শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫০ অপরাহ্ণ
শতবর্ষের দোরগোড়ায় শামসুর রাহমান

তারিক ইসলাম

২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী। আর মাত্র তিন বছর পর, ২০২৯ সালে, বাংলা সাহিত্যের এই দিকপাল পা দেবেন জন্মশতবর্ষে। কবির মৃত্যুর প্রায় দুই দশক পর তাঁর জন্মবার্ষিকী নিয়ে আলোচনা কেবল প্রথাগত শ্রদ্ধা নিবেদন কিংবা স্মৃতিচারণের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না, থাকাও উচিত নয়। বরং কালপঞ্জির এই বিশেষ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাঁর সৃষ্টি ও বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তরাধিকারের আলোকে আমাদের বর্তমানকে বোঝার আন্তরিক চেষ্টা চালানো জরুরি। একই সঙ্গে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—কবির জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপনে আমাদের জাতীয় প্রস্তুতি কতটুকু?

শামসুর রাহমান কেবল বিপুল সৃষ্টিশীলতার অধিকারী একজন কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন আধুনিক বাঙালির আত্মপরিচয় ও মুক্তবুদ্ধির অন্যতম আলোকবর্তিকা। নাগরিক জীবন ও নিভৃত প্রেমের সূক্ষ্ম অনুভূতির পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের প্রতিটি ঐতিহাসিক বাঁকে তাঁর কলম ছিল সোচ্চার। ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ কিংবা নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন—প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামেই তাঁর কবিতা হয়ে উঠেছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিধ্বনি।

‘স্বাধীনতা তুমি’ কিংবা ‘তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা’—এগুলো শুধু কালজয়ী কবিতা নয়; স্বাধীন বাংলাদেশের রক্তঝরা ইতিহাস ও চেতনার অমর দলিল।

কোনো নির্দিষ্ট সংকীর্ণ মতাদর্শে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি আজীবন অন্যায়, ধর্মান্ধতা ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তচিন্তার পক্ষে অবস্থান নিতে গিয়ে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিতেও তিনি কখনো দ্বিধা করেননি।

আজকের জটিল সামাজিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে শামসুর রাহমানের অবদানের গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্পষ্ট। আমরা যখন নৈতিক সংকট, সহনশীলতার অভাব এবং মতপ্রকাশের নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, তখন কবির সেই আপসহীন সামাজিক দায়বদ্ধতা আমাদের পথ দেখাতে পারে। তাঁর সাহিত্য বারবার মনে করিয়ে দেয়, একজন কবির কাজ কেবল নান্দনিক শব্দমালা সাজানো নয়; বরং সমাজের কল্যাণ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি দায়বদ্ধ থাকাও শিল্পের অন্যতম দায়িত্ব।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, ২০২৯ সালে কবির জন্মশতবার্ষিকী উদ্‌যাপনে আমরা কতটা প্রস্তুত? শামসুর রাহমানের বিপুল সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণ এবং বিশ্বদরবারে নতুন করে তুলে ধরার উদ্যোগ এখনো প্রত্যাশিত গতি পায়নি। জন্মশতবর্ষের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলককে সামনে রেখে এখনই কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

১. ডিজিটাল আর্কাইভ ও প্রামাণ্য রচনাবলি: কবির ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কবিতা, গদ্য, কলাম, অনুবাদ ও সাক্ষাৎকার প্রামাণ্যভাবে সংকলন করে আধুনিক ডিজিটাল আর্কাইভে সংরক্ষণ করা।

২. আন্তর্জাতিক মানের অনুবাদ: বিশ্বের প্রধান ভাষাগুলোতে তাঁর নির্বাচিত কবিতা ও গদ্যের মানসম্মত অনুবাদের ব্যবস্থা করা, যাতে আন্তর্জাতিক সাহিত্যাঙ্গনে তাঁর সাহিত্যকর্ম নতুন করে মূল্যায়িত হয়।

৩. তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো: বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গভীর গবেষণার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁর মুক্তচিন্তা ও সাহিত্যকর্মের মূল বার্তা পৌঁছে দেওয়া।

৪. স্মৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ: পুরান ঢাকার যে পরিবেশে কবি তাঁর কালজয়ী সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন, সেই ঐতিহাসিক স্থানগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা এবং সেগুলোকে সাহিত্যচর্চা ও গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

শামসুর রাহমান আমাদের কাছে কেবল অতীতের কোনো ধ্রুপদি স্মৃতি নন; তিনি বর্তমানকে অনুধাবন করা এবং ভবিষ্যতের পথ খুঁজে নেওয়ার এক অবিনশ্বর বাতিঘর। তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তাঁকে কেবল আনুষ্ঠানিকতার ফ্রেমে আটকে রাখব না। বরং তাঁর অসাম্প্রদায়িক দর্শন, মুক্তচিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে জীবন্ত রাখব। জন্মশতবর্ষের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই বোধ ধারণ করাই হবে কবির প্রতি আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধা।

লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।

Ads small one

জাতিসংঘ দিবস: বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়নে ঐক্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘ দিবস: বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার ও উন্নয়নে ঐক্য

সাকিবুর রহমান বাবলা

২৪ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী পালিত হয় জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের এই দিনে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে বিশ্বশান্তি, নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান জাতিসংঘ। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৪ অক্টোবরকে জাতিসংঘ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। একই দিনে পালিত হয় বিশ্ব উন্নয়ন তথ্য দিবস। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের লক্ষ্য, অর্জন ও কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতা এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বনেতাদের একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনে উদ্বুদ্ধ করে। ১৯৪১ সালের ১২ জুন লন্ডনের সেন্ট জেমস প্রাসাদে গৃহীত ঘোষণা, একই বছরের ১৪ আগস্ট আটলান্টিক সনদ এবং ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি প্রকাশিত ‘ডিক্লারেশন বাই ইউনাইটেড নেশনস’-এর মাধ্যমে নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট ‘ইউনাইটেড নেশনস’ নামটি প্রস্তাব করেন। ১৯৪৩ সালের মস্কো ও তেহরান সম্মেলন এবং ১৯৪৪ সালের ডাম্বার্টন ওকস সম্মেলনে সংস্থাটির কাঠামো নিয়ে আলোচনা হয়।

