রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জন্মের পর থেকেই জটিলতায় ভুগছে শিশু রায়য়ান, পাশে দাঁড়ালেন আলফা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
জন্মের পর থেকেই জটিলতায় ভুগছে শিশু রায়য়ান, পাশে দাঁড়ালেন আলফা

Oplus_131072

কে এম রেজাউল করিম, দেবহাটা: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের কাজী মহল্লা গ্রামের অসহায় শিশু রায়য়ানের পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আল ফেরদৌস আলফা। শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে তিনি কাজী মহল্লা গ্রামের দিনমজুর আইয়ুব আলীর বাড়িতে গিয়ে তার ছেলে রায়য়ানকে দেখেন এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

জানা যায়, সখিপুর ইউনিয়নের কাজী মহল্লা গ্রামের আইয়ুব আলীর ছেলে রায়য়ান জন্মের পর থেকেই জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। জন্মের পর তার পায়খানার রাস্তার সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকের পরামর্শে শিশুটির প্রথম দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পায়খানার রাস্তা সাময়িকভাবে পেটের এক পাশে বের করে দেওয়া হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রায়য়ানের আরও একটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। কিন্তু দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করতে পারছেন না তার বাবা আইয়ুব আলী। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর। দিন আনা-দিন খাওয়া এই পরিবারের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

রায়য়ানের প্রথম অপারেশনের সময়ও বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তার বাবা। বর্তমানে দ্বিতীয় অপারেশনের খরচ জোগাড় করতে তিনি বিভিন্ন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে অসহায় পরিবারটির।

এ অবস্থায় অসহায় শিশু রায়য়ানের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা জানতে পেরে শনিবার বিকেলে তার পাশে দাঁড়ান আল ফেরদৌস আলফা। তিনি শিশুটিকে দেখতে এসে তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। একই সঙ্গে রায়য়ানের চিকিৎসার বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে রায়য়ানের বাবা আইয়ুব আলী বলেন, “আমি একজন দিনমজুর। দিনমজুরি করে কোনোভাবে সংসার চালাই। আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। প্রথম অপারেশন মানুষের সহযোগিতা নিয়ে করিয়েছি। এখন দ্বিতীয় অপারেশনের টাকা জোগাড় করতে পারছি না। আমি আমার ছেলেকে সুস্থভাবে দেখতে চাই। সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের কাছে আমার আকুল আবেদন, আপনারা আমার ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন।”

রায়য়ানের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুটির চিকিৎসা সম্পন্ন করতে সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। সামর্থ্য অনুযায়ী যে কোনো সহযোগিতা অসহায় এই পরিবারের জন্য বড় সহায়তা হয়ে উঠতে পারে।

মানবিক মানুষদের সহযোগিতায় রায়য়ানের চিকিৎসার পথ সহজ হবে—এমন প্রত্যাশা তার পরিবারের। সখিপুর ইউনিয়নের কাজী মহল্লা গ্রামের এই অসহায় শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে রায়য়ান দ্রুত সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছে পরিবারটি।

যোগাযোগের নাম্বার : ০১৭৬৫০৮৬৮১০

 

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।