শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩

বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুহীন এক মহাকাব্য: জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুহীন এক মহাকাব্য: জন্মদিনে বিনম্র শ্রদ্ধা

এম. এম হায়দার আলী

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নাম কেবল নাম নয়, তারা একেকটি অধ্যায়, একেকটি সংগ্রামের প্রতীক। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক অবিস্মরণীয় নাম। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন এবং তাঁর সমর্থকদের কাছে ‘আপোসহীন নেত্রী, যাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা রচিত হয়েছে আন্দোলন, প্রতিকূলতা, ত্যাগ ও দৃঢ়তার অনন্য উপাখ্যানে।

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আবির্ভূত হন এমন এক সময়ে, যখন দেশের গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নানা সংকটে আবর্তিত হচ্ছিল। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে এগিয়ে আসেন এবং একসময় বিএনপির নেতৃত্বের কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হন।

 

১৯৯১ সালের নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি বিজয়ী হলে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। পরবর্তীতেও তিনি একাধিক বার বাংলাদেশের সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অবকাঠামো, শিক্ষা, অর্থনীতি, নারী উন্নয়ন ও সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর সরকারের সময় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক জীবন কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। রাজপথের আন্দোলন, রাজনৈতিক সংঘাত, কারাবরণ, মামলা, ব্যক্তিগত শোক ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই তাঁকে এগিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল আপোসহীন অবস্থান। সমর্থকদের কাছে সেই কারণেই তিনি হয়ে ওঠেন ‘আপোসহীন নেত্রী। যিনি প্রতিকূলতার সামনে নত না হয়ে নিজের রাজনৈতিক বিশ্বাস ও অবস্থানকে আঁকড়ে রেখেছিলেন।

 

খালেদা জিয়ার জীবন কেবল একজন রাজনীতিবিদের জীবন নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা এক দীর্ঘ সংগ্রামের কাহিনি। কখনো ক্ষমতার কেন্দ্রে, কখনো রাজপথে, কখনো কারাগারের নির্জন প্রহরে, তবুও তাঁর নাম উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ বাঁক গুলোতে। জীবনের শেষ অধ্যায়েও তিনি ছিলেন রাজনৈতিক ভাবে আলোচিত ও প্রভাবশালী এক ব্যক্তিত্ব।

 

দীর্ঘ অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও আদর্শকে ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল গভীর আবেগ ও আনুগত্য। আজ তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করা নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির একটি দীর্ঘ অধ্যায়কে স্মরণ করা। তাঁর জীবনের সাফল্য, সংগ্রাম, ভুল-ত্রুটি, অর্জন ও ত্যাগ সবকিছু মিলিয়েই তিনি ইতিহাসের এক অনিবার্য চরিত্র। সময়ের গ্রোত অনেক নামকে বিস্মৃতির অতলে নিয়ে যায়।

 

কিন্তু কিছু মানুষ সময়কে অতিক্রম করে ইতিহাসের পাতায় থেকে যান। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। তাঁর রাজনৈতিক জীবন নিয়ে মত পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ও ঐতিহাসিক ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। প্রিয় নেত্রীর জন্মদিনে তাই উচ্চারিত হোক গভীর শ্রদ্ধার বাণী আপোসহীন সংগ্রামের প্রতীক, গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক দীর্ঘ অধ্যায়, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

 

আপনি স্মৃতিতে নন, ইতিহাসের পাতায় এক অনন্ত উপস্থিতি। বিনম্র শ্রদ্ধা, প্রিয় নেত্রী। আপনার জীবন যেন সত্যিই মৃত্যুহীন এক মহাকাব্য হয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অমর হয়ে থাকে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
আজ পর্দা উঠবে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট

