রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

গুরুত্বপূর্ণ ‘ডিভাইস’ সরাতেই কি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ
গুরুত্বপূর্ণ ‘ডিভাইস’ সরাতেই কি সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সেখান থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য। র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও সাবেক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে থাকা মামলায় জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও জব্দ করে। এসব ডিভাইস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ২০০৭ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্য, সার্ভার ও মুছে ফেলা ফাইল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের দাবি, উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া একটি বক্তব্য সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

‘আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটতে যাচ্ছে’

প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহার ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে একজনের কাছ থেকে পাওয়া বক্তব্যে জানা যায়—তৎকালীন র‍্যাব প্রধানের ড্রাইভে দায়িত্ব পালন করা এক ব্যক্তিকে হত্যাকাণ্ডের আগের দিন বলা হয়েছিল, ‘আগামীকাল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং প্রয়োজন হলে তাকে ভোরে উপস্থিত থাকতে হবে। যার পরদিনই জানা যায় সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের খবর।

তবে ওই ব্যক্তি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে আগে থেকে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য পেয়েছিলেন কিনা, কিংবা ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি কোনও সম্পৃক্ততা ছিল কিনা— তা এখনও নিশ্চিত নয়। তাই প্রসিকিউশনও বিষয়টিকে তদন্তে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবেই দেখছে।

ডিভাইসে কী পাওয়া গেল?

প্রসিকিউটর তানভীর হোসেন জোহা জানান, জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সার্ভারে দীর্ঘ সময়ের বিপুল তথ্য পাওয়া গেছে। কিছু ফাইল মুছে ফেলা হলেও সেগুলোর একটি অংশ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। আবার কিছু তথ্য ও নথি আগে থেকেই প্রিন্ট করা অবস্থায় ছিল। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা তিন থেকে চারজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

জোহার বক্তব্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের মধ্যে আরও কিছু সংবেদনশীল বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে বিডিআর কিংবা তৎকালীন সরকারের কোনও স্পর্শকাতর নথি বা তথ্য-উপাত্ত ডিস্ক, টেপ বা মেমোরি-সংক্রান্ত ডিভাইসে থাকার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ওই ব্যক্তির কাছে আরও কিছু ডিভাইস থাকার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ডিভাইস ও তথ্য সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের হাতে গেলে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত বা বিচার করার এখতিয়ার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে কিনা তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১৯৭৩ সালের আইনের ৩ ধারায় কোন কোন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার বা তদন্তের আওতাভুক্ত, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ড একটি বাসায় সংঘটিত সাধারণ হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচিত হলে সেটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে কিনা, তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলতে চাননি তিনি। তবে কোনও অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে জমা পড়লে সেটি গ্রহণ করে যাচাই-বাছাই করার সুযোগ রয়েছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর

‘অন্য কোনও ঘটনার সূত্র ধরে ক্লু পাওয়া যেতে পারে’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন টিম বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত করছে। সেই তদন্তের সূত্র ধরে অন্য কোনও ঘটনার সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্রের তথ্য সামনে আসতে পারে।

তানভীর জোহার দেওয়া তথ্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে এমন একটি ক্লু পাওয়া গেছে, যেখানে কোনও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সামরিক কর্মকর্তা কিংবা র‍্যাব কর্মকর্তার সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে তদন্তে উঠে আসা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, যদি বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় এবং সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়— তাহলে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের চলমান তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সেই তথ্য দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে।

আবেদন করলে কী করবে ট্রাইব্যুনাল?

সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হলে, তা সরাসরি গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান না করে আইনগতভাবে যাচাই করা হবে—এমন অবস্থান জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আবেদনটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারের মধ্যে পড়লে সেটি গ্রহণ করা হবে। আর এখতিয়ারের বাইরে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাইব্যুনালে আবেদন করবেন রুনীর ভাই

সাগর-রুনী হত্যা মামলার বাদী ও রুনীর ভাই নওশের আলী রোমান জানিয়েছেন, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে যেসব মামলার বিচার চলছে, সেগুলোর সঙ্গে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডের বিচারিক এখতিয়ার কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটি দীর্ঘদিনের আলোচিত ও অমীমাংসিত মামলা এবং নিহত দুজনই সাংবাদিক হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল বিষয়টি দেখবে—এমন প্রত্যাশা তাদের রয়েছে।

এসময় সাংবাদিক দম্পতির একমাত্র সন্তান মাহির সারওয়ার মেঘ উপস্থিত থেকে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে হত‍্যাকাণ্ডটির সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

মামলার বিবরণী অনুসারে, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনী নিহত হন। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের রহস্যের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি।

