শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাণীদের আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য উভয়ের জন্যই প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ সুন্দরবনের অনন্য বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। প্রতিদিন বনের ভেতরের নদী-খালে জমা হচ্ছে টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য, যা ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলকে বাধাগ্রস্ত করে, বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন করে এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ব-দ্বীপে অবস্থিত সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বনভূমি উপকূলরেখাকে ক্ষয় ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে থেকে রক্ষা করে এবং দূষণকারী পদার্থ পরিশোধন করে পানির গুণমান উন্নত করে। এছাড়াও এই বনভূমি অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নার্সারি হিসেবে কাজ করে। এই বনের গাছের পাতা, কান্ড, শিকড় ও মাটিতে লাখ লাখ টন কার্বন জমা হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অবদান রেখে যাচ্ছে।

সুন্দরবন বাংলাদেশের উপকূলরেখা বরাবর বিস্তৃত। এটা বেঙ্গল টাইগার ও ইরাবতী ডলফিনসহ বিশ্বের কিছু বিরল প্রাণীর আবাসস্থল। বনের বড় ধরনের বন্য প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লবণাক্ত পানির কুমির, হরিণ, বানর, শূকর, সাপ, সরীসৃপ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী দ্বারা সমৃদ্ধ। এছাড়াও, বনে অসংখ্য প্রজাতির পাখি রয়েছে। সুন্দরবনে অসংখ্য জলজ প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া ও ৪২ প্রজাতির শামুক অন্যতম। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এগুলোর উপর নির্ভরশীল। প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণ থেকে সুন্দরবনের এই জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজন।

সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি স্তম্ভ। এখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সরকার, যা স্থানীয় জনগণের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখে। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন পলিথিন ও প্লাস্টিক জমা হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক জমা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য সমন্বিত, বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যটকদের সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক পানির বোতল, পলিথিন বহন নিষিদ্ধ করা এবং বনের ভেতর কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনের জীববৈচিত্র্য ও শ্বাসমূল রক্ষায় সুন্দরবন এলাকায় পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কঠোর জরিমানার বিধান বাস্তবায়ন করা।

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রতিটি নৌযান ও ট্যুরিস্ট স্পটে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন করা। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা। পলিথিনের বদলে পাটের ব্যাগ ও কাগজের ঠোঙা এবং প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।

সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে একক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং প্রবেশ ফি দেওয়ার সময় প্লাস্টিক ফ্রি সুন্দরবন ক্যাম্পেইনে স্বাক্ষর করানো যেতে পারে। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুরিস্ট ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বনের খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস, পরিবেশের উন্নতি এবং বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ বন ও তাদের প্রভাব অঞ্চল- শীর্ষক প্রকল্পটি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার ১৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সরকারের তিনটি আর; রিডিউস, রিইউজ, ও রিসাইকেল বাস্তবায়ন কৌশলের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে এটি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস, চকোলেটের খোলা ফেলে যান। এ সব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর জোয়ার-ভাটায় ১০-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। সুন্দরবনের গাছের স্বাসমূলের উপর জড়িয়ে থাকে। এতে প্রাণশক্তি হারায়ে গাছ মরে যায়।

 

Ads small one

খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন আজ শনিবার (১৫ আগস্ট)। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় ইস্কান্দার মজুমদার ও তৈয়বা মজুমদারের ঘরে জন্ম তাঁর। তাঁদের আদি বাড়ি ফেনীতে।

এ উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঢাকাসহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়, মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আজ শনিবার সকাল ১১টায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।

বাংলাদেশের ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া গত বছর ৩০ ডিসেম্বর অগণিত ভক্ত, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে চলে যান। ওই দিন ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

সেদিন এভারকেয়ার হাসপাতালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সে সময়ের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এই সংবাদটা নিয়ে সবার সামনে দাঁড়াতে হবে ভাবিনি। আমরা এবারও ভেবেছিলাম তিনি আগের মতো সুস্থ হয়ে উঠবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ভারাক্রান্ত হৃদয়ে বলছি, আজ ভোর ৬টায় গণতন্ত্রের মা, আমাদের অভিভাবক, জাতির অভিভাবক আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন।’

মৃত্যুর সময় বেগম খালেদা জিয়ার শয্যাপাশে ছিলেন তাঁর জ্যেষ্ঠ ছেলে ও বিএনপির তখনকার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় হাসপাতালে আরও উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান এবং প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি।

স্বজনদের মধ্যে ছোট ভাই শামীম এসকান্দার ও তাঁর স্ত্রী, বড় বোন সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও শেষ সময়ে হাসপাতালে ছিলেন। এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। পাশাপাশি কিডনি, ফুসফুস, হার্ট ও চোখের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাও ছিল তাঁর।

হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শে গত বছর ২৩ নভেম্বর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড তাঁর চিকিৎসা তদারকি করেন।

আগস্ট মাসের শুরুতে চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তী সময়ে তা আর সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে জীবনের পরম সত্যের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বেগম খালেদা জিয়া।

রাজনীতিকদের জীবনে উত্থান-পতন থাকে। মামলা-মোকদ্দমা, গ্রেফতার, কারাবাস, নির্যাতন, প্রতিপক্ষের আক্রমণ—এসবও তাদের জীবনে অভাবনীয় নয়। বেগম খালেদা জিয়াও চরম পর্যায়ের নির্যাতন সহ্য করেছেন। সহ্য করেছেন স্বামী-সন্তান হারানোর গভীর শোক আর দীর্ঘ রোগযন্ত্রণা।

রাজনৈতিক জীবনে মতাদর্শিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত ছাড়াও প্রতিপক্ষের ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, বিদ্বেষ, লাঞ্ছনা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ উপাধি পেয়েছিলেন।

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নির্বাচিত নারী সরকারপ্রধান ছিলেন।

দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং পরে সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পড়াশোনা করেন তিনি। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন।

জিয়াউর রহমান বীর উত্তম রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বেগম জিয়া ফার্স্টলেডি হিসেবে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সফরে অংশ নেন। এ সময় তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার এবং নেদারল্যান্ডসের রানি জুলিয়ানাসহ বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

১৯৮১ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়ার মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি তিনি বিএনপিতে সাধারণ সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

বেগম খালেদা জিয়া দেশের রাজনীতিতে একটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি কখনও কোনও নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি পাঁচটি পৃথক আসন থেকে নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তিনটি আসনেই বিজয়ী হন।

শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ

ন্যাশনাল ডেস্ক: আজ ১৫ আগস্ট। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম প্রয়াণ দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়; রচিত হয় ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে ওই রাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয় তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসেরকে। এছাড়া বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনা সদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে হত্যা করা হয়।
বঙ্গবন্ধুর ভাগনে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ওই বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আবারও ১৫ আগস্টকে রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়।
জুলাই আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ায়ী লীগ সরকারের পতনের পর ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার।
শোক দিবসে প্রতি বছর আওয়ামী লীগ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধে ও বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের নিহতদের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন দলীয় নেতাকর্মী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মিলাদসহ বিশেষ প্রার্থনা ও কাঙালিভোজের আয়োজন করা হতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। বন্ধ করা হয় শোক জানানোর কর্মসূচি। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর থেকে কার্যক্রম স্থগিত আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলো সেখানে শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ হারায়। হাসিনা পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পর বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এখন পর্যন্ত ৩২ নম্বরের বাড়িটি ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে।
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গত বছর ১০ মে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বছর ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।
গত বছর ১৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৫ আগস্ট উপলক্ষে শোক জানানো হয়েছিল। এ বছরও আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শোক জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করছেন।

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।