শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩

খুলনায় ধানের শীষে সেজেছে দুর্গা ফুটেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
খুলনায় ধানের শীষে সেজেছে দুর্গা ফুটেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য
পত্রদূত ডেস্ক: খুলনা মহানগরীতে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতিমা এবার সেজেছে ধানের শীষে। ফুটেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য।
ধানের সোনালী শীষে সজ্জিত দুর্গার প্রতিমা শিল্প, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক বাংলার ঐতিহ্যকে এক সুতোয় গেঁথে খুলনায় সৃষ্টি করেছে শারদীয় উৎসবের অন্য রকম আবহ। নগরীর ‘বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরে’ প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে চিনিগুঁড়া ধানের শীষকে প্রতিমার মূল অলংকরণে ব্যবহার করায় দুর্গোৎসবে যোগ হয়েছে এক অনন্য এক শৈল্পিক কারুকাজ ও ব্যতিক্রমী মাত্রা।
সোনালী ধানের নান্দনিক বিন্যাসে প্রতিমার রূপে ফুটে উঠেছে বাংলার কৃষকের শ্রম, ফসলের সমৃদ্ধি ও গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা আবহ, যা দেখার জন্য ইতিমধ্যেই নগর জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। শহরের সর্বজনীন পুজা উদযাপনের ইতিহাসে এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম।
আয়োজকদের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পুজা মন্দিরটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। এরপর প্রতি বছরই এখানে বিভিন্ন পূজা অর্চনা হয়ে আসছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ ও ১৯৯৯ সালে। ওই সময় বৈদ্যুতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিমার মধ্যে সিংহের গর্জন স্থাপন করা হয়। যা ব্যাপক সাড়া পড়ে।
এবারের দুর্গাপূজায় বাগমারা তেঁতুলতলা মন্ডপ হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র। ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিমা তৈরিতে। ৪০ দিন ধরে চারজন শিল্পী নিপুণ হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। যাতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছে এক ভিন্নধর্মী আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক উপকরণে গড়া এই অনন্য শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিন উপচে পড়া ভিড় সামলাতে হচ্ছে আয়োজকদের। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে দারুণ উচ্ছ¡াস ও ব্যাপক কৌত‚হল দেখা গেছে। এই নান্দনিক সৃষ্টি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা।
পুজা উদযাপন পরিষদের সদস্যরা জানান, খুলনা শহরে প্রায় ৭০টি পূজার মন্ডপ রয়েছে। যার মধ্যে কেবল বাগমারা তেঁতুলতলা সর্বজনীন পূজা মন্ডপেই সম্পূর্ণ আলাদা ও ব্যতিক্রমীভাবে এই ধানের প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।
পূজা পরিচালনা কমিটির এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের মন্ডপে এবার চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা শহরের প্রায় ৭০টি মন্ডপের মধ্যে আমাদেরটাই একমাত্র ব্যতিক্রমী আয়োজন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, মন্দির কমিটি এবং পূজা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় এই রূপ সম্ভব হয়েছে। এই বিশেষ আয়োজনের কারণে এবার আমাদের মন্ডপ আরও অনেক বেশি জমজমাট ও মুখরিত হয়ে উঠেছে। আমরা সবাইকে সপরিবারে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবারই চিরাচরিত প্রতিমা তৈরি করা হলেও এবার দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর চাহিদা মেনে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সুব্রত সরকার উচ্ছ¡াসের সঙ্গে বলেন, ‘সবাই বলত, আপনারা এবার একটু ব্যতিক্রম কিছু করেন। সবার মন জয় করার জন্যই আমরা এবার ধানের প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক মাস ১০ দিন। ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রতিমাটি গড়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি হবে ধরে নিয়েই আমরা সবকিছু ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি।’
মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রবীণ সদস্য পিন্টু কুমার বিশ্বাস এই মন্দিরের ঐতিহ্য ও দর্শকদের সাড়া নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই তেঁতুলতলার প্রাচীন মন্দিরে ১৯৯৮-৯৯ সালে সিংহের গর্জনের প্রতিমা করেছিলাম, আর এবার করলাম ধানের প্রতিমা। এটা দেখে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ছোট-বড় সবাই প্রচন্ড আনন্দিত ও উৎফুল্ল। দর্শকেরা আমাদের যে অভ‚তপূর্ব সাড়া ও উৎসাহ দিচ্ছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনে ধানের স্থান শীর্ষে। মাঠে পাকা ধানের শিষ দুলতে শুরু করলে কৃষকের ঘরে ঘরে যেমন নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে, তেমনি মন্ডপে দেবী দুর্গার গায়ে সোনালী ধানের এই অলংকার বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে গভীরভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আধুনিকতার ছোঁয়ায় কিছুটা দূরে সরে যাওয়া ঐতিহ্যকে মন্ডপে জীবন্ত করে তোলার এই প্রয়াস নতুন প্রজন্মের কাছে কৃষি সংস্কৃতি ও লোকজ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার এক অনবদ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ধানের শিষে সজ্জিত এই সোনালি দুর্গাপ্রতিমা কেবল একটি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম নয়; এটি কৃষি, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতার এক আনন্দময় উল্লাস।