Ads small one

মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড পেলেন সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ‘মাদার তেরেসা গোল্ডেন অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা মিলনায়তনে সাউথ এশিয়া সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। মাদার তেরেসার মানবসেবা ও মানবিক আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বরেণ্য কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন।

পাখি, পরিবেশ ও সাংবাদিকতায় অসামান্য ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।

সাউথ এশিয়া সাহিত্য পরিষদের সভাপতি গাজী আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব মো. আজগর হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত রূপ নেয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও চিত্রনায়ক ডি এ তায়েব। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার সম্পাদক ও প্রকাশক, কবি ও সাংবাদিক অশোক ধর। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সাউথ এশিয়া সাহিত্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আবু ওবায়েদ বাদল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিহাব রিফাত আলম, রোটারিয়ান অ্যাডভোকেট আলেয়া বেগম লাকী, এম ইমরান উদ্দিন, জামাল উদ্দিন নাসির, অনির্বাণ ভক্ত, অধ্যাপক মো. আমীর হোসেন, মো. শামসুল আলম, মাহবুবা শাহরীন মিতু, মোছা. আলেয়া বেগম, মো. সাজ্জাদ হোসেন বিশ্বাস, মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, সাংবাদিক সানোয়ার খান, সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান, কবি ও সাংবাদিক মো. শফিউল্লাহ মিয়া, সবুজ রায় প্রমুখ।

সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন সুরমা আক্তার, সাকিনা কাইউমসহ অন্যান্য শিল্পীরা। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সেলিম মাহবুব ও সাকিনা কাইউম। যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন শেখ মো. আসিফ হোসেন ও দীপংকর ঘোষ। সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাউথ এশিয়া সাহিত্য পরিষদের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. আল আমিন সিকদার।

 

চিনাডাঙ্গায় তিলেরআটী খাল পরিষ্কার ও তালের বীজ রোপণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
চিনাডাঙ্গায় তিলেরআটী খাল পরিষ্কার ও তালের বীজ রোপণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার চিনাডাঙ্গা এলাকায় ‘সফল ফর ইন্টিগ্রেটেড ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় তিলের আটী খাল পরিষ্কার ও তালের বীজ রোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার সকালে চিনাডাঙ্গা তিলেরআটী খাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলম, দেবহাটা উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফি, উত্তরণের ওয়াটার ক্লাস্টার ফ্যাসিলিটেটর মশিয়ার রহমান, ওয়াটার ক্লাস্টার অফিসার নাজমুল বাশার, সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার প্রোগ্রাম অফিসার আব্দুর রহমান নাহিদ, প্রোগ্রাম অফিসার মশিউর রহমান, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ম্যানেজার সোহেল মাহমুদ, সাবেক ইউপি সদস্য ও ওয়াটারশেড কমিটির সভাপতি মোনাজাত আলী, ওয়াটারশেড কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গফ্ফারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

বক্তারা উল্লেখ করেন, খাল পরিষ্কার ও তালের বীজ রোপণের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে টেকসই পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: নিত্যপণ্যের লাগামহীন দরদাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: নিত্যপণ্যের লাগামহীন দরদাম

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নি¤œ ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে চরম সংকটের মুখে ফেলেছে। চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, আটা থেকে শুরু করে কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ ও সবজির মতো নিত্যদিনের অনুষঙ্গগুলোর আকাশছোঁয়া দামে পরিবার চালনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। লাগাতার ভারী বৃষ্টি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মতো প্রাকৃতিক কারণে সবজির উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি সত্য হলেও, খুচরা বাজারে যেভাবে রাতারাতি দাম দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, তা কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায় না।

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার সুযোগ নিয়ে বাজারের একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের পাঁয়তারা করছেÑএমন অভিযোগ ক্রেতাসাধারণের। নিয়মিত কার্যকর তদারকি ও বাজার মনিটরিংয়ের ঘাটতিই সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়ীদের এমন বেপরোয়া আচরণের মূল সুযোগ করে দিচ্ছে। আয়ের পরিধি স্থবির থাকলেও দৈনন্দিন ব্যয় প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষ পুষ্টিকর খাবার ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতি থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে আরও সক্রিয় ও কঠোর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। পাইকারি থেকে খুচরা—বাজার ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে তদারকি নিশ্চিত করা এবং অহেতুক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সাথে কৃষি পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে পরিবহন ব্যবস্থার জট নিরসন এবং কৃষক পর্যায় থেকে সরাসরি বাজারজাতকরণের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উপকূলের মেহনতি ও সীমিত আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে অবিলম্বে দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন গতি রোধ করাই এখন স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।