রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

শাবানার ভাই ও প্রেমিক দুই চরিত্রে জসীম, জনপ্রিয় ৫ সিনেমা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
শাবানার ভাই ও প্রেমিক দুই চরিত্রে জসীম, জনপ্রিয় ৫ সিনেমা

প্রয়াত অভিনেতা জসীম চলচ্চিত্রে নায়ক, খলনায়ক দুই চরিত্রেই প্রশংসা কুড়ান। ক্যারিয়ারের শুরুতে ভয়ংকর খলনায়ক, পরে নায়ক হিসেবে সাধারণ মানুষের মনে দাগ কাটেন তিনি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘সবুজ সাথী’ সিনেমায় প্রথম নায়ক হিসেবে অভিনয় করেন এই অভিনেতা। এই ছবির সাফল্যের পর খলনায়ক হিসেবে আর কখনো ফিরে যাননি।

কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার সঙ্গে জসীমের জুটি ছিল দারুণ জনপ্রিয়। শাবানার সঙ্গে প্রেমিক ও ভাই—দুই চরিত্রেই অভিনয় করেছেন তিনি। দুটি চরিত্রেই তারা প্রশংসিত হয়েছেন।

জেনে নেওয়া যাক এ জুটির জনপ্রিয় ৫টি সিনেমার খবর-

 

১. কাজের বেটি রহিমা

জসীম ও শাবানা জুটির জনপ্রিয় সিনেমাগুলোর একটি হলো ‘কাজের বেটি রহিমা’। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন শাবানা। নব্বই দশকের প্রথম দিকে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এটি পরিচালনা করেছেন রায়হান মুজিব। এখনও বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে সিনেমাটি প্রচার হয়। এতে আরও অভিনয় করেছেন নূতন, আনোয়ারা ও মাহবুব খনসহ অনেকে।

‘লক্ষ্মীর সংসার’ সিনেমার পোস্টার

২. লক্ষ্মীর সংসার

জসীম-শাবানা জুটির আরও একটি প্রশংসিত সিনেমা ‘লক্ষ্মীর সংসার’। নব্বই দশকে পারিবারিক গল্পে নির্মিত এ সিনেমাটিও সে সময় দারুণ সাড়া ফেলে। এটি পরিচালনা করেন মোহাম্মদ মনোয়ার হোসন। এতে আরও অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেতা জাফর ইকবাল, দিতি, রাজীব ও হুমায়ুন ফরিদী।

৩. হিংসা

জসীম-শবানার পারিবারিক ও অ্যাকশন গল্পে নির্মি একটি সিনেমা ‘হিংসা’। নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে সিনেমাটি মুক্তি পায়। এ সিনেমায় আরও অভিনয় করেন সে সময়ের শাহনাজ ও অমিত হাসান। এটি পরিচালনা করেনে মোতালেব হোসেন।

‘কালিয়া’ সিনেমার পোস্টার

৪. কালিয়া

১৯৯৪ সালে এ সিনেমাটি মুক্তি পায়। এতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন জসীম। তার বিপরীতে শাবানার দুর্দান্ত অভিনয় দর্শকের মনে দাগ কাটে। এ সিনেমাটি পরিচালনা করেন দেওয়ান নজরুল। এ সিনেমাটি মুক্তির আগে এই নির্মাতার ‘মাস্তান রাজা’ সিনেমায় জসিমের বড় বোনের চরিত্রে বাজিমাত করেছিলেন শাবানা।

মুক্তিযোদ্ধা থেকে সিনেমার নায়ক, মৃত্যুর পরেও জনপ্রিয়তায় জসীমমুক্তিযোদ্ধা থেকে সিনেমার নায়ক, মৃত্যুর পরেও জনপ্রিয়তায় জসীম
৫. স্বামী কেন আসামী

১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া এ সিনেমাটি দারুন ব্যবসা করে। দীর্ঘ সময় সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন হয়। এ সিনেমাতে ওপার বাংলার ঋতুপর্নার গ্ল্যামারে পেক্ষাগৃহে দর্শকের হুমড়ি পড়েছিল। শাবানা ও জসীমের রসায়নও দর্শকের প্রশংসা কুড়ায়। এ সিনেমায় শাবনাকে পুলিশ চরিত্রে দেখা যায়। অন্যদিকে জসীম ছিলেন একজন অপরাধীর চরিত্রে।

বুধবার (৮ অক্টোবর) প্রয়াত নায়ক জসীমের মৃত্যু দিবস। ১৯৯৮ সালের এই দিনে মাত্র ৪৮ বছর বয়সে মারা যান এই অভিনেতা। ১৯৫০ সালের ১৪ আগস্ট ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বক্সনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

