শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩

বৈশাখী মেলা শেষে পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ দর্শনার্থীরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ অপরাহ্ণ
বৈশাখী মেলা শেষে পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ দর্শনার্থীরা

সাতক্ষীরার শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে ময়লার স্তুপ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে বৈশাখী মেলা শেষ হলেও এখনও পড়ে আছে ময়লার স্তুপ। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা অপসারণ না হওয়ায় পার্কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে দুর্গন্ধ, যা দর্শনার্থীদের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কের বিভিন্ন স্থানে মেলার সময় জমে থাকা প্লাস্টিক, খাবারের উচ্ছিষ্ট, কাগজসহ নানা ধরনের বর্জ্য স্তূপাকারে পড়ে আছে।

 

আজ তোলা ছবিতেও সেই ময়লার স্তুপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। দর্শনার্থীরা অভিযোগ করেন, মেলা শেষ হওয়ার পরও পার্ক পরিষ্কারে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ। তারা বলেন, “পৌরসভা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে।” প্রতিদিন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষদের এ পরিস্থিতিতে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মেলার সময় আশপাশের দোকান ও অস্থায়ী স্টল থেকে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ফেলা হয়েছে পার্কের ভেতরেই। কিন্তু সেগুলো অপসারণে নিয়মিত ব্যবস্থা না থাকায় ধীরে ধীরে ময়লার স্তুপ বড় হয়েছে।
পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী সালমা খাতুন জানান, শহরের অন্যতম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই পার্কে এমন পরিবেশ অগ্রহণযোগ্য। দুর্গন্ধের কারণে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে এখানে অবস্থান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

একজন দর্শনার্থী বলেন, “বৈশাখী মেলা শেষে পার্ক দ্রুত পরিষ্কার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও ময়লা পড়ে আছে। এতে পরিবেশ যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।”

পরিবেশবিদদের মতে, উন্মুক্ত স্থানে দীর্ঘদিন বর্জ্য পড়ে থাকলে তা থেকে রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে জনসমাগমস্থলে এমন পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, দ্রুত ময়লা অপসারণ করে পার্কটিকে আগের মতো পরিষ্কার ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

Ads small one

‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতেই বিদেশে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০৬ অপরাহ্ণ
‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিতেই বিদেশে কথা বলেছি: প্রধানমন্ত্রী

মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে জাতীয় সংসদে ফিরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিদেশ সফরের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতিকে সামনে রেখেই বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেছেন।
শনিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর তিনি এ মন্তব্য করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনগণ সরকারকে তাদের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা তিনি করেছেন। সফরে অর্জিত যেকোনো সাফল্য ব্যক্তিগত নয়, তা বাংলাদেশের এবং দেশের মানুষের অর্জন।

এর আগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সাফল্যের জন্য সংসদে ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান। পরে কণ্ঠভোটে এটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। তিনি সংসদের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ সফর দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করেছে।

সংসদে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলসহ সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে সংসদের এই সমর্থন তাকে আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। গত ২১ জুন তিনি মালয়েশিয়া সফরে যান এবং পরদিন চীন সফর শুরু করেন। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

সফরে চীনের সঙ্গে ১৭টি সমঝোতা স্মারক এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি সহযোগিতা দলিল বিনিময় হয়। সরকারের আশা, এসব সমঝোতার মাধ্যমে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতি পাবে।

লেবানন চুক্তিতে নিজেদের জয় দেখছেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০১ অপরাহ্ণ
লেবানন চুক্তিতে নিজেদের জয় দেখছেন নেতানিয়াহু

লেবাননের সঙ্গে হওয়া নতুন কাঠামোগত চুক্তিকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, আলোচনায় ইসরায়েলের প্রধান সব শর্তই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

ইসরায়েলের দৃষ্টিতে চুক্তির অন্যতম অর্জন হলো, লেবাননের তথাকথিত নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। দেশটির প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এলাকা নিয়ে গঠিত এই অঞ্চল থেকে ধাপে ধাপে সেনা প্রত্যাহারের কথা বলা হলেও এর জন্য কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বা শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়নি।

এ ছাড়া প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান চালানোর স্বাধীনতা এবং অবাধ চলাচলের সুযোগও বজায় থাকছে বলে মনে করছে ইসরায়েল।

এসব কারণে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চুক্তি নিয়ে সন্তুষ্ট। ইসরায়েলের সরকারেও এ নিয়ে উদ্যাপনের আবহ তৈরি হয়েছে।

ইসরায়েল-লেবানন ১৪ দফা চুক্তিতে যা থাকছেইসরায়েল-লেবানন ১৪ দফা চুক্তিতে যা থাকছে
এদিকে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে সামগ্রিকভাবে এ চুক্তিকে খারাপ সমঝোতা হিসেবে তুলে ধরা তাদের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসরায়েলের দৃষ্টিতে চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি লেবানন সরকার ও হিজবুল্লাহকে মুখোমুখি অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যদি লেবানন সরকারকে শক্তি প্রয়োগ করে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করতে হয়, তাহলে সেই দায়িত্ব ইসরায়েলের কাঁধে থাকবে না। এভাবে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ হলে লেবাননে গৃহযুদ্ধ শুরু হলেও সেটিকে ইসরায়েল সমস্যা হিসেবে দেখছে না।

রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ১৬ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ১১:০০ অপরাহ্ণ
রেকর্ড ভেঙে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ১৬ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের ১৩টি দানের সিন্দুক খুলে এবার মিলেছে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা। এছাড়াও মিলেছে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার।

সাড়ে ১৩ ঘণ্টা গণনা শেষে শনিবার (২৭ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‌‘সকাল ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত গণনা শেষে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া যায়।’

এর আগে শনিবার সকাল ৭টা থেকে দানবাক্স খোলার পর টাকা গণনা শুরু হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান এবং অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পাগলা মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৪৩ বস্তা টাকাপাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৪৩ বস্তা টাকা
টাকা গণনার কাজে অংশ নেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিন শ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংকের ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মসজিদ কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যসহ পাঁচ শতাধিক ব্যক্তি।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন বলেন, ‘পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে ব্যাংকে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা এবং অনলাইনে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা জমা আছে। এবারও অর্থ ব্যাংকে রাখা হবে।’

 

জেলা প্রশাসক আরও জানান, ‘মসজিদে দান করা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষিত আছে। সেগুলো সময়মতো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হবে। এ ছাড়া মসজিদের তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় ও জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়।’

মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের দূর-দূরান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে আসেন। প্রতি ৪-৬ মাস পর পর জেলা শহরের নরসুন্দা নদী তীরে পাগলা মসজিদের সিন্দুকগুলো খোলা হয়। এসব দানবাক্সে পাওয়া যায় বিপুল পরিমাণ টাকাপয়সা ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণালঙ্কার।

এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে সর্বোচ্চ ৩৫ বস্তা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার ও হীরাও মিলেছিল।