Ads small one

নবগঠিত জেলা ছাত্রদলকে স্বাগত জানিয়ে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের মিছিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
নবগঠিত জেলা ছাত্রদলকে স্বাগত জানিয়ে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের মিছিল

কলারোয়া প্রতিনিধি: নবগঠিত সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলকে স্বাগত জানিয়ে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদল এর সভাপতি প্রার্থী মোঃ আবির হোসেন এর নেতৃত্বে শুভেচ্ছা মিছিল বের করা হয়েছে।

১৬ অক্টোবর ২০২৬ ইং শুক্রবার বিকেলে কলারোয়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোঃ আবির হোসেনের নেতৃত্বে শুভেচ্ছা মিছিলটি কলারোয়া পৌর সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

মিছিলে অংশগ্রহণ করে কলারোয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক সোহানুর রহমান আকাশ, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্ত, কেরালকাতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত, ৪ নম্বর লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মুজাহিদ, কলারোয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক অংকুর রহমানসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

এ সময় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মিছিলটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। মিছিল শেষে কলারোয়া সরকারি কলেজ বাসস্ট্যান্ডে নেতাকর্মীরা নবগঠিত জেলা ছাত্রদলের নেতৃত্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বক্তব্য রাখেন।

সাতক্ষীরায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘এলিট ফিটনেস জিম’-এর উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ‘এলিট ফিটনেস জিম’-এর উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার অর্ঘ প্লাজার পঞ্চম তলায় সর্বাধুনিক সরঞ্জাম সম্বলিত ‘এলিট ফিটনেস জিম’-এর যাত্রা শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার বিকেলে এক দোয়ার মধ্য দিয়ে সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।

মাদককে না বলুন শরীর চর্চাকে হ্যা বলুন এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ফিটনেস সরঞ্জামের পাশাপাশি নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক সময়ে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে শরীরচর্চার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ ছাড় হিসেবে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো ভর্তি ফি ছাড়াই মাসিক ৮০০ টাকা ফি প্রদান করে জিম ব্যবহারের সুবিধা পাবেন গ্রাহকেরা। এখানে সার্বক্ষণিক লিফটের ব্যবস্থা আছে।

কার্তিকের আগমন ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় প্রস্তুতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
কার্তিকের আগমন ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যময় প্রস্তুতি

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: পঞ্জিকা মতে শরৎকাল শেষ হয়ে হেমন্তকালের সূচনা হয়েছে। বাংলা ঋতুচক্রের এই সন্ধিক্ষণে গ্রামীণ সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ঐতিহ্যবাহী রীতিনীতি ও উৎসবে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিশেষ করে মাঠের ধান পাকা শুরু হওয়ার এই সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোতে নানামুখী লোকজ আচার পালিত হয়। এ সময় গ্রামীণ নারীরা বাড়িতে শোলা দিয়ে নানা রঙের ফুল ও প্রতীকী উপকরণ তৈরি করে থাকেন। দেখতে কাগজের মতো মনে হলেও এগুলো দিয়ে ধানের শিষ ও ক্ষেতের ফসল সাজানোর অনন্য এক ঐতিহ্য রয়েছে।