শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

শিক্ষকের দেয়া বই পেয়ে উপকূলে নারী শিক্ষায় অন্য জাগরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
শিক্ষকের দেয়া বই পেয়ে উপকূলে নারী শিক্ষায় অন্য জাগরণ

আতরজান মহিলা কলেজে শিক্ষার আলোয় বদলে যাওয়ার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

পত্রদূত ডেস্ক: নারী শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘণ আয়োজন। উপজেলার একমাত্র নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘শ্যামনগর আতরজান মহিলা কলেজ’-এর ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে নতুন ভর্তিকৃত সকল শিক্ষার্থী, বিশেষ করে দেড় শতাধিক গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বইসহ যাবতীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

 

কলেজের শিক্ষকবৃন্দের নিজস্ব অর্থায়ন এবং সুভানুধ্যায়ীদের সার্বিক সহযোগিতায় বেলা ১১টায় কলেজ ভবনের তৃতীয় তলাস্থ কলেজ মিলনায়তনে এ শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। একই সাথে অনুষ্ঠিত হয় তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমগ্র আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ জি. এম. আমির হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ আমীর হোসেন বলেন, “নারী শিক্ষাকে এগিয়ে নিতে এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে শিক্ষকমণ্ডলী ও সুভানুধ্যায়ীদের এই যৌথ উদ্যোগ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব এস. এম. আফজালুল হক বলেন, “এই অঞ্চলের নারীদের সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে ঝরে না পড়ে, সে বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” দেশ টিভি’র স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন বলেন, “শিক্ষকদের নিজেদের অর্থায়নে শিক্ষার্থীদের বই কিনে দেওয়ার এমন মহতী উদ্যোগ সমাজ ও শিক্ষার উন্নয়নে অনুকরণীয় অবদান রাখবে। এই আয়োজন উপকূলের নারী শিক্ষার জাগরণে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

 

সার্বিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে কলেজের সভাপতি ও বাংলাদেশ সরকারের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এড. মাসুদুল আলম দোহা বলেন, “মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব; এই ধরনের সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

 

সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, সিনিয়র শিক্ষক মানবেন্দ্র দেবনাথ। সঞ্চালকের বক্তব্যে সিনিয়র শিক্ষক মানবেন্দ্র দেবনাথ বলেন, “শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য; আজকের আয়োজন শিক্ষার্থীদের নতুন প্রেরণা জোগাবে।”

 

সহযোগিতা ও ভালোবাসায় অভিভূত হয়ে শিক্ষার্থীরা তাঁদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বিনামূল্যে সম্পূর্ণ সেট বই হাতে পেয়ে শিক্ষার্থী তামান্না পারভিন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “নতুন ক্লাসে উঠে সব বই কেনা আমাদের অনেকের জন্যই খুব কঠিন ছিল; শিক্ষকদের এমন মানবিক সহায়তায় আমাদের পড়াশোনার দুশ্চিন্তা দূর হলো।” শিক্ষা উপকরণ গ্রহণের পর লিতুনজিরা আক্তার কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “শিক্ষকদের এই স্নেহ ও উপহার আমাদের ভবিষ্যতে অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে, আমরা তাঁদের কাছে আজীবন ঋণী।” এছাড়া শিক্ষার্থী ঋতু রাণী সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ জীবনের শুরুতেই স্যারদের এমন উপহার পেয়ে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত; আমরা যেন ভালো ফলাফল করে কলেজের সুনাম রাখতে পারি, সেই দোয়া চাই।”

 

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মো: শাহজাহান খান, মো: সহিদুল ইসলাম, এম. এম. সিরাজুল ইসলাম, কুমারেশ মণ্ডল, দেবপ্রসাদ মণ্ডল, কৃষ্ণা কুমারী রায়, এস. এম. আবু দাউদ, মনোরঞ্জন বৈদ্য, কল্পনা মণ্ডল, জি. এম. মাহবুব আলম, ডালিয়া পারভিন, কিশোর কুমার মণ্ডল, জি. এম. ওমর ফারুক, আশুতোষ রায়, নিউটন মজুমদারসহ সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ।

