শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দু’দিনে তিনদফা গণপিটুনির পর মারা গেল শামীম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দু’দিনে তিনদফা গণপিটুনির পর মারা গেল শামীম

পত্রদূত রিপোর্ট: ধর্মকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের অভিযোগে সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাংচুর করে তিন দফায় গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে তৌহিদী জনতা। সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম দফ, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পূর্বে দ্বিতীয় দফা ও রাত ১০ টার দিকে তৃতীয় গণপিটুনির ঘটনা ঘটে।

আহত শামীমকে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওয়াহিদুজ্জামান সানা ওরফে শামীমকে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত ওয়াহিদুজ্জামান সানা ওরফে শামীম সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের শামছুর রহমান সানার ছেলে।

নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল জানান, সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সাথে বচসায় জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন ধরণের গালিগালাজ করে তার মানসিক রোগাক্রান্ত ভাই ওয়াহিদুজ্জামান। এ সময় স্থানীয় একজন অডিও রেকডিং করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ওই অডিওতে মহানবীকে কটুক্তি সংক্রান্ত কথা আছে দাবি করে দেবহাটার হুজুর ফজলুল হক আমিনী ধর্মীয় ভাই ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ফেসবুকে লাইভ করে সোমবার সন্ধ্যায় জনতাকে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পর ক্ষুব্ধ কয়েকশত জনতা ওয়াহিদুজ্জামান এর বাড়ি ভাংচুর করে ও তাকে ঘর থেকে মারতে মারতে সুবর্ণাবাদ বাজারের জামায়ত অফিসের সামনে নিয়ে যায়। পরে সে মারাত্মক অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে এসে বিষপান করে। রাতে তাকে কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে নিয়ে ওয়াশ করানোর পর সুস্থ হয়ে ওঠে। রাত সাড়ে আটটার দিকে সবুরের চেম্বারের সামনে ফজলুল হক আমিনীসহ জড়ো হন বিক্ষুব্ধরা। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা শামীমকে বের করে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক তৌহিদী জনতার ব্যানার নিয়ে পারুলিয়া বাসস্টান্ড থেকে সখীপুর হাসপাতালে যেয়ে চিকিৎসাধীন ওয়াহেদুজ্জামানকে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে মৃত ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইন হাতে তুলে নিয়ে ভাইকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন আব্দুল জলিল। তার ভাইয়ের লাশ মাটি দিতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ফজলুল হক আমিনী বলেন, আল্লাহ্ রাসুল ও আমাদের ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য দীর্ঘ ৬ মাস ধরে করে আসছিল ওয়াহিদুজ্জামান। প্রতিবেশী বা তার সঙ্গে কেউ কথা বললে ইসলাম বিদ্বেষী কথাবার্তা বলতো। আজ তৌহিদী জনতা গণপিটুনি দিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দিয়েছে।

নিহতের ছোট ভাই তাহসিভ রহমান সাগর জানান, আমরা পাঁচ ভাই, শামীম চতুর্থ। সে মাদরাসা থেকে কামেল পাশ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছে। দুটো সন্তান আছে। পারিবারিক সমস্যার কারণে মানসিক রোগী হয়ে গেছে। সুস্থ না, অসুস্থ মানুষ। সে মানসিক ভারসম্যহীন হওয়ার কারণপ ডাঃ ধীরাজ মোহনের কাছে চিকিৎসা নিচ্ছে। কখনো ভালো আবার কখনো খারাপ অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা বলে। ঔষধপত্র খাচ্ছে। সে যদি কিছু বলে থাকে তাহলে তাকে আইনে বিচার করতো, একটা মানুষকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেললো? আমরা কিছুই করতে পারিনি। আমরা সামনে যেতে পারিনি গেলে আমাদেরও মারপিট করতো।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম শাহীন জানান, ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে সন্ধ্যার আগে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে রাত ৯টার দিকে কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে আবারো গণপিটুনি দেয়। আমরা যখন ঘটনাস্থলে পোঁছায় ততক্ষণে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। পরে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেলে পাঠালে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষনা করেন।

 

বুধবর দুপুরে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বিক্ষুব্ধ শত শত মানুষ মব সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এমন অভিযোগের কথা আমি বিক্ষুব্ধদের বলতে শুনেছি। কিন্তু সেটি কি অভিযোগ সেটি আমি এখনো সুনিদৃষ্ট জানতে পারিনি।

Ads small one

সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় মাছ চুরি সন্দেহে মৎস্যজীবীকে পিটিয়ে হত্যা, ১০ জনের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার জিয়ালা এলাকায় ঘেরে মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫৩) নামের এক মাছ চাষীকে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার নিহতের স্ত্রী সুলেখা মন্ডল বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামী করে তালা থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। এদিন ভোর রাতে জিয়ালা গ্রামের উত্তর খোলা বিলে ক্ষিতিশ মন্ডলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত হয়। বেলা ১২ টার দিকে তালা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার ।

