শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
পলিথিন-প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাণীদের আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য উভয়ের জন্যই প্লাস্টিক দূষণ মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণ সুন্দরবনের অনন্য বাস্তুতন্ত্রের জন্য একটি মারাত্মক হুমকি। প্রতিদিন বনের ভেতরের নদী-খালে জমা হচ্ছে টন টন প্লাস্টিক বর্জ্য, যা ম্যানগ্রোভের শ্বাসমূলকে বাধাগ্রস্ত করে, বন্যপ্রাণীর জীবন বিপন্ন করে এবং সামগ্রিক জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের তীরে গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর ব-দ্বীপে অবস্থিত সুন্দরবন। ম্যানগ্রোভ বনভূমি উপকূলরেখাকে ক্ষয় ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে থেকে রক্ষা করে এবং দূষণকারী পদার্থ পরিশোধন করে পানির গুণমান উন্নত করে। এছাড়াও এই বনভূমি অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর জন্য নার্সারি হিসেবে কাজ করে। এই বনের গাছের পাতা, কান্ড, শিকড় ও মাটিতে লাখ লাখ টন কার্বন জমা হয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অবদান রেখে যাচ্ছে।

সুন্দরবন বাংলাদেশের উপকূলরেখা বরাবর বিস্তৃত। এটা বেঙ্গল টাইগার ও ইরাবতী ডলফিনসহ বিশ্বের কিছু বিরল প্রাণীর আবাসস্থল। বনের বড় ধরনের বন্য প্রাণী রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লবণাক্ত পানির কুমির, হরিণ, বানর, শূকর, সাপ, সরীসৃপ ও অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণী দ্বারা সমৃদ্ধ। এছাড়াও, বনে অসংখ্য প্রজাতির পাখি রয়েছে। সুন্দরবনে অসংখ্য জলজ প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৬ প্রজাতির চিংড়ি, ১৩ প্রজাতির কাঁকড়া ও ৪২ প্রজাতির শামুক অন্যতম। প্রায় ৩০ লক্ষ মানুষ তাদের জীবিকা নির্বাহের জন্য এগুলোর উপর নির্ভরশীল। প্লাস্টিক ও পলিথিনের দূষণ থেকে সুন্দরবনের এই জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণের জরুরি প্রয়োজন।

সুন্দরবন আমাদের জাতীয় অর্থনীতির একটি স্তম্ভ। এখান থেকে প্রতিবছর প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে সরকার, যা স্থানীয় জনগণের জীবিকা এবং দেশের অর্থনীতিতে সরাসরি অবদান রাখে। কিন্তু প্লাস্টিক দূষণ সুন্দরবনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০ টন পলিথিন ও প্লাস্টিক জমা হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারাচ্ছে।

বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র ও সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিক জমা কমানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এর জন্য সমন্বিত, বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্যতম হলো পর্যটকদের সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক পানির বোতল, পলিথিন বহন নিষিদ্ধ করা এবং বনের ভেতর কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। বনের জীববৈচিত্র্য ও শ্বাসমূল রক্ষায় সুন্দরবন এলাকায় পলিথিন ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিকের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে কঠোর জরিমানার বিধান বাস্তবায়ন করা।

সুন্দরবনে পর্যটকবাহী প্রতিটি নৌযান ও ট্যুরিস্ট স্পটে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিন স্থাপন করা। সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের ব্যবস্থা করা। পলিথিনের বদলে পাটের ব্যাগ ও কাগজের ঠোঙা এবং প্লাস্টিকের বোতলের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব পাত্র ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।

সুন্দরবনের প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধে একক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে পর্যটকদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং প্রবেশ ফি দেওয়ার সময় প্লাস্টিক ফ্রি সুন্দরবন ক্যাম্পেইনে স্বাক্ষর করানো যেতে পারে। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুরিস্ট ও বেসরকারি সংস্থার সম্মিলিত উদ্যোগে বনের খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।

