সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

আন্তঃস্কুল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন গ্লেনরিচ, নজর কাড়ল সাতক্ষীরার সাকিফ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৫ অপরাহ্ণ
আন্তঃস্কুল ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন গ্লেনরিচ, নজর কাড়ল সাতক্ষীরার সাকিফ

পত্রদূত ডেস্ক: রাজধানী ঢাকার স্কুল পর্যায়ের ফুটবলে শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল (সাতারকুল)। গত ২৪ এপ্রিল স্যার জন উইলসন স্কুল আয়োজিত ‘আন্তঃস্কুল অনূর্ধ্ব-১২ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে তারা। ঢাকার ১২টি নামী স্কুলের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছে সাতক্ষীরার কিশোর ফুটবলার সাকিফ মোহাম্মদ শহীদ।
টুর্নামেন্টের ফাইনালে গ্লেনরিচ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল শক্তিশালী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকাকে (আইএসডি) পরাজিত করে ট্রফি নিজেদের করে নেয়। রানার্সআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় আইএসডি-কে।
গ্লেনরিচ স্কুলের এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্য নায়ক ছিলেন দলের অধিনায়ক সাকিফ মোহাম্মদ শহীদ। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি সেমিফাইনাল ও ফাইনালÑউভয় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই গোল করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয় এই কিশোর। মাঠজুড়ে তার নিখুঁত পাসিং আর গোল করার দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ সেমিফাইনাল ও ফাইনাল, দুই ম্যাচেই ‘ম্যাচ সেরা’র পুরস্কার জিতে নেয় সাকিফ।
সাকিফের এই ফুটবল প্রতিভার শেকড় পোতা তার জন্মস্থান সাতক্ষীরায়। তার দাদা মো. শহিদুল ইসলাম সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সদস্য। তিনি জেলার ক্রীড়াঙ্গনের অতি পরিচিত মুখ। মূলত দাদার উৎসাহ আর পরিবারের ক্রীড়া আবহে বড় হওয়া সাকিফ শৈশব থেকেই ফুটবলে দারুণ পারদর্শী।
টুর্নামেন্টের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম। তিনি জয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্কুল পর্যায়ের এই ফুটবল উন্মাদনা তৃণমূল থেকে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে বড় ভূমিকা রাখবে। মাঠের এই লড়াই সাকিফদের মতো উদীয়মান ফুটবলারদের আগামীর স্বপ্নকে আরও রঙিন করে তুলবে।

Ads small one

১৬ বছরের প্রতীক্ষা শেষে চ্যানেল ওয়ানের নবযাত্রা উদযাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
১৬ বছরের প্রতীক্ষা শেষে চ্যানেল ওয়ানের নবযাত্রা উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: ১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘সম্ভাবনার কথা বলে’ স্লোগানকে সামনে রেখে নবউদ্যমে যাত্রা করলো চ্যানেল ওয়ান। সোমবার সন্ধ্যায় সাতক্ষীরায় এক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নবযাত্রার এই শুভক্ষণ উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের এক বিশেষ মুহূর্তে চ্যানেল ওয়ানের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের ১৬টি রক্তিম গোলাপ দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। ১৬ বছরের দীর্ঘ বিরতি এবং সেই অপেক্ষার প্রতিটি বছরের প্রতিচ্ছবি হিসেবে এই ১৬টি গোলাপের মাধ্যমে এক অনন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
শহরের কামালনগরে চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আমিনা বিলকিস ময়নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চ্যানেল ওয়ানের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি নাজমুল শাহাদাৎ জাকির।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অংশ নেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক পত্রদূতের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাশেম এবং দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলানিউজের তানজির আহমেদ কচি, সমকালের কিশোর কুমার, বাংলাদেশ বুলেটিনের মিলন বিশ্বাস রুদ্র, রায়হান হোসেন ও রাকিব হোসেনসহ আরো অনেকে।
সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর চ্যানেল ওয়ান আবারও ফিরে আসায় সাংবাদিক মহলে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ১৬টি গোলাপের যে স্নিগ্ধতা দিয়ে এই যাত্রা শুরু হলো, চ্যানেল ওয়ান তার বস্তুনিষ্ঠতা দিয়ে দ্রুততম সময়ে জনআস্থা ফেরাতে সক্ষম হবে বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আলোচনা শেষে অতিথিরা কেক কেটে চ্যানেলটির সমৃদ্ধি কামনা করেন।

মুক্তমত: জনভোগান্তি কমাতে এবং অবৈধ তেলের মজুদ ও ব্যবসা বন্ধে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: জনভোগান্তি কমাতে এবং অবৈধ তেলের মজুদ ও ব্যবসা বন্ধে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ

এএসএম মেহেদী হাসান
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের চাহিদা বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া একশ্রেণীর লোকেরা প্রতিনিয়ত লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করছে এবং দ্বিগুণ দামে বাইরে বিক্রি করছে। ৫০০ টাকার তেল নিয়ে তারা ৫০০ টাকার বেশি লাভ করছে। এটিই এ শ্রেণীর লোকেরা আয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে সাধারণ জনগণ।
এ ধরনের কর্মকান্ড রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে সরকারের চালু করা ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ।
সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনে নির্ধারিত নিয়মে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অ্যাপসের মাধ্যমে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময়-সীমার মধ্যে একাধিকবার জ্বালানি নিতে পারবেন না। ফলে লাইনে দাঁড়িয়ে বারবার তেল সংগ্রহ করে পরে তা অবৈধভাবে বিক্রির সুযোগ কমে যাবে। পরীক্ষামূলক ভাবে ঢাকার বেশকিছু তেল পাম্পে ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ-এর মাধ্যমে তেল প্রদান করলে এর সুফল পাওয়া গেছে।
এছাড়া প্রতিটি যানবাহনের মাইলেজ ও ব্যবহার বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি সরবরাহের পরিমাণ নির্ধারণ করা হলে প্রকৃত ব্যবহারকারীরা সুবিধা পাবেন এবং অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুদ করার প্রবণতা কমবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যানবাহনের সর্বনি¤œ গড় মাইলেজ হিসাব করে তেল বিতরণ করা হলে পুনরায় দ্রুত জ্বালানি নেওয়ার সুযোগ সীমিত হবে।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন পাম্প মালিক ও সাধারণ গ্রাহকরা জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জ্বালানি বিতরণ চালু হলে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং কালোবাজারি অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে দীর্ঘ লাইন, অযথা ভোগান্তি ও সরবরাহে বিশৃঙ্খলাও কমবে।
সচেতন মহল মনে করছে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সময়োপযোগী পদক্ষেপ। ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে সাতক্ষীরাসহ সারাদেশে তেল নিয়ে অনিয়ম, মজুদদারি ও কালোবাজারি উল্ল্যেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

 

সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: ফসলি জমিতে লোনাপানির দুর্বৃত্তায়ন রুখবে কে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১:১৬ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়: প্রসঙ্গ: ফসলি জমিতে লোনাপানির দুর্বৃত্তায়ন রুখবে কে?

 

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার আটটি গ্রামের কৃষকদের ওপর যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা কেবল মর্মান্তিক নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত অপরাধ। রাতের আঁধারে স্লুইসগেটের কপাট তুলে প্রায় ১০ হাজার বিঘা ফসলি জমিতে লোনাপানি ঢুকিয়ে দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়। এটি স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের চরম স্বার্থপরতা এবং আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নিকৃষ্ট উদাহরণ। এই ঘটনায় কেবল হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হয়নি, বরং ওই অঞ্চলের পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়েছে।
খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের যে গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে, সেখানে গত তিন বছর পর এবারই প্রথম বোরো ধানের ভালো ফলনের আশা করেছিলেন কৃষকেরা। কিন্তু একদল দুর্বৃত্তের মাছ ধরার লালসায় সেই স্বপ্ন এখন নোনাজলে ভাসছে। লোনাপানির প্রভাবে শুধু ধান নয়, মারা যাচ্ছে গাছপালা, দেখা দিয়েছে গো-খাদ্য ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এমন ঘটনা ঘটানো এবং ভয়ভীতির কারণে স্থানীয়দের প্রতিবাদ করতে না পারাÑদেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য এক অশনিসংকেত।
খালের সামান্য মাছ ধরার জন্য ১০ হাজার বিঘা জমির ফসলকে বিসর্জন দেওয়া কোনো সাধারণ অপরাধ হতে পারে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী চক্রটি স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে গেটের কপাট তুলেছে। প্রশ্ন জাগে, একটি স্লুইসগেটের কপাট খোলার মতো বড় কর্মযজ্ঞ প্রশাসনের অগোচরে কীভাবে সম্ভব হলো? স্লুইসগেট সংস্কারের পর কোনো তদারকি কমিটি না থাকা কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতারই বহিঃপ্রকাশ। এই সুযোগটিই নিয়েছে স্বার্থান্বেষী মহল।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু কেবল লোনাপানি প্রবেশ বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। যারা এই পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের নেপথ্যে কারিগর, তাঁদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জবরদস্তি রুখতে জনসম্পৃক্ত তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে।
সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকির মুখে। সেখানে মানুষের তৈরি এমন কৃত্রিম বিপর্যয় মেনে নেওয়া যায় না। আমরা আশা করি, প্রশাসন কঠোর তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করবে এবং কৃষকের হাহাকার থামাতে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে। ফসলি জমিতে লোনাপানির এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা এখন সময়ের দাবি।