রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রকৃতির ঘড়িতেই আগে পাকছে সাতক্ষীরার আম, এবারও কি বদলাবে আম ক্যালেন্ডার?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
প্রকৃতির ঘড়িতেই আগে পাকছে সাতক্ষীরার আম, এবারও কি বদলাবে আম ক্যালেন্ডার?

পত্রদূত রিপোর্ট: দেশের মানচিত্রে আমের স্বাদ আর গন্ধে সবার আগে যে জেলাটির নাম উঠে আসে, তা হলো সাতক্ষীরা। ভৌগোলিক অবস্থান আর মাটির গুণাগুণের কারণে উত্তরের জেলাগুলোর অন্তত ১৫ দিন আগেই এখানে আম পাকে। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে ‘আম ক্যালেন্ডার’ বা আম পাড়ার নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে চাষি ও প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের স্নায়ুযুদ্ধ চলছে। প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে আম আগে পেকে গেলেও ক্যালেন্ডারের গেরোয় পড়ে অনেক সময় চাষিদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৬ সালেও কি গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় আম পাড়ার সময় আরও এগিয়ে আসবে?

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এবার জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি। সাতক্ষীরার আম কেন আগে পাকে-এ নিয়ে কৃষি বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা বেশ পরিষ্কার। তাঁরা বলছেন, এখানকার গড় তাপমাত্রা উত্তরের চেয়ে কিছুটা বেশি এবং মৌসুমি বায়ুর প্রভাবও আগে পড়ে। ফলে আম্রপালি বা হিমসাগর সাতক্ষীরায় যখন পেকে হলদে হয়, তখন রাজশাহীতে তা কেবল আঁটি বাঁধে।

অথচ অপরিপক্ব আমে রাসায়নিক মিশিয়ে বাজারজাত করা রোধে গত কয়েক বছর ধরে প্রশাসন আম পাড়ার একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক করে দিচ্ছে। কিন্তু গত তিন বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ক্যালেন্ডারের সেই তারিখ বারবার প্রকৃতির কাছে হার মেনেছে।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রতিবছরই আম পাড়ার তারিখ ৪ থেকে ৫ দিন করে এগিয়ে আনতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন।
২০২৩ সালে স্থানীয় জাতের আম পাড়ার সময় ছিল ১২ মে। ২০২৪ সালে সেই সময় ৩ দিন এগিয়ে নির্ধারণ করা হয় ৯ মে। ২০২৫ সালে আরও ৪ দিন কমিয়ে আনা হয় ৫ মে-তে। পরে আরো এক দফা কমানো হিমসাগর আম পাড়ার সময়।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৩ সালে সাতক্ষীরা জেলার আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, গোবিন্দভোগ, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়ার সময় নির্ধারিত ছিল ১২ মে, হিমসাগর ২৫ মে, ন্যাংড়া ১ জুন এবং আম্রপলি ১৫ জুন।

সূত্রমতে, ২০২৪ সালে সময়সীমা আগের বছরের চেয়ে এগিয়ে এনে গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয় ৯ মে, গোবিন্দভোগ ১১ মে, হিমসাগর ২২ মে, ন্যাংড়া ২৯ মে এবং আম্রপলি ১০ জুন।

সর্বশেষ গত ২০২৫ সালে সময়সীমা আরো এগিয়ে এনে গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস, গোবিন্দভোগ, বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয় ৫ মে থেকে। হিমসাগর ২০ মে, ন্যাংড়া ২৭ মে এবং আম্রপলি পাড়ার সময় নির্ধারণ করা হয় ৫ জুন থেকে। কিন্তু ক্যালেন্ডারের সময়সীমার আগেই বিভিন্নস্থানে গাছের আম পেকে মাটিতে পড়তে থাকে। একপর্যায়ে গত বছর ১৪ মে সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন জরুরি সভা ডেকে পরদিন ১৫ মে থেকে হিমসাগর আমর পাড়ার সময় এগিয়ে আনার ঘোষণা দেয়।