Ads small one

মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের জীবনদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
মহাষ্টমী: দেবীবন্দনা ও আমাদের জীবনদর্শন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের শুভ্রতা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দে বাংলার প্রকৃতি যখন দুর্গোৎসবের আনন্দে মুখর, তখন মহাষ্টমী নিয়ে আসে ভক্তি, শক্তি ও আত্মশুদ্ধির বিশেষ বার্তা। শারদীয় দুর্গাপূজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের অংশ হলেও এর তাৎপর্য কেবল পূজাম-পে সীমাবদ্ধ নয়। অশুভের বিরুদ্ধে শুভের সংগ্রাম, নারীর মর্যাদা, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার যে শিক্ষা মহাষ্টমী দেয়, তা সমকালীন সমাজের জন্যও সমান প্রাসঙ্গিক।কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে সমাজ মহাষ্টমীতে দেবীকে শক্তিরূপে পূজা করে, সেই সমাজেই নারী কেন নির্যাতিত হন? যে পূজায় অসুর বিনাশের প্রার্থনা করা হয়, সেখানে দুর্নীতি, অন্যায়, বৈষম্য ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কতটা দৃঢ়? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার মধ্যেই মহাষ্টমীর প্রকৃত তাৎপর্য নিহিত।পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, দেবী দুর্গা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ধর্ম ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করেন। দেবীর চামু-ারূপে চ- ও মু- বধের কাহিনি সেই সংগ্রামেরই প্রতীক।

পুরাণের এই আখ্যানকে কেবল অতীতের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখলে এর সামাজিক শিক্ষা অধরা থেকে যায়। বরং এর মধ্যে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস খুঁজে নিতে হবে। আজকের সমাজে চ–মু-ের প্রতীকী রূপ হতে পারে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, নারী নির্যাতন, দুর্বল মানুষের অধিকার হরণ এবং ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করা। এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছাড়া ন্যায় প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। অন্যায়কারী যত ক্ষমতাবানই হোক, তার অন্যায়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই ন্যায়ভিত্তিক সমাজের শর্ত।

মহাষ্টমী তাই শুধু অশুভের বিনাশ কামনার দিন নয়; নিজের ভেতরের লোভ, হিংসা, অহংকার ও অসহিষ্ণুতাকে চিহ্নিত করারও দিন। অন্যের অন্যায় দেখেও নীরব থাকা, সুবিধার জন্য সত্য এড়িয়ে যাওয়া কিংবা দুর্বল মানুষের প্রতি অবিচার মেনে নেওয়াÑএসব প্রবণতা থেকে মুক্ত না হলে দেবীবন্দনার সামাজিক অর্থ পূর্ণতা পায় না। মহাষ্টমীর অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ আচার কুমারী পূজা। এই পূজায় একটি কন্যাশিশুকে দেবীর প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা এবং নারীর মধ্যে দেবীত্ব উপলব্ধির ভাবনা প্রকাশ পায়।

স্বামী বিবেকানন্দ ১৯০১ সালে বেলুড় মঠে কুমারী পূজার আয়োজন করেছিলেন, যা এই রীতির আধুনিক পুনঃপ্রচারে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তবে কুমারী পূজার প্রকৃত শিক্ষা নিয়ে আমাদের আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। পূজার দিন একটি কন্যাশিশুর পায়ে ফুল দিয়ে প্রণাম করলাম, অথচ অন্য সময়ে মেয়েশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে অবহেলা করলামÑএ কেমন শ্রদ্ধা? নারীকে দেবী বলে সম্বোধন করেও যদি তাঁর প্রতি অসম্মান, নির্যাতন ও বৈষম্য চলতে থাকে, তাহলে সেই আরাধনা সামাজিক বাস্তবতায় অর্থহীন হয়ে পড়ে।

নারীর মর্যাদা রক্ষার অর্থ তাঁকে শুধু মাতৃত্ব বা পবিত্রতার প্রতীকে সীমাবদ্ধ রাখা নয়। নারী একজন স্বতন্ত্র মানুষ। তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার আছে, নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। বাল্যবিবাহ, যৌন হয়রানি, পারিবারিক নির্যাতন ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেওয়াই নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধার বাস্তব প্রকাশ। মহাষ্টমীর শিক্ষা তখনই সার্থক হবে, যখন কুমারী পূজার ম-প থেকে নারীর প্রতি সম্মান ঘরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়বে।

অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে অনুষ্ঠিত হয় সন্ধিপূজা। প্রচলিত শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, এই সন্ধিক্ষণ ৪৮ মিনিটের। চ- ও মু-ের বিনাশের পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে যুক্ত এই পূজা অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রতীক।

জীবনের ক্ষেত্রেও এমন সন্ধিক্ষণ আসে, যখন মানুষকে সত্য ও মিথ্যা, ন্যায় ও অন্যায় কিংবা সাহস ও ভীরুতার মধ্যে একটি পথ বেছে নিতে হয়। ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা সহজ; কিন্তু ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজন দৃঢ়তা ও নৈতিক সাহস।সমাজের সংকটও একদিনে তৈরি হয় না। অন্যায়ের প্রতিবাদ বন্ধ হলে, অপরাধী প্রশ্রয় পেলে এবং দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেদের কর্তব্য এড়িয়ে গেলে সংকট গভীর হয়। তাই সন্ধিপূজার তাৎপর্য শুধু নির্দিষ্ট সময়ে প্রদীপ জ্বালানো বা মন্ত্র উচ্চারণে নয়; সংকটের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলাতেও।

বাংলাদেশের গ্রাম ও শহরে মহাষ্টমী উপলক্ষে পূজাম-পে ভক্তদের সমাগম ঘটে। অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। অনেক স্থানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষও এই আনন্দে অংশ নেন। তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাংলাদেশের বহুত্ববাদী সমাজের একটি ইতিবাচক দিক। তবে সম্প্রীতির কথা শুধু উৎসবের সময় বললে চলবে না। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্পত্তির অধিকার এবং মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে সারা বছর একই দায়িত্ববোধ থাকতে হবে।

কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন পরিচয়ের কারণে ভয়, বৈষম্য বা হামলার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।পূজাম-পে অন্য ধর্মের মানুষের উপস্থিতি সম্প্রীতির সুন্দর প্রকাশ হতে পারে; কিন্তু সম্প্রীতির প্রকৃত পরীক্ষা হয় সংকটের সময়। প্রতিবেশীর বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে হেয় না করা, গুজব ও বিদ্বেষমূলক প্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং অন্যের ধর্ম পালনের অধিকারকে সম্মান করাই প্রকৃত সামাজিক সম্প্রীতি। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমায়।

মহাষ্টমী আমাদের সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।দুর্গোৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সমাজের অসহায় মানুষের কথাও ভাবতে হবে। যাঁদের ঘরে খাবার নেই, যাঁরা চিকিৎসার অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন কিংবা যাঁদের সন্তান অর্থের অভাবে পড়াশোনা করতে পারছে না, তাঁদের দুর্দশা উপেক্ষা করে উৎসবের জাঁকজমক নিয়ে আত্মতৃপ্তিতে ভোগার সুযোগ নেই। পূজার প্রসাদ ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দেওয়া, দরিদ্র শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানো, অসুস্থ মানুষের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা কিংবা বিপদগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নেওয়াÑএসব কাজ ধর্মীয় মূল্যবোধকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করে। মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালন ছাড়া ধর্মীয় আচারও তার পূর্ণ সামাজিক অর্থ পায় না।

মহাষ্টমী আমাদের শেখায়, শক্তি মানে শুধু শত্রুকে পরাজিত করা নয়; দুর্বলকে রক্ষা করার সামর্থ্যও শক্তির পরিচয়। শুদ্ধতা মানে শুধু বাহ্যিক আচার নয়; চিন্তা, আচরণ ও কাজে সততা বজায় রাখাও শুদ্ধতার অংশ। আর সম্প্রীতি মানে শুধু পাশাপাশি বসে উৎসব উপভোগ করা নয়; ভিন্ন বিশ্বাসের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করাও সম্প্রীতির শর্ত।মহাষ্টমীর দিন দেবীর সামনে দাঁড়িয়ে আমরা অন্যায়ের বিনাশ চাই। কিন্তু নিজের জীবনে অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলে সেই প্রার্থনার সঙ্গে আমাদের আচরণের বিরোধ তৈরি হয়। নারীর প্রতি সম্মান কামনা করি, অথচ নারীর মতামতকে অবজ্ঞা করি। সম্প্রীতির কথা বলি, অথচ ভিন্ন ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষায় নীরব থাকি। মানবসেবার কথা বলি, অথচ অসহায় মানুষের কষ্ট এড়িয়ে যাই।এই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসাই মহাষ্টমীর বড় শিক্ষা। ধর্মীয় বিশ্বাস ব্যক্তিগত বিষয় হলেও ন্যায়, সততা, সহমর্মিতা ও মানবিক আচরণের সামাজিক মূল্য সর্বজনীন। তাই মহাষ্টমীর তাৎপর্যকে জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে হলে কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকতে হবে।

