শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

মুক্তমত

এম. এম হায়দার আলী

সরকারি সম্পদ কার? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো অভিধান ঘাঁটতে হয় না। সরকারি জমি, পুকুর কিংবা স্থাপনা, সবই জনগণের। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ। অথচ সেই জনগণের সম্পদ যখন বছরের পর বছর কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের দখলে পড়ে থাকে, তখন প্রশ্ন শুধু দখলদারের বিরুদ্ধে ওঠে না, প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে সম্প্রতি যা ঘটছে, তা তাই নিছক একটি পুকুর বা কয়েক শতক জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা এবং একটি কঠিন প্রশ্ন। যে সম্পদ এতদিন বেদখলে ছিল, তা উদ্ধারের জন্য এতদিন কী করা হয়েছিল? থানার পাশে জেলা পরিষদের প্রায় ৫৫ শতক পুকুর ও জমি দীর্ঘদিন দখলে থাকার পর এখন তা দখলমুক্ত করে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের উপস্থিতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, সরকারি সম্পদ বেদখল হওয়া নতুন কোনো গল্প নয়। গল্পটা বরং পুরোনো, দখল হয়, মানুষ দেখে, কর্তৃপক্ষ জানে, আলোচনা হয়; তারপর সময় চলে যায়।

 

অনেক সময় দখলদারিত্ব এতটাই পুরোনো হয়ে যায় যে মানুষ সেটিকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করতে ভুলে যায়। সেখানেই বর্তমান উদ্যোগের গুরুত্ব। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এই কর্মতৎপরতাকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অনেকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তাদের মুখে প্রশংসা, আলোচনায় বাহবা। কারণ দীর্ঘদিন পর তারা দেখছেন, সরকারি সম্পদকে আবার সরকারি সম্পদ হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর যেখানে জনগণ বাহবা দিচ্ছে, সেখানে দখলদারদের অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

স্থানীয় ভাবে আলোচনা রয়েছে, দখলমুক্তির উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলকারীদের অনেকেই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে, কারা এতদিন সরকারি সম্পদ দখলে রেখেছিল? কীভাবে রেখেছিল? কার ছত্রচ্ছায়ায় রেখেছিল? যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, ভূমি রেকর্ড, দখলের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। তাহলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র। প্রশ্ন হলো,একটি সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর বেদখলে থাকার পরও যদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হয়, তাহলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না। দখলদার যেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তেমনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সেই ব্যবস্থাকেও, যে ব্যবস্থা জনগণের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল। এ কারণেই হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের চোখে দেখলে ভুল হবে।

 

সরকারি সম্পদ উদ্ধার কোনো দলের সম্পদ নয়, কোনো নেতার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয়ও নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে দীর্ঘদিনের নীরবতার মধ্যে কেউ যদি সেই নীরবতা ভেঙে উদ্যোগ নেন, তাহলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অবকাঠামো, জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলে থাকলে সেগুলো দখলমুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।

এখন জনগণ দেখতে চায়, কথা কতটা কাজে রূপ নেয়। শ্যামনগর-আশাশুনির ৫৫ শতক দিয়ে কি অভিযান থেমে যাবে, নাকি সাতক্ষীরার অন্য প্রান্তে বেদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তির দিকেও নজর যাবে? কারণ একটি ৫৫ শতকের পুকুর উদ্ধার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দখলমুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি সম্পদ উদ্ধারের পর সেটি আবার যেন কারও ব্যক্তিগত কবজায় চলে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড দিতে হবে, নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। নইলে আজ উদ্ধার, কাল আবার দখল, এই পুরোনো নাটকই চলতে থাকবে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়। তারা সরকারি সম্পদের অপচয় চায় না। তারা চায় না, জনগণের সম্পদ কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হোক। তারা চায় প্রশাসন জাগুক, জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিক, আর সরকারি সম্পদ ফিরে আসুক জনগণের কাজে। আজ তাই প্রশ্নটি আরও জোরে উচ্চারিত হওয়া দরকার, সরকারি জমি দখল করে রাখার সাহস দখলদারকে কে দেয়? বছরের পর বছর বেদখল থাকার পরও সংশ্লিষ্টরা নীরব থাকেন কেন? দখলমুক্তির উদ্যোগ নিলে যারা নড়েচড়ে বসে, তাদের ভয়টা কোথায়? আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব কি কেবল কোনো একজনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে, নাকি এটি হবে রাষ্ট্রের নিয়মিত দায়িত্ব?

