রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩

নিজ বাড়িতেই ঠাঁই নেই সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ণ
নিজ বাড়িতেই ঠাঁই নেই সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার

এসএম বাচ্চু: একসময় সামলেছেন জেলার শিক্ষা প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। যাঁর স্বাক্ষরে হাজারো শিক্ষকের রুটি-রুজি আর শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতো, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই মানুষটিই এখন আশ্রয়হীন। নিজের বানানো দোতলা বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন সাতক্ষীরার সাবেক জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মতিয়ার রহমান সরদার।

মতিয়ার রহমান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের বাসিন্দা। ১৯৭০ সালে সাতক্ষীরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। দীর্ঘ কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন শেষে ১৯৯৭ সালে তিনি জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ ২০০৫ সালে তালা বি.দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অবসরে যান তিনি।

চাকরির সঞ্চয় দিয়ে খুলনার বাগমারা এলাকায় সাড়ে পাঁচ কাঠা জমির ওপর ছয় কক্ষের একটি দৃষ্টিনন্দন দোতলা বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন মতিয়ার রহমান। দুই ছেলে ও তাঁদের পরিবার নিয়ে সেখানেই ছিল তাঁর সুখের সংসার। কিন্তু ২০১৫ সালে স্ত্রী সালমা খাতুনের মৃত্যুর পর পাল্টে যায় দৃশ্যপট।

মতিয়ার রহমানের অভিযোগ, স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তান ও পুত্রবধূদের আচরণ বদলে যেতে থাকে। একপর্যায়ে তাঁকে নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঠাঁই হয় খুলনার গল্লামারী এলাকায় মেয়ের ভাড় করা একটি বাসায়। সেখানে প্রায় তিন বছর একাকী রান্না করে কোনোমতে জীবন পার করেন তিনি। পরে ২০১৮ সালে তালা উপজেলার সুফিয়া বেগম নামের এক নারীকে বিয়ে করেন। গত ৯ বছর ধরে এই স্ত্রীই তাঁর একমাত্র ভরসা ও সেবাযতœ করছেন।
বৃদ্ধ এই কর্মকর্তার অভিযোগ, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী কৌশলে বাড়ির সম্পত্তি দানপত্রের মাধ্যমে নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। এখন নিজ বাড়িতেই তাঁর প্রবেশাধিকার নেই।

একসময়ের প্রতাপশালী এই শিক্ষা কর্মকর্তা এখন নিজের দাফনের জায়গা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। তিনি বলেন, “নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে বাড়ি বানালাম, আজ সেখানেই আমি পরবাসী। জীবনের শেষ সময়টা নিজ বাড়িতে কাটাতে চাই।”

অসহায় এই প্রবীণ কর্মকর্তার মানবেতর জীবনের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা বিষয়টিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর ছেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

Ads small one

সাবেক সাংসদ লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে আরো একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
সাবেক সাংসদ লায়লা পারভিন সেঁজুতিকে আরো একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন

পত্রদূত রিপোর্ট: সাবেক সাংসদ ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আবারো একটি অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। গত বৃহষ্পতিবার (২৫ জুন) সাতক্ষীরা বিজ্ঞ দায়রা জজ আদালত থেকে অহিদ হত্যা মামলায় জামিন লাভ করার পর কুচপুকুরের আনিছুর হত্যা মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহিল আরিফ নিশাথ তাকে ওই মামলার সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করেন।

২০২৫ সালের ২০ মে গভীর রাতে সাংসদ লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে পুলিশ তার সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরস্ত বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন জনৈক অলিউর রহমানের দায়ের করা বাইপাস সড়কে সরকার পতনের আন্দোলনের ডাক সংক্রান্ত মিছিলের মামলায় (জিআর-৭৭/২৫ সদর) সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। কারাগারে থাকাকালিন তাকে বাইপাস সড়কে মৎস্যজীবী দলের নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়ি সংলগ্ন অফিস ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের মামলায় (জিআর-৯৬/২৫ সদর) সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একইভাবে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বাইপাস সড়কে লাঠিসোটাসহ মিছিল ও সরকার পতনের চেষ্টার অভিযোগে জনৈক আব্দুল হামিদ সরদারের দায়েরকৃত (জিআর-২৭৮/২৫ সদর) মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

