং এবিসির সঙ্গে কাজ করেছেন। দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের সঙ্গেও। একজন সাংবাদিকের পেশাগত জীবনে সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং ইংরেজি সংবাদমাধ্যমÑবিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে নিঃসন্দেহে একটি সমৃদ্ধ সাংবাদিকতায় পরিণত করেছে। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে শুধু দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকলেই হয় না। সময়ের সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহের পদ্ধতি, প্রযুক্তি, নৈতিকতা ও উপস্থাপনার ধরনও বদলে যায়। নিজেকে সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত উন্নয়ন। কল্যাণ ব্যানার্জি প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতার মৌলিক ও পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রশিক্ষণ তাঁর সাংবাদিকতাকে আরও পেশাদার ও পরিণত করেছে।কল্যাণ ব্যানার্জির জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর একটি হলোÑতিনি সাংবাদিকতাকে কখনো শুধুমাত্র একটি চাকরি হিসেবে দেখেননি। জীবনের এক পর্যায়ে একটি ব্যাংক এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই চাকরিতে যোগ না দিয়ে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে। তখন হয়তো তিনি জানতেন না, এই পেশা তাঁকে জীবনের কতটা সময়, শ্রম ও আবেগ দাবি করবে। কিন্তু একবার সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার পর আর পেছনে ফিরে তাকাননি। চার দশকের বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছেন। অসংখ্য রাত, দীর্ঘ পথ, অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি, প্রতিকূলতাÑসবকিছুর মধ্যেও সংবাদ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে গেছেন।তাঁর কাছে সাংবাদিকতা ছিল পেশা, কিন্তু একই সঙ্গে ছিল এক ধরনের দায়বদ্ধতা।কল্যাণ ব্যানার্জির মতো একজন সাংবাদিকের ক্ষেত্রে অবসরের বিষয়টি তাই অনেকের কাছেই আবেগের।সুস্থ, কর্মক্ষম ও সংবাদ অনুসন্ধানে এখনো সমানভাবে সক্রিয় থাকা অবস্থায় ৬৩ বছর সাত মাস বয়সে তাঁকে তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল প্রথম আলো থেকে অবসর নিতে হয়েছে। সাংবাদিকতার মতো একটি পেশায় অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক। একজন প্রবীণ সাংবাদিকের চার দশকের অভিজ্ঞতা কোনো প্রতিষ্ঠান একদিনে তৈরি করতে পারে না। মাঠপর্যায়ের জ্ঞান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, সংবাদবোধ, ঘটনার প্রেক্ষাপট বোঝার ক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতাÑএসব সময়ের সঙ্গে অর্জিত হয়। তাই কল্যাণ ব্যানার্জির অবসর শুধু একটি চাকরি থেকে অবসর নয়; এটি যেন একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতার অধ্যায়কে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে থামিয়ে দেওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি করে। অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতি ও নিয়ম রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটিও সত্যÑএকজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের দক্ষতা ও মেধাকে বয়সের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখা যায় না। প্রথম আলোর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখা, প্ল্যাটফর্ম ও কার্যক্রম রয়েছে। সেখানে কল্যাণ ব্যানার্জির মতো অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত একজন সাংবাদিককে তাঁর অভিজ্ঞতার উপযুক্ত কোনো দায়িত্বে যুক্ত করার সুযোগ থাকতেই পারেÑএমন প্রত্যাশা থাকা অস্বাভাবিক নয়। এই প্রত্যাশা শুধু একজন সহকর্মী বা শুভাকাক্সক্ষীর নয়; সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ এবং দীর্ঘদিন তাঁর প্রতিবেদনের মাধ্যমে নিজেদের কথা বলার সুযোগ পাওয়া সাধারণ মানুষেরও। কল্যাণ ব্যানার্জির সাংবাদিকতা জীবন নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের জন্য একটি শিক্ষণীয় অধ্যায়।প্রযুক্তি বদলেছে। সংবাদ সংগ্রহের ধরন বদলেছে। অনলাইন সংবাদমাধ্যম এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সংবাদপ্রবাহকে মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিয়েছে। কিন্তু সাংবাদিকতার মৌলিক বিষয়গুলো বদলায়নিÑসত্য অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, মানুষের কথা শোনা, বস্তুনিষ্ঠ থাকা এবং জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া।একজন সাংবাদিকের হাতে ক্যামেরা, মাইক্রোফোন কিংবা আধুনিক প্রযুক্তি থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের আস্থা অর্জন করা যায় কেবল সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ দিয়ে।