দুর্গাপূজার আলোকসজ্জা একসময় নিভে যাবে, ঢাকের শব্দ থেমে যাবে, পূজাম-পের ভিড়ও কমে আসবে। কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নারীর মর্যাদা রক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব শেষ হবে না। মহাষ্টমীর প্রকৃত জয় সেদিনই হবে, যেদিন নারীকে সম্মান জানাতে আলাদা পূজার প্রয়োজন হবে না, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষকে একা থাকতে হবে না। দেবীর কাছে অশুভ বিনাশের প্রার্থনা করার পাশাপাশি সমাজের অশুভ প্রবণতাগুলো দূর করার দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। কারণ, দেবীবন্দনার সার্থকতা শুধু মন্ত্রে নয়, মানুষের প্রতি আমাদের আচরণেও প্রমাণিত হয়।
লেখক: সংবাদকর্মী ও কলামিস্ট

 

 

সাতক্ষীরায় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নিরাপদ সড়ক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভা

সংবাদদাতা: জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির বিশেষ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

রবিবার (১৮ অক্টোবর ২০২৬) বেলা ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সাতক্ষীরা সার্কেলের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ্ কাউসার আজিজ।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ শাহীনুর চৌধুরী, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান, জেলা তথ্য অফিসার মোঃ জাহারুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক (ট্রাফিক) মোঃ আরজু হোসেন, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা, সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), টিআইবির সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান।

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দল সাতক্ষীরা শাখার সভাপতি ফরিদা আক্তার বিউটি ও সাংগঠনিক সম্পাদক সালেহা হক কেয়া, সাতক্ষীরা জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ আব্দুর রউফ, সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মীর আবু বক্কর।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের শেখ জাকির হোসেন টিটু ও সাধারণ সম্পাদক মামুন উর রশীদ এবং সাতক্ষীরা জেলা ট্রাক, ট্রাক্টর, কাভার্ডভ্যান ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল আজিজ বাবু।

বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক ও উচ্চমান সহকারী মোঃ নাছির উদ্দিন সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় গৃহীতব্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়। দিবসটি সুষ্ঠু ও যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পরিবহন খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় দিবসটি উদযাপনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

সভায় সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবংয নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগ জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিআরটিএ সাতক্ষীরা সার্কেলের মোটরযান পরিদর্শক মোঃ ওমর ফারুক।

তালার ক্ষিতিশ মন্ডলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, দাবী পরিবারের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
তালার ক্ষিতিশ মন্ডলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়, দাবী পরিবারের

পত্রদূত ডেস্ক: মোবাইল ফোনে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চুরির নাটক সাজিয়ে দফায় দফায় নির্যাতনের পর শ্মশানের আম গাছে বেঁধে লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে হাত, পা, বুকের পাজড় ভেঙে দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জেয়ালা নলতা গ্রামের জেলেপাড়ার মনিন্দ্র নাথ ম-লের ছেলে ঘের মালিক ক্ষিতিশ মন্ডলকে।

অভিযোগ, হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেনি।
সরেজমিনে শনিবার রাত সাড়ে সাতটার দিকে তালা উপজেলার জেয়ালা জেলেপাড়ায় যেয়ে দেখা গেছে, একমাত্র ছেলে উৎপল মন্ডল পিতৃদশা কাটাতে বাড়িতে থান কাপড় পরে বসে আছেন। পাশে বসা তার মা সুলেখা মন্ডল, কাকা সুকুমার মন্ডল, আশুতোষ মন্ডল ও পরিতোষ ম-লসহ প্রতিবেশীরা। শুক্রবার ভোর তিনটার কিছুক্ষণ আগে ঘের মালিক হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে ডেকে নিয়ে কিভাবে ক্ষিতিশ মন্ডলকে চোর আখ্যা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে তার বর্ণণা দেন তারা।

এ প্রতিবেদকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উৎপল মন্ডল বলেন, তারা এক বোন ও এক ভাই। চার শতক জমির উপরে তাদের বসাবাস। বাবা ক্ষিতিশ ম-ল ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাড়ির পাশের মোবারক আলী খাঁ, লুৎফর খাঁ, রাজাউল্লাহ পাড় ও আলী খাঁসহ কয়েকজনের কাছ থেকে দুই বিঘা জমি লীজ নিয়ে মাছ ও মাছের ঘেরের ভেড়িতে সবজি চাষ করে আসছেন। দুই বিঘা জমির লীজ বছরে ৩০ হাজার টাকা। নিজে পল্লী বিদ্যুতের একজন ঠিকাদারের অধীনে চুয়াডাঙায় সাত মাস ধরে কাজ করেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ছিলেন না।