জিআর-৭৭/২৫ ও জিআর-৯৬ ২৫ নং মামলায় সেঁজুতি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মহামান্য হাইকোট থেকে জামিন পান। জিআর-২৭৮/২৫ নং মামলায় গত ৩ জুন তিনি মহামান্য হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলে ১০ জুন সাতক্ষীরা আদালত থেকে তার জামিননামা সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিনাদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে ১৬ জুন নো অর্ডার হয়। আপিল সংক্রান্ত একটি চিঠি সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠান। ফলে সুপ্রিম কোর্টে জামিনাদেশ স্থগিত না হলেও ১০ জুন পাঠানো জামিননামা কার্যকর করেনি কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, তিনটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর সেঁজুতিকে গত ২০২০ সালের ১৬ মার্চ ধুলিহরের অহেদ আলী অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী পারুল বেগমের দায়েরকৃত সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর-২৯৯/২৪ নং মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গত ১৩ জুন গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। ওই মামলায় সাতক্ষীরা মাননীয় দায়রা জজ আদালত গত ২৫ জুন তাকে অন্তবর্তীকালীন জামিন দেন। জামিননামা ওইদিন জেলখানায় পাঠানো হলেও তার ২৭৮/২৫ নং মামলায় জামিননামার কার্যক্রম কারাগারে ঝুলে থাকে। এর বিরুদ্ধে সেঁজুতির আইনজীবীরা রবিবার সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে আবেদন করলে তিনি কারাকর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।

 

এরপরপরই সেঁজুতির স্বজন ও আইনজীবীরা জানতে পারেন যে, তাকে ২০১৪ সালের ১৮ জুলাই রাতে শহরতলীর কুচপুকুরের অজিহার মোড়লের ছেলে আনিছুর অপহরণ ও হত্যা মামলায় (জিআর-৪০২/২৪ সদর) সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ২৫ জুন ধুলিহরের অহিদ হত্যা মামলায় জামিন পাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরপরই আবেদন করা হয়।

সোমবার (২৯ জুন) সাতক্ষীরা অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার সংক্রান্ত শুনানীর জন্য সাবেক সাংসদ লায়লা পারভীন সেজুঁতিকে হাজির করা হবে বলে কোর্ট ইনন্সপেক্টরের কার্যলয় সূত্রে জানা গেছে।

বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে দাঁত ভাঙার অভিযোগের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:১৬ অপরাহ্ণ
বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে দাঁত ভাঙার অভিযোগের মামলায় মাদ্রাসা শিক্ষক ছেলে গ্রেপ্তার

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে বৃদ্ধা মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে শ্যামনগর থানা পুলিশ।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের কলবাড়ি গ্রামে এ হামলার ঘটনার পর রোববার (২৮ জুন) অভিযুক্ত বড় ছেলে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

মামলার বাদী আনোয়ারা বেগম (৭২) অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তার বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম তাকে মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্যরা আহত অবস্থায় আনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে তিনি ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসি ইসলাম ঝর্ণার বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে আফতাবুজ্জামান জানান, তার বড় ভাই মনিরুল ইসলাম বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মা বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ একটি পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। এরপর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে তিনি আইনের আশ্রয় নেন।

এবিষয়ে বুড়িগোয়ালিনী দারুসসুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল্লাহ আল-মামুন কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি শুনেছি মাস্টার মনিরুল ইসলাম তার মায়ের মুখে লাথি মেরে একটি দাঁত ভেঙেছে এবং পরবর্তীতে থানায় মামলা হয়। মনিরুল ইসলামকে পুলিশ আটক করে আদালতে পাঠিয়েছেন।

শ্যামনগর থানার ওসি (তদন্ত) পিয়ার উদ্দীন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। মামলার অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৫:০৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন

পত্রদূত রিপোর্ট: সারা দেশের ন্যায় সাতক্ষীরায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৮ জুন) সকালে স্বাস্থ্য বিভাগ, সাতক্ষীরার আয়োজনে শহরের লাবসা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সচিব মোঃ আবদুছ ছালাম।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ আব্দুস সালাম, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল মনসুর, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ইসমত জাহান সুমনা,
সদর উপজেলার স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ফরহাদ জামিল সহ আরো অনেকে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষা এবং সুস্থ স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ৭টি উপজেলা ও ২টি পৌরসভার মোট ১,৯৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

 

জেলায় মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ৭২৩ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ২৭ হাজার ৯২১ জন শিশুকে নীল রঙের ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ২৫,৮০২ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।