সম্পাদকীয়/প্রসঙ্গ: জনদুর্ভোগের ফাঁদ সাতক্ষীরা-ভেটখালী সড়ক
সাতক্ষীরা-ভেটখালী আঞ্চলিক মহাসড়কটির সংস্কারকাজ সংস্কারের সুবিধাকে ছাপিয়ে জনদুর্ভোগের নতুন কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন খানাখন্দ, কাদা-পানি আর খোঁড়াখুঁড়ির ধকল সয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন হাজার হাজার যাত্রী ও যানবাহন চালক। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা, রোগী পরিবহনে চরম সংকট এবং জীবনযাত্রা থমকে যাওয়ার এই সার্বিক চিত্র কেবল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি নয়, সরকারের সড়ক বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থারও জ্বলন্ত প্রমাণ।
৮২২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কটি প্রশস্ত ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তবে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর মাত্র ৩২শতাংশ অগ্রগতি হওয়াকে কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। বৈদ্যুতিক পোল বা কারিগরি জটিলতার অজুহাতে কাজের মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান গতি নেই। ফলে সংস্কারের নামে পুরো সড়কটি এখন চরম অব্যবস্থাপনায় এক স্থবির খালে পরিণত হয়েছে।
সড়কের দুর্দশার কারণে চালকদের মেরামতের খরচ বেড়ে পকেট ফাঁকা হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা সময়মতো ক্লাসে পৌঁছাতে পারছে না এবং মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রকল্পে যদি গণমানুষের ন্যূনতম চলাচলের সুযোগ না থাকে, তবে সেই উন্নয়ন কার কল্যাণে? স্থানীয় সড়ক বিভাগের উচিত অনতিবিলম্বে দায়িত্বপ্রাপ্ত পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর জবাবদিহিতার আওতায় আনা। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দ ও কাদা অপসারণ করে সড়কটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।












