রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি : লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি : লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন

‎তারিক ইসলাম

‎

“সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে / লালন কয় জাতের কি রূপ দেখলাম না এ নজরে” —

‎

‎দেড় শতাধিক বছর আগে লালন শাহের কণ্ঠে গীত এই বাণী আজও আমাদের সমাজে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও আলোকবর্তিকা। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রকেন্দ্রিক বিভাজনের অন্ধকার যখন মানবজাতিকে বিভক্ত করে,

‎

তখন লালন আমাদের মনে করিয়ে দেন মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয়—সে ‘মানুষ’।

‎

‎বাঙালির লোকসংস্কৃতি ও ভাবসাধনার ইতিহাসে সাইঁ লালন শাহ (১৭৭৪–১৮৯০) এক অনন্য উচ্চতায় সমাসীন। তিনি শুধু একজন বাউল সাধক বা লোককবি ছিলেন না; বরং ছিলেন একজন সমাজসংস্কারক, মানবতাবাদী দার্শনিক এবং মরমী চেতনার পুরোধা পুরুষ।

‎

‎জীবন ও কর্মের আলোকচ্ছটা :

‎লালন শাহের জন্ম ও লালন-পালন নিয়ে নানা মতভেদ রয়েছে। প্রচলিত আছে, নদীয়া জেলার ভাড়ারা গ্রামে এক হিন্দু পরিবারে তাঁর জন্ম। তীর্থযাত্রায় গিয়ে গুটিবসন্তে আক্রান্ত হলে সঙ্গীরা তাঁকে মৃত ভেবে ভাসিয়ে দেয় নদীতে। সেখান থেকে সিরাজ সাঁই নামে এক দরবেশ তাঁহাকে উদ্ধার করেন এবং শুশ্রূষা দিয়ে বাঁচিয়ে তোলেন। পরবর্তীতে সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করে লালন সাধনমার্গে প্রবেশ করেন। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় আখড়া স্থাপন করে তিনি তাঁর বাকী জীবন লোকশিক্ষা ও সংগীত সাধনায় অতিবাহিত করেন।

‎লালনের গানই ছিল তাঁর জীবনের মূল কর্ম। তিনি মুখে মুখে গান রচনা করতেন এবং তাঁর শিষ্যরা তা গেয়ে ও লিখে রাখতেন। ধারণা করা হয়, তিনি কয়েক হাজার গান রচনা করেছিলেন, যার মধ্যে বহু গান আজ চিরন্তন সাহিত্যের রূপ নিয়েছে। তাঁর গানে যেমন রয়েছে সুরের মূর্ছনা, তেমনই রয়েছে সুগভীর দর্শন ও ভাবমণ্ডল।

‎

‎লালনের ভাবদর্শন: মানবতাবাদ ও আত্মসন্ধান

‎

‎‎লালন দর্শনের মূল কেন্দ্রবিন্দু দুটি— ‘দেহসাধনা’ এবং ‘মানবতাবাদ’

‎

‎১. মানবতাবাদ ও জাতপাতহীন সমাজ: লালন ধর্মীয় অনুশাসন ও বাহ্যিক আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে মানুষের অন্তরের বিশ্বাস ও মানবপ্রেমকে বড় করে দেখেছেন। যে সময়ে সমাজে জাতপাত ও ছোঁয়াছুঁইয়ের তীব্র কঠোরতা ছিল, সে সময়ে লালন উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন—

‎

‎“জাত গেল জাত গেল বলে / এ এক আজব কারখানা / আসার সময় কি জাত ছিলে / যাওয়ার সময় কি জাত হবে?”