সুন্দরবনের দূষণ হ্রাস, পরিবেশের উন্নতি এবং বাংলাদেশে ম্যানগ্রোভ বন ও তাদের প্রভাব অঞ্চল- শীর্ষক প্রকল্পটি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, বরগুনা ও পিরোজপুর জেলার ১৭টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পটি সরকারের তিনটি আর; রিডিউস, রিইউজ, ও রিসাইকেল বাস্তবায়ন কৌশলের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। সামগ্রিকভাবে এটি প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে অবদান রাখবে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনের এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে প্লাস্টিক দূষণ। পর্যটন মৌসুমে পর্যটকরা সুন্দরবনের নদী-খালে চিপস, বিস্কুটের প্যাকেট, প্লাস্টিকের পানির বোতল, পলিথিন, ওয়ান টাইম প্লেট-গ্লাস, চকোলেটের খোলা ফেলে যান। এ সব প্লাস্টিক বর্জ্য নদীর জোয়ার-ভাটায় ১০-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বনের অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। সুন্দরবনের গাছের স্বাসমূলের উপর জড়িয়ে থাকে। এতে প্রাণশক্তি হারায়ে গাছ মরে যায়।

 

Ads small one

ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
ফিংড়ি ও আশাশুনিতে পুলিশের অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ গ্রেপ্তার-তিন

আশাশুনি/নিজস্ব প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক দ্রব্যসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের শুক্রবার সকালে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের হিজলিয়া খেয়াঘাটের বাঁধের উপর থেকে পুলিশ ২৫ গ্রাম গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফরিদ ঢালীকে আটক করেন। ফরিদ ঢালী প্রতাপনগর কর্মকার পাড়ার কেরামত ঢালীর ছেলে। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১৯(ক) ধারায় মামলা (১৮/২৬) রুজু করা হয়েছে। পৃথক অভিযানে আশাশুনি সদরের আদালতপুর গ্রামের রেজাউল গাজীর ছেলে আরিফ বিল্লাহকে ৪ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (১৯/১৭০) রুজু করা হয়েছে।
এদিকে, ‎‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী গ্রামে রায়হান হোসেন (২২) নামক এক মাদকাসক্ত যুবককে আটক হয়েছে। ‎জানা গেছে, ফিংড়ীর আইয়ুব আলীর পুত্র মোঃ রায়হান হোসেনকে ২পিস ইয়াবা ও ২পুরিয়া গাঁজাসহ ফিংড়ীর ঠাকুর পাড়া থেকে আটক করা হয়েছে।

 

পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় থেকে ৫২০ লিটার তেল চুরি

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় মজুমদার পেট্রোল পাম্পে রাখা দুটি ট্রাক থেকে বৃহস্পতিবার রাতে ৫২০ লিটার ডিজিল চুরি হয়েছে। জানা গেছে, পাটকেলঘাটার কালিবাড়ি মাহবুবুর রহমানের ২টি ট্রাক পাটকেলঘাটা মজুমদারের তেল পাম্পে রাতে রাখা ছিল।
যার নাম্বার যশোর টথ-১১৩৭৭৭। দ্বিতীয়টি যশোর ট ১১৩৭৬ এই নাম্বার চার দুটো প্রতিদিন বিভিন্ন রোডে চলাচল করে থাকে। ট্র্যাক ড্রাইভার শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাবে এসে ঘটনাটি বর্ণনা করেন। এ ঘটনায় যানবাহন চলাচলকারী মালিক ও ড্রাইভাররা চুরি আতঙ্কে রয়েছে।

ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৪ অপরাহ্ণ
ধুলিহরে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে চুরি

‎নিজস্ব প্রতিনিধি: ‎সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর জাহানাবাজে ১৩ আগষ্ট বৃহস্পতিবার রাতে পৃথক দুইটি মুদি দোকানে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা দোকান দুটির ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ টাকাসহ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ধুলিহর এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ সরদারের মুদি দোকানের ক্যাশ বাক্সে থাকা নগদ আনুমানিক ২,০০০ টাকাসহ বিক্রয়যোগ্য ডিটারজেন্ট পাউডার, লাচ্ছার প্যাকেট, ভোজ্য তেল, ওয়াইফাই রাউটার, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিগারেটসহ আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
‎এছাড়া একই এলাকার মৃত বাবর আলী সরদারের ছেলে শাহাদাৎ হোসেনের মুদি দোকানেও একই রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা তার দোকান থেকে নগদ আনুমানিক ৩,৫০০ টাকাসহ একটি সোলার ব্যাটারিসহ আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে কেটে পড়ে।
‎একই রাতে পরপর দুটি দোকানে চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।