নিহত ক্ষিতিশ মন্ডল তালা সদরের জেয়ালা গ্রামের মৃত মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে। তিনি নিজেও একজন ঘের ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে জেয়ালা উত্তরখোলা বিলে বিশ্বনাথ ঘোষের মাছের ঘেরে চুরি সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডলকে আটক করা হয়। আটকের পর স্থানীয় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী, গফফার শেখসহ ১০-১৫ জন তাকে জেয়ালা শ্মশান ঘাট এলাকায় নিয়ে গাছে বেঁধে নির্মম নির্যাতন চালায়। নির্যাতনকারীরা তার হাত-পা ভেঙে দেয়, মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং চোখ উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। ভোর পর্যন্ত তার ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল বলেন, আমার চাচাতো ভাই ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমির মাছের ঘের রয়েছে। চুরি সন্দেহে একটা মানুষকে রাতভর এভাবে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে মেরে ফেলবে? আমরা এই নৃশংস হত্যাকান্ডের ন্যায়বিচার চাই।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাছ চুরির অপবাদে পিটিয়ে ক্ষিতিশ মন্ডলকে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণের ব্যবস্থা করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

 

সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পৃথক অভিযানে দুই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সদর ও তালায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুটি বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। এর মধ্যে একটি ঘটনায় বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা সদরের বাঁকাল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিয়ের খবর পেয়ে তৎপর হয় মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহারের নির্দেশে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবর রহমান, করবী সুলতানা এবং প্রশিক্ষক তাসরিনা খাতুন ঘটনাস্থলে যান। তাদের সঙ্গে সদর থানা পুলিশের একটি দলও উপস্থিত হয়।

পুলিশ ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে বর পালিয়ে যায়। পরে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের নির্দেশে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপপরিচালক নাজমুন নাহার ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় মেয়ের চাচার বাড়িতে বরের পিতা ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে পাওয়া যায়।

বাল্যবিবাহের আয়োজন করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালত কালীগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামের বরের পিতাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে মুচলেকা দিয়ে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এ ছাড়া মেয়ের পিতা ও চাচার কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত বিয়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অপরদিকে, একই দিনে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে আরেকটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা হয়েছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তালার কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার প্রসেনজিৎ ঘোষ ও প্রশিক্ষক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের খবর পেয়ে বরের গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। পরে মেয়ের পিতার কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

 

কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের পণ্য গুড়পুকুর মেলায় নারীদের অভিজ্ঞতা 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের পণ্য গুড়পুকুর মেলায় নারীদের অভিজ্ঞতা 

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস : শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসবমুখর পরিবেশে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছিল মানুষের সরব উপস্থিতি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিমা দর্শনে আসা মানুষও ঘুরে দেখছেন গুড়পুকুর মেলা। এতে মেলার প্রাণচাঞ্চল্য বাড়ার পাশাপাশি বেচাকেনায় গতি ফিরছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মেলার মাঠজুড়ে সাজানো হয়েছে নানা ধরনের পণ্যের পসরা। পোশাক, প্রসাধনী, গৃহস্থালির সামগ্রী, শিশুদের খেলনা ও বাহারি সাজসজ্জার পণ্যের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা গেছে। বিশেষ করে নারীরা পছন্দের পণ্য বেছে নিতে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরছেন। কেউ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মেলা ঘুরে উপভোগ করছেন উৎসবের আনন্দ।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি মেলায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে গুড়পুকুর মেলায় আসছেন। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও পছন্দের খাবার উপভোগের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন তাঁরা। এতে মেলায় দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দোকানে বিক্রিও বাড়ছে।

মেলায় কেনাকাটা করতে আসা তালা উপজেলার জেয়ালা এলাকার কাকুলী ঘোষ বলেন, “গুড়পুকুর মেলায় এসে বেশ ভালো লাগছে। বিভিন্ন দোকানে ঘুরে পছন্দের জিনিস দেখেছি এবং কিছু প্রসাধনী কিনেছি। দামও সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে কেনাকাটা করে আমি খুশি।”
খুলনার ডুমুরিয়া এলাকা থেকে আসা অরণ্য সাবিহা বলেন, “মেলায় অনেক ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। ঘুরে ঘুরে পছন্দের কিছু পোশাক ও সাজসজ্জার সামগ্রী কিনেছি। দাম মোটামুটি সাধ্যের মধ্যে রয়েছে। পরিবারের সঙ্গে মেলায় ঘোরাঘুরি ও কেনাকাটা দুটিই উপভোগ করছি।”

আশাশুনির মানিকখালি এলাকা থেকে আসা বীথি রানী বলেন, “মেলায় এসে বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালির সামগ্রী দেখেছি। প্রয়োজন অনুযায়ী পছন্দের কিছু জিনিস কিনেছি। দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় কেনাকাটা করতে সুবিধা হয়েছে। সব মিলিয়ে মেলায় এসে ভালো সময় কাটিয়েছি।”
এদিকে মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা দেখা গেছে। ভিড়ের মধ্যে যাতে দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারেন, সে জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দর্শনার্থীদের উপস্থিতি বাড়লেও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভালো রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো। দুর্গাপূজার আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে ঘোরাঘুরি এবং পছন্দের পণ্য কেনার সুযোগ সব মিলিয়ে মেলাটি হয়ে উঠেছে মানুষের মিলনমেলা। দর্শনার্থীদের বাড়তি উপস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।