মামুনুর রশিদ খান, মনিরামপুর (যশোর): দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ইতি টেনে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। পরিবারের জন্য কেনা উপহার আর স্বজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ নিয়ে রওনা হয়েছিলেন বিমানবন্দরের পথে। কিন্তু মাঝপথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা তছনছ করে দিল সব স্বপ্ন। সৌদি আরবের রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত যশোরের হামিদপুর গ্রামের সন্তান আবু সাঈদ এখন মৃত্যুশয্যায়। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর অবস্থা ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে এবং বর্তমানে তাঁকে লাইভ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।
আবু সাঈদ যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর দক্ষিণপাড়ার গনি মোল্লার ছোট ছেলে এবং সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের চাচাতো ভাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদ দীর্ঘ দিন ধরে রিয়াদের একটি সুপার শপে কর্মরত ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওই সুপার শপটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তিনি বেশ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। একদিকে কর্মহীন হওয়ার মানসিক চাপ, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে থিতু হওয়ার পরিকল্পনা-সব মিলিয়ে গত ২১ এপ্রিল তিনি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়তি তাঁর জন্য অন্যকিছু লিখে রেখেছিল।
বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে আবু সাঈদ ও তাঁর তিন সহকর্মীকে বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ঘটনাস্থলেই তাঁর দুই সহকর্মী মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি আরবের বিশেষ উদ্ধারকারী দল ‘দিফা আল-মাদানি’ (সিভিল ডিফেন্স) দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবু সাঈদ ও আরও একজনকে উদ্ধার করতে অত্যাধুনিক হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করেন। একই সময়ে সৌদি ট্রাফিক পুলিশ-এর সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেন এবং লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির প্রাথমিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আবু সাঈদের শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি, বরং ধীরে ধীরে তা অবনতির দিকে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি লাইভ সাপোর্টে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন।
ছেলের ফেরার প্রতীক্ষায় থাকা হামিদপুর গ্রামের গনি মোল্লার বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল। যে মানুষটির কয়েক ঘণ্টা পর বাড়িতে থাকার কথা ছিল, তাঁর লাইভ সাপোর্টে থাকার খবর আসার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আবু সাঈদের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং গ্রামবাসী তাঁর জীবন রক্ষার্থে বিশেষ দোয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে হামিদপুরসহ আশপাশের এলাকার সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।