শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গোপালগঞ্জে অপহৃত শিশু ভারতে পাচারের আগে ভোমরা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
গোপালগঞ্জে অপহৃত শিশু ভারতে পাচারের আগে ভোমরা থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

পত্রদূত ডেস্ক: গোপালগঞ্জে অপহরণের তিন দিন পর সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত এলাকা থেকে অপহৃত শিশু সাজিম শিকদার ইয়াছিনকে (১২) উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় মুক্তিপণ দাবিকারী ও পাচারচেষ্টায় জড়িত মুন্না শিকদার (৩০) নামে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া সাজিম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা গ্রামের আকাশ শিকদারের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার মুন্না শিকদার কোটালীপাড়া উপজেলার কাকডাঙ্গা গ্রামের লালন সিকদারের ছেলে এবং শিশুটির দূর সম্পর্কের আত্মীয়।

বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, গত ৬ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাসার পাশের একটি দোকান থেকে খাবার কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাজিমকে নিয়ে যান মুন্না। পরে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করা হয়।

 

এরপর বিভিন্ন নম্বর থেকে কল করে শিশুটির বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মুন্না; টাকা না দিলে সাজিমকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আকাশ শিকদার গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, শিশুটিকে প্রথমে ট্রেনে করে ঢাকায় এবং পরবর্তীতে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

 

পরে সাতক্ষীরা সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Ads small one

রঙের আগে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
রঙের আগে মানুষ

 

ইরফানুল আহছান জীম
জন্মের পর প্রথম কান্নাটুকুতে
কেউ জিজ্ঞেস করেনি-
“শিশুটির গায়ের রং কেমন?”
তখন সে শুধু মানুষ,
মায়ের বুকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সন্তান।
কিন্তু একটু একটু করে বড় হতে হতে
শুনতে পায়-
“ও তো বেশ কালো!”
“রোদে এত ঘোরো কেন?”
“একটু ফর্সা হলে দেখতে ভালো লাগত!”
শব্দগুলো তখনও ছোট,
কিন্তু শিশুটির মনে
দাগগুলো বড় হতে থাকে।
স্কুলের অনুষ্ঠানে
ফর্সা মেয়েটি সামনে দাঁড়ায়,
কালো মেয়েটিকে কেউ বলে-
“তুমি একটু পেছনে দাঁড়াও।”
খেলার মাঠে সে-ও দৌড়ায়,
স্বপ্ন দেখে, হাসে, কাঁদে-
তবু তার পরিচয়ের আগে
কেন যেন তার গায়ের রংটাই আসে?
বয়স বাড়ে,
স্বপ্নও বড় হয়।
কেউ মঞ্চে উঠতে চায়,
কেউ নাটকে অভিনয় করতে চায়,
কেউ সিনেমার পর্দায় নিজের মুখ দেখতে চায়,
কেউ মডেলিংয়ের আলোয় দাঁড়িয়ে
নিজের গল্প বলতে চায়।
কিন্তু অডিশনের দরজায়
কখনো কখনো প্রতিভার আগে
আয়নায় খোঁজা হয় রং।
চোখের ভাষার আগে
ত্বকের ছায়া মাপা হয়।
অভিনয়ের আগে
মুখের উজ্জ্বলতা নিয়ে কথা হয়।
যেন চরিত্রের প্রয়োজন নেই,
প্রয়োজন শুধু একটি নির্দিষ্ট রং!
তারপর একদিন
বিয়ের প্রস্তাব আসে।
ঘরে চায়ের কাপ সাজে,
মিষ্টির প্লেট আসে,
দুই পরিবার মুখোমুখি বসে।
কেউ জিজ্ঞেস করেÑ
“মেয়েটা কী পড়েছে?”
“কী করতে ভালোবাসে?”
“মানুষ হিসেবে কেমন?”
কিন্তু সব প্রশ্নের আগেই
কারও চোখ গিয়ে থামে তার মুখেÑ
তারপর ফিসফিস করে ওঠে,
“রংটা একটু চাপা না?”
একটি মানুষের
শিক্ষা, স্বপ্ন, সততা, মায়া,
হাসি, হৃদয়Ñ
সবকিছু যেন মুহূর্তেই হারিয়ে যায়
দুটি শব্দের কাছেÑ
“গায়ের রং।”
কী অদ্ভুত এই পৃথিবী!
যে রং নিয়ে এত অহংকার,
সে রং তো আমরা নিজেরা বেছে নেয়নি।
যে রং নিয়ে কাউকে ছোট করি,
সেই রঙও তো আমাদের হাতে আঁকা নয়।
তবু মানুষ মানুষকে মাপে
ত্বকের রঙ দিয়ে;
কেউ সুন্দর হয় বিজ্ঞাপনের ভাষায়,
কেউ সুন্দর হয় আয়নার বিচারে,
আর কেউ সারাজীবন
নিজের স্বাভাবিক রংটাকে
অপরাধ ভেবে বয়ে বেড়ায়।
অথচ-
একদিন সবাইকে যেতে হবে
একটি অন্ধকার ঘরে।
সেখানে কোনো ক্যামেরা থাকবে না,
মডেলিংয়ের র‌্যাম্প থাকবে না,
সিনেমার পর্দা থাকবে না,
বিয়ের আসর থাকবে না,
কেউ দাঁড়িয়ে বলবে নাÑ
“এই মানুষটি ফর্সা,
ওই মানুষটি কালো।”
সেখানে
সবাই একই মাটির নিচে,
একই নীরবতায়।
যে মুখের রং নিয়ে
পৃথিবীতে এত বিচার হয়েছিল,
মাটির নিচে সে মুখও
একদিন মিশে যাবে মাটির সঙ্গে।
সেদিন কেউ জিজ্ঞেস করবে নাÑ
“গায়ের রং কী ছিল?”
হিসাব হবে অন্য কিছুরÑ
কতটা মানুষ ছিলে,
কতটা ভালো ছিলে,
কতটি হৃদয় ভাঙোনি,
কতটি চোখের জল মুছেছিলে,
কতটা ন্যায় নিয়ে বেঁচেছিলে।
তাই, মানুষকে রঙে নয়Ñ
মানুষ হিসেবে দেখো।
কারণ আয়নার সামনে
গায়ের রং হয়তো পরিচয় হতে পারে,
কিন্তু জীবনের শেষে
পরিচয় হবে শুধু একটাইÑ
সে একজন মানুষ ছিল।