নিজস্ব প্রতিনিধি: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরায় আজ ১৬ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ‘জেলা প্রশাসক কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’। জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে টুর্নামেন্টের এই সময়সূচি ও ফিক্সচার প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টুর্নামেন্টের প্রতিটি ম্যাচ প্রতিদিন বেলা সাড়ে তিনটায় শুরু হবে।
খেলার সূচি অনুযায়ীÑ ১৬ আগস্ট (প্রথম ম্যাচ): শ্যামনগর উপজেলা বনাম কলারোয়া উপজেলা। ১৭ আগস্ট (দ্বিতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা পৌরসভা বনাম কালিগঞ্জ উপজেলা। ১৮ আগস্ট (তৃতীয় ম্যাচ): সাতক্ষীরা সদর বনাম তালা উপজেলা। ১৯ আগস্ট (চতুর্থ ম্যাচ): দেবহাটা উপজেলা বনাম আশাশুনি উপজেলা।
সেমিফাইনাল ও ফাইনাল: ২১ আগস্ট (প্রথম সেমিফাইনাল): দ্বিতীয় ম্যাচের বিজয়ী বনাম তৃতীয় ম্যাচের বিজয়ী। ২২ আগস্ট (দ্বিতীয় সেমিফাইনাল): প্রথম ম্যাচের বিজয়ী বনাম চতুর্থ ম্যাচের বিজয়ী।
২৪ আগস্ট (ফাইনাল): দুই সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের শিরোপা লড়াই। ক্রীড়ামোদী দর্শকদের স্টেডিয়ামে উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

 

সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ সুন্দরবন রক্ষায় অবিলম্বে বন্ধ হোক প্লাস্টিক দূষণ

বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন কেবল আমাদের প্রাকৃতিক ঢালই নয়, জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম মজবুত স্তম্ভ। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা এই বন উপকূলীয় অঞ্চলকে প্রলয়ংকরী প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে, বায়ুম-লের কার্বন শোষণ করে এবং বছরে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকার রাজস্ব যোগায় জাতীয় কোষাগারে। তবে আক্ষেপের বিষয় হলো, বেঙ্গল টাইগার, ইরাবতী ডলফিনসহ বিরল সব বন্যপ্রাণী ও জলজ প্রজাতির এই অনন্য আবাসস্থলটি আজ প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের ভয়াবহ থাবায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
সুন্দরবনের ৫৪টি নদীতে প্রতিদিন গড়ে জমা হচ্ছে প্রায় ৫০ টন প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য। জোয়ার-ভাটার টানে এসব বর্জ্য বনের ১৫ কিলোমিটার গভীরে ছড়িয়ে পড়ছে এবং গাছের শ্বাসমূল পেঁচিয়ে ধরে ম্যানগ্রোভের প্রাণশক্তি নিঃশেষ করে দিচ্ছে। থমকে যাচ্ছে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, বিপন্ন হচ্ছে ২১০ প্রজাতির মাছ, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবন। পাশাপাশি, যেসব নদীর ওপর ভিত্তি করে ৩০ লাখ মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছেন, সেগুলোর বাস্তুতন্ত্র আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বন কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, পর্যটন মৌসুমে পর্যটকদের ফেলে যাওয়া চিপস-বিস্কুটের প্যাকেট, বোতল ও ওয়ান-টাইম প্লাস্টিক বনের ভেতরে ঢুকে প্রকৃতির অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করছে।
সুন্দরবনকে বাঁচাতে এখনই সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। বনের সীমানায় পলিথিন ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর জরিমানা নিশ্চিত করা আবশ্যক। প্রতিটি ট্যুরিস্ট ভেসেল ও দর্শনীয় স্থানে সুনির্দিষ্ট ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা, সংগৃহীত বর্জ্য বনের বাইরে এনে রিসাইক্লিংয়ের আওতায় নেওয়া এবং প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যাগ ও পরিবেশবান্ধব পাত্রের ব্যবহার জোরদার করা দরকার। খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ উপকূলীয় ১৭টি উপজেলায় চলমান সরকারের ‘রিডিউস, রিইউজ ও রিসাইকেল’ (৩জ) কৌশলের কার্যকর বাস্তবায়ন প্লাস্টিক দূষণ হ্রাসে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সুন্দরবন আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। স্থানীয় বনজীবী, ট্যুর অপারেটর, পর্যটক ও বন বিভাগের যৌথ প্রচেষ্টায় খাল ও সৈকতগুলোতে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং কঠোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে প্লাস্টিক মুক্ত সুন্দরবন নিশ্চিত করতে না পারলে আমরা কেবল একটি বিশ্ব ঐতিহ্যকেই হারাব না, বরং পুরো দেশের পরিবেশগত নিরাপত্তাও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেব।

সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগের চার নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের চার নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আখতার হোসেন (৫৫), সাতক্ষীরা পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মোস্তাফিজুর রহমান শোভন (৩০), জেলা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর হোসেন (৪০) এবং কালিগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা মাস্টার শফিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ জানায়, তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।