বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

পাইকগাছায় এসিল্যান্ড নেই, ভূমিসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৫০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় এসিল্যান্ড নেই, ভূমিসেবা পেতে চরম ভোগান্তিতে মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): জমির মালিকানা আছে, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও প্রস্তুত। কিন্তু নামজারি কিংবা জমাভাগের কাজ শেষ করতে অপেক্ষার যেন শেষ নেই। কেউ পৈতৃক সম্পত্তি নিজের নামে রেকর্ড করতে চান, কেউ জমি কেনার পর নামজারি করতে গিয়ে পড়েছেন অনিশ্চয়তায়। আবার কারও প্রয়োজন জমির সীমানা নির্ধারণ, কারও জরুরি শুনানি। এসব সেবা পেতে খুলনার পাইকগাছা উপজেলা ভূমি অফিসে এসে বাড়তি ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের পদটি শূন্য রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ এ পদে কর্মকর্তা না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এতে উপজেলা প্রশাসনের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। ফলে ভূমিসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ভূমি অফিসের সেবা মানুষের সম্পত্তির অধিকার ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। নামজারির আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে জমির মালিকানা হালনাগাদ আটকে যায়। এর প্রভাব পড়ে জমি কেনাবেচা, ব্যাংকঋণ গ্রহণ ও উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন কাজে। একইভাবে জমাভাগ, আপত্তির শুনানি ও ভূমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হলে দীর্ঘায়িত হয় মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পত্তিসংক্রান্ত জটিলতা।

জানা গেছে, এসিল্যান্ডের পদ শূন্য থাকায় এসব কার্যক্রমের অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে ইউএনওর ওপর। ফলে উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভূমি অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রমও সমন্বয় করতে হচ্ছে তাঁকে।

নামজারি ও জমাভাগের আবেদন নিষ্পত্তি, শুনানি গ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায় তদারকি, সরকারি খাসজমি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং ভূমিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে এসিল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ পদে কর্মকর্তা না থাকলে এসব কার্যক্রমে সমন্বয় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পাইকগাছা সদরের বাসিন্দা আবির মল্লিক বলেন, পাইকগাছার মতো উপকূলীয় উপজেলায় সরকারি খাসজমি, জলাশয়, কৃষিজমি ও বিভিন্ন সম্পত্তির দখল নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ জরুরি। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদ শূন্য থাকলে মাঠপর্যায়ে নজরদারি ও অভিযোগ যাচাইয়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সদরের আরেক বাসিন্দা সমীর রাহা বলেন, ভূমিসংক্রান্ত মামলার শুনানি, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রশাসনিক সহযোগিতা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসিল্যান্ডের অনুপস্থিতি শুধু একটি পদ শূন্য থাকার বিষয় নয়, এর প্রভাব পুরো ভূমি প্রশাসনের কার্যক্রমে পড়তে পারে।

সেবাগ্রহীতা হাফিজুর রহমান জানান, জমির নামজারি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ নিয়ে তাঁকে ভূমি অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট পদে কর্মকর্তা না থাকায় কাজের অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। সময়মতো কাজ শেষ না হলে জমিসংক্রান্ত পরবর্তী কার্যক্রমেও সমস্যায় পড়তে হবে।

আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ভূমি অফিসে আসতে যাতায়াত খরচ ও সময় দুটোই ব্যয় হয়। একদিনে কাজ শেষ না হলে আবার আসতে হয়। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ে। দ্রুত নতুন এসিল্যান্ড পদায়ন করে ভূমিসেবার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফজলে রাব্বী ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর পাইকগাছায় যোগদান করেন। প্রায় এক বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০২৬ সালের অক্টোবরে তাঁকে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় বদলি করা হয়। ১ অক্টোবর বদলির আদেশের পর ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টায় তিনি বটিয়াঘাটা উপজেলা ভূমি অফিসে যোগদান করেন।

নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী জানান, নতুন ব্যাচের ভূমিসংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কর্মকর্তা পদায়ন সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।

অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২৪ ঘণ্টায় তো চাপ থাকে।’ উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক দায়িত্বের পাশাপাশি ভূমি প্রশাসনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে তাঁকে। তবে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সেবাপ্রত্যাশীদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সচেষ্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশাসনিক পদ শূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সেই চাপের প্রভাব যেন সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে নামজারি, জমাভাগ, শুনানি ও ভূমিসংক্রান্ত জরুরি আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন। দ্রুত নতুন কর্মকর্তা পদায়নের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সময়ে ভূমিসেবার স্বাভাবিক গতি বজায় রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Ads small one

টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গুলি বিনিময়ে সেনাসদস্য নিহত

কক্সবাজার টেকনাফে মানবকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রশ্নে বাংলাদেশ পাচারের এক সদস্য যোগদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকালে রঙ্গীখা ঘূর্ণিঝড় পাহাড়ে এ প্রচারণা।

চতুষ্পদসদস্যের নাম মো. তাতাস শেখ (২৭)। তিনি একপর্যায়ে বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হন। নিখুঁত রক্তক্ষরণে কার্যকরী তাকে উদ্ধার করে পরীক্ষা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত প্রতিষ্ঠান (সিএমএইচ), রাতে নেওয়া হলে ধর্মীয় তাকে মর্যাদা দেন।

আন্তঃ বৃহৎ জনসংযোগ পরিদফের (আইএসপিআর) তথ্যের তথ্য অনুযায়ী, গো মানবা খবরে খবর পাওয়া যায়, রাণীখালী গভীর পাহাড়ে ১৫ থেকে ১৬ এর একটি সশস্ত্রী দল প্রায় ১২০ জন ও বাংলাকে জিম্মি করে তুলেছে। এ তথ্যের প্রকাশক বাংলাদেশভির ১০ পদাতিক ডিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিটী) ও স্থানীয় পুলিশ সদস্য গঠিত দল আভিযান বিজানা বিক্রেতা বিক্রেতা আকালানুক্রমিক প্রকাশ্য।

এ সময় পাওয়ার সদস্য সস্ত্রীক উপস্থিতি টেরটি মানবপাচারকারী এপাতাড়ি চালায়। ব্যাঙ্গ পার্টির মধ্যে ব্যবহার করা হয়।

যুদ্ধে সেনা বার থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এ ছাড়া পাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যের দল এবং জিম্মিকে ৫৭ পরিস্থিতি উদ্ধার করা হয়।

ধর্মরত সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের কথা বলা বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা জানাতে। একই সাথে তার বিহীর আত্মার মাগফিরাত কামনা গভীর এবং শোকসন্তান সদস্যদের প্রতি সমবেদনা।

ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ট্রাম্প-ভ্যান্স দূরত্ব বাড়ছে, হারের পর রিপাবলিকানদের মধ্যে চরম কোন্দল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বিশাল পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ বিভেদ প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ, সিনেট, গভর্নর ও অঙ্গরাজ্য আইনসভাগুলোতে শোচনীয় হারের প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে এই দুই শীর্ষ নেতা পরোক্ষভাবে একে অপরকে দোষারোপ করছেন।

সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেওয়া এক দীর্ঘ ও সতর্ক বার্তায় জেডি ভ্যান্স মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, আমেরিকা ফার্স্ট নীতির অনুপস্থিতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। ট্রাম্প যেখানে টানা কয়েক মাস ধরে ইরান যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন, সেখানে ভ্যান্সের প্রকাশ্যে এই স্বীকারোক্তি মার্কিন সামরিক অভিযানের দেশীয় নেতিবাচক প্রভাবকেই স্পষ্ট করে তুলেছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন যে ইরান যুদ্ধ নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে, তবে এ নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই জানিয়ে বলেন, সুযোগ পেলে তিনি আবারও একই কাজ করবেন।

ভ্যান্সের বিশ্লেষণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প অস্পষ্ট উত্তর দিয়ে বলেন, আমি জানি ও কীভাবে দেখে। আমার মনে হয় এটি ঠিকই ছিল। আমরা জানতাম পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে ওদের থামানো গেছে এবং তারা আর কখনও তা পারবে না।

এর পরেই তিনি মন্তব্য করেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভ্যান্স ‘হয়তো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।’ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হয়তো সে লড়বে না, আমি জানি না কে লড়বে। তবে যুদ্ধের বিষয়ে আমি বলতে পারি, আমি আলাদা কিছু করতাম না।

ভ্যান্সের এই বক্তব্যকে ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেকে খানিকটা আলাদা করার চেষ্টা হিসেবে দেখা হলেও প্রশাসন থেকে তিনি পুরোপুরি মুক্ত হতে পারছেন না। অপর দিকে ভ্যান্স ২০২৮ সালে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন বলে যে গুঞ্জন ছিল, ট্রাম্পের এই মন্তব্য তাতে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে কেবল শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে নয়, নির্বাচনের এই ভরাডুবির পর পুরো রিপাবলিকান পার্টির মধ্যেই নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা নিয়ে তীব্র তর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস সতর্ক করে বলেছেন, দল যদি তার দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্মূল্যায়ন না করে তবে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাচনি ধাক্কার মুখোমুখি হতে হবে। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এক পডকাস্টে শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক সমস্যা শোনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের শুনতে হবে এবং সাড়া দিতে হবে। টেক্সাস এখন নীল হয়ে যাচ্ছে। শুল্কনীতি, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ এবং ডাটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনার মধ্যেও ক্রুজ সুর মিলিয়েছেন।

সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর মিট রমনি এক্স-এ ট্রাম্পের শুল্কনীতি, ‘আবেগপ্রবণ’ যুদ্ধ এবং দৃশ্যমান দুর্নীতির সমালোচনা করে লিখেছেন, বাজে নীতি এবং বাজে চরিত্র কখনও ভালো রাজনীতি তৈরি করে না। দেশ এবং আমার দলের সঠিক পথে ফেরার আশায় রইলাম।

সব মিলিয়ে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর রিপাবলিকান পার্টি এখন বড় ধাক্কার মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশলেই দল সামনে এগোবে, নাকি নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে, সেই লড়াই ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে এখনই শুরু হয়ে গেছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
দালাল স্ট্রিটে উৎসব, এক ঘণ্টায় লাভ ৭ লাখ কোটি রুপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট ইতিবাচক পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে ভারতের শেয়ারবাজারে। অপরিশোধিত তেলের তীব্র দরপতন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটার জোয়ার এবং মার্কিন শেয়ারবাজার ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাবের ওপর ভর করে বৃহস্পতিবার ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিশাল উত্থান ঘটেছে। লেনদেন শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই দালাল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের সম্পদ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপি বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক সেনসেক্স ১,৩০০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৬৩০ পয়েন্টে এবং নিফটি ৫০ সূচক ২৪,৩৫০ পয়েন্ট অতিক্রম করে। এটি ভারতের শেয়ারবাজারে টানা ষষ্ঠ কার্যদিবসের মতো দরবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখলো। সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ সেনসেক্স ১,৪০০ পয়েন্ট বেড়ে ৭৮,৭৩৫.৭৯ এবং নিফটি ৪৩১ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,৩৮৯.৫৫ পয়েন্টে পৌঁছায়।

লেনদেন শুরুর সময় সেনসেক্স তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মোট বাজারমূল্য ছিল ৪৯৩.৪৪ লাখ কোটি রুপি, যা এক ঘণ্টার মধ্যেই বেড়ে দাঁড়ায় ৫০০.৯১ লাখ কোটি রুপি, অর্থাৎ প্রায় ৭ লাখ কোটি রুপির নিট বৃদ্ধি। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ওভারনাইট লেনদেনে মার্কিন শেয়ারবাজার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর পর এই প্রভাব দেখা গেলো।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে শেয়ারবাজার বাড়ার প্রধান ৩ কারণ তুলে ধরা হয়েছে।

তেলের দামে ৮ শতাংশ ধস: ডেমোক্র্যাটদের বিজয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরান সংঘাত কমানোর দিকে হাঁটবে, বিনিয়োগকারীদের এমন প্রত্যাশায় ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮.৭ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৪ ডলারে নেমে আসে। তেল আমদানিনির্ভর ভারতের জন্য তেলের এই মূল্যহ্রাস আমদানি খরচ ও মূল্যস্ফীতি কমাবে এবং রুপিকে শক্তিশালী করবে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাবর্তন: বুধবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতে ৭,২৮৪ কোটি রুপির শেয়ার কেনেন, যা বিগত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে প্রায় ৯০,০০০ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রির পর নভেম্বরে এ পর্যন্ত তারা ১৭,০০০ কোটি রুপির বেশি বিনিয়োগ করেছেন।

ওয়াল স্ট্রিটের চাঙ্গা ভাব: রাজনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা কমার পর এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ১.৬ শতাংশ এবং ডাউ জোন্স প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে ঝুঁকির মাত্রা কমে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আয়নিক অ্যাসেটের গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রধান অঙ্কিতা পাঠক বলেন, নির্বাচনি ফলাফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি কিছুটা কমবে। তবে জানুয়ারিতে নতুন আইনপ্রণেতারা শপথ নেওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক প্রভাব স্পষ্ট হবে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, মার্কিন বন্ডের সুদ ও ডলার দুর্বল হলে উদীয়মান বাজার ও স্বর্ণ উপকৃত হতে পারে। তা সত্ত্বেও তিনি সতর্ক করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের ডেটা সেন্টার ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নতুন কংগ্রেসে নজরদারি বাড়তে পারে।

সূত্র: এনডিটিভি