পথের কোলে তাহাদের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
পথের কোলে তাহাদের মৃত্যু

 

সুজন হোসেন
তোমাদের পিতার ছায়া মিলিয়াছে, মিলিতেছে আজও;
তবে যাহার পিতার অস্তিত্ব নাই এই পৃথিবীতে আর?
তাহাদের তরে কি শুধুই মৃত্যু আসে দিনরাত্রে?
তাহাদের শেষ আলিঙ্গন শুধু মৃত্যু পক্ষ থেকেই আসে।

তোমাদের দেওয়া গালি হইয়াছে সমাজের কাছে দোয়া,
আর তাহাদের করা প্রার্থনাও মনে হয় যেন অশ্লীল গালমন্দ!
বদলাতে দৃষ্টিভঙ্গি সমাজের,মোদের ডাকিতে হইবে মিছিল;
অত্যাচারীর মতো নির্বাসন দিতে হইবে বিবেককেও,
হত্যা করিতে হইবে পৃথিবীর যত গোলাপের কাঁটা।
ওডিসিয়াস ঘরে ফিরিল তাহার, আপন মাতার কোলে শুইয়া;
তবে যাহাদের নাই মাতা, তাহাদের কোন কোল আছে ধরায়?

ধনিকের গালমন্দগুলো মোদের কাছে লাগে দোয়ার মতন,
তবে তাহাদের আওয়াজেই যেনো রহিয়াছে বড় অভিশাপ।
তোমাদের পিতা যবে আনিয়াছিল পুতুল, খেলিয়ারে তাহা লয়ে;
যবে তোমরা খেলো, পুতুলের বিবাহ দাও আরেকটির লগে,
তখন তাহারা ফুটপাতে তোমার পিতার কাছে বেচে আরেকটা পুতুল।
রাত্রি যবে গভীর হয়, পৃথিবী যবে হইয়া যায় নীরব দর্শক;
যবে রাত্রি দখলে যায় হুতুম পেঁচা আর কোনো অশরীরীর,
তোমাদের শহর যখন নীরবতার দখলেÑতখন তাহারা জাগিয়া রয়
ক্ষুধার পীড়নে! অবিক্রীত রহিয়াছে পুতুল আর হাতের মমত্ববোধ।
ভালোবাসা আর বেচা হইল না এ সভ্য সমাজের শহরে তাহার;
যখন তোমরা ঘুমে,বিভোর হইয়াছ অপার্থিব এক কামে, তখনও
তাদের চলাচলÑচলিতেছে অবিরত নৈশভোজের সংস্থান অন্বেষণ।
তাদের চক্ষে ঘুম নাই, তাদের সুখ নাই, সময় নাই;
জীবন নাই, আত্মহত্যা করিয়া মরিবার মতো মরণও নসিবে নাই।

তবে তাহাদের রহিয়াছে আত্মসম্মান অঢেল, হিমালয় সম!
কাটিয়া যাইবে গলা, তবু তাহাদের চক্ষু রহিবে আকাশ পানে চাহিয়া;
কোটরচ্যুত হইবে দু-চক্ষু, তবে দেখা যাইবে না সে চক্ষে সামান্য ভয়।
তাদের দৃষ্টি ফুঁড়িয়া যায় মহাকাশ, ছিঁড়িয়া ফেলে কবির হৃৎপি-!
কাটিয়া যাইবে হস্তযুগল,তবু ভিক্ষাবৃত্তিতে নামিতে নারাজ একেবারই;
কাটিবে মস্তক, তবু আত্মমর্যাদা ক্ষুণœ হইবে না সামান্যতম।
তাহাদের সম্মানে ধনিক শ্রেণীর উপর দেখাই আমি মধ্যমাঙ্গুলি!