 

আলোচনা সভা ও বই বিতরণ কর্মসূচি শেষে কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়, যা পুরো আয়োজনকে উৎসবমুখর করে তোলে।

Ads small one

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শতাধিক পরিবারের মাঝে নিউ কৃষি ঘরের নগদ অর্থ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে শতাধিক পরিবারের মাঝে নিউ কৃষি ঘরের নগদ অর্থ বিতরণ
​দীপঙ্কর বিশ্বাস: শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও দেবহাটায় শতাধিক দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করেছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ‘নিউ কৃষি ঘর’-এর স্বত্বাধিকারী গৌতম মন্ডল ।
উৎসবের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এবং শারদীয় এই উৎসবে অস্বচ্ছল পরিবারগুলো যেন স্বস্তিতে আনন্দ উদ্‌যাপন করতে পারে, সেই উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজের দুস্থ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও শতাধিক পরিবারের হাতে এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
​সহায়তা পেয়ে আনন্দিত উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং নিউ কৃষি ঘরের স্বত্বাধিকারীর এই মহৎ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে দুর্গোৎসব শুরু
সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি:  শ্যামনগর উপজেলায় আলোকসজ্জা,সুসজ্জিত প্যান্ডেল ও বর্ণিল আয়োজনে ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গোৎসব শুরু হয়েছে। শুক্রবার(১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে উপজেলার মন্ডপে মন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ভক্তবৃন্দ তথা দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ পুজা উদ্যাপন পরিষদ শ্যামনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.কৃষ্ণ পদ মন্ডল জানান চলতি বছরে উপজেলার বারটি ইউনিয়নে ৭১টি মন্ডপে শারদীয়া দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত বছরের চেয়ে এবার দুর্গা পুজার মন্ডপ সংখ্যা বেড়েছে। গতবার মন্ডপ সংখ্যা ছিল ৭০টি। এবার নতুনভাবে পূজা হচ্ছে ৪টি মন্ডপে। আর গতবারে অনুষ্টিত পূজা মন্ডপ থেকে ৩টি কমে গেছে বলে জানান সাধারণ সম্পাদক ।

শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মন্ডপে আকর্ষণীয় করার লক্ষে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে মন্ডপ গুলোতে। যেমন উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির প্রাঙ্গনে কর্নফুলী ট্যানেলের অনুরুপ ট্যানেলের মধ্য দিয়ে শিবদূতী মহামায়া দেবী দুর্গা প্রতিমা দর্শন, হরিনগর বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্ডপে আকর্ষণ ডিজিটাল লাইটিং ও ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তি দ্বারা সমৃদ্ধ সজ্জা, সোনাখালী ভৈরবনগর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপে থাকছে আধুনিক আলোকসজ্জা সহ চলন্ত প্রতিমা,ভেটখালী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ভারতের উত্তর বঙ্গের আসামের ভৈরবী মন্দিরের অণুকরণে সু-সজ্জিত লাইটিং ও প্যান্ডেল তৈরী, নওয়াবেঁকী বড়কুপট সার্বজনীন দূর্গা মন্দিরে নবদূর্গা তৈরী করা হয়েছে,দয়ালচাঁদ সেবাশ্রম দক্ষিণ বড় কুপট সার্বজনীন মন্দিরে ভারতের ওড়িশা রাজ্যের মুক্তেশর মন্দিরের অণুকরণে ২৪ ফুট দীর্ঘ নৃসিংহ অবতারের মাঝে চিত্ররুপা প্রতিমা তৈরী, ভেটখালী দক্ষিণপাড়া সার্বজনীনপূজা কমিটি ভারতের আসামের ভৈরবী মন্দিরের অণুকরণে তৈরী করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন মন্ডপে  দুর্গোৎসব উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উপজেলার সকল মন্ডপে সরকারি ও বেসরকারীভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদ সম্পাদক আরও বলেন উপজেলার বৃহৎ মন্ডপ গুলি হল নকিপুর হরিতলা সার্বজনীন দুর্গা পূজা মন্ডপ, আড়পাঙ্গাশিয়া রাস মন্দির দুর্গা পূজা মন্ডপ, হরিনগর বাজার দুর্গা পূজা মন্ডপ, মধ্য কুলতলী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নওয়াবেঁকী দুর্গা পূজা মন্ডপ, কুপট বৈদ্য বাড়ী ও মন্দিরঘাট দুর্গা পূজা মন্ডপ, ধূমঘাট শীলতলা দুর্গা পূজা মন্ডপ, ভেটখালী দক্ষিণপাড়া দুর্গা পূজা মন্ডপ।