‎

‎

‎২. আত্মানুসন্ধান বা অচিন পাখির খোঁজ: লালনের দর্শনে ঈশ্বর বা পরমাত্মা কোথাও দূরে আকাশে অবস্থান করেন না; তিনি অবস্থান করেন মানুষের দেহের ভেতর, মনের মানুষ হিসেবে। লালন গেয়েছেন—

‎

‎“খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায় / ধরতে পারলে মন-বেড়ি দিতাম পাখির পায়।”

‎

‎নিজের ভেতরে পরমাত্মাকে খোঁজার এই অধ্যাত্মসাধনাই লালন শাহকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

‎

‎আধুনিক সমাজ ও লালন দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা :

‎

আজকের বিশ্ব যখন চরম প্রযুক্তিগত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আমরা দেখতে পাই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব, ধর্মান্ধতা, উগ্রতা ও জাতিগত বিদ্বেষের ভয়াবহ রূপ। লালন শাহের বাণী এই আধুনিক সংকটের এক মহৌষধ হতে পারে।

‎

‎রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে কাজী নজরুল ইসলাম—বাঙালির চিন্তাজগতের মহারথীরা লালন দর্শনে গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। রবীন্দ্রনাথ লালন সাঁইয়ের গান সংগ্রহ করে তা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছিলেন এবং তাঁর ‘মানুষের ধর্ম’ ভাবনায় লালনের প্রভাব স্বীকার করেছেন।

‎

১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহ দেহত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া ভাবধারা ও গান আজও কোটি বাঙালির হৃদয়ে সুর তোলে। লালন আমাদের শেখায় সহনশীলতা, প্রেম ও সর্বজনীন মানবতা।

‎

‎আজকের কলুষিত ও বিভাজিত বিশ্বে শান্তি ও সম্প্রীতি ফিরিয়ে আনতে লালন শাহের জীবন ও ভাবদর্শন চর্চার কোনো বিকল্প নেই। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার আখড়া কেবল বাউলদের মিলনমেলা নয়, তা হয়ে উঠুক ভেদাভেদহীন এক মানবসমাজ গড়ার প্রেরণা কেন্দ্র।

‎

লেখক : তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ
ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহবান এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক বলেছেন, প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করবেন। অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম, সাতক্ষীরা শহর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি খোরশেদ আলম, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শহিদ হাসান, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু তালেব প্রমূখ।

মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক তার বক্তব্যে বলেন, দুর্গাপূজা যেন শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্যাপিত হয়, সে জন্য সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান উদ্যাপনে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হোক, তা তাঁরা চান না। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সবাইকে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই-পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। এবারও পূজামন্ডপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য জানান, সাতক্ষীরায় ১১১টি পূজামন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিটি পূজামন্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ডপে ২৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্গা পূজায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন শেখ শফিক-উদ-দ্দৌলা সাগর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ
দুর্গা পূজায় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন শেখ শফিক-উদ-দ্দৌলা সাগর

সংবাদদাতা: শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মালম্বী মানুষের খুশি ভাগাভাগি করে নিতে প্রতিবছরের ন্যায় হিন্দু ধর্মালম্বী পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে শহরের পলাশপোলস্থ টেনিস গ্রাউন্ডে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি শেখ শফিক-উদ-দ্দৌলা সাগর তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জয়ন্ত সরকার, জেলা মন্দির সমিতির সভাপতি এডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জি, সাবেক শিক্ষা অফিসার অলোক কুমার তরফদার, জয় মহাপ্রভু সেবক সংঘের সভাপতি বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সুশান্ত ঘোষ প্রমুখ। এসময় পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের হিন্দুধর্মালম্বী ৬৪টি পরিবারের মাঝে এই খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

 

খাদ্য সামগ্রী মধ্যে ছিল- ময়দা, সুজি, তেল, চিনি, ছোলার ডাল সহ বিভিন্ন মসলা সামগ্রী। খাদ্য সামগ্রী বিতরণকালে ৯ নং ওয়ার্ডের হিন্দুধর্মালম্বী নেতাসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবগ উপস্থিত ছিলেন।