তাহাদের সংগ্রাম বীরশ্রেষ্ঠ অপেক্ষাও কোনো অংশে কম নহে;
তাদের জীবন ত্যাগ কোনো যুদ্ধে লাঞ্ছিতার চেয়ে কম নহে।
তাহাদের আত্মসম্মান আমার প্রেমিকার অপেক্ষাও অধিক;
তাহার কর্মস্পৃহা কোনো যন্ত্রমানবের অপেক্ষাও উন্নততর।

শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৪ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

দুই ভাইকে লাইসেন্স প্রদানসহ অর্থ লেনদেনের দাবি

শ্যামনগর প্রতিনিধি: শ্যামনগরে সরকারি সার ডিলারের লাইসেন্স বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি, নিয়ম লঙ্ঘন ও অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দুটি ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় পদে থাকা আপন দুই ভাইয়ের একই সঙ্গে ডিলারশিপ পাওয়া এবং মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেনের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির একাংশ ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত তালিকায় শ্যামনগর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের জন্য মোট ১২ জন ডিলারের নাম চূড়ান্ত করা হয়। তালিকা প্রকাশের পর থেকেই স্থানীয় নেতাকর্মী ও বঞ্চিত আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মনোনীত ডিলারদের মধ্যে শ্যামনগর পৌরসভার জন্য ‘মেসার্স ফাহাদ এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক শামসুদ্দোহা টুটুল এবং তাঁর বড় ভাই আবু এহিয়া মোর্তজার মালিকানাধীন ‘ভাই ভাই এন্টারপ্রাইজ’ লাইসেন্স পেয়েছে। তাঁদের মধ্যে শামসুদ্দোহা টুটুল পৌর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব এবং আবু এহিয়া মোর্তজা জামায়াতের রোকন। ভিন্ন মেরুর রাজনীতি করলেও একই পরিবার থেকে দুজনকে ডিলারশিপ না দেওয়ার বিধান লঙ্ঘন করে ব্যবসায়িক স্বার্থে দুটি লাইসেন্স বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, আবেদনের নির্ধারিত সময়সীমা (১০ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটা) পার হওয়ার পরদিন প্রভাব খাটিয়ে আবেদনপত্র জমা দেন শামসুদ্দোহা টুটুল। কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে তালিকার এক নম্বরে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করান তিনি। নকিপুর গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসান জানান, নির্দিষ্ট সময়ে আবেদন জমা নেওয়ার পর কর্মকর্তা রেজিস্টারের ছবি তুলে রাখলেও পরদিন অনৈতিক উপায়ে শামসুদ্দোহার আবেদন গ্রহণ করে রাজনৈতিক সুপারিশ নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে বাদঘাটার বাসিন্দা রানা অভিযোগ করেন, কায়িক শ্রম ও সব শর্ত পূরণ সত্ত্বেও সাধারণ ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে দুই ভাইকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে কথা বলতে ফোন করা হলে দুই ভাইয়ের কেউই সাড়া দেননি।

এদিকে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের একাংশের দাবি, উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সুপারিশ এবং জেলা কমিটির অনুমোদনে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিতর্কিত ব্যক্তিদের চূড়ান্ত তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সব শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ও পদধারীদের ডিলারশিপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, শ্যামনগর পৌরসভায় সামছুজ্জোহা টুটুল, পদ্মপুকুরে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্যসচিব এস এম কামরুজ্জামান, গাবুরায় জেলা কৃষক দলের সভাপতি সালাউদ্দীন লিটন এবং ঈশ্বরীপুরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম মনোনীত হয়েছেন। তবে ভুরুলিয়া ইউনিয়নে মনোনীত হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সম্পাদক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ফয়সাল হোসেন আলভি। কৈখালী ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নেও ডিলারশিপের বিনিময়ে তিন লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসিফ মাহমুদ রিপন ও শ্যামনগর উপজেলা জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন হোসেন। রিপন জানান, একাধিক মামলায় কারাবরণ করার পরও অনৈতিক সুবিধা দিতে না পারায় তাঁকে বাদ দিয়ে ২ লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে মনিরুল ইসলাম নামের একজনকে সুপারিশ করা হয়েছে। আল আমিন জানান, সব শর্ত পূরণ করে আবেদন করলেও শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে ফয়সাল হোসেনকে মনোনীত করা হয়।

সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিএম লিয়াকত আলী বলেন, ডিলারশিপের ক্ষেত্রে নূন্যতম প্রাধান্য না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে, যা ত্যাগী কর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। ভুরুলিয়া ইউনিয়ন থেকে ১৪ জন আবেদন করলেও বিএনপি নেতারা তালিকার ১ নম্বরে এবং তাঁর বোনকে ৩ নম্বরে রেখে সুপারিশ পাঠান।

জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম জানান, আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে জেলা প্রশাসক চূড়ান্ত সুপারিশ অনুমোদন করে থাকতে পারেন। অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় স্থান পাওয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে দ্রুত নতুন তালিকা তৈরি করা না হলে রাজপথে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলায়মান কবির। তিনি দাবি করেন, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় ডিলারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। টাকা লেনদেন বা অর্থের বিনিময়ে সুপারিশ করার দাবি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।