সময় এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগ যদি সত্যিই ধারাবাহিক হয়, যদি সাতক্ষীরার প্রতিটি বেদখল সরকারি সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে, যদি উদ্ধার হওয়া সম্পদ আবার দখলের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে। কারণ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নয়, কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। এটি জনগণের সম্পদ।

আর জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে আপোসের কোনো জায়গা নেই। দখলদার যতই শক্তিশালী হোক, সরকারি সম্পদের ওপর তার অধিকার নেই। আর দায়িত্বশীলরা যতদিন নীরব থাকবেন, ততদিন দখলদারিত্বের শেকড় ততই গভীরে যাবে। তাই এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। দখলমুক্ত হোক সরকারি সকল সম্পদ,ফিরে আসুক জনগণের অধিকার আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি

বিপিএল স্থগিত হওয়ায় দেশের ক্রিকেটারদের আয়ে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে ঘরোয়া ক্রিকেটারদের জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। এক লাফে বড় অঙ্কে বাড়ানো হলো ম্যাচ ফি। তবে বিসিবির সভাপতি তামিম ইকবালের দাবি, এটি শুধু বিপিএল না হওয়ার ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার সাময়িক উদ্যোগ নয়; বরং ঘরোয়া ক্রিকেটারদের আয় দীর্ঘমেয়াদে বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিসিবির কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এ ঘোষণা দেন।

নতুন ম্যাচ ফি কাঠামো অনুযায়ী, পুরুষ ক্রিকেটাররা এখন প্রতিটি প্রথম-শ্রেণির ম্যাচের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৭০ হাজার টাকা। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় তামিম নিজেই এই ফি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করেছিলেন।

‘লিস্ট এ’ ম্যাচের ফি-ও দ্বিগুণ করা হয়েছে। এখন খেলোয়াড়রা প্রতি ম্যাচের জন্য ১ লাখ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ৪০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

নারীদের চার দিনের ম্যাচের ফি ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে। একদিনের ম্যাচের ক্ষেত্রে তা ১৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়াও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের ফি ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

তামিম ইকবাল বলেন, খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে এক দুটি প্রস্তাব এসেছিল। শেষ পর্যন্ত আমরা আসলে আমি এটাকে দুটি পক্ষ হিসেবে দেখি না। পক্ষ একটাই, আমরা সবাই এক। ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড, পরিচালক, সভাপতি সবাই আমরা এক।

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই মিলে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বিপিএলে সব মিলিয়ে ৫০, ৬০, ৬৫ বা ৭০ জন স্থানীয় ক্রিকেটার খেলবেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে যদি তাকান ফার্স্ট-ক্লাস, লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন ক্রিকেটারের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এখন ঢাকা লিগ থেকে তারা দুই-তিন বছর আগে যে আয় করতেন, তা হয়তো কমে গেছে। তার ওপর, এ বছর বিপিএল অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এর ফলে আর্থিক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিসিবি সভাপতি বলেন, আমি কখনোই খেলোয়াড়দের জন্য কেবল এক বছরের কোনো সমাধান চাইনি। আমি এমন একটি সমাধান চেয়েছিলাম, যা ক্রিকেটাররা বছরের পর বছর উপকূত হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপের ফলে ক্রিকেটাররা কেবল বিসিবি-র টুর্নামেন্ট খেলেই আর্থিকভাবে স্থিতিশীল থাকতে পারবেন, কারণ তারা মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয় করবেন।

সাবেক এই ক্রিকেটার মতে, সবকিছুর খরচই ১০০ শতাংশ বা তার বেশি বেড়েছে। আর এর সুফল কী? সেটাই আসল প্রশ্ন। এখন একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তবে বেতনসহ আমার হিসাব যদি ভুল না হয় তারা বছরে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করবেন। এটাকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে দেখা যায়, একজন খেলোয়াড়ের মাসিক আয় ৩ লাখ টাকারও বেশি হবে। পরিবার চালানোর জন্য তাদের আর কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না বলেই আমার মনে হয়। এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সেই সঙ্গে তিনি যোগ করেন, এখন তিনি খেলোয়াড়দের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব আশা করছেন।

প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
প্রীতি জিনতা প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টা শুটিং করেন

ভারতীয় চলচ্চিত্র বলিউডে দীর্ঘ শিফটে কাজ করা নিয়ে একের পর এক বিতর্ক চলছে বেশ কিছু দিন ধরেই। এ নিয়ে দীপিকা পাড়ুকোনসহ বেশ কয়েকজন তারকা প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠেন। এই বিতর্কের মধ্যেই বলিউডের ‘ডিম্পল গার্ল’ প্রীতি জিনতা টানা দীর্ঘ সময় শুটিং করে আলোচনায় এসেছেন।