তিন বছরের এই আম ক্যালেন্ডার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতিবছরই পূর্বের চেয়ে আম পাড়ার সময় এগিয়ে আনা হয়েছে। তারপরও আম নিয়ে সমস্যা থেকেই গেছে।

গত বছর এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী হিমসাগর পাড়ার কথা ছিল ২০ মে, কিন্তু গাছে আম পেকে ঝরতে শুরু করায় চাষিদের চাপে ১৪ মে জরুরি সভা ডেকে ১৫ মে থেকে হিমসাগর পাড়ার অনুমতি দেয় জেলা প্রশাসন। অর্থাৎ প্রশাসনের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার শেষ পর্যন্ত বাস্তবতার মুখে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়।
চাষিদের মূল উদ্বেগ কেবল আম পাকা নিয়ে নয়, বরং উপকূলে নিয়মিত আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় নিয়ে। এপ্রিল-মে মাস মানেই সাতক্ষীরায় কালবৈশাখী ও সাইক্লোনের আতঙ্ক। চাষিদের দাবি, আম পেকে গেলেও যদি ক্যালেন্ডারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তবে যেকোনো এক ঝড়ে বছরের সব পরিশ্রম মাটিতে মিশে যেতে পারে। বিশেষ করে তীব্র গরম পড়লে আম দ্রুত পাকে, যা অনেক সময় ক্যালেন্ডার রচয়িতারা বিবেচনায় নেন না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একই জাতের আম এলাকাভেদে পাকার ক্ষেত্রে দুই মাস পর্যন্ত ব্যবধান হতে পারে। এটি আম গাছে মুকুল আসার সময় এবং মাটির তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। আবার একটি আমগাছে সম্পূর্ণ মুকুল আসতে প্রায় ২০ দিন সময় লাগে। যে মুকুলটি শুরুতে আসে আর যেটি শেষে আসে-এই দুই মুকুলের আম একসঙ্গে পাকে না। বিজ্ঞানীদের মতে, “জাতের চেয়ে আবহাওয়া ও পরিবেশই আম পাকার মূল কারিগর।” সাতক্ষীরার তপ্ত মাটি আর নোনা বাতাসের ছোঁয়া আমকে আগেভাগেই রসালো করে তোলে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর এখনো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত হয়নি। তবে চাষিদের দাবি, তারিখ যেন কেবল খাতা-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে বাগানের বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৯ এপ্রিল দেশের কৃষিবিদদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় আম হারবেস্ট বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “আমি স্থানীয় আমচাষীদের সাথেও কথা বলেছি। তবে এখনো পর্যন্ত জেলার আম পরিপক্ক হয়নি।” ১০ মে নাগাদ আম সংগ্রহ করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সাতক্ষীরার আমের সুনাম এখন বিশ্বজুড়ে। সেই সুনাম ধরে রাখতে যেমন রাসায়নিকমুক্ত আম নিশ্চিত করা প্রয়োজন, তেমনি প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সঠিক সময়ে আম বাজারজাত করার সুযোগ পাওয়া চাষিদের ন্যায্য অধিকার। প্রশাসনের পরবর্তী সভার দিকেই এখন চেয়ে আছেন জেলার হাজার হাজার আম চাষি ও ব্যবসায়ী।

 

 

Ads small one

‘রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ অপরাহ্ণ
‘রোনালদোর জন্য বিশ্বকাপ জিততে চাই’

 