উৎপল মন্ডল তার বাবার মৃত্যুকালিন জবানবন্দির বরাত দিয়ে আরো জানান, শুক্রবার ভোর তিনটার কিছুক্ষণ আগে তার বাবাকে পাশর্^বর্তী ঘের মালিক খুলনার ডুমুরিয়া থানাধীন চ-িপুর গ্রামের আব্বাস শেখের ছেলে শেখ হাবিবুর রহমান ডেকে তার উত্তর খোলার ঘেরের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে পরিকল্পিতভাবে চোর আখ্যা দিয়ে মাথায় লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে কানা বিশ^নাথ ঘোষের ঘেরে ফেলে দিয়ে চোর চোর করে চিৎকার করা হয়। জীবন ভয়ে বাবা ঘেরের ভেড়ি দিয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে জগন্নাথ ঘোষের ছেলে বিশ^ ঘোষসহ কয়েকজন বাবার হাত ও পা বাঁধার পর বাঁশের সাথে বেঁধে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিলে বাবা নিজেই তাদের ইচ্ছামত জায়গায় যেতে রাজী হয়।

 

এ সময় জগন্নাথ ঘোষের ছেলে বিশ^ ঘোষের ঘের কর্মচারি ইব্রাহীম হোসেন, সমর ঘোষ ও গফফার শেখ বাবাকে ধরে জেয়ালা ঘোষপাড়া মহাশ্মশানের দিকে নিয়ে যাওয়ার একপর্যায়ে সেখানে চলে আসেন তাদের গ্রামের গোপাল ঘোষের ছেলে স্বদেশ ঘোষ ও নন্দলাল ঘোষের ছেলে ক্ষিতিশ ঘোষ। সেখানে মারপিটের একপর্যায়ে দুই হাত ও দুই পা শ্মশানের আম গাছের সাথে পিঠ মোড়া দিয়ে বেঁধে লোহার রড ও হাঁতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। ভেঙে দেওয়া হয় দুই হাত ও দুই পা। তার জমি, ঘরবাড়ি ও গরু বাছুরসহ সব কিছুর বিনিময়ে নিজের জীবন ভিক্ষা চান বাবা। এরপরও তার বুকে এলোপাতাড়ি ইট দিয়ে থেঁতলে দিয়ে বুকের পাজর ভেঙে দেওয়া হয়।

 

এ সময় শ্মশানের পাশ দিয়ে যাওয়া ফারুক শেখ, মাহাবুব পাড় ও সাজ্জাদ হোসেন বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বা পুলিশে দেওয়ার জন্য গফফার শেখ, ক্ষিতিশ ঘোষ ও স্বদেশ ঘোষকে বলে। নির্যাতনকারির তাদেরকের হুমকি দেয়। ঘের কর্মচারি আরশনগরের রিপন ও শামীমের মাধ্যমে খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মা সুলেখা ম-ল বাবাকে উদ্ধার করে ভ্যানে তোলার জন্য কোন লোকের সহযোগিতা পাননি। একপর্যায়ে ১৫০ টাকা দিয়ে দুইজনের সহযোগিতায় বাবাকে স্থানীয় আবুল কাশেমের ভ্যানে তুলে সকাল আটটটার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখনে প্রাথমিক চিকিৎসা পরবর্তী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য দুপুর ১২টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই জরুরী বিভাগে বাবা মারা যান।

 

রাত ৮টার দিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে রাতেই স্থানীয় শ্মশানে বাবার লাশের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। রাতেই থানায় যেয়ে মাকে দিয়ে এজাহার লেখানোর সময় আরো দু’জনার নাম বলা হলেও মামলা রেকর্ড করার পর কপি দেখে তিনি জানতে পারেন যে, দুটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে লেখার সময়। তিনি সম্পুরক এজাহার হিসেবে ওই দুটি নাম এজাহারভুক্ত করার জন্য থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট দাবি জানান। মব সৃষ্টি করে দেবহাটার ওয়াহেদুজ্জামানকে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের যেভাবে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সেইভাবে তার বাবার হত্যাকারিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান উৎপল মন্ডল।

তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে ক্ষিতিশ মন্ডলকে মূমৃর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রাক্কালেই দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহসিন আলী রবিবার দুপুর ১২টার দিকে এ প্রতিবেদকে জানান, তারা আসামী গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত রেখেছেন। খুব শীঘ্র ভাল কোন খবর দিতে পারবেন।