সম্প্রতি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমা দিয়ে প্রায় এক দশকের বিরতি ভাঙেন বলিউডে এক সময়ের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। এবার তাকে দেখা যাবে কুনাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’ সিনেমায়। সিনেমাটির শুটিং করতে গিয়ে প্রতিদিন ১৮ ঘণ্টার মতো কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী নিজেই। ২ সেপ্টেম্বর মুম্বাইয়ে ভাইব’র জমকালো ট্রেলার প্রকাশ অনুষ্ঠান হয়।

এ সময় বলিউডে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা নিয়ে চলমান বিতর্ক প্রসঙ্গে কথা বলেন প্রীতি। সেখানে তিনি জানান, শুটিং দ্রুত শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতেই প্রতিদিন লম্বা সময় কাজ করেছেন। প্রীতি জিনতার ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইব’র শুটিংয়ের সময় প্রতিদিনই দীর্ঘ শিফটে কাজ করতে হয়েছে। তবে এ নিয়ে তার কোনো আক্ষেপ নেই। অভিনেত্রী জানান, তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে এসেছিলেন।

তাই যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের কাছে ফিরতে চেয়েছিলেন। বলিউডে অভিনেতাদের কর্মঘণ্টা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। গত বছর দীপিকা পাড়ুকোনের ‘স্পিরিট’ সিনেমা থেকে সরে যাওয়ার খবরের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এমনকি তিনি ‘কালকি’র মতো বড় সিনেমায় বাদ দেন। দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ না করার শর্ত নিয়ে নির্মাতাদের সঙ্গে তার মতবিরোধের খবর প্রকাশ পেয়েছিল।

ভাইব সিনেমাটিতে প্রীতি জিনতার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন ‘লাপাত্তা লেডিজ’ খ্যাত স্পর্শ শ্রীবাস্তব, বংশিকা ধীর, যশপাল শর্মা ও দিনেশ লাল যাদব। ড্রঙ্গো ফিল্মসের ব্যানারে কুনাল খেমু ও চিরাগ নিহালানি প্রযোজিত সিনেমাটি অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওসের।

বিশ্বকাপজয়ী লরেন্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকাপজয়ী লরেন্তে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বললেন

জুলাইয়ে স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন লরেন্তে। টুর্নামেন্টে রাইট-ব্যাক হিসেবে টটেনহ্যামের পেদ্রো পোরোর ব্যাকআপ হিসেবে খেলেছেন তিনি। গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচে একাদশে ছিলেন লরেন্তে। এরপর অবশ্য নকআউট পর্বে তার খেলার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ দিকে মাঠে নেমে স্পেনের জয় নিশ্চিত করার সময় দলের সঙ্গে ছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপ হাতে নিজের একটি ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে লরেন্তে লেখেন, ‘আমি জানি, আমি এখনো তরুণ এবং ভালো পারফর্ম করতে থাকলে এই জার্সিতে হয়তো আরও কয়েক বছর খেলার সুযোগ আমার থাকত। কিন্তু এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা আমি খুব ভেবেচিন্তে নিয়েছি।’

জাতীয় দল থেকে তার বিদায়ের সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হতে পারে সেটিও স্বীকার করেছেন লরেন্তে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, আপনাদের অনেকেই এই সিদ্ধান্ত বুঝতে পারবেন না। সত্যি বলতে, বাইরে থেকে দেখলে আমিও হয়তো বিষয়টি বুঝতে পারতাম না।’

ছয় বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে স্পেনের হয়ে ২৭টি ম্যাচ খেলেছেন লরেন্তে। তবে বিশ্বকাপে যাওয়া বা শিরোপা জয়ের সঙ্গে তার সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও পরিষ্কার করেছেন তিনি।

লরেন্তের ভাষায়, ‘আমি বিশ্বকাপে যেতাম কি না, আমরা বিশ্বকাপ জিততাম কি না সেটি যা-ই হোক, আমি এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম।’

জাতীয় দলের হয়ে পাওয়া অভিজ্ঞতাগুলো আজীবন মনে রাখবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যা কিছু পেয়েছি, সবকিছুই সযত্নে মনে রাখব। তবে সবচেয়ে বেশি মনে থাকবে এই শেষ ৫২ দিন। এমন একটি অসাধারণ দলের সঙ্গে ছিলাম, যারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে স্পেনকে সবার ওপরে তুলে ধরতে। আর তারা সেটিই করেছে।’

রিয়াল মাদ্রিদে ক্যারিয়ার শুরু করা লরেন্তে ২০১৯ সালে শহরের আরেক ক্লাব অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদে যোগ দেন। ক্লাব ক্যারিয়ারে তার রয়েছে দুটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা ও একটি লা লিগা ট্রফি।