রেকর্ড সর্বোচ্চ ষষ্ঠবার ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া এই মেগা ইভেন্টটি হতে যাচ্ছে তার শেষ আসর। ব্যক্তিগত ও ক্লাব ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব–ই জিতেছেন রোনালদো। অপূর্ণতা বলতে জাতীয় দলের হয়ে অধরা ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি। জাতীয় দলের সতীর্থরা তাই বিদায় বেলায় সিআরসেভেনকে বিশ্বকাপ উপহার দিতে চান।
বিশ্ব ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতায় অন্যতম ফেভারিট হিসেবে খেলতে নামবে পর্তুগাল। আক্রমণ, মাঝমাঠ ও রক্ষণ মিলিয়ে তাদের স্কোয়াডে বৈচিত্র এবং ভারসাম্য রয়েছে। যাকে কাজে লাগিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে পুরো ফায়দা তুলতে চায় রবার্তো মার্টিনেজের দল। বিশ্ব ফুটবলে রোনালদোর অবদানের প্রতিদান হিসেবে এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের প্রত্যাশা জানিয়েছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজ।

ইংল্যান্ড ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনির সঙ্গে সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক অনুষ্ঠানে যুক্ত হন ফার্নান্দেজ। এ সময় তিনি বলেন, ‘শেষ বিশ্বকাপটা জয়ের মাধ্যমে ক্রিস্টিয়ানো (রোনালদো) ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারলে সেটি অসাধারণ এক ব্যাপার হবে। আমি সত্যিই আশাবাদী যে আমরা তা করতে পারব। এটি কেবল পর্তুগালের জন্য নয়, ফুটবল এবং বিশ্বকে ক্রিশ্চিয়ানো যা দিয়েছে তার জন্যও।’

এখনই ফুটবলবিশ্বের অন্যতম কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন রোনালদো। বয়সটা ৪১–এর কোঠা পেরিয়ে এগিয়ে চললেও, নিজের স্বপ্ন পূরণের প্রচেষ্টা থামিয়ে রাখেননি। ছুটে চলেছেন পেশাদার ক্যারিয়ারে ১০০০তম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার দিকে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে রেকর্ড সর্বোচ্চ ১৪৩ করা এই তারকা বিশ্বকাপ জিততে না পারার আক্ষেপটা পূর্ণ করতে চান আসন্ন ২৩তম আসরে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফরোয়ার্ড পর্তুগালকে ২০১৬ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতিয়েছেন। দু’বার জিতেছেন উয়েফা নেশন্স লিগও। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে রোনালদোর পর্তুগাল পড়েছে ‘কে’ গ্রুপে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। গ্রুপপর্বে যথাক্রমে তিনটি দলের সঙ্গে ১৭, ২৩ ও ২৭ জুন মুখোমুখি হবে পর্তুগিজরা।

বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
বজ্রপাতে সাত জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

 

বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় পাঁচজন, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়ে একজন মারা গেছেন।
গাইবান্ধা

গাইবান্ধা জেলায় রোববার বিকেলে বজ্রপাতে শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা গ্রামে তিনজন, ফুলছড়ি উপজেলার দেলুয়াবাড়ি গ্রামে একজন ও সাঘাটা উপজেলার হেলেঞ্চা গ্রামের একজন রয়েছেন।

নিহতরা হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।

বোনারপাড়া ইউপির চেয়ারম্যান নাসিরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ ও তাড়াশ উপজেলায় মৌসুমের প্রথম ঝড়-বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতে দুজন মারা গেছেন। রোববার বিকেলে রায়গঞ্জের ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে এবং তাড়াশ উপজেলার বেত্রাশীন গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আকাশে মেঘে দেখে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিকচান গ্রামে মাঠে কাটা ধান স্তূপ করে রাখছিলেন একই পরিবারের কয়েকজন। এমন সময় বজ্রপাতে হোসেন আলী সেখ (২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃত ব্যক্তি ওই গ্রামের আবদুল হালিম সেখের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন।

এদিকে তাড়াশ উপজেলায় বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম আবদুল হামিদ (৫০)। তিনি মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের মৃত গফুর আলীর ছেলে।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বলেন, বজ্রপাতে একজন কৃষক মারা যাওয়ার খবর পেয়েছি।

ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার দুপুরে দিকে পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নিয়ামতপুর গ্রামের বাসিন্দা রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল থেকে পীরগঞ্জ উপজেলা ও এর আশপাশে থেমে থেমে বৃষ্টি চলছিল। বেলা পৌনে দুইটার দিকে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এতে তিনি মারা যান।

অন্যদিকে কোষাডাঙ্গীপাড়ায় বজ্রপাতের ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, দুপুরে বৈরামপুর এলাকায় জমিতে ফসল দেখতে যান ইলিয়াস। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাত শুরু হয়। বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলে মারা যান।

পীরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এসব ঘটনায় অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় বজ্রপাতে মো. সোহরাওয়ার্দী (২২) নামের এক চা-শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার সকাল পৌনে আটটার দিকে উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকায় একটি চা-বাগানের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. মোস্তফা (৪৫) ও জাহেরুল ইসলাম (৪৩) নামের আরও দুই চা-শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে মো. মোস্তফাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত সোহরাওয়ার্দী ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা এলাকার আবদুস সামাদের ছেলে।

ধামোর ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য খোরশেদ আলম কুদ্দুস বলেন, সকালে সোনাপাতিলা এলাকায় শের আলী নামের এক চাষির চা-বাগান থেকে চা-পাতা তুলে বাড়ি ফিরছিলেন ওই তিন শ্রমিক। এ সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বজ্রপাতে চা-বাগানের পাশেই ঘটনাস্থলে সোহরাওয়ার্দী মারা যান। ঘটনার সময় তার সামান্য দূরে থাকা অপর দুই শ্রমিক আহত হন। মারা যাওয়া শ্রমিক সোহরাওয়ার্দী আট দিন আগে বিয়ে করেছেন।

আটোয়ারী থানার ওসি মতিয়ার রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা হয়েছে।

জামালপুর

জামালপুরে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একজন ও মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ী এলাকার মোহাম্মদ রাজীবের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫)।

আহতরা হলেন মেলান্দহের হাজরাবাড়ী এলাকার হারুন মিয়ার স্ত্রী শেফালী বেগম (২৫), সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার নুর আলীর ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৪) ও একই এলাকার মোহাম্মদ রুমান মিয়ার ছেলে মো. শাওন মিয়া (২৫) এবং সদর উপজেলার নাওভাঙ্গা এলাকার সুমন মিয়ার মেয়ে সুখী (১৪)। আহত ব্যক্তিদের জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে হঠাৎ জামালপুরে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত শুরু হয়। মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকায় বাড়ির ওঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপর দিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় ফসলের মাঠে কাজ করছিলেন হাসমত আলী। এ সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হয়। এতে হাসমত আলী, আনোয়ার হোসেন ও মো. শাওন মিয়া গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসমত আলীর মৃত্যু হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বজ্রপাতে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় একটি ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় চারটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে সহকারী পরিচালক মো. মাহফুজুর রহমান মৃত্যু ও আহত ব্যক্তিদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় ০৫ মে তারিখ থেকে ০৫ জুন পর্যন্ত আম ভাঙার তারিখ নির্ধারণ করে আম ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার এ ঘোষণা দেন। এসময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ইকবাল আহমেদ, আম চাষি সমিতির নেতা লিয়াকত আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘোষিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ০৫ মে-২৬ তারিখে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, গোলাপখাস, বৈশাখী, বোম্বাইসহ স্থানীয় জাতের আম ভাঙা হবে। এরপর ১৫ মে তারিখে হিমসাগর ও খিসরা, ২৭ মে তারিখে ল্যাংড়া ও ০৫ জুন তারিখে আম্্রপালি আম ভাঙার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এবিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম জানান, চাষিদের দাবি অনুযায়ী ল্যাংড়া ও আম্্রপালি আম ভাঙার সময় সামান্য এগিয়ে আনা হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে আমের পরিপক্কতা আসবে। তিনি অপরিপক্ক আম ভাঙা ও বাজারজাতকরণের বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে বলে হুশিয়ারী দেন।