এদিকে দুর্গা পূজা মন্ডপ গুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেক মন্ডপ গুলিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিকল্প বিদ্যুৎ জেনারেটর ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা সহ অন্যান্য ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী বলেন শারদীয়া দুর্গোৎসব উপলক্ষে প্রত্যেকটি মন্ডপে কয়েকস্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মন্ডপে মন্ডপে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যাক স্বেচ্ছাসেবক থাকছে।

পুরোহিত হরপ্রসাদ জানান এবার দুর্গা পূজার সময়সূচী অনুযায়ী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার দুর্গা দেবীর বোধন,পূজা আরম্ভ, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর মহাসপ্তমী, ১৯ অক্টেবর মহাঅস্টমী, ২০ অক্টোবর মহানবমী এবং ২১ অক্টোবর বুধবার দশমী পূজা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয়া দুর্গোৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে বিশেষ করে হিন্দুধর্মালম্বীদের পরিবারে উৎসবের আমেজ পড়ে গেছে। বাজারে পোষাকের দোকানগুলোতে নতুন পোষাক ক্রয় বিক্রয়ের ভীড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

মুক্তমত: সাতক্ষীরায় উন্নয়ন অদৃশ্য-দৃশ্যমানটা কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরায় উন্নয়ন অদৃশ্য-দৃশ্যমানটা কী?

মোঃ হাফিজুল ইসলাম

সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড-সবখানেই তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে। সাধারণ মানুষের সমস্যা, রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান-সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার বিষয়।

একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব কেবল নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অর্থ হলো, জনগনের কল্যাণে সংসদে আইন প্রণয়ন করা, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে সরকারি সভা-সেমিনার, উন্নয়ন পর্যালোচনা সভা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি জনস্বার্থে সমন্বয় বাড়াতে পারে। সেখানে সংসদ সদস্যের উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানাটাও জরুরি।

প্রশ্ন হচ্ছে, সাতক্ষীরার উন্নয়ন নিয়ে যখন জনমনে নানা প্রশ্ন, তখন উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরার উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান? সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি কম থাকলে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানে তাঁর সক্রিয়তা কতটা-সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।

অবশ্য, সব উন্নয়ন একজন সংসদ সদস্যের একক সিদ্ধান্তে হয় না। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে, প্রতিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাই একজন জনপ্রতিনিধির কর্মদক্ষতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। তবে জনগণের কাছে কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই প্রশ্নটা ব্যক্তিগত আক্রমণের নয়, জনস্বার্থের-সাতক্ষীরার উন্নয়নে কী কাজ হচ্ছে, কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং তার সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে?

উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র কোথায়? সরকারি অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিতি কেন? আর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা কোথায়?

উন্নয়নও যদি চোখে না পড়ে, জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিও যদি অনুভব করা না যায়-তাহলে সাতক্ষীরার মানুষ দৃশ্যমান হিসেবে কী দেখবেন? এ প্রশ্নের উত্তর বক্তব্যে নয়, কাজের মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।

এটি নিছক ব্যঙ্গ নয়; বরং একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা, দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনার আহ্বান। এ প্রশ্নের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে এমন কিছু কাজ, যার সুফল সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ নিজেরাই অনুভব করতে পারবেন।

মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সংবাদকর্মী