গুড়পুকুর মেলায় বাড়তি আয়ের সুযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
গুড়পুকুর মেলায় বাড়তি আয়ের সুযোগ, স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের। মেলার কয়েক দিনের বেচাকেনায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাঁদের সংসারে। সারা বছর যেখানে সীমিত আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়, সেখানে মেলাকে কেন্দ্র করে বাড়তি ক্রেতার সমাগম তাঁদের আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মেলায় খরচ বাদ দিয়ে মোটামুটি লাভ থাকছে। অন্যদিকে, মেলা শেষ হলে আবারও কমে যাবে বেচাকেনা অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী মেলার জন্য।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মেলার ১৭তম দিনে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন দোকানে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনা রয়েছে। পোশাক, প্রসাধনী, খেলনা ও গৃহস্থালির সামগ্রীর দোকানের পাশাপাশি চা-নাশতা ও খাবারের দোকানেও চলছে বেচাকেনা। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষও ঘুরে দেখছেন মেলা। এতে মেলাপ্রাঙ্গণে বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
মেলার এই বাড়তি জনসমাগমে উপকৃত হচ্ছেন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চা বিক্রেতা, খাবারের দোকানি ও বিভিন্ন ছোট পণ্যের বিক্রেতারা। মেলায় আসা মানুষের আনাগোনা বাড়ায় তাঁদের পণ্য ও সেবা বিক্রির সুযোগও বাড়ছে। বিশেষ করে অস্থায়ী দোকানিদের কাছে মেলার দিনগুলো বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সময়।
মেলায় চায়ের দোকান চালানো লেয়াকাত বলেন, “মেলার এই কয়েক দিন বেচাকেনা একটু ভালো হচ্ছে। তা না হলে এর আগে দিনে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে হতো। সেই টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন ছিল। মেলার এই কয়েক দিন পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে সংসার চালাতে পারছি।”
লেয়াকাতের কথায় উঠে আসে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রতিদিনের জীবনসংগ্রামের চিত্র। সীমিত আয়ের মধ্যে সংসারের খরচ সামলাতে হয় তাঁদের। তাই মেলার মতো বড় আয়োজন তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করে। কয়েক দিনের ভালো বেচাকেনাও তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দেয়।
অন্যদিকে, শিশুদের খেলনার চাহিদাকে কেন্দ্র করে ভালো বেচাকেনার আশা করছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে মেলায় খেলনার দোকান নিয়ে এসেছেন সোহাগ। তিনি বলেন, “মেলায় আসার জন্য ছোট বাচ্চাদের আগ্রহ বেশি থাকে। মেলার শুরু থেকেই শিশুদের খেলনার চাহিদা ভালো ছিল। এখন মেলা শেষের দিকে, চাহিদা আরও বেড়েছে। বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। তবে মেলা শেষ হলে আবার বেচাকেনা কমে যাবে। তখন অন্য কোনো মেলার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।”
সোহাগের মতো অনেক ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীর জীবিকা নির্ভর করে বিভিন্ন মেলায় দোকান বসানোর ওপর। এক মেলা শেষ হলে অন্য মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হয় তাঁদের। ফলে মেলার শেষ দিনগুলোতে ভালো বেচাকেনা তাঁদের জন্য বাড়তি আয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে ওঠে।
ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান পরিচালনা, পণ্য কেনা ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পর মোটামুটি লাভ থাকছে। তবে বিক্রির পরিমাণ দোকান ও পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন। মেলার শেষ সময় পর্যন্ত ক্রেতাদের আনাগোনা থাকলে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা তাঁদের।
এদিকে, মেলায় দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো রয়েছে বলে জানিয়েছেন মেলায় আসা মানুষজন। মেলাপ্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নজরদারি দর্শনার্থীদের স্বস্তি দিচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় ঘুরতে আসা মানুষ কেনাকাটা ও বিনোদনের পাশাপাশি নিরাপদ পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রায় ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু হয়েছে গত ১ অক্টোবর। দুই বছর বিরতির পর এবার মেলা বসায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে আয়োজিত এ মেলা চলবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত।
ঐতিহ্য, বিনোদন ও কেনাকাটার পাশাপাশি গুড়পুকুর মেলা স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মেলাকে ঘিরে কয়েক দিনের বাড়তি আয় তাঁদের সংসারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিচ্ছে। তাই দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও বেচাকেনার এই গতি মেলার শেষ দিন পর্যন্ত বজায় থাকবে এমন প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের।