বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশ অমান্য মন্দিরের ঘেরের মাছ লুট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশ অমান্য মন্দিরের ঘেরের মাছ লুট

পত্রদূত ডেস্ক: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশ উপেক্ষা করে সাতক্ষীরার দেবহাটার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকপাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধাগোবিন্দ মন্দিরের ঘের থেকে মাছ লুট করা হয়েছে।

পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য তপন কুমার রায় জানান, সম্প্রতি একই এলাকার বাবুরালী গাজীর ছেলে জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমান ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মন্দিরের ৩৫ শতক জমি ক্রয় সূত্রে দাবি করে ১৯৯৫ সালে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলেও পরের বছর খারিজ হয়ে যায়।

 

২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পর জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমান মন্দিরর জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে মন্দিরের প্রাচীর ভাংচুর ও তাদের চাষকৃত গলদা, বাগদা, রুই, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ লুঠ করে নিয়ে যায জামাল ফারুক ও মাহাবুবর রহমানসহ তাদের ভাড়াটিয়া লোকজন। বাধা দেওয়ায় তাদের ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়।

 

বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। এরপর গত ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে জামাল ও মাহাবুবরের নেতৃত্বে আবারো মাছ লুট করার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/২৬ নং মামলা করে। মামলায় হীরুলাল, প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়। সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন তারা। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়।

 

৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লব মালাকারের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে তিনি জামাল ফারুকসহ চারজনের নামে থানায় জিডি করেন। মঙ্গলবার দুপুরে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন মন্দিরে আসেন। তারা মন্দিরের সাইনবোর্ড ও নেটপাটা সন্ধ্যর মধ্যে ফেরৎ দেওয়ার জন্য জামাল ফারুককে নির্দেশ দেন। একইসাথে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জলাশয় থেকে মাছ না ধরার জন্য নির্দেশ দেন।

তপন রায় অভিযোগ করে বলেন, মন্দিরের সাইনবোর্ড ও নেটপাটা ফেরৎ না দিয়ে বুধবার সকালে জামাল ফারুকের নেতৃত্বে আবারো মন্দিরর ঘেরের মাছ লুট করা হয়। বাধা দিলে সশস্ত্র ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে বাড়ির মধ্যে চলে আসে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক সাংবাদিক পরিচয় জেনে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এইচ এম শাহীন জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলন সাহা জানান, নির্দেশনা না মানলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Ads small one

প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
প্লাস্টিকের দাপটে বিলীন হতে বসেছে পাটকেলঘাটার ঐতিহ্যবাহী মাদুরশিল্প

এম এম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাণিজ্য কেন্দ্রের অর্থনীতিতে একসময় বড় ভূমিকা রাখত স্থানীয় মাদুরশিল্প। এই শিল্প থেকে মাদুর কেনাবেচা ও সরবরাহের মাধ্যমে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় হতো। ‘মেলে’ নামক বিশেষ ঘাস দিয়ে তৈরি এসব মাদুরের বেশ সুনাম ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে কাঁচামালের সংকট, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, প্লাস্টিক পণ্যের দাপট ও সরকারি সহায়তার অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্প।

একসময় পাটকেলঘাটা হাটের মাদুরশিল্পের খ্যাতি ছিল অনেক। তালা উপজেলার খলিষখালী বাজার, দলুয়া বাজার, গাছা বাজার, মাগুরা বাজার, গোয়ালপোতা বাজার ও খেসরা ইউনিয়নের বহু পরিবার মাদুর বুনে জীবিকা নির্বাহ করত। গৃহস্থদের আঙিনায় নারী-পুরুষ মিলে শুকাতেন মেলে ঘাস। নিজেদের জমিতে কিংবা বর্গা নিয়ে অনেকেই এ ঘাসের চাষ করতেন।

স্থানীয় কারিগরদের অভিযোগ, কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত মেলের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। আগে প্রতিদিন তিন থেকে চারটি মাদুর তৈরি করে প্রতিটি ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি করা যেত। বর্তমানে সেই মাদুর বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। খরচ বাদ দিলে খুব সামান্য টাকাই হাতে থাকে। ফলে বাধ্য হয়ে কারিগরেরা এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।
মাদরা গ্রামের তারাজান বিবি জানান, জমি থেকে মেলে এনে চিরে রোদে শুকানো হয়। এরপর তা প্রক্রিয়াজাত করে মাদুর তৈরির জন্য সংরক্ষণ করা হয়।

গাচা গ্রামের পরিতোষ সরকার, বাগডাঙা গ্রামের নারায়ণ ম-ল, মাগুরা ইউনিয়নের মাদ্রা গ্রামের শ্যামল সরকার ও কলাগাছি গ্রামের স্বপন সরকার জানান, আগে ঘরে ঘরে মাদুর তৈরির প্রচলন ছিল। অধিকাংশ মানুষ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ব্যাংকিং ঋণের অপ্রতুলতা ও অনুকূল পরিবেশ না থাকায় এখন ব্যাংক থেকে ঋণ মিলছে না। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পাটকেলঘাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ জহুরুল হক জানান, দক্ষ মাদুরশিল্পীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং তাঁদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এতে দেশীয় এই হস্তশিল্প পুনরুজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
একটি স্থানীয় এনজিও প্রতিনিধি মনে করেন, সরকারি উদ্যোগে ইউনিয়ন বা উপজেলা পর্যায়ে মাদুর মেলার আয়োজন করা উচিত। এটি হস্তশিল্প ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।

এ বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।

সাতক্ষীরায় ৫০ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী পেল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ৫০ অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থী পেল ব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগ এবং বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সাতক্ষীরা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে এসব শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। রোটারিয়ান নুরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রিপন বিশ্বাস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বলেন, শিক্ষা প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার। অর্থাভাব যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনায় বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকে সমাজের সবাইকে নজর দিতে হবে। রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার এই মানবিক উদ্যোগ প্রশংসনীয়। শিক্ষা উপকরণগুলো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে। দেশের উন্নয়নে সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

রোটারী ক্লাব অব সাতক্ষীরার সভাপতি রোটারিয়ান আখতারুজ্জামান কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ক্লাব সম্পাদক রোটারিয়ান সিএম নাজমুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি রোটারিয়ান হাবিবুর রহমান হবি, রোটারিয়ান মো. আশরাফুল করিম ধনী, রোটারিয়ান মো. মাগফুর রহমান, রোটারিয়ান ফারহা দীবা খান সাথী, রোটারিয়ান মশিউর রহমান বাবু, সভাপতি নির্বাচিত রোটারিয়ান কামরুজ্জামান রাসেল, সাবেক সম্পাদক রোটারিয়ান এসএম মিজানুর রহমান, সার্জেন্ট অব আর্মস রোটারিয়ান নাসিমা খাতুন, রোটারিয়ান মো. গোলাম রসুল ও রোটারিয়ান তারিনা তাজরিন প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সামাজিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান। পরে অতিথিরা শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন স্কুল ব্যাগ, খাতা, কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।

 

সারের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকট নিরসনে পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
সারের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকট নিরসনে পদক্ষেপ

মো. মাসুদ রানা

‎কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলেন আমাদের কৃষক সমাজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমপিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক সারের দাম সাধারণ ও প্রান্তিক কৃষকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। ডিলার পর্যায়ের সিন্ডিকেট, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি এবং স্থানভেদে সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যে সার বিক্রির কারণে কৃষকেরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

‎উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক কৃষক চাষাবাদ কমাতে বাধ্য হচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আগামী মৌসুমের সামগ্রিক খাদ্য উৎপাদনের ওপর।

‎‎সারের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের প্রধান কারণসমূহ-
‎‎ডিলার ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট: সরকার নির্ধারিত দামে সার না দিয়ে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রি করা।
‎‎মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য: খুচরা বাজার ও প্রান্তিক পর্যায়ে সারের পৌঁছানোর মাঝখানে একাধিক হাতবদল হওয়া।
‎দেশীয় উৎপাদনে জ্বালানি সংকট: সার কারখানাগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে দেশীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা।
‎‎তদারকির অভাব: স্থানীয় পর্যায়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন কৃষি অফিসের নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের ঘাটতি।

‎‎কৃষি ও কৃষকদের রক্ষায় আশু করণীয় পদক্ষেপ-
‎‎ক. বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সরকারি তদারকি
‎কঠোর মনিটরিং ও মোবাইল কোর্ট: ‎ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাদের গুদাম এবং দোকানে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করা। অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা।
‎‎সার ডিলারশিপ ব্যবস্থা পুনঃমূল্যায়ন: যেসব ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেয়, তাদের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা।

‎‎খ. ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান
‎কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রণোদনা: সারের ভর্তুকি যেন কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর পকেটে না যায়, সেজন্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/নগদ/রকেট) মাধ্যমে নিবন্ধিত প্রকৃত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সারের ভর্তুকির টাকা বা ডিজিটাল ভাউচার পাঠানো।

‎‎গ. সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও বিকল্প ব্যবস্থা
‎দেশীয় কারখানায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গ্যাস সরবরাহ: দেশীয় সার কারখানাগুলো চালু রেখে উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা ও খরচ দুই-ই কমে।
‎সেচ ও বিদ্যুৎ সুবিধা: সেচ মৌসুমে কৃষি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ বিভ্রাট কমানো এবং সারের বিকল্প হিসেবে জৈব ও সুষম সার ব্যবহারে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

‎‎ঘ. প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা
‎সহজ শর্তে কৃষি ঋণ: সারের বাড়তি খরচ সামাল দিতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য জামানতহীন ও নামমাত্র সুদে জরুরি কৃষি ঋণের সুবিধা চালু করা।

‎‎সারের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধি কেবল কৃষকের একার সমস্যা নয়; এটি পুরো দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। সারের দাম অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণে না আনলে চাল, ডাল ও শাকসবজির উৎপাদন ব্যাপক হ্রাস পাবে, যা দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে আরও ভয়াবহ রূপ দেবে। তাই কালক্ষেপণ না করে ডিলার সিন্ডিকেট ভেঙে ফেলা, বাজারে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা এবং কৃষকের হাতে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছানো এখন সময়ের দাবি।

মো. মাসুদ রানা, ‎এমএসসি, পদার্থ বিজ্ঞান, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