১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়াল্টা সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো ও স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা নিয়ে সমঝোতা হয়। এরপর ২৫ এপ্রিল থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে ৫০টি দেশের প্রতিনিধিরা জাতিসংঘ সনদ প্রণয়ন ও স্বাক্ষর করেন। পরে পোল্যান্ডের স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫১। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যসহ প্রয়োজনীয়সংখ্যক রাষ্ট্রের অনুমোদনের পর ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি, মানবাধিকার রক্ষা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

বর্তমান বিশ্বে জাতিসংঘের ভূমিকা একই সঙ্গে অপরিহার্য ও সমালোচনাবিদ্ধ। ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা ও লেবাননের সংকট এবং সুদানের গৃহযুদ্ধের মতো সংঘাত মোকাবিলায় সংস্থাটির সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের ভেটো ক্ষমতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ সম্প্রসারণের দাবি, অর্থসংকট এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কার্যকর জবাবদিহির অভাবও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। তবে জাতিসংঘ কোনো বিশ্বসরকার নয়; সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ ও সদিচ্ছার ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভরশীল।

রাজনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণে জাতিসংঘের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খাদ্যসহায়তা দেয়, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষায় কাজ করে এবং ইউনিসেফ শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারি প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে, ইউনেস্কো শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এবং ইউএন উইমেন নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখে। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করে। পাশাপাশি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে এবং জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলনগুলো বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জাতিসংঘের আরেকটি প্রধান উদ্যোগ হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন। দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূরীকরণ, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা, সুস্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বৈষম্য হ্রাস এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। একই সঙ্গে শান্তিরক্ষা মিশন, নিরস্ত্রীকরণ উদ্যোগ, সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংঘাত প্রশমনের চেষ্টা চালানো হয়। যুদ্ধ ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও আশ্রয় পৌঁছে দেওয়াও জাতিসংঘের অন্যতম মানবিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের সম্পর্কও অত্যন্ত নিবিড়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা এবং স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ভূমিকা রাখে। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে যোগ দেয়। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ অর্জনে বাংলাদেশের উদ্যোগ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনবিষয়ক ট্রাইব্যুনালের রায়ে মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের নিষ্পত্তিও বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ ১৯৭৯–১৯৮০ এবং ২০০০–২০০১ মেয়াদে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। ২০২৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তাঁর পূর্বসূরি ছিলেন জার্মানির আনালেনা বেয়ারবক। ১৯৮৬ সালে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরীর পর তিনি দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন।

বিশ্বশান্তি রক্ষায় বাংলাদেশের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান, লেবানন, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের দুই লক্ষাধিক শান্তিরক্ষী বিভিন্ন সময়ে জাতিসংঘের মিশনে অংশ নিয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামো, জলবায়ু কূটনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহায়তা, শিশুস্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন ও নিরাপদ অভিবাসনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশে জাতিসংঘের প্রায় ২৪টি যৌথ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

জাতিসংঘ দিবস কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়; এটি মানবতা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার ও আন্তর্জাতিক সংহতির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। যুদ্ধ বন্ধ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের সংস্কার ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি জরুরি। একই সঙ্গে সদস্যরাষ্ট্রগুলোর সদিচ্ছা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মিলিত উদ্যোগ অপরিহার্য। মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সহযোগিতার পথ সুদৃঢ় করতে পারলেই জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠাকালীন স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা—জাতিসংঘ হোক সবার জন্য শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও উন্নয়নের কার্যকর মঞ্চ।

কলারোয়া সীমান্তে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকার চোরাচালানি মালামাল জব্দ

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল পৃথক অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানিক দল সীমান্ত পিলার ১৩/৩-এস-এর ৬ আরবি থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভাদিয়ালি এলাকা থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ঔষধ জব্দ করে।

অন্যদিকে, মাদরা বিওপির আভিযানিক দল একই সীমান্ত পিলারের ৮ আরবি থেকে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তেতুলতলা এলাকা থেকে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। দুই অভিযানে জব্দ করা মালামালের মোট মূল্য ৮ লাখ ২০ হাজার টাকা।

বিজিবি জানায়, শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে এসব পণ্য বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। এ ধরনের চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

চোরাচালান প্রতিরোধ, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে বিজিবির এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অভিযানে স্থানীয় জনগণ সন্তোষ প্রকাশ করে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

দেবহাটায় আট অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা ও নতুন ঘর উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৯ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় আট অসহায় ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা ও নতুন ঘর উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার দেবহাটায় আটজন অসহায় ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৮০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক প্রবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় নির্মিত শহীদ হোসেন আলীর নতুন বাড়ি উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেবহাটা উপজেলা শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সহায়তার চেক বিতরণ ও নতুন বাড়ি উদ্বোধন করেন সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা শাখার সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা অলিউল ইসলাম, সেক্রেটারি এইচ এম ইমদাদুল হক, সহকারী সেক্রেটারি সোলায়মান হোসাইন, জিয়াউর রহমান জিয়া, সখিপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী সরদার, সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনউদ্দীন ময়না, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ বাশার, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক তরফদারসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

আয়োজকেরা জানান, অসহায় মানুষের আর্থিক সংকট মোকাবিলা এবং গৃহহীন পরিবারের আবাসনের ব্যবস্থা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।