কল্যাণ ব্যানার্জি সেই আস্থাই অর্জন করেছেন দীর্ঘ সময় ধরে।একজন মানুষের কর্মজীবনের মূল্যায়ন শুধু তাঁর পদবি কিংবা কর্মস্থলের তালিকা দিয়ে করা যায় না। তাঁর কাজ কত মানুষের জীবনকে স্পর্শ করেছে, কত মানুষের কথা তিনি তুলে ধরেছেন এবং কতটা বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে পেরেছেনÑসেটিই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে ওঠে। কল্যাণ ব্যানার্জির দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন সেই অর্থে একটি চলমান ইতিহাস। খুলনার সংবাদপত্র থেকে শুরু করে ঢাকার জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন, রেডিও, ইংরেজি সংবাদমাধ্যমÑবিভিন্ন মাধ্যমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করে তিনি শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরার সাংবাদিকতার সঙ্গে নিজেকে গভীরভাবে যুক্ত করেছেন। সাংবাদিকতার নির্দিষ্ট বয়স থাকতে পারে, কিন্তু সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতার কোনো অবসর নেই। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিকের জ্ঞান, স্মৃতি, সংবাদবোধ ও মানুষের সঙ্গে তৈরি হওয়া সম্পর্ক একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য সম্পদ। তাই কল্যাণ ব্যানার্জির মতো সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে অবসরের পরও তাঁদের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটিই হওয়া উচিত বড় প্রশ্ন। তিনি নিজেও মনে করেনÑযতদিন শরীর ও মন সায় দেবে, ততদিন সাংবাদিকতার সঙ্গেই থাকতে চান।সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশাও তাইÑকল্যাণ ব্যানার্জির কলম থেমে না যাক।কারণ একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় তাঁর পদে নয়, তাঁর কাজে। আর দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময়ের কাজ দিয়ে কল্যাণ ব্যানার্জি সাতক্ষীরার সাংবাদিকতায় যে আস্থার জায়গাটি তৈরি করেছেন, সেটি সহজে পূরণ হওয়ার নয়। কল্যাণ ব্যানার্জি তাই শুধু একজন সাংবাদিকের নাম নয়Ñসাতক্ষীরার সংবাদজগতে তিনি একটি দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, একটি আস্থার ঠিকানা এবং একটি সময়ের সাক্ষী। লেখক: সংবাদকর্মী

বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস: প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও সুরের অনন্য ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস: প্রতিবাদ, সৃজনশীলতা ও সুরের অনন্য ঐতিহ্য

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১১ আগস্ট বিশ্বব্যাপী পালিত হয় বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস। ২০২৩ সালের ২৪ জুলাই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত এ/আরইএস/৭৭/৩১৬ প্রস্তাবের মাধ্যমে দিবসটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদান করে। এর মাধ্যমে শুধু একটি বাদ্যযন্ত্রকে সম্মান জানানো হয়নি; বরং স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে একটি জাতির ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং মানবিক সংগ্রামের এক অনন্য অধ্যায়কে।
স্টিলপ্যানের জন্ম ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে। এটি ব্যাপকভাবে বিংশ শতাব্দীতে আবিষ্কৃত একমাত্র নতুন অ্যাকোস্টিক বাদ্যযন্ত্র হিসেবে স্বীকৃত। সাধারণত পরিত্যক্ত তেলের ড্রামকে বিশেষ কারিগরি প্রক্রিয়ায় রূপান্তর করে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরি করা হয়। রাবার-আবৃত মাথাযুক্ত কাঠি দিয়ে এটি বাজানো হয় এবং ধাতব তলের বিভিন্ন অংশ থেকে ভিন্ন ভিন্ন সুর সৃষ্টি করা হয়। মানব উদ্ভাবনী শক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং সঙ্গীতচর্চার এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে স্টিলপ্যান আজ বিশ্ব সংস্কৃতির মূল্যবান সম্পদ।
স্টিলপ্যানের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর ঔপনিবেশিক অতীত। আফ্রিকান বংশোদ্ভূত মানুষদের ঐতিহ্যবাহী ড্রাম একসময় নিষিদ্ধ করা হলে তারা বিকল্প উপায়ে নিজেদের সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করেন। প্রথমে বাঁশের তৈরি ‘টাম্বু-বাঁশ’, পরে বিভিন্ন ধাতব পাত্র এবং শেষ পর্যন্ত পরিত্যক্ত তেলের ড্রাম ব্যবহার করে নতুন সুরের জগৎ নির্মাণ করেন। বিংশ শতাব্দীর ত্রিশ ও চল্লিশের দশকে উইনস্টন ‘স্প্রি’ সাইমন, এলি ম্যানেটসহ একদল অগ্রগামী শিল্পীর হাতে আধুনিক স্টিলপ্যানের বিকাশ ঘটে। সেই থেকে এটি ধীরে ধীরে ক্যারিবীয় সংস্কৃতির অন্যতম শক্তিশালী পরিচয়ে পরিণত হয়।
একটি সাধারণ তেলের ড্রামকে সুরেলা বাদ্যযন্ত্রে রূপান্তরের প্রক্রিয়া অত্যন্ত নিখুঁত। ড্রামের তলাকে বিশেষভাবে পিটিয়ে অবতল আকৃতি দেওয়া হয়, বিভিন্ন নোটের জন্য নির্দিষ্ট অংশ চিহ্নিত করা হয় এবং তাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ধাতুর গুণগত মান উন্নত করা হয়। পরে দক্ষ কারিগররা প্রতিটি অংশকে নির্দিষ্ট সুরে টিউন করেন। এই কারণে স্টিলপ্যানকে কেবল একটি বাদ্যযন্ত্র নয়, বরং শিল্প, বিজ্ঞান এবং কারুশিল্পের এক অসাধারণ সম্মিলন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।
স্টিলপ্যানের রয়েছে নানা ধরন। টেনর প্যান সাধারণত মূল সুর পরিবেশন করে, ডাবল সেকেন্ড প্যান কর্ড ও হারমনি তৈরি করে, গিটার ও সেলো প্যান ছন্দকে সমৃদ্ধ করে এবং বেস প্যান গভীর সুরের ভিত্তি গড়ে তোলে। একাধিক প্যান একত্রে বাজিয়ে গড়ে ওঠে স্টিল অর্কেস্ট্রা, যা একটি পূর্ণাঙ্গ সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার মতো বহুমাত্রিক সুর সৃষ্টি করতে সক্ষম।
ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কার্নিভাল সংস্কৃতির সঙ্গে স্টিলপ্যানের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা ‘প্যান ইয়ার্ড’ শুধু অনুশীলনের স্থান নয়; বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র। এখানে শিশু, তরুণ, নারী ও প্রবীণ সবাই একসঙ্গে সঙ্গীতচর্চায় অংশগ্রহণ করেন। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বখ্যাত ‘প্যানোরামা’ প্রতিযোগিতায় শতাধিক শিল্পী নিয়ে গঠিত স্টিল অর্কেস্ট্রাগুলো অংশগ্রহণ করে এবং সুরের অনন্য পরিবেশনা উপহার দেয়। এই ঐতিহ্য স্টিলপ্যানকে একটি বাদ্যযন্ত্রের সীমা ছাড়িয়ে সামাজিক সংহতি ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীকে পরিণত করেছে।
একসময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাদ্যযন্ত্র হিসেবে পরিচিত স্টিলপ্যান আজ আন্তর্জাতিক মর্যাদা অর্জন করেছে। ক্যালিপসো ও সোকা সঙ্গীতের পাশাপাশি এটি জ্যাজ, পপ, ধ্রুপদী এবং সমকালীন নানা ধারার সংগীতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বের বহু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টিলপ্যান শেখানো হয়। তরুণদের সৃজনশীলতা বিকাশ, শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা এবং সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্টিলপ্যানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলোÑএর পরিবেশবান্ধব দর্শন। পরিত্যক্ত তেলের ড্রামকে পুনর্ব্যবহার করে একটি আন্তর্জাতিক মানের বাদ্যযন্ত্রে রূপান্তর করা টেকসই উন্নয়নের এক অনন্য উদাহরণ। এ কারণে জাতিসংঘ মনে করে, স্টিলপ্যান সংস্কৃতি, পর্যটন, শিক্ষা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি মানসিক সুস্থতা, লিঙ্গসমতা, যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সৃজনশীল প্রকাশের বিকাশ আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংস্কৃতি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, সম্প্রীতি ও সম্মানের ভিত্তি গড়ে তোলে। স্টিলপ্যান সেই বার্তাই বহন করে—সৃজনশীলতা মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে।
বিশ্ব স্টিলপ্যান দিবস তাই কেবল ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কোনো বাদ্যযন্ত্রের উদযাপন নয়; এটি মানবজাতির অবদমিত আত্মার চিরন্তন মুক্তির প্রতীক। যেভাবে আমাদের বাংলার বাউল গান, একতারা কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার লোকশিল্প প্রান্তিক মানুষের না বলা বেদনাকে সুরে রূপ দেয়, ঠিক তেমনি পরিত্যক্ত ইস্পাতের ড্রামের এই সুরের ঝংকারও সমস্ত ভৌগোলিক সীমানার প্রাচীর ভেঙে বিশ্বজুড়ে ঐক্য, সম্প্রীতি ও আশার অবিনশ্বর বার্তা পৌঁছে দেয়। সৃজনশীলতা প্রমাণ করেÑমানুষের হাত দিয়েই একদিন রচিত হবে এক সুন্দরতর, বৈষম্যহীন পৃথিবী।

দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় প্রতিবন্ধী নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিবন্ধী নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, অধিকারভিত্তিক অ্যাডভোকেসি এবং ফান্ডরেইজিং বিষয়ে দেবহাটায় তিন দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ান এইড’-এর সহযোগিতায় এবং ‘ডিআরআরএ’ বাস্তবায়িত পিএসিই প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
৮ থেকে ১০ আগস্ট দেবহাটা উপজেলার হাদীপুরে অবস্থিত ডিআরআরএ টার্ক মিলনায়তনে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর উইমেন উইথ ডিজ্যাবিলিটিজের (এনসিডিডাব্লিউ) সদস্যসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিবন্ধী নারী প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালনা করেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের শেখ গিয়াস উদ্দিন এবং ডিআরআরএ-এর টেকনিক্যাল কোঅর্ডিনেটর দেবেশ দাস। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ প্রতিবন্ধী